আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

দুঃশীল ভিক্ষুদের জন্য ভিটামিন এই সুত্র !!

অগ্নিকুণ্ড উপমা সুত্রের অনুবাদ শেষ হলো। এই সুত্রটি অনুবাদের জন্য অনেকদিন ধরে আমাকে ধরেছিল সতীর্থ সাধনাদর্শী ভিক্ষু। কিন্তু আমি ব্যস্ততায় সময় দিতে পারি নি। গতকাল চোখ বুজে আদাজল খেয়ে লেগে তবেই শেষ করতে পারলাম। এটা নিয়েই আজকের এই লেখা। সুত্রটা ভিক্ষুদের জন্য ভিটামিনের মত কাজ দেবে বলে আমি মনে করি।

এই সুত্রে বুদ্ধ ভিক্ষুদেরকে প্রশ্ন করেছেন, কোনটা ভালো? কোনো মেয়ের নরম কোমল হাত পা জড়িয়ে শুয়ে থাকা? নাকি তপ্ত কোনো অগ্নিকুণ্ডকে জড়িয়ে শুয়ে থাকা?

ভিক্ষুরা এক বাক্যে উত্তর দিয়েছিল, অবশ্যই নরম কোমল মেয়েকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকা উত্তম। কে চাইবে ঐ মহা অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দিয়ে শুয়ে থাকতে?

কিন্তু বুদ্ধ সতর্কবাণী উচ্চারণ করে জানিয়ে দিলেন, যে ভিক্ষুরা দুঃশীল, পাপাচারী, লুকিয়ে লুকিয়ে পাপকারী, ভিক্ষুর ভানকারী, কিন্তু ভেতরে ভেতরে পচা, কামনাপূর্ণ, তাদের সেই আগুনে ঝাঁপ দিয়ে শুয়ে থাকাও ভালো।

কারণ তাতে তাদের হয়তো দুঃখ বা যন্ত্রণা হবে, অথবা হয়তো মৃত্যুও হবে, কিন্তু তাতে অন্তত তাদের মরণের পরে অধোজগতে, দুঃখময় স্থানে, নরকে উৎপন্ন হয়ে দুঃখ পেতে হবে না। এই জীবনে আগুনে পোড়ার আর কী দুঃখ। তার চাইতে বহুগুণে অবর্ণনীয় দুঃখকষ্ট পেতে হয় নরকে জন্ম নিয়ে।

অথচ সেই দুঃশীল পাপাচারী ভিক্ষু যদি সেই মেয়ের নরম কোমল হাত পা জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকে, তাহলে তা তার দীর্ঘকাল অমঙ্গলের কারণ হয়, দুঃখের কারণ হয়, সে মরণের পরে অধোজগতে, দুর্গতিতে, দুঃখময় স্থানে, নরকে উৎপন্ন হয়।

বুদ্ধ কেবল অগ্নিকুণ্ডের উপমা দিয়েই ক্ষান্ত হন নি। তিনি আরো অনেক উপমা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, দায়ক দায়িকাদের শ্রদ্ধায় দেয়া জিনিস পরিভোগ করাটা খুবই গুরুতর ব্যাপার। সেটাকে হালকা করে নেয়া উচিত নয়। বরং ভিক্ষুদের সবসময় মনে রাখা উচিত, যেন দায়কদের দান বৃথা না হয়, নিজেদের প্রব্রজ্যাও বিফল না হয়। সেভাবেই সাবধানে শীল রক্ষা করা উচিত।

তিনি বলেছেন, দুঃশীল ভিক্ষু হয়ে গৃহীদের সশ্রদ্ধ অভিবাদন গ্রহণ করার চেয়ে নলায় দড়ি দিয়ে ঘষে ঘষে নলার ছাল চামড়া রক্ত মাংস হাড় মজ্জা ক্ষয় করাও অনেক ভালো।

দুঃশীল ভিক্ষু হয়ে গৃহীদের দুহাত জোড়ে বন্দনা গ্রহণ করার চেয়ে বুকে ক্ষুরধার বল্লম দিয়ে গুঁতো খাওয়াও অনেক ভালো।

দুঃশীল ভিক্ষু হয়ে গৃহীদের শ্রদ্ধায় দেয়া চীবর গ্রহণ করার চেয়ে জ্বলন্ত লোহার পাত নিয়ে দেহ জড়িয়ে রাখাও অনেক ভালো।

দুঃশীল ভিক্ষু হয়ে গৃহীদের শ্রদ্ধায় দেয়া ভিক্ষান্ন ভোজনের চেয়ে জ্বলন্ত লৌহগোলক গিলে খাওয়াও অনেক ভালো।

দুঃশীল ভিক্ষু হয়ে গৃহীদের শ্রদ্ধায় দেয়া খাট চেয়ারে বসার চেয়ে জ্বলন্ত খাট চেয়ারে বসাও অনেক ভালো।দুঃশীল ভিক্ষু হয়ে গৃহীদের শ্রদ্ধায় দেয়া বিহারে অবস্থানের চেয়ে জ্বলন্ত লোহার হাঁড়িতে সেদ্ধ হওয়াও অনেক ভালো।

তার কারণ কী? কারণ তাতে তাদের হয়তো দুঃখ বা যন্ত্রণা হবে, অথবা হয়তো মৃত্যুও হবে, কিন্তু তাতে অন্তত তাদের মরণের পরে অধোজগতে, দুঃখময় স্থানে, নরকে উৎপন্ন হয়ে দুঃখ পেতে হবে না। এই জীবনে আগুনে পোড়ার আর কী দুঃখ। তার চাইতে বহুগুণে অবর্ণনীয় দুঃখকষ্ট পেতে হয় নরকে জন্ম নিয়ে।

অথচ সেই দুঃশীল পাপাচারী ভিক্ষু যদি গৃহীদের সশ্রদ্ধ অভিবাদন ও বন্দনা গ্রহণ করে, তাদের শ্রদ্ধায় দেয়া চীবর ব্যবহার করে, ভিক্ষান্ন খায়, খাটে ঘুমায়, বিহারে অবস্থান করে, তাহলে তা তাদের দীর্ঘকাল অমঙ্গলের কারণ হয়, দুঃখের কারণ হয়, তারা মরণের পরে অধোজগতে, দুর্গতিতে, দুঃখময় স্থানে, নরকে উৎপন্ন হয়।

সুত্রটি বলার সময়েই ষাটজন ভিক্ষু রক্ত বমি করল, তারা নাকি পারাজিকাগ্রস্ত হয়েও ভিক্ষু হিসেবে অবস্থান করছিল। অন্য ষাটজন ভিক্ষু “বুদ্ধশাসনে পরিশুদ্ধভাবে থাকা কঠিন” প্রব্রজ্যা ত্যাগ করে চলে গেল। তারা নাকি বিভিন্ন বিনয়ের নিয়মগুলো ইচ্ছেমত লঙ্ঘন করত। আর ষাটজন ভিক্ষু অর্হৎ হয়ে গেল। তারা ছিল সুপরিশুদ্ধ শীলসম্পন্ন।

পারাজিকাগ্রস্ত ভিক্ষুদের কী হলো?

তারা এরপর শ্রামণ হয়ে দশশীল নিয়েই অবস্থান করে মার্গফল লাভ করেছিল। আবার কেউ কেউ স্বর্গে জন্ম নিয়েছিল।

যারা গৃহী হলো, তারা ত্রিশরণ ও পঞ্চশীল রক্ষা করে মার্গফল লাভ করেছিল।

কিন্তু এই সুত্রের একটা বিশাল প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল তৎকালীন ভিক্ষুদের মাঝে। তারা “বুদ্ধশাসনে যাবজ্জীবন পরিপূর্ণ পরিশুদ্ধভাবে ব্রহ্মচর্য আচরণ বড় কঠিন” বলে এক মুহূর্তেই কখনো দশজন, কখনো বিশজন, কখনো ষাটজন, কখনো একশ জন, এমনকি কখনো এক হাজার জন পর্যন্ত ভিক্ষু রংকাপড় ত্যাগ করে গৃহী হয়ে গেল।

ভিক্ষুসংঘ অনেক কমে গিয়েছিল। বুদ্ধ পরে ব্যাপারটা দেখে বলেছিলেন, ভিক্ষুদের আশ্বস্ত হওয়ার মতো অনেক বিষয় আছে বুদ্ধশাসনে। যেমন – ভিক্ষু কোনো ধ্যান লাভ না করুক, সামান্য যদি মৈত্রীচিন্তাও করে, তাহলেও তার পরিভোগ বৃথা হয় না।

কাজেই বর্তমান পরিস্থিতির সাপেক্ষে ভিক্ষুরা হয়তো বিশুদ্ধভাবে শীল পালন করতে পারছে না, কিন্তু তাই বলে হতাশ হওয়া উচিত নয়। হতাশ না হয়ে যথাসাধ্য শীল সমাধি ও প্রজ্ঞা অনুশীলনের চেষ্টা করা উচিত।

তবে পারাজিকাগ্রস্ত ভিক্ষুদের কথা আলাদা। কারণ পারাজিকার বোঝা বড় বেশি গুরুতর। কোনো মৈত্রীচিন্তা সেই পাপের বোঝাকে নামাতে পারবে না। পারাজিকা অপরাধকে যদি নামাতে পারা যেত, তাহলে বুদ্ধ তাদেরকে সংশোধনের অযোগ্য বলতেন না, পুনরায় ভিক্ষু হওয়ার অযোগ্য বলতেন না।

তাই তাদের কাপড় ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। নাহলে পাপের বোঝা বাড়িয়ে তারা নরকে পড়বে। সোজা কথা। কোনো মৈত্রীচিন্তায় তাদের কাজ হবে না। যত বড় বড় পিএইচডি হোক, জ্ঞানী গুণী হোক, কর্মের হাত থেকে কি সে রেহাই পাবে?

বিস্তারিত ডাউনলোড করে পড়ে নিতে পারেন

https://www.dropbox.com/s/gjv6kpx0tdbmxbw/aggikkhandha%20upama%20sutta%20bangla.pdf

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *