আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

অভিধর্ম ও ম্যাথ

আমি চেষ্টা করছি অভিধর্মকে দ্রুত গাণিতিকভাবে প্রকাশের জন্য। কিন্তু কাজ আশানুরূপ এগোচ্ছে না। প্রতি পদে পদে আমার গণিতে দুর্বলতা হাড়ে হাড়ে উপলদ্ধি হচ্ছে!

একটা উদাহরণ দিই। ধরা যাক, আপনি একজন ভিক্ষুকে দেখেই খুশিমনে হাতজোড় করে বন্দনা জানালেন। সেটা হচ্ছে পুণ্যময় কাজ। অভিধর্মমতে, এমন পুণ্যময় কাজে শ্রদ্ধা, সচেতনতা, পাপের প্রতি লজ্জা, পাপের প্রতি ভয় ইত্যাদি ৩৩টি ভালো মানসিক বৈশিষ্ট্য সর্বদা যুক্ত থাকে।

কিন্তু আবার ধরা যাক, আপনি চুরি করে আম খেয়ে মালিকের হাতে ধরা পড়েছেন। কিন্তু আপনি তো মিথ্যা বলেন না। আর মালিক আপনার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাই অকপটে জবাব দিলেন আপনি আম চুরি করেছেন। আপনি তখন মিথ্যা বাক্য বিরতি অনুশীলন করছেন।

প্রথমে বন্দনার সময়ে আপনার মিথ্যা বাক্য বিরতি উৎপন্ন হয় নি, কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে প্রশ্নের জবাবে আপনার মনের সাথে সাথে মিথ্যা বাক্য বিরতিও উৎপন্ন হয়েছে।

এভাবেই কিছু কিছু মানসিক বৈশিষ্ট্য আছে যেগুলো কেবল অবস্থাভেদে উৎপন্ন হয়। কিন্তু তারা ঠিক কত প্রকারে উৎপন্ন হতে পারে? আমি দেখেছি, তা গাণিতিকভাবে প্রকাশ করতে গিয়ে প্রয়োজন কম্বিনেট্রিক্স, প্যাসকেলের ত্রিভুজ, বাইনমিয়াল থিওরমের উপর ভালো দখল। তবেই সেটার যথাযথ প্রয়োগ দেখানো যায় অভিধর্মের গাণিতিক প্রকাশে।

অভিধর্ম ও ম্যাথ দুটোই সাধারণের কাছে দুর্বোধ্য, তাই আমি আর বেশি এখানে লিখলাম না, কিন্তু সবাই তো ত্রিপিটক ও বৌদ্ধধর্মকে ধর্ম হিসেবেই স্টাডি করেছে এযাবত, কিন্তু এটাকে সায়েন্টিফিক্যালিও স্টাডি করা যায়, অথচ আমি প্রাচ্য ও পশ্চিমা বিজ্ঞজনদের কাউকেই সেদিকে এগোতে দেখলাম না এখনো। এটার সুদূরপ্রসারী ব্যবহার হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৃত্রিম মন তৈরির কাজে। আগামী কয়েক বছরে আমি এ বিষয়েই মাস্টার্স করব বলে ভাবছি।

😌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *