আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

ত্রিপিটকধর পরীক্ষার তথ্যাবলী

ত্রিপিটকধর বিহার থেকে ফিরলাম। অনেক কিছু ভালো করে জানা হলো। বিশেষ করে পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে।

ত্রিপিটকধর পরীক্ষা সাধারণত হয় ডিসেম্বরে। পরীক্ষার স্থান হচ্ছে ইয়াঙ্গুনে, কাবায়ে গুহার মধ্যে। আপনারা জানেন মনে হয়, সেখানে ষষ্ঠ সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

১ মাস ধরে পরীক্ষা চলে। প্রথম ১৫ দিন ধরে চলে মৌখিক আবৃত্তি। দিনে ৯ বার আবৃত্তি করতে বসতে হয়। টাইম লিমিট আছে। প্রতিবারে ২৫ মিনিটের মধ্যে কমপক্ষে ১২ পাতা আবৃত্তি করতে হয়। মাঝখানে ভুলে গেলে পরীক্ষক দুইবার মনে করিয়ে দেবেন। তিনবার পর্যন্ত ভুলে গেলে পরীক্ষায় ফেল!

প্রথম বছরে বিনয়ের দুটো বই পারাজিকা ও পাচিত্তিয় এভাবে সম্পূর্ণ আবৃত্তি করতে হয়। এরপরের বছর বসতে হয় লিখিত পরীক্ষায়। তার জন্য শিখতে হয় অর্থকথা ও টীকা থেকে। লিখিত পরীক্ষা হয় বার্মিজ ভাষায়।এভাবে বিনয়ের প্রথম দুটো বইয়ের পরীক্ষা শেষ করতেই দুই বছর লাগে।

এরপরের তিনটা বইয়ের জন্য লাগে আরো দুই বছর। এভাবে শুধু বিনয়পিটক শেষ করতেই কমপক্ষে চারবছর লাগে।

সুত্রপিটকে কেবল দীর্ঘনিকায় আবৃত্তি করতে হয়। তার জন্য লাগে দুই বছর।

অভিধর্মপিটকের সাতটি বই শেষ করতে আরো চার বছর লাগে। সেটাও আপনি যদি বছর বছর পাস করেন।

এখনো পর্যন্ত ত্রিপিটকধর হয়েছেন ১৫ জন। তাদের মধ্যে ১১জন জীবিত আছেন। আমরা যে বিহারে গিয়েছি, তিনি নাকি ৬ নম্বর ত্রিপিটকধর।

সেখানে পড়েন উ ধম্মাচার। তিনি বিনয়ের দুটো বই আবৃত্তির পরীক্ষায় করেছেন। তবে কোভিডের কারণে আপাতত আবৃত্তি বন্ধ।

তিনি আমাকে মুখস্থ করার নিয়ম দেখিয়ে দিলেন। দিনে যা মুখস্থ করার করবেন। সন্ধ্যায় ঘন্টা দুয়েক রিভিসনের জন্য টাইম দেবেন। রিভিসনের একটা পদ্ধতি তিনি আমাকে শিখিয়ে দিলেন যেটা লিখে বুঝানো মুশকিল। তিনি বলে দিলেন, আগে পারাজিকা পাচিত্তিয় মুখস্থ কর। সেটা পারলে তিনি নিজেই নাকি ত্রিপিটকধর পরীক্ষায় ফরম ফিলাপের ব্যবস্থা করে দেবেন!

ওদের উৎসাহ দেখে আমিও পড়া শুরু করব বলে ভাবছি। আমার তো অনেক কাজ। তার ফাঁকে প্রতিদিন সকালে এক পাতা করে পড়লেও হবে। বিকালে একটু রিভিউ দেব। কয়েক বছরে একটা বই মুখস্থ পারলেও হবে। ত্রিপিটকধর পরীক্ষা দেয়া যাবে তখন।

😊

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *