আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

কিছু অগোছালো কথা লেখা যাক

বেদনার কারণে তৃষ্ণা হয় – কথাটা আংশিক সত্য। বেদনা হচ্ছে ব্যথার অনুভূতি। সেটা এক প্রকার দু্ঃখের অনুভূতি। দুঃখ কে চায়? তাই ব্যথা থেকে বাঁচতে তো আমাদের মধ্যে আকাঙ্খা জাগবেই।

অনুভূতি থেকেই তৃষ্ণা হয়। সুখ অনুভব করলেন। ভালো লাগার অনুভূতি হল। সেটা আরো পাওয়ার ইচ্ছা জাগল। দু্ঃখ অনুভব করলেন। কষ্টের অনুভূতি হল। সেটা থেকে দূরে থাকার ইচ্ছা জাগল। এভাবেই তৃষ্ণা জাগে।কিন্তু অনুভূতি ছাড়া কেউ থাকে না। এমনকি অর্হৎদেরও অনুভূতি জাগে। তাহলে কি তাদেরও কামনা জাগে? তৃষ্ণা জাগে?

তার উত্তরে বলা যায় তৃষ্ণা জাগে যদি আপনার মনের মধ্যে সুপ্ত প্রবণতাগুলো লুকিয়ে থাকে। পালিতে সেগুলোকে বলা হয় অনুসয। সেগুলো অর্হৎদের উচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাই তাদের মধ্যে কোনো ধরনের তৃষ্ণা জাগে না। তবে ইচ্ছা জাগে। বা জাগতে পারে। দায়িত্ব বা কর্তব্যের খাতিরে কিছু করার ইচ্ছা জাগে। ধর্মের খাতিরেও কিছু করার ইচ্ছা জাগে।

উদাহরণস্বরূপ মহাকশ্যপ ভান্তের মনে বুদ্ধশাসন দীর্ঘকাল টিকে রাখার ইচ্ছায় সঙ্গীতি করার ইচ্ছা জেগেছিল। এটাকে বলা হয় ধর্মচ্ছন্দ বা কত্তুকাম্যতাছন্দ। তাদের মনে বিষয় আশয়ের প্রতি কোনো আকর্ষণ আর থাকে না। তারা তৃষ্ণামুক্ত, পিছুটানহীন, বাঁধনহারা,অমোঘ পথের যাত্রী। আমরা কবে হব সেরকম? পথের আর কত দূর বাকি?

ইদানিং কি নস্টালজিক হয়ে যাচ্ছি?

বুড়ো হওয়ার লক্ষণ মনে হচ্ছে।

😄

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *