আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

নতুন বছরে ❤️❤️❤️2022টি ভালোবাসা নিয়ে❤️❤️❤️

ভালোবাসা নিয়ে কত কবি লিখলেন কবিতা।

কত শিল্পী গাইলেন গান।

কত লেখক লিখলেন কত কাহিনী।

কত সুরকার বাঁধলেন সুর।

কিন্তু ভালোবাসা কী?

অভিধর্ম চুলচেরা বিশ্লেষণ করে বলছে, ভালোবাসা হচ্ছে আবেগ মাত্র।

ভালোবাসা হচ্ছে অনুরাগ মিশ্রিত তৃষ্ণা।

সেই তৃষ্ণার কারণে প্রিয়জনকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে মন চায়।

তা থেকে শুরু হয় নব জীবনের সূচনা।

সেই নব জীবনে থাকে জন্ম, জরা, ব্যাধি ও মৃত্যুর আনাগোনা।

এভাবেই চলতে থাকে সংসারচক্র।

বুদ্ধ বলেছেন, আর কত? আর কত?

মায়ানমারে বেশি ভালোবাসলে নাকি ১৫০০ টা ভালোবাসা দেয় প্রেমিক তার প্রেমিকাকে।

খুবই রোমান্টিক ধরনের ভালোবাসা। কিন্তু ১৫০০টা কেন? দিলে কয়েক কোটি ভালোবাসা দিতে পারে না?

অভিধর্মের ক্লাসে সেয়াদ বুঝিয়ে দিলেন সেটা। ভালোবাসা হচ্ছে মনের কলুষতা। তাই অর্হৎদের মনে ভালোবাসা থাকার প্রশ্নই আসে না।

কিন্তু সেই ভালোবাসা কীভাবে ১৫০০টা হয়?

অভিধর্ম জানলে সহজ।

ভালোবাসা কীসের প্রতি উৎপন্ন হয়?

দুনিয়ার যেকোনোকিছুর প্রতি উৎপন্ন হয়।

দুনিয়াতে কী আছে?

অভিধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এই দুনিয়াতে আছে কেবল পদার্থ ও মন।

আপনি যখন কোনোকিছুকে ভালোবাসেন, সেটা হয় পদার্থকে, নতুবা মনকে ভালোবাসছেন কিন্তু।

কত ধরনের পদার্থ আছে? কত ধরনের মন আছে?

আমরা তার ছোট্ট একটা হিসাব করতে পারি।

সত্যিকারের পদার্থ হচ্ছে ১৮টি।

মন হচ্ছে ১টি।

মানসিকতা হচ্ছে ৫২ টি।

পদার্থের বিশেষ লক্ষণ হচ্ছে ৪টি।

————————–

মোট ৭৫টি

অর্থাৎ আপনি কাউকে ভালোবাসেন মানে হচ্ছে এই ৭৫টি জিনিসের যেকোনোটির প্রতি আপনার অনুরাগ মিশ্রিত তৃষ্ণা জন্মেছে।

কিন্তু সেটা আপনার নিজের প্রতিও হতে পারে, অন্যের প্রতিও হতে পারে।

তাই অংকের বিচারে আপনার ভালোবাসার পরিমাণ হয় ৭৫*২ = ১৫০টি।

আরো আছে মনের ১০ প্রকার কলুষতা।

আপনি কাউকে ভালোবাসলে তার সাথে এই কলুষতাগুলো একটা না একটা মিশে থাকে আপনার মনে। সেগুলো কী কী?

– লোভ, বিদ্বেষ, মোহ, মান, মিথ্যাদৃষ্টি, সন্দেহ, মনের জড়তা, মনের চঞ্চলতা, নির্লজ্জতা, নির্ভীকতা।

জ্বি হ্যাঁ, নির্লজ্জতা এবং নির্ভীকতা বা সাহসও লাগে ভালোবাসতে।

এবার মনের এই দশটি কলুষতার সাথে গুণ করুন আগের ১৫০টি ভালোবাসা।

হয়ে গেল আপনার ১৫০০টি ভালোবাসা।

আপনাদেরকে সবাই ভালোবাসার রঙিন দুনিয়া দেখায়। বুদ্ধ কিন্তু বাস্তবতা দেখিয়ে দিয়েছেন। তবুও বেশিরভাগই এই ভালোবাসার রঙিন দুনিয়াতে মগ্ন থাকতে চায়।

পূজ্য বনভান্তের এক দেশনায় পড়েছিলাম, এক লোককে নাকি পিঠে করে বয়ে নিয়ে গেলেও নির্বাণে যাবে না।

নির্বাণ কী? নির্বাণ কী? যেখানে সবকিছু নির্বাপিত হয়। সুখ দু্ঃখের নিরোধ হয়। সুখ দু্ঃখ কিছুই যদি না থাকে, তাহলে সেটা কী জিনিস? সেটা অনির্বচনীয়। সেটা নিজেকেই উপলদ্ধি করতে হয়।

সেই পথে আপনারা আছেন তো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *