আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

ভিক্ষুরা কত দেবদেবীর পূজা

ভিক্ষু হয়ে প্রকাশ্যে আরেক ভিক্ষুর দোষারোপ করা বিনয়ের আইনে নিষিদ্ধ। সামনে পড়লে হয়ত বলা যায়। কিন্তু তাতেও আগে অনুমতি চেয়ে নিতে হয়। অনুমতি না দিলে আপনি কাউকে দোষারোপ পর্যন্ত করতে পারবেন না। তাই বিনয়ের কথা আমি তুলব না। তবে সুত্রের একটা কাহিনী বলতে পারি। সেটা আছে দীর্ঘনিকায়ের কেবট্ট সুত্রে।

সেই সুত্রে এক ভিক্ষুর কথা বলা হয়েছে যার মনে একটা কঠিন প্রশ্ন জেগেছিল। সে ছিল খুব ধ্যানী, অলৌকিক শক্তিধর। তাই সে অলৌকিক শক্তিবলে একে একে দেবতাদের কাছে গিয়ে সেই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করল। কিন্তু দেবতারা তার উত্তর দিতে পারল না। তারা দেখিয়ে দিল মহাব্রহ্মাকে। যদিও সেই মহাব্রহ্মা কোথায় থাকেন তা দেবতারা পর্যন্ত বলতে পারে না। সেই মহাব্রহ্মার এমন ক্ষমতা, দশ আঙুলে দশ হাজার বিশ্বকে আলোকিত করতে পারেন।

কিন্তু ভিক্ষুটির ছিল অসাধারণ অলৌকিক শক্তি। সে এমন মহাশক্তিশালী ব্রহ্মার সামনে হাজির হয়ে সেই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিল। কিন্তু সেই মহাব্রহ্মা তার উত্তর না দিয়ে বলেছিল – হে ভিক্ষু, আমি ব্রহ্মা, মহাব্রহ্মা, ঈশ্বর, সৃষ্টিকর্তা, নির্মাতা, শ্রেষ্ঠ, সকল সৃষ্টির পিতা।

ভিক্ষুটি বিরক্ত হয়ে বলেছিল, বন্ধু, আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করি নি তুমি ব্রহ্মা কিনা, ঈশ্বর কিনা, সৃষ্টিকর্তা কিনা, শ্রেষ্ঠ কিনা, সকল সৃষ্টির পিতা কিনা। আমি জিজ্ঞেস করেছি পৃথিবী, পানি, তেজ ও বায়ু – এই চারটি মৌলিক উপাদান কোথায় নিঃশেষে নিরুদ্ধ হয়।

তখন সেই ব্রহ্মা তাকে হাতে ধরে এক কোণায় টেনে নিয়ে গিয়ে বলেছিল, ওহে ভিক্ষু, এই যে ব্রহ্মারা আছে তারা মনে করে আমার অজানা কিছু নেই, অদেখা কিছু নেই। তাদের সামনে আমি কীভাবে আমার অজ্ঞতাকে প্রকাশ করতে পারি? তাই তাদের সামনে কিছু বলি নি। ওহে ভিক্ষু, এটা তোমারই অন্যায় হয়েছে, তোমারই অপরাধ হয়েছে, তুমি বুদ্ধকে ফেলে বাইরে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফিরছ। যাও, তুমি গিয়ে বুদ্ধকে এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস কর। তিনি যেভাবে বলবেন সেভাবেই বুঝে নিও।

দেখুন। যে মহাব্রহ্মাকে সারা দুনিয়ার লোকজন থেকে শুরু করে দেবতারা পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তা হিসেবে মানে, সেই মহাব্রহ্মাও বুদ্ধের জ্ঞানের কাছে তুচ্ছ। আমি সবচেয়ে অবাক হই তাকে ভিক্ষুটি বন্ধু হিসেবে সম্বোধন করেছে। ভাবা যায়? এভাবে সেই আমলের ভিক্ষুরা মহাব্রহ্মাকে পর্যন্ত গ্রাহ্য করত না।

আর এই আমলের ভিক্ষুরা কত দেবদেবীর পূজা করে, উপাসনা করে। কী লজ্জার কথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *