আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

প্রিয়জন হারানোর শোক যেভাবে দূর করবেন

আমরা যখন কোনো প্রিয়জনকে হারাই, তখন শোকে কী করব ভেবে পাই না। সেই প্রিয়জন যত বেশি কাছের হয়, তত বেশি হয় তাকে হারানোর বেদনা। সেই শোক কীভাবে কাটানো যায়? মহাসতিপট্ঠান সুত্রে বুদ্ধ বলেছেন, হে ভিক্ষুগণ, শোক ও বিলাপকে অতিক্রমের জন্য, দুঃখ ও মনোকষ্টের অস্তগমনের জন্য, জ্ঞান লাভের জন্য, নির্বাণ সাক্ষাতের জন্য এই একমাত্র পথ – যা হচ্ছে এই চার প্রকারে সচেতনতা প্রতিষ্ঠা।

এই সচেতনতা প্রতিষ্ঠার পথে চললে তা পটাচারা ইত্যাদিদের মতো শোক ও বিলাপকে অতিক্রমের দিকে পরিচালিত করে। পটাচারার কীরকম দুঃখ হয়েছিল সেই কাহিনী একটু বলি।

সে নাকি শ্রাবস্তীতে চল্লিশ কোটি ধনসম্পন্ন শ্রেষ্ঠীর রূপবতী মেয়ে ছিল। ষোল বছর বয়সে তাকে সাত তলা প্রাসাদের উপরতলায় পাহারা দিয়ে রাখা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও সে তার একজন নিম্নপদস্থ চাকরের সাথে সংসর্গ করে বিপথগামী হলো। তখন তার মাতাপিতা সমান পরিবারের এক ছেলেকে ঠিক করে বিয়ের দিন ধার্য করল।

এদিকে দিনতারিখ ঘনিয়ে এলে সে তার চাকরকে বলল – “আমাকে নাকি অমুক ঘরে বিয়ে দেবে। আমি স্বামীর ঘরে গেলে আমার জন্য উপহার নিয়ে আসলেও সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না। যদি আমার প্রতি তোমার স্নেহ থাকে, তাহলে এখনি আমাকে নিয়ে কোথাও পালিয়ে যাও।”

“ঠিক আছে, প্রিয়তমা। তাহলে আমি আগামীকাল ভোরে নগরীর গেটে অমুক স্থানে দাঁড়াব। তুমি কোনো এক উপায়ে বের হয়ে সেখানে আসবে।”

মেয়েটি তখন ভোরে মলিন বস্ত্র পরিধান করে, চুল উস্কুখুস্কু করে ছেড়ে দিয়ে, শরীরে তুষ মেখে, কলসি নিয়ে দাসীদের সাথে যাওয়ার মতো করে ঘর থেকে বের হয়ে সেই স্থানে গেল। চাকরটি তাকে নিয়ে দূরে গিয়ে এক গ্রামে বসবাস শুরু করে অরণ্যে জমি চাষ করে কাঠ, পাতা ইত্যাদি আহরণ করত। মেয়েটি কলসি নিয়ে পানি এনে নিজহাতে রান্নাবান্না ইত্যাদি করতে করতে নিজের পাপের ফল ভোগ করত। তার পেটে গর্ভ ধারণ হলো। সে গর্ভবতী হয়ে বলল, “এখানে আমার উপকারক কেউ নেই। মাতাপিতারা সন্তানদের প্রতি কোমলমনা হয়। তাদের কাছে আমাকে নিয়ে যাও। সেখানে আমার বাচ্চা হবে।”

চাকরটি প্রত্যাখ্যান করে বলল, “কী বলছ প্রিয়তমা! আমাকে দেখলে তোমার মাতাপিতা বহু ধরনের শাস্তি দেবেন। আমি সেখানে যেতে পারব না।” বার বার বলেও যেতে না পারায় তার অরণ্যে চলে যাওয়ার সময়ে মেয়েটি তাদের প্রতিবেশীকে ডেকে বলল, “যদি সে এসে আমাকে না দেখে ‘কোথায় গেছে’ বলে জিজ্ঞেস করে, বাপের বাড়িতে চলে গেছে বলে একটু বলে দিও” বলে ঘরের দরজা বন্ধ করে চলে গেল।

চাকরটি এসে তাকে না দেখে প্রতিবেশীকে জিজ্ঞেস করে ব্যাপারটা শুনে “তাকে ফিরিয়ে আনব” বলে পিছে পিছে গিয়ে মাঝপথে তাকে খুঁজে পেল। কিন্তু নানা প্রকারে অনুনয় বিনয় করেও ফেরাতে পারল না। তখন এক স্থানে এসে মেয়েটির প্রসববেদনা উপস্থিত হলো। সে একটি ঝোপের মধ্যে প্রবেশ করে “স্বামী, আমার প্রসববেদনা উঠেছে” বলে মাটিতে শুয়ে ছটফট করতে করতে বহু কষ্টে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়ে “যার জন্য আমি বাপের বাড়িতে যাচ্ছিলাম, সেটা তো এখানেই হয়ে গেল” বলে আবার তার সাথে ঘরে ফিরে এসে বসবাস করতে লাগল।

পরে কোনো এক সময়ে সে আবার গর্ভবতী হলো। সে পরিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় আগের মতোই স্বামীকে বলে যেতে না পেরে ছেলেকে কোলে নিয়ে সেভাবেই চলে গেল। তার স্বামী পিছু পিছু গিয়ে “দাঁড়াও” বললেও ফিরে যেতে ইচ্ছে করল না। তখন তাদের যাওয়ার সময়ে ঘোর কালোমেঘ উঠল। বিদ্যুৎ ঝলকানিতে যেন ঝলসে গেল চারদিক। অঝোর ধারায় বৃষ্টি হতে লাগল যেন মেঘের গর্জনে আকাশ ভেঙে পড়েছে। সেই মুহুর্তে তার প্রসব বেদনা উৎপন্ন হলো। সে স্বামীকে ডেকে বলল, “স্বামী আমার প্রসববেদনা উঠেছে। আর পারছি না। বৃষ্টি পড়ে না এমন একটা জায়গা দেখ আমার জন্য।” তার স্বামী তখন হাতে দা নিয়ে এদিক ওদিক দেখতে দেখতে একটি উইঢিবির মাথায় জন্মানো ঝোপ দেখে সেটা কাটতে শুরু করল। তখন সেই উইঢিবি থেকে এক বিষাক্ত সাপ বেরিয়ে এসে তাকে ছোবল দিল। তৎক্ষণাৎ তার শরীর আগুনে দগ্ধ হওয়ার মতো নীল হয়ে সেখানে পড়ে গেল।

মেয়েটিও মহাদুঃখ অনুভব করতে করতে স্বামীর ফিরে আসার অপেক্ষায় চেয়ে থাকতে থাকতে তাকে না দেখেই আরেকটা পুত্রসন্তানের জন্ম দিল। দুটো সন্তান ঝোড়ো বাতাসের বেগ সহ্য করতে না পেরে গলা ফাটিয়ে কাঁদতে শুরু করল। সে তাদেরকে বুকের মাঝে রেখে দুই হাঁটু ও দুই কনুই দিয়ে মাটিতে চেপে রেখে সেভাবেই রাতটা কাটিয়ে দিল। তার সারা শরীর রক্তহীন হলদে রঙের হয়ে গেল।

সূর্য উঠলে একটা সন্তানকে কোলে করে, আরেকটাকে আঙুলে ধরে “এসো বাবা, তোমাদের পিতা এদিকে গেছে” বলে স্বামীর চলে যাওয়ার পথ ধরে যেতে যেতে সেই উইঢিবির মাথায় মরে নীল রঙের শক্ত হয়ে যাওয়া মৃতদেহ দেখে “আমার জন্যই আমার স্বামী পথে মারা গেল” বলে কাঁদতে কাঁদতে, বিলাপ করতে করতে চলা শুরু করল।

সারারাত বৃষ্টি হওয়ায় অচিরবতী নদী তখন হাঁটুসমান, কোমরসমান, বুকসমান পানিতে পরিপূর্ণ হয়েছিল। তা দেখে নিজের অল্পবুদ্ধির কারণে দুটো সন্তান নিয়ে পানি পার হতে না পেরে বড় ছেলেকে এপাড়ে রেখে অন্যটাকে নিয়ে অন্যতীরে গিয়ে গাছের শাখা বিছিয়ে সেটাতে শুইয়ে দিল। এরপর সদ্যজাত বাচ্চাটাকে সেখানে ফেলে রেখে আরেকটাকে আনতে গেল। কিন্তু আনতে গিয়েও বার বার ফিরে ফিরে বাচ্চাটাকে দেখতে দেখতে পার হতে লাগল।

তার নদীর মধ্যখানে যাওয়ার সময়ে এক চিল সেই বাচ্চাটাকে দেখে “মাংস” মনে করে আকাশ থেকে নেমে এল। সেটাকে বাচ্চার দিকে নামতে দেখে মেয়েটি তখন দুহাত তুলে “সূ সূ” বলে জোরে শব্দ করল। দূরে থাকার কারণে চিল তা না শুনে বাচ্চাটাকে নিয়ে আকাশে উড়ে গেল। এই তীরে দাঁড়ানো ছেলেটি মাকে নদীর মাঝে দুহাত তুলে জোরে শব্দ করতে দেখে “আমাকে ডাকছে” মনে করে দ্রুত পানিতে ঝাঁপ দিল। এভাবে সদ্যজাত বাচ্চাটাকে চিল নিয়ে গেল। বড় ছেলেটা পানিতে ভেসে গেল।

সে দারুণ শোকে “আমার এক পুত্র চিলে নিয়েছে, একটা পানিতে ভেসে গেছে, পথে মারা গেছে স্বামী” বলে কাঁদতে কাঁদতে, বিলাপ করতে করতে যাওয়ার সময়ে শ্রাবস্তী থেকে আসা এক ব্যক্তিকে দেখে জিজ্ঞেস করল – “বাবা, কোথাকার বাসিন্দা আপনি?”

“শ্রাবস্তীর বাসিন্দা, মা।”

“শ্রাবস্তী নগরে অমুক রাস্তায় এরকম অমুক পরিবার থাকে, জানেন নাকি, বাবা?”

“জানি, মা। তবে সেটা জিজ্ঞেস করো না। যদি অন্য কিছু জানার থাকে তাহলে জিজ্ঞেস কর।”

“অন্যকিছু জানার নেই। সেটাই জিজ্ঞেস করছি, বাবা।”

“মা, তুমি আমাকে না বলতে দিলে না। আজ সারারাত বৃষ্টি হয়েছে দেখেছ কি?”

“সেটা আমি দেখেছি, বাবা। আমার উপরেই সেই বৃষ্টি পড়েছে সারারাত, অন্যের উপরে নয়। আমার উপরে বৃষ্টি পড়ার কারণ পরে আপনাকে বলব, এখন আমাকে শ্রেষ্ঠীর ঘরের খবর বলুন।”

“মা, আজ রাতে শ্রেষ্ঠী, শ্রেষ্ঠীর স্ত্রী ও শ্রেষ্ঠীর পুত্র তিনজনই ঘরের নিচে চাপা পড়েছে। এক চিতায় তাদেরকে দাহ করা হয়েছে। সেই ধোঁয়া এখনো দেখা যাচ্ছে, মা।”

তা শুনে সেই মুহুর্তে তার পরনের কাপড় খুলে পড়ে গেলেও সে জানল না। পাগল হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বিলাপ করতে করতে –

উভয় পুত্র মারা গেছে, পথে মারা গেছে আমার স্বামী।মাতা পিতা ও ভাই এক চিতায় জ্বলছে॥

বলে হাহাকার করে করে ঘুরতে লাগল।

লোকজন তাকে দেখে “পাগলী পাগলী” বলে আবর্জনা নিয়ে, মাটি নিয়ে মাথায় ছিটিয়ে দিয়ে ঢিল মারত। বুদ্ধ জেতবন মহাবিহারে পরিষদের মাঝে বসে ধর্ম দেশনার সময়ে তাকে আসতে দেখলেন। পাগল হলেও সে কিন্তু ছিল লক্ষ কল্পের পারমীপূর্ণ, প্রার্থনাসম্পন্ন।

সে নাকি পদুমুত্তর বুদ্ধের কালে পদুমুত্তর বুদ্ধ কর্তৃক এক বিনয়ধর থেরীকে সেরা পদে স্থাপন করতে দেখে “আমিও আপনার মতো বুদ্ধের কাছে বিনয়ধর থেরীদের মধ্যে সেরা স্থান পাই যেন” বলে সেবা করে প্রার্থনা করেছিল। পদুমুত্তর বুদ্ধ ভবিষ্যৎজ্ঞান বিস্তৃত করে তার প্রার্থনা সফল হবে জেনে ভবিষ্যৎবাণী করলেন, “ভবিষ্যতে গৌতমবুদ্ধের শাসনে এ তখন পটাচারা নামে বিনয়ধর থেরীদের মধ্যে সেরা হবে।”

এমন প্রার্থনাকারী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞাসম্পন্ন মেয়েকে শাস্তা দূর থেকে আসতে দেখে চিন্তা করলেন, “আমি বাদে একে আশ্রয় দিতে সক্ষম অন্য কেউ নেই।” এই চিন্তা করে যাতে সে বিহারের অভিমুখে আসে সেরকম করলেন। পরিষদের লোকজন তাকে দেখেই “এই পাগলীকে এখানে আসতে দিও না” বলল।

বুদ্ধ “সরে যাও, তাকে বারণ করো না” বলে কাছাকাছি স্থানে আসার সময়ে বললেন, “সংবিৎ লাভ কর, বোন।” সে তৎক্ষণাৎ বুদ্ধের প্রভাবে সংবিৎ ফিরে পেল। সেই মুহুর্তে পরিধেয় বস্ত্র খুলে পড়ে গেছে দেখে লজ্জায় উবু হয়ে বসে পড়ল। তখন এক ব্যক্তি তাকে উর্ধ্বাংশের কাপড় ছুঁড়ে দিল। সে তা পরিধান করে বুদ্ধের কাছে উপস্থিত হয়ে বুদ্ধের স্বর্ণরঙা পাগুলোতে পঞ্চাঙ্গ বন্দনা জানিয়ে বলল, “ভান্তে, আমার আশ্রয় হোন, আমার প্রতিষ্ঠা হোন। আমার এক পুত্র চিলে নিয়ে গেছে, একটা পানিতে ভেসে গেছে, পথে আমার স্বামী মারা গেছে, মাতাপিতা ও ভাই ঘরচাপা পড়ে এক চিতায় জ্বলছে।”

বুদ্ধ তার কথা শুনে, “পটাচারা, চিন্তা করো না। তুমি ত্রাণ, শরণ, আশ্রয় হতে সক্ষম ব্যক্তির কাছেই এসেছ। তোমার এখন যেমন এক পুত্র চিলে নিয়েছে, একটা পানিতে ভেসে গেছে, পথে স্বামী মারা গেছে, মাতাপিতা ও ভাই ঘরচাপা পড়েছে, তেমনি এই সংসারচক্রে পুত্র ইত্যাদির মরণকালে তোমার কান্নায় ঝরে যাওয়া অশ্রুজলের পরিমাণ চারি মহাসাগরের পানি থেকেও বেশি” বলে এই গাথা বললেন-

চারি সমুদ্রে তো অল্প জল।

এর চেয়ে বহু বেশি অশ্রুজল ঝরে

দুঃখতাড়িত মানুষের অনুশোচনায়।

কী কারণে মা তুমি প্রমত্ত হচ্ছ?

এভাবে শাস্তা কর্তৃক আদিবিহীন সংসারচক্রে ঘুরতে থাকার কাহিনী বলার সময়ে তার শরীরের শোক হালকা হয়ে গেল।

এরপর তার শোক হালকা হয়ে গেছে জেনে শাস্তা আবার বললেন, “হে পটাচারা, পরলোকে যাওয়ার সময়ে সন্তান ইত্যাদিরা কোনো ত্রাণ, নিরাপত্তা বা আশ্রয় হতে পারে না। তাই তারা থাকলেও নেই। পণ্ডিত ব্যক্তির কিন্তু শীল বিশুদ্ধ করে নিজের নির্বাণে যাওয়ার পথ দ্রুত পরিষ্কার করে নেয়া উচিত।”

এই বলে ধর্মদেশনা করার সময়ে এই গাথা বললেন

ত্রাণের জন্য পুত্ররা নয়, পিতা নয়, বান্ধবেরাও নয়,

মরণে অধিকৃতের জ্ঞাতিজনের কাছ থেকে ত্রাণ নেই।এ

ই অর্থকে জেনে শীলে সংযত পণ্ডিত ব্যক্তির

নির্বাণে যাওয়ার পথ দ্রুত পরিষ্কার করা উচিত।

দেশনা শেষে পটাচারা মহাপৃথিবীর ধুলাবালির মতো অগণিত পরিমাণের কলুষতাকে দগ্ধ করে স্রোতাপত্তিফলে প্রতিষ্ঠিত হল। অন্য বহুজন স্রোতাপত্তিফল ইত্যাদি লাভ করল।

পটাচারা স্রোতাপন্ন হয়ে শাস্তার কাছে প্রব্রজ্যা প্রার্থনা করল। শাস্তা তাকে ভিক্ষুণীদের কাছে পাঠিয়ে প্রব্রজ্যা দেয়ালেন। সে ভিক্ষুণী হয়ে পটাচারা নামে অভিহিত হলো।

সে একদিন কলসিতে পানি নিয়ে পা ধোয়ার সময় পানি ঢালল। তা কিছুদূর গিয়ে থেমে গেল। দ্বিতীয়বারে ঢাললে আরো দূরে চলে গেল। তৃতীয়বারে ঢাললে আরো দূরে চলে গেল। সে সেটার সাথে তুলনা করে বয়সকে তিনভাগে ভাগ করে “আমার প্রথমবারে ঢালা পানির মতো এই প্রাণিরা প্রথম বয়সেই মরে যায়। এর চেয়ে বেশি দূরে যাওয়া দ্বিতীয়বারে ঢালা পানির মতো প্রাণিরা মধ্যম বয়সেও মরে যায়। এর চেয়ে বেশি দূরে যাওয়া তৃতীয়বারে ঢালা পানির মতো প্রাণিরা শেষ বয়সেও মরে যায়।” এমন চিন্তা করল।

বুদ্ধ গন্ধকুটিতে বসেই আলো ছড়িয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে বলার মতো করে “হে পটাচারা, এরকমই দেহমনের পাঁচটি পুঞ্জের উৎপত্তি ও বিলয়কে না দেখে শত বছর বাঁচার চেয়ে সেগুলোর উৎপত্তি ও বিলয়কে দেখে একদিন, এক মুহুর্ত বাঁচাও শ্রেয়” বলে উপসংহারে ধর্মদেশনার সময়ে এই গাথা বললেন –

যে শতবছর বাঁচে উৎপত্তি ও বিলীন হওয়া না দেখে,

তার চেয়ে একদিন বাঁচা শ্রেয়,

উৎপত্তি ও বিলীন হওয়াকে দেখে।

এখানে উৎপত্তি ও বিলীন হওয়াকে না দেখে মানে হচ্ছে দেহমনের পাঁচটি পুঞ্জকে পঁচিশ প্রকার লক্ষণ দ্বারা উৎপত্তি ও বিলীন হওয়াকে না দেখে। সেরকম জীবনের চেয়ে সেগুলো দেখে একদিন বাঁচাও শ্রেয়।

তাই দেহমনের উদয় বিলয়কে দেখার চেষ্টা করুন।

দুঃখ ও শোক দূর করার সেটাই একমাত্র পথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *