আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

ভবিষ্যতে মানুষের আয়ু যখন মাত্র দশ বছর হবে

এব্যাপারে বুদ্ধ দীর্ঘ নিকায়ের চক্রবর্তী সুত্রে ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন। এই সুত্রমতে এক সময় আসবে যখন মানুষের আয়ু হবে মাত্র দশ বছর। আমি হিসেব করে দেখেছি সেটা হবে আরো ৬৫০০ বছর পরে। অর্থাৎ আনুমানিক ৮৫০০ খ্রিস্টাব্দে।

– যদিও তখনকার মানুষের উচ্চতা কীরকম হবে সেব্যাপারে সরাসরি কোনো উল্লেখ নেই, কিন্তু বুদ্ধবংশে আমরা দেখি যে দীর্ঘায়ু বুদ্ধগণের উচ্চতাও দীর্ঘ ছিল। আর অল্পায়ু বুদ্ধগণের উচ্চতা কম ছিল। সেই হিসেবে আমরা অনুমান করতে পারি যে ভবিষ্যতে মানুষের উচ্চতা আরো কমবে। আমি ধারণা করি খুব সম্ভবত পৃথিবীর জলবায়ু বদলে যাবে। অক্সিজেনের লেভেল আরো কমবে। যেকারণে মানুষের আয়ু ও উচ্চতা উভয়ই কমবে।

অতীতের বড় বড় গাছ ডাইনোসর এমনকি মানুষের ফসিলও পাওয়া গেছে। একেকটা গঙ্গাফড়িং ১ মিটার লম্বা ডানা ছিল। এখন সেই গঙ্গাফড়িং ছয় ইঞ্চিও হয় না। কিন্তু যদিও বিজ্ঞানীরা যেগুলোকে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা দিতে পারেন না সেগুলোকে anomaly বলে এড়িয়ে যান ( যেমন ইউএফও গুলোর কথা ধরুন) আশা করি এগুলোও আর্কিওলজিস্টরা পরে স্বীকার করবেন।

যাইহোক, তখনকার অবস্থা হবে এরকম –

– তখন পাঁচ বছরেই মেয়েরা বিয়ের উপযুক্ত হবে।

– তখন ঘি, মাখন, তেল, মধু, গুড়, লবণ লুপ্ত হবে। দুগ্ধজাত খাবার সব লুপ্ত হয়ে যাবে। (তাহলে কি তখন গরু বলতে কিছু থাকবে না? তা অবশ্য আমি বলতে পারি না।

– তখন কুদ্রূসক নামে এক প্রকার খাদ্যশস্য হবে সেরা খাবার। (এই কুদ্রূসক নিয়ে আমি আরো গবেষণা চালাব।)

– তখন পুণ্য বলে কোনো শব্দও থাকবে না, কোথায় পুণ্যকারী!

– তখন পিতামাতাকে অসম্মানকারীরা, সন্ন্যাসী ও গুরুজনকে অসম্মানকারীরা হবে পূজিত ও প্রশংসিত।

– তখন তারা হবে খুব বদরাগী। পরিবারের মধ্যে একে অপরকে হত্যার সুযোগ খুঁজবে সর্বদা। তখন নাকি মানুষেরা ‘অমুক তার মাকে মেরেছে, বাবাকে মেরেছে, শ্রমণ ব্রাহ্মণকে হত্যা করেছে, পরিবারে গুরুজন আছে বলে জানে না, আহা, কী একটা লোক’ বলে তাকেই পূজা করবে, প্রশংসা করবে।

– তখন মানুষের মাঝে অবাধ যৌনাচার চলবে। মা মাসী গুরুজন বলে ভেদাভেদ কিছু থাকবে না। লোকজন ছাগল ভেড়া মুরগী শুকর কুকুর শেয়ালের মতো অবাধ যৌনাচারে লিপ্ত হবে।

– সবশেষে এক সপ্তাহ আসবে, যে সময়টাকে বলা হয় অন্তরকল্প। তখন মানুষ একটা ঘোরের মধ্যে চলে যাবে। সেই সময়ে তারা পরস্পরকে হরিণের মতো মনে করবে। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র আবির্ভূত হবে। হাতের স্পর্শ মাত্রই যেকোনো কিছু, অন্তত গাছের পাতাও অস্ত্রে পরিণত হবে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ‘হরিণ হরিণ’ বলে পরস্পরকে তাড়া করে হত্যা করবে।

– তখন সেই লোকজনের কেউ কেউ পালিয়ে যাবে গহীন বনে, দুর্গম দ্বীপে, দুর্গম পর্বতে। সেগুলোতে তারা সপ্তাহকাল বুনো ফলমূল খেয়ে জীবনধারণ করবে।- তারা সেই সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলে বন, দ্বীপ, পর্বত থেকে বেরিয়ে একে অপরকে দেখে খুশিতে জড়িয়ে ধরে বলবে, আহা, জীবিত লোকের দেখা পেয়েছি!

– এভাবেই আগামী সাড়ে ছয় হাজার বছর পরে মানবজাতি ধ্বংস হবে। গুটিকয়েক জন যারা বেঁচে যাবে তারা নতুন করে মৈত্রী ও মমতা দিয়ে তিলে তিলে আবার গড়ে তুলবে মানবজাতিকে।

রেফারেন্স:দীর্ঘ নিকায় => মহাবর্গ => চক্রবর্তী সুত্র, তার অর্থকথা ও টীকা থেকে সংগৃহীত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *