আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

এক ধুতাঙ্গধারীর কাহিনী

ধুতাঙ্গধরদের কদর সবসময়ই সাধারণ মানুষের কাছে আলাদা। তাই লাভ প্রত্যাশী ভিক্ষুরা ধুতাঙ্গধর সাজবে সেটা তো জানা কথা। সেটা আগেও হয়েছে , বর্তমানেও হচ্ছে । অর্থকথায় আজ ছোট একটা কাহিনী চোখে পড়ল সেরকম।

এক ভিক্ষু নাকি খুব লাভ খুঁজত। গ্রামের কোথায় কার কাছ থেকে কীভাবে দান পাবে সবসময় সেই ধান্ধায় থাকত। তাই তার নাম হয়েছিল গ্রামপ্রিয়। সে দেখল যে ধুতাঙ্গধারী ভিক্ষুরা খুব দান দক্ষিণা পায়। সে চিন্তা করল “আমিও ধুতাঙ্গ গ্রহণ করি না কেন। ভালো লাভ হবে।”

সে শ্মশানবাসী ধুতাঙ্গ গ্রহণ করে শ্মশানে বাস করতে লাগল। এরপর একদিন এক ছাড়া পাওয়া বুড়ো গরু দিনে মাঠে চরে রাতে সেই শ্মশানের ঝোপের মধ্যে ঢুকে জাবর কাটতে লাগল। গ্রামপ্রিয় ভিক্ষু রাতে পায়চারি করতে বেরিয়ে ঝোপের মধ্যে থেকে গরুটার জাবর কাটার শব্দ শুনে ভয় পেয়ে গেল। সে ভাবল, নিশ্চয়ই লোভী হয়ে শ্মশানে বাস করছি জেনে দেবরাজ আমাকে শাস্তি দিতে এসেছে।

সে ঝোপের সামনে দুহাত জোড় করে মিনতি করতে লাগল, “ও দেবরাজ। আজ আমাকে একরাত ক্ষমা করে দাও। কাল থেকে আর এমন করব না।” এভাবে ভয়ে সারারাত হাতজোড় করে নমস্কার করতে করতে দাঁড়িয়ে রইল।

পরদিন সকালে সূর্য উঠলে গরুটাকে দেখে গরম হয়ে লাঠি দিয়ে মেরে তাড়িয়ে দিল, “যা হতভাগা। সারা রাত আমাকে ভয় লাগিয়েছ!”

😅

রেফারেন্স : মধ্যম নিকায়, মূলপণ্ণাস অর্থকথা, মূলপরিযায বর্গ, ভযভেরব সুত্র বণ্ণনা.৪৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *