আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

মরণকালে পুণ্যকর্মের কাহিনী

মধুঅঙ্গন গ্রামে নাকি এক তামিল দারোয়ান ভোরেই বড়শি নিয়ে গিয়ে মাছ মেরে তিন ভাগ করে একভাগ দিয়ে চাল নিত, এক ভাগ দিয়ে দই, এক ভাগ রান্না করত। এই উপায়ে পঞ্চাশ বছর প্রাণিহত্যা কর্ম করে পরবর্তীতে বুড়ো হয়ে উঠতে না পেরে বিছানায় পড়ে থাকল।

সেই সময়ে গিরিবিহার নিবাসী চূলপিণ্ডপাতিক তিষ্য স্থবির “আমার চোখের সামনে এই লোকটি নষ্ট না হোক” বলে তার ঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেন। তার স্ত্রী জানাল, “স্বামী, স্থবির এসেছেন।” “আমি পঞ্চাশ বছরে স্থবিরের কাছে একবারও যাই নি। আমার কোন গুণের কারণে স্থবির আসবেন? তাকে চলে যেতে বল।” স্ত্রী তখন বলল, “অন্যত্র যান, ভান্তে।” স্থবির জিজ্ঞেস করলেন, “উপাসকের শরীরের খবর কী?” “দুর্বল, ভান্তে।”

স্থবির ঘরে প্রবেশ করে সচেতন করিয়ে বললেন, “শীল গ্রহণ করবেন?”

“হ্যাঁ, ভান্তে। দিন।”

স্থবির ত্রিশরণ দিয়ে পঞ্চশীল দিতে শুরু করলেন। তার পঞ্চশীল বলার সময়েই জিহ্বা অসাড় হয়ে পড়ে গেল। স্থবির “এটুকু হলেও হবে” বলে বের হয়ে চলে গেলেন। সে মৃত্যুবরণ করে চতুর্মহারাজিক ভবনে জন্ম নিল।

জন্মের মুহুর্তেই “কী কর্ম করে আমি এটা পেলাম” বলে মনোযোগ দিয়ে জানতে পারল স্থবিরকে নির্ভর করে পেয়েছে। সে দেবজগত থেকে এসে স্থবিরকে বন্দনা করে একপাশে দাঁড়াল।

“সেটা কে?” বললে

“ভান্তে, আমি তামিল দারোয়ান” বলল।

“কোথায় জন্মেছ?”

“ভান্তে, চতুর্মহারাজিকে। আর্য্য যদি আমাকে পঞ্চশীল দিতেন তাহলে উচ্চতর দেবজগতে জন্মাতাম।”

“আমি কী করব, বাপু? তুমিই তো গ্রহণ করতে পার নি।” সে স্থবিরকে বন্দনা করে দেবজগতে ফিরে গেল।

এটা হচ্ছে মরণকালে পুণ্যকর্মের কাহিনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *