আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

বুদ্ধের পদচিহ্ন কোথায় আছে?

অর্থকথায় বুদ্ধের দুটো পদচিহ্নের কথা উল্লেখ আছে। দুটোই হচ্ছে ভারতের গুজরাটে। সেখানে এখন যে সুরাট নামে শহর আছে, সেটা এখন থেকে আড়াই হাজার বছর আগে বুদ্ধের আমলে সুনাপরন্ত জনপদ নামে পরিচিত ছিল। সেখানে সুপ্পারক নামে একটা সমুদ্রবন্দর ছিল। সেটা ছিল পাঁচশ বণিকের গ্রাম। সেই বণিকরা নৌকায় করে সাগর পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন দেশে বাণিজ্য করতে যেত। সেখানেই জন্মেছিলেন বুদ্ধের আশিজন মহাশিষ্যের অন্যতম পূর্ণ স্থবির। বাহিয় দারুচীরিয় জাহাজডুবি হয়ে এই এখানেই অর্হৎ সাজেন। তার কথা পরে সময় পেলে লিখব।

এখন পূর্ণ স্থবিরের কথা বলি। তিনি শ্রাবস্তীতে গিয়েছিলেন বাণিজ্যের কাজে। সেখানে বুদ্ধের সাক্ষাতে ভিক্ষু হয়ে আবার ফিরে আসেন নিজের জন্মভূমি সুনাপরন্ত অঞ্চলে। পরে সেখানেই সিদ্ধি লাভ করেন। তার প্রভাবে ভয়ংকর ঘুর্ণিঝড় থেকে রক্ষা পায় বণিকেরা। তারা ত্রিরত্নের উপাসক হয়ে যায়। বুদ্ধ তাদের দেখতে আসেন সুনাপরন্ত অঞ্চলে। সেখান থেকে ফেরার পথে নর্মদা নদীর মোহনায় পদচিহ্ন স্থাপন করে যান। এরপর সত্যবন্ধ পর্বতে পাথরের উপরে পায়ের ছাপ রেখে আসেন। এই দুটো হচ্ছে অর্থকথায় উল্লেখিত বুদ্ধের পদচিহ্ন। বুদ্ধের পদচিহ্নকে পূজা করে অফুরান পুণ্য লাভ করেছে এমন অনেক কাহিনীর কথা অপদানে উল্লেখিত হয়েছে।

বার্মিজরা কিন্তু গভীরভাবে বিশ্বাস করে যে, সুনাপরন্ত দেশটা আসলে বার্মা দেশে। বুদ্ধ আসলে নাকি তাদের দেশেই এসেছিলেন। বুদ্ধের পদচিহ্ণ নিয়ে অনেক কাহিনী আছে তাদের এখানে। আমিও বার্মায় এযাবত তিন চারটা পদচিহ্ন দেখে এসেছি। কিন্তু সেগুলো প্রকৃত পদচিহ্ন বলে মনে হয় নি আমার। আর শাসনবংশ নামে যে একটা বুদ্ধশাসনের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ আছে তাতে তো শুধু বার্মারই জয়গান। আমি অনেক গবেষণা করে দেখেছি তাদের দাবিগুলো নিয়ে। কিন্তু এই সুনাপরন্ত জায়গার ব্যাপারে তাদের দাবি নিয়ে কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাই নি। তার কারণ হচ্ছে দুটো।

প্রথমত, নর্মদা নদীর অবস্থান। সুনাপরন্ত যেতে হলে নর্মদা নদীকে ক্রস করতে হয়। নর্মদা নদী হচ্ছে ভারতের গুজরাটে। অর্থাৎ বুদ্ধ যদি শ্রাবস্তী থেকে সুনাপরন্ত যান তাহলে শ্রাবস্তী থেকে তার পশ্চিমে যেতে হবে। কিন্তু বার্মা তো হচ্ছে শ্রাবস্তীর পূর্বে। তাই বার্মায় সুনাপরন্ত দেশ হওয়া সম্ভবই নয়।

দ্বিতীয়ত, শ্রাবস্তী থেকে সুপ্পারক বন্দরের দূরত্ব। সুনাপরন্ত অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে সুপ্পারক বন্দর। অর্থকথায় শ্রাবস্তী থেকে তার দূরত্ব দেখানো হয়েছে ১২০ যোজন বা ৯৬০ মাইল। কিন্তু গুগল ম্যাপে আমি দেখেছি সেই দূরত্বে শ্রাবস্তী থেকে বার্মায় পৌঁছানো যায় না। তাই বার্মার লেখকেরা যতই ইতিহাসে লিখে রাখুক না কেন, তথ্যপ্রমাণ কিন্তু তাদের ইতিহাসের সাথে মেলে না।

সে যাই হোক, এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে নর্মদা নদীতে বুদ্ধের সেই পদচিহ্ন কোথায়? সত্যবন্ধ পর্বতই বা কোথায়? সেটা ভারতবাসী বৌদ্ধদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা রইল। দরকার হলে তারা গুজরাটে গিয়ে নর্মদা নদীর মোহনায় খুঁজে দেখুন, সত্যবন্ধ পাহাড়টাকেও খুঁজে দেখুন। বুদ্ধের পদচিহ্নগুলো খুঁজে পাওয়া গেলে বিশাল একটা আবিষ্কার হয়ে যাবে। লোকজন সেগুলোকে পূজা করে অনেক পুণ্য সঞ্চয় করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *