আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

স্বপ্ন রহস্য

আজ সকালে নাস্তা করে ফিরছি। দেখলাম সুনন্দ ভিক্ষু বারান্দা ঝাড়ু দিচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী হে সুনন্দ, বারান্দা ঝাড়ু দিচ্ছ যে? সে ঝাড়ু ও বেলচা ধরে আমার কাছে এসে বলল, ভান্তে, কত ধরনের স্বপ্ন দেখা যায়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী স্বপ্ন দেখেছ? সে বলল, ভান্তে, আমি স্বপ্ন দেখলাম আমি মারা গেছি। মরে পড়ে আছে আমার লাশ। লোকজন দাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আরো কত কী করছে। অথচ আমি ভাবছি আমি মরলাম কেন? কত পুণ্য করা বাকি রয়ে গেল! হায় হায়।

তার কথা শুনে আমি হেসে বললাম, ও আচ্ছা, সেজন্য এই সাতসকালে বারান্দা ঝাড়ু দেয়া শুরু করেছ। ভালো ভালো। মাঝে মধ্যে এরকম সংবেগ উৎপন্ন হওয়া ভালো। তা আমাদেরকে হুঁশ এনে দেয়। আমাদের জীবনের প্রতিটা মুহুর্ত যে কত মূল্যবান, কত গুরুত্বপূর্ণ তা অনুভব হয়।

রুমে ফিরে মনে পড়ল স্বপ্ন বিষয়ে আমি অনেক আগে একটা লেখা লিখে রেখেছিলাম। ভাবলাম অনেকদিন হলো ফেসবুকে কিছু লিখি না। বরং সেটাই পোস্ট করা যাক তাহলে। পড়ে দেখুন। ভালো মন্দ বিষয়ে জিজ্ঞেস করার থাকলে কমেন্ট করুন। আমি সময় পেলে উত্তর দেব।

স্বপ্ন দেখা যায় কেন?

পারাজিকা অর্থকথায় বলা হয়েছে স্বপ্ন চারটি কারণে স্বপ্ন দেখা যায় – ধাতুর গোলযোগের কারণে, পূর্ব পরিচয়ের কারণে, দেবতার কারণে, অথবা পূর্বলক্ষণ হিসেবে।

পিত্ত ইত্যাদির গোলযোগের কারণে ধাতুর গোলযোগ দেখা দিলে স্বপ্ন দেখে। সেই স্বপ্নও হয় নানা ধরনের – যেন পর্বত থেকে পড়ে যাচ্ছে, আকাশে উড়ে যাচ্ছে, হিংস্র পশু, হাতি, ডাকাত ইত্যাদি তাড়া করছে।

পূর্ব পরিচয়ের কারণে স্বপ্ন দেখলে আগে পরিচয় হয়েছে বা পূর্বপরিচিত এমন বিষয়কেই স্বপ্নে দেখে থাকে।

দেবতার কারণে স্বপ্ন দেখলে দেবতা মঙ্গলের উদ্দেশ্যে অথবা অমঙ্গলের উদ্দেশ্যে, লাভের উদ্দেশ্যে অথবা ক্ষতির উদ্দেশ্যে নানা ধরনের বিষয় দেখিয়ে থাকে। সে সেই দেবতাদের প্রভাবে সেই বিষয়গুলো দেখে থাকে।

পূর্ব লক্ষণ হিসেবে স্বপ্ন দেখলে ভবিষ্যৎ লাভ বা ক্ষতির পূর্বলক্ষণ হিসেবে স্বপ্ন দেখে থাকে। বোধিসত্ত্বের মাতা যেমন পুত্র লাভের লক্ষণ হিসেবে স্বপ্ন দেখেছিলেন, বোধিসত্ত্ব যেমন পাঁচটি মহাস্বপ্ন দেখেছিলেন (অ॰ নি॰ ৫.১৯৬), কোশলরাজা যেমন ষোলটি স্বপ্ন দেখেছিলেন।

কোন ধরনের স্বপ্ন সত্য হয়?

—————–

ধাতুর গোলযোগের কারণে এবং পূর্ব পরিচয়ের কারণে যে স্বপ্ন দেখা যায় তা সত্যি হয় না।

যা দেবতার কারণে দেখা যায় তা সত্যি হয় অথবা মিথ্যাও হয়। ক্রুদ্ধ দেবতারা ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে বিপরীত স্বপ্নও দেখায়।

পূর্বলক্ষণমূলক স্বপ্ন কিন্তু নিশ্চিত সত্য হয়।

স্বপ্ন কখন দেখলে সত্য হয়?

—————–

সারত্থদীপনী টীকা বলছে,

– দিনের বেলায় দেখা স্বপ্ন সত্যি হয় না।

– রাতের প্রথম প্রহরে ও মাঝরাতে দেখা স্বপ্নও সত্যি হয় না।

– ভোরবেলায় সূর্য উঠার সময়ে দেখা স্বপ্ন সত্যি হয়। মঙ্গলময় বিষয় স্বপ্ন দেখলে মঙ্গল হয়, অমঙ্গলজনক বিষয় স্বপ্ন দেখলে অমঙ্গল হয়। আমাদের বোধিসত্ত্বও বুদ্ধ হওয়ার আগে রাত কেটে ভোর হচ্ছে এমন সময়ে পাঁচটি মহাস্বপ্ন দেখেছিলেন।

কারা স্বপ্ন দেখে?

————–

এই চার ধরনের স্বপ্ন কেবল শিক্ষার্থী ও সাধারণ লোকেরাই দেখে থাকে বিপল্লাস বা বিভ্রান্তি অপরিত্যক্ত হওয়ার কারণে।

অর্হৎরা কোনো স্বপ্ন দেখে না, বিভ্রান্তি পরিত্যক্ত হওয়ার কারণে।

স্বপ্ন দেখা যায় আধো ঘুম আধো জাগরণে

—————————-

পারাজিকা অর্থকথা বলছে, প্রাণিরা ঘুমায় ভবাঙ্গ চিত্তের দ্বারা। এই ভবাঙ্গ চিত্তকে আমরা বলতে পারি অচেতন মনের স্তর। অর্থাৎ ঘুমালে আপনি তখন অচেতন মনের স্তরে চলে গেছেন।

অন্যদিকে সচেতন মনের স্তর হচ্ছে আমরা যখন জেগে থাকি তখন।

আর তার মাঝামাঝি স্তর হচ্ছে অবচেতন মনের স্তর। মন তখন খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে থাকে। সেটা কখনো অচেতন অবস্থা থেকে উঠে আসে, মুহুর্তখানেক বিভিন্ন পুণ্যজনক বা পাপজনক বিষয় দেখে আবার অচেতন অবস্থায় ডুবে যায়। এমন আধো ঘুম আধো জাগরণের মাঝে মনের চোখে যা দেখা যায় সেগুলোই হচ্ছে স্বপ্ন।

এই হচ্ছে স্বপ্নের সারকথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *