আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

ক্ষমা ও মৈত্রী

ক্ষমা ও মৈত্রী হচ্ছে বৈরী পরিস্থিতি মোকাবেলার শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার। আপনি নিজের অজান্তে কিছু বলেছেন বা করেছেন নিশ্চয়ই, যার কারণে অন্যরা আপনাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। মৈত্রী ভাবনা ছাড়া এর কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধান নেই।

একটা ঘটনা আপনাদেরকে বলি। সেটা আমার ছোটবেলার ঘটনা। আমি তখন কলেজে পড়ি। একদিন কলেজে যাচ্ছি। পথে দেখলাম কালভার্টের উপরে একটা কালো কুকুর শুয়ে আছে। আমি একটা ধমক দিয়ে সেটাকে তাড়ালাম। কুকুরটা ভয়ে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেল। এরপরের দিন সেটা আমাকে দেখে একটু দূরে গিয়ে গরগর করতে লাগল। আমি আবারও একটু আওয়াজ করে তাড়ালাম। এরপরের দিন সেটা আমাকে দেখেই ঘেউঘেউ শুরু করে দিল।

এভাবেই হলো ঝামেলা শুরু। আমাকে বেশ ভালো করে চিনে রেখেছে কুকুরটা। দূর থেকে দেখলেই হয়েছে। ঘেউ ঘেউ শুরু করে দেবে। মাঝে মাঝে তো একদম কামড়াতে আসে। কী অস্বস্তিকর অবস্থা। আমি শার্ট প্যান্ট পাল্টালাম। কিন্তু তাতেও সেটাকে ফাঁকি দেয়া গেল না। সে ঠিকই চিনল। চিনে ঘেউ ঘেউ করতে শুরু করল। অথচ রাস্তা পালটানোও সম্ভব নয়। কলেজে যাওয়ার সবচেয়ে সোজা রাস্তা হচ্ছে এটা। অন্য রাস্তা দুয়েকটা আছে বটে, কিন্তু সেগুলো ভালো না, বেশ ঘুরপথে যেতে হয়। কী যে করি।

তখন ভাবনার আশ্রয় নিলাম। আমি তখন গৃহী অবস্থায় অত বৌদ্ধ পন্থার ভাবনার কথা জানতাম না। কিন্তু কোয়ান্টাম মেথড শিখেছিলাম নিজে নিজেই। সেটাতে শুয়ে শুয়ে ভিজুয়ালাইজ করতে হয়, অর্থাৎ আপনি যেটা চান সেটা কল্পনা করতে হয়। দিনে কয়েকবার করতে হয়। আমি সেটাই চেষ্টা করলাম। আমি একটা সুন্দর জায়গায় কুকুরটাকে আমন্ত্রণ জানালাম। এরপর ক্ষমা প্রার্থনা করলাম। সে বুঝল। এরপর তাকে কিছু খাবার দিলাম। সে খুশি হলো। আমরা বন্ধু হয়ে গেলাম।

কিন্তু সেটা তো কল্পনা মাত্র। বাস্তবে কী হলো? যে লাউ সেই কদু। কুকুরটা আমাকে দেখলেই ঘেউ ঘেউ করে কামড়াতে আসে। বাকিরা সবাই চলাচল করতে পারে নিশ্চিন্তে, কিন্তু আমার লাঠি হাতে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু আমি হাল ছাড়লাম না। কয়েকদিন ধরে এভাবে কল্পনা করে গেলাম। সপ্তাহখানেক পরে দেখলাম কুকুরটা বেশি ঘেউ ঘেউ করছে না আর। এর কয়েকদিন পরে আর আমাকে দেখে পালালো না। ঘেউঘেউও করল না। যেখানে ছিল সেখানেই চুপ করে আমাকে দেখল। কল্পনায় কাজ হয়েছে? নাকি ঘেউঘেউ করতে করতে ক্লান্ত? কারণ যাই হোক, আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। বিশ্রী একটা ঝামেলা অবশেষে মিটে গেল।

এখন ভেবে দেখলে বুঝতে পারি যে, সেটা ছিল এক ধরনের মৈত্রী ভাবনা। আমি কুকুরটা সুখী হোক বলে কামনা করেছি। অপরের সুখ কামনা করেছি। সেটাই তো মৈত্রী ভাবনার নিয়ম।

*****মৈত্রী ভাবনা করবেন যেভাবে*****

আপনি মৈত্রী ভাবনা শুরু করুন এভাবে। প্রথমে নিজের কোনো সুখী মুহুর্তের কথা ভাবুন দুয়েক মিনিট। মনে মনে বলুন, আমি সুখী, আমি সুখী। এভাবেই নিজের প্রতি মৈত্রী দিতে হয়।

এভাবে দুয়েক মিনিট ভেবে এবার আপনার প্রতিপক্ষ ব্যক্তির কথা ভাবুন। তার কোনো সুখকর মুহুর্তের কথা ভেবে মনে মনে বলুন, সে সুখী হোক, সুখী হোক।

এভাবে দিনে কমপক্ষে দুতিনবার ভাবনায় বসুন। সকালে ১০ মিনিট, সন্ধ্যায় ১০ মিনিট করলেই যথেষ্ট। দুই সপ্তাহ বা বড়জোর মাসখানেক হলেই দেখবেন সেই ব্যক্তির সাথে আপনার ঝামেলা মিটে গেছে। ১০০% গ্যারান্টি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *