আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

বিশ্বাসে কী না হয়!

করোনায় লকডাউন হওয়ায় ক্লাস বন্ধ। খুলবে এই মাসের শেষদিকে। অবসর মিলেছে একটু। তাই দুয়েকটা গল্প আপনাদেরকে শোনাই। গল্পগুলো ফেসবুকের বার্মিজ পেজগুলো থেকে নেয়া। সত্যি নাকি মিথ্যা জানা নেই। তবে গল্পগুলো বেশ মজার।

গল্প-১

দুইজন সৈনিক ছিল। তাদের একজন আরেকজনকে একটা তাবিজ বানিয়ে দিল। সৈনিকটা গভীর বিশ্বাস নিয়ে সেই তাবিজ রাখল। যেখানেই যাক না কেন, তাবিজটা সাথে করে নিয়ে যেত। সে সেটা নিয়ে বহু যুদ্ধে গেল। সবগুলোতেই জয়ী হয়ে নিরাপদে ফিরে এল। এরপর একদিন তার মনে হল, কী শক্তি এই তাবিজের। আমার বন্ধু এই তাবিজের মধ্যে এমন কী মন্ত্র লিখে দিয়েছে। একটু দেখি তো। সে খুলে দেখল তাতে লেখা আছে, “তুমি যুদ্ধে মরলে তোমার স্ত্রীকে আমি বিয়ে করব।” অথচ সে এই তাবিজটাকেই বিশ্বাস করে বসে ছিল! এই হচ্ছে বিশ্বাসের শক্তি।

গল্প-২

আরেক লোক তার গলায় সবসময় ছোট একটা বুদ্ধমূর্তি ঝুলিয়ে রাখত লকেটের মতো করে। একদিন কোথাও ঘুরতে গিয়ে পড়ল ডাকাতদলের হাতে। তারা তাকে ঘিরে ধরল। সে তখন দৌড়ে পালিয়ে গেল। পালানোর সময়ে বুদ্ধমূর্তিটা পুকুর পাড়ে খুলে পড়ে গেল। সে ছোঁ মেরে সেটাকে তুলে নিয়ে মুখের মধ্যে রেখে দিয়ে আবার দৌড় দিল। কিন্তু সে খেয়াল করল না যে, সে যেটাকে বুদ্ধমূর্তি মনে করে তুলে নিয়েছে সেটা বুদ্ধ ছিল না। সেটা ছিল একটা ব্যাঙ। কিন্তু পালাতে গিয়ে অত খেয়াল করার সময় কোথায়?

এদিকে ব্যাঙটা মুখের মধ্যে লাফাতে শুরু করল। তাতে লোকটা মনে করল, বুদ্ধ মুখের মধ্যে লাফিয়ে উঠে বসছেন। সে তখন “আমার বুদ্ধ এমন বিপদের সময়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছেন” মনে করে আরো গভীর শ্রদ্ধা নিয়ে মনে মনে “বুদ্ধ বুদ্ধ” বলতে লাগল।

ডাকাতেরা তাকে আর খুঁজে না পেয়ে চলে গেল। সে বিপদ থেকে বেঁচে গেল। যুক্তিবাদীরা বলবে, কাকতালীয়ভাবে বেঁচে গেছে। কিন্তু আমরা বুদ্ধকে বিশ্বাস করি যারা, তারা বলব, বুদ্ধের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা বা বিশ্বাসের জোরেই সে বেঁচে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *