আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

ভিক্ষুরা বোধিসত্ত্বকে বন্দনা করতে পারে না

আমি কিছুদিন আগে একটা পোস্টে লিখেছিলাম ভিক্ষুরা বোধিসত্ত্বকে বন্দনা করতে পারে না। বিশেষ করে রাম বোধিসত্ত্বকে তো নয়ই। তাতে গুরুবাদীরা খুব ক্ষেপে গেছে দেখছি। এক উপাসক তো বিভিন্ন রেফারেন্স দাঁড় করিয়ে বিশাল লেখা লিখে ফেলেছেন। কিন্তু তার লেখার শুরুতেই যে গলদ আছে, এভাবে লেখার ফল যে মারাত্মক কর্ম হয়ে যাচ্ছে তার, সেটা বোধহয় আমি ছাড়া আর কেউ তাকে দেখিয়ে দেবে না। কিন্তু তবুও আমি বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম তার উত্তরে লিখব কি লিখব না। অবুঝ মানুষ। গুরুর অন্ধ ভক্ত। হাজারো বুঝালেও কাজ হবে না। তাহলে লিখে লাভ কী?

কিন্তু আমার কয়েকজন সতীর্থ ভিক্ষু আছেন, যাদের এব্যাপারে হয়তো ভ্রান্ত ধারণা থাকতে পারে। তাই তাদের সন্দেহ দূর করতেই এই লেখা।

প্রথমেই বলে নিই, এই উপাসক তার লেখায় স্বীকার করেছেন “বিনয়ে লিখা আছে ভিক্ষুরা শ্রমণ গৃহীকে বন্দনা করতে পারবে না।” কিন্তু শেষ পর্যন্ত উপসংহার টেনেছেন এভাবে “বোধিসত্ত্বগণ এইক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। অর্থাৎ তাঁদেরকে পূজা বন্দনায় আপত্তি নেই।”

সেটা কী হলো? দিনেদুপুরে অবিনয়কে বিনয় হিসেবে দাবি করা হলো। সেটা কীসের জন্য? শুধুমাত্র তাদের রাম বোধিসত্ত্বকে বন্দনা করাটা বৈধ করার জন্য। আচ্ছা, কীসের ভিত্তিতে তিনি এই দাবি করলেন? তার যুক্তিগুলো আসুন একে একে বিশ্লেষণ করে দেখি।

প্রথম বর্ণনা: সুমেধ তাপসের কাহিনী

————————————

প্রথমে তিনি বুদ্ধবংশের একটা গাথা উল্লেখ করেছেন। যার সারমর্ম হচ্ছে- দীপঙ্কর বুদ্ধের আমলে ভিক্ষুরা সুমেধ তাপসকে “প্রদক্ষিণ করেছিলেন”। যার বিস্তারিত বলতে গিয়ে বুদ্ধবংশ অর্থকথায় বলা হয়েছে – স্বয়ং দীপঙ্কর বুদ্ধ আট মুঠো ফুল দিয়ে সুমেধ তাপসকে পূজা করে প্রদক্ষিণ করে চলে গেলেন। তার সাথে থাকা চার লাখ অর্হৎ ভিক্ষুও তাকে ফুল ও সুগন্ধি দিয়ে পূজা করে প্রদক্ষিণ করে চলে গেলেন। দেবতা ও মানুষেরা কিন্তু সেভাবেই পূজা ও বন্দনা করে চলে গেল।

আপনি পার্থক্যটা দেখেছেন? ভিক্ষুরা সুমেধ তাপসকে “বন্দনা” করেন নি, পূজা করে প্রদক্ষিণ করেছে মাত্র। কিন্তু দেবতা ও মানুষেরা তাকে পূজাও করেছে, “বন্দনা”ও করেছে।

পূজা করে প্রদক্ষিণ করা বা কারোর চারপাশে কয়েকবার ঘোরা হচ্ছে সম্মান দেখানোর একটা প্রাচীন ভারতীয় রীতি। এটা অহরহ দেখা যায় ত্রিপিটকে। সেটা বুদ্ধকে করা হয়ে থাকে, জাদীকে করা হয়ে থাকে, গাছকে পবিত্র মনে করে করা হয়ে থাকে, স্ত্রী তার স্বামীকে প্রদক্ষিণ করে থাকে। এভাবে লোকজন সম্মান দেখায়। তাই ভিক্ষুরাও সম্মান দেখিয়েছেন বটে, বন্দনা তো করেন নি!

কিন্তু কেন তারা এভাবে সম্মান দেখিয়েছেন? কারণ সুমেধ তাপস তখন বোধিসত্ত্বদের দলে প্রবেশ করেছেন। তিনি ভবিষ্যতে বুদ্ধ হবেন। সেটা বিশাল একটা অর্জন। অনেকটা মেডিকেলে চান্স পাওয়ার মতো। ধরা যাক আপনি একজন এমবিবিএস ডাক্তার। পাস করে বেরিয়েছেন। এখন আপনার জুনিয়র একজনও মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। আপনি জানেন ভবিষ্যতে তার ডাক্তার হওয়াটা নিশ্চিত। শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তাই আপনি বিশাল একটা ফুলেল সংবর্ধনা দিলেন এই নবীন মেডিকেলের ছাত্রকে। সে তো সবে মেডিকেলে ঢুকেছে। ডাক্তারির ড-ও জানে না। কিন্তু তবুও আপনি তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলেন। তার মানে এই নয় যে আপনি তাকে সিনিয়র বা গুরুজন হিসেবে সম্মান করলেন। আপনি তো আর তাকে পায়ে ধরে সালাম করেন নি। সেটা মানানসইও নয়। আপনি সিনিয়র হিসেবে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাত্র। ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানিয়ে সম্মান দেখানো আর পায়ে ধরে সালাম করে সম্মান দেখানোর মধ্যে পার্থক্য আছে সেটা আশা করি বোঝাতে হবে না। ভিক্ষুদের বন্দনার নিয়ম হচ্ছে সিনিয়র ভিক্ষুদেরকে পায়ে পড়ে বন্দনা করতে হয়। নতুবা বন্দনা করার সময় দুই হাঁটু, দুই কনুই ও কপাল ভূমিতে ঠেকিয়ে বন্দনা করতে হয়। ঐ ভিক্ষুরা তো সুমেধ তাপসকে এভাবে বন্দনা করেন নি। তারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাত্র।

আপনি হয়তো বলতে পারেন, আচ্ছা ঠিক আছে। বন্দনা না হয় করতে পারে না। কিন্তু পূজা তো করেছে। তার মানেই হচ্ছে বর্তমানেও ভিক্ষুরা বোধিসত্ত্বকে ফুল দিয়ে পূজা করতে পারে। ধরা যাক, রাম বোধিসত্ত্ব তার অন্ধভক্তদের দর্শন দিতে স্বর্গলোক থেকে ধরাধামে অবতীর্ণ হলেন। কোথায় অবতীর্ণ হলেন? রামজাদীতে। তাহলে কি আমাদের মত ভিক্ষুরা তাকে ফুল দিয়ে পূজা করতে ছুটে যাব? আমি তা মনে করি না।তার কারণ কী? আপনি ভেবে দেখুন, দীপঙ্কর বুদ্ধ ও তার ভিক্ষুসঙ্ঘ সুমেধ তাপসকে পূজা করেছেন কেন? অভিনন্দন জানাতে। পরবর্তীতে দেখা হলেই কি তারা তাকে সেভাবে পূজা করে অভিনন্দন জানিয়েছেন? মনে তো হয় না। অভিনন্দন সংবর্ধনা তো বিশেষ অর্জন উপলক্ষে। সেটা লোকে কয়বার দেয়? ধরা যাক, আপনি একজন ডাক্তার। আপনি আজ একজন নবীন ছাত্রকে সংবর্ধনা দিলেন, ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানালেন। এখন তাকে কি আগামীকালও ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানাবেন? আপনি হয়তো প্রশংসাসূচক কিছু কথা বলতে পারেন, যেটা ভদ্রতাবশত আমাদের অবশ্যই বলা উচিত। কিন্তু সেটাও প্রতিদিন করলে তো তার বিরক্তি আসবে। আমি হলে তো আপনাকে একদম এড়িয়ে চলতে চাইব। আর যদি বারবার ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানাতে আসেন তো আমি বুঝব আপনার মাথায় গণ্ডগোল হয়েছে। আপনি শিগগির মানসিক হাসপাতালে চলে যান। আমার মনে হয় একারণেই রাম বোধিসত্ত্ব তার ভক্তদের কাছে আসেন না। কারণ আসলে তার ক্রেজি ভক্তরা তাকে নিয়ে যে কী করবে তা কল্পনা করাও কঠিন।

দ্বিতীয় বর্ণনা: ময়ুর জাতকের কাহিনী

————————————

এই জাতকে উল্লেখ করা হয়েছে, বোধিসত্ত্ব ময়ুর হলেও পচ্চেক বুদ্ধ তার প্রতি অঞ্জলি বা হাতজোড় করে, তাকে প্রদক্ষিণ করে চলে গেলেন। এখানে এই উপাসক অঞ্জলিকে বন্দনার সাথে মিশিয়ে ফেলেছেন। অঞ্জলি বা দুহাত জোড় করাটা হচ্ছে কৃতজ্ঞতা ও সম্মান দেখানোর একটা প্রাচীন রীতি। সেটা ভারতীয় ও এশিয়ার লোকসমাজে হরহামেশা দেখা যায়। যেমন থাইল্যাণ্ডে ও শ্রীলঙ্কায় ভিক্ষুরা সবসময় হাতজোড় করে থাকেন, গৃহীরাও হাতজোড় করে থাকেন। তাতে কি আপনাদের মনে হয় ভিক্ষুরা গৃহীদেরকে বন্দনা করছে? আমি তো আগেই বলেছি, ভিক্ষুদের বন্দনার নিয়ম আলাদা। সেটা হচ্ছে ভূমিতে হাঁটু, কনুই ও কপাল ঠেকিয়ে বন্দনা করা। তারা তো সেটা করেন না। তাই পচ্চেক বুদ্ধ কৃতজ্ঞতা স্বরূপ ময়ুরকে হাতজোড় করে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন আর কী। তাই বলে তো তিনি বোধিসত্ত্বকে বন্দনা করেন নি।

দুহাত জোড় করে সম্মানও দেখানো হয়, কৃতজ্ঞতাও জানানো হয়। ঠিক আছে। আমার কথা বিশ্বাস না হলে আসুন অর্থকথায় দেখি। দীর্ঘনিকায়ের সোণদণ্ড সুত্র ও অন্যান্য দুয়েকটা সুত্রের অর্থকথায় বলা হয়েছে যারা বুদ্ধের সাথে দেখা করতে যেত তারা নাকি বন্দনা না করে অনেক সময় কেবল অঞ্জলি বা দুহাতজোড় করে থাকত। তারা নাকি ভাবত, যদি বুদ্ধের বিরোধীরা অভিযোগ করে, ঐ ন্যাড়া শ্রমণকে আবার বন্দনা করছ কেন? তখন তারা বলতে পারবে, দুহাতজোড় করলেই তো বন্দনা হয় না। আর যদি বুদ্ধের ভক্তরা অভিযোগ করে, তোমরা বুদ্ধকে বন্দনা কর নি কেন? তাহলে তারা বলতে পারবে, দুহাতজোড় করে বন্দনা করেছি তো! বেশ মজার বিষয়।

আপনারা বুঝলেন তো। দুহাতজোড় করাটা বন্দনার পর্যায়ে পড়তে পারে, আবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পর্যায়েও পড়তে পারে। তো আপনারা কি মনে করেন, ভিক্ষুরা দুহাত জোড় করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পর্যন্ত করতে পারবে না?

এখানেও আবার সেই প্রশ্ন চলে আসে। পচ্চেকবুদ্ধ যেহেতু হাতজোড় করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে, তাহলে আমরা ভিক্ষুরাও কি এখন রাম বোধিসত্ত্বকে দুহাতজোড় করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারব? আচ্ছা, সেটাও কি আমার বলে দিতে হবে? উপকৃত হলে তবেই না দুহাত জোড় করে কৃতজ্ঞতা দেখানোর প্রশ্ন আসে। রাম বোধিসত্ত্ব যদি কোনো ভিক্ষুর জন্য কিছু করে থাকে, তাহলে তখন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ স্বরূপ তাকে দেখলে সেই ভিক্ষু তখন দুহাত জোড় করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু সব ভিক্ষুরই সেটা করতে হবে কেন?

এরপরে উপাসক তার লেখায় কালদেবল ঋষির সিদ্ধার্থকে বন্দনা করার কথা বলেছেন। শুদ্ধোধন পিতা হয়েও তার পুত্র সিদ্ধার্থকে বন্দনা করার কথা বলেছেন। সেটা তো আমরা সবাই জানি। গৃহী পিতামাতা সিদ্ধার্থকে বন্দনা করবে, ঋষিরা বন্দনা করবে সেটা আর নতুন কী কথা। ঋষির সাথে ভিক্ষুর তুলনা করা যায় না। এক সেয়াদ বলেন মায়ানমারে নাকি অনেক ঋষি আছে। আমি অবশ্য দেখি নি। এদেরকে বলা হয় য়াথে (ရသေ့)। শ্রমণরা পর্যন্ত তাদেরকে বন্দনা করতে পারে না, ভিক্ষুরা তো দূরের কথা।

পাঅক সেয়াদের উত্তর

————————————

এব্যাপারে পাঅক সেয়াদের কথা মনে পড়ছে। পাঅক সেয়াদকে অনেকবার তাইওয়ানে ভাবনা কোর্স করাতে যেতে হয়েছে। সেখানকার লোকজন যেহেতু বেশিরভাগ হচ্ছে মহাযানী, তারা বোধিসত্ত্বকে পূজা করে, ভিক্ষুরাও করে। সেখানে সেয়াদকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সাধারণ ভিক্ষু কি একজন অর্হৎ শ্রামণকে বন্দনা করতে পারে? পাঅক সেয়াদ বলেছিলেন, একজন শ্রামণ অর্হৎ হলেও তার সাধারণ ভিক্ষুকে বন্দনা করা উচিত। কারণ ভিক্ষুর থাকে অধিশীল বা উচ্চতর শীল।

পাঅক সেয়াদকে আরেকবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, থেরবাদী ভিক্ষুর কি বোধিসত্ত্বকে সম্মান বা শ্রদ্ধা দেখানো ভালো? উদাহরণস্বরূপ সে কি আর্যমিত্র বোধিসত্ত্বকে অঞ্জলি প্রণাম করতে পারে?

পাঅক সেয়াদ বলেছিলেন, থেরবাদী বিনয় নিয়ম মতে, ভিক্ষুর কোনো গৃহী লোকজনকে, কোনো মহিলাকে, কোনো দেবতাকে অথবা কোনো ব্রহ্মাকে সম্মান দেখানো অথবা বন্দনা করা উচিত নয়। এখন যদি আর্যমিত্র বোধিসত্ত্ব একজন ভিক্ষু হন এবং সিনিয়র ভিক্ষু হন, তাহলে আমরা ভিক্ষুরা তাকে বন্দনা করতে পারি। কিন্তু তিনি যদি জুনিয়র ভিক্ষু হন তাহলে আমরা তাকে বন্দনা করতে পারি না। কিন্তু তিনি যদি কোনো গৃহী হন, অথবা কোনো দেবতা বা ব্রহ্মা হন, তাহলে আমরা ভিক্ষুরা তাকে বন্দনা করতে পারি না। যদি বন্দনা করি, তাহলে ভিক্ষু হিসেবে আমাদের দুক্কট অপরাধ হবে। এই হচ্ছে পাঅক সেয়াদের কথা।

শেষ কথা

————

এখন এই উপাসক আমার বিরুদ্ধে লেখা দাঁড় করিয়ে বুদ্ধের বিনয়কে অস্বীকার করছেন। অবিনয়কে বিনয় বলছেন। সেটা খুব একটা ভালো লক্ষণ নয়। তিনি নিজেও বিপথগামী হচ্ছেন , অন্যদেরকেও বিপথগামী করাচ্ছেন।

আর তিনি নিজেকে শোয়েয়াংগ্য গইং এর শিষ্য বলে দাবি করেছেন। মায়ানমারে এদেরকে বলা হয় শোয়ে ইন জ (ရွှေရင်ကျော်) গ্রুপ। এই বিদ্যাধরের দল সহজ সরল বৌদ্ধদের অন্ধভক্তিকে পুঁজি করে নিজেদের আখের গোছাচ্ছে মাত্র। মায়ানমারে নিরীহ জনগণকে ভুলিয়ে তাদের বিশাল কারবার। আজকেই ফেসবুকে দেখলাম একজন একটা পানিপড়া দিচ্ছে ৫০,০০০ চ্যাট দামে, বাংলাদেশি টাকায় ৩০০০ টাকার মত। এই পানিপড়ায় নাকি ব্যবসার উন্নতি হবে করোনার মধ্যেও! দুয়েকজন মনে হয় অর্ডার দিয়েছেও! বৈদ্যদের ব্যবসার নতুন ধান্ধা!

ধরা যাক গুরুবাদীদের কথা সত্যি

———————————-

গুরুবাদীরা দাবি করে যে, কোশলরাজা প্রসেনজিত নাকি বোধিসত্ত্ব, পারিলেয়্য হাতি নাকি বোধিসত্ত্ব, শুভমাণব নাকি বোধিসত্ত্ব, নালাগিরি হাতি নাকি বোধিসত্ত্ব। তাহলে ভিক্ষুদেরই কি রাজা প্রসেনজিতকে বন্দনা করা উচিত ছিল না? আনন্দ ভান্তেরই কি শুভমাণবকে বন্দনা করা উচিত ছিল না?

শুধু তারা কেন, এই আমাদের মধ্যেও অনেকেই বোধিসত্ত্ব হিসেবে থাকতে পারেন, যারা পারমী পূরণ করে চলেছেন। কারণ অনেক জাতকে দেখেছি বোধিসত্ত্ব তখন সাধারণ গৃহী লোক হিসেবে জীবন কাটিয়েছেন মাত্র। কোনো রাজা নন, বাদশাহ নন, বিশেষ কোনো কেউকেটা নন। সাধারণ লোক হিসেবে। তাকে কেউ চিনতও না বোধিসত্ত্ব হিসেবে। তার সাথে থাকা বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনও জানত না যে তিনি বোধিসত্ত্ব। তিনি ছিলেন আপনার আমার মতই সাধারণ মানুষ। হয়তো অসাধারণ প্রতিভাবান, হয়তো খুব মেধাবী, হয়তো খুব জ্ঞানী, হয়তো কোনো একটা ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ। কিন্তু সেরকম জ্ঞানী প্রতিভাবান লোকজন তো আমাদের মাঝেও আছে। আপনার ঘরে থাকা বিড়াল অথবা কুকুরটি হয়তো বোধিসত্ত্ব, যা আপনি চিনলেনই না। তাই আমাদের মতো সাধারণ লোকজনের মধ্যেও বোধিসত্ত্ব থাকতেই পারেন। তো তাই বলে কি এখন ভিক্ষুরা লোকজনকেও বন্দনা করতে শুরু করবে?

তাদের কথা অনুসারে, হয়তো এই উপাসকও বোধিসত্ত্ব পারমী পূরণ করে চলেছেন। কিন্তু তিনি হয়তো প্রতিবাদ করে বলবেন, “না, না। আমি বোধিসত্ত্ব হতে যাব কেন? আমি সাধারণ লোক।” কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখুন। প্রসেনজিত রাজা কি কোনোদিন বলেছেন যে তিনি বোধিসত্ত্ব? নাকি শুভমাণব নিজেকে বোধিসত্ত্ব হিসেবে দাবি করেছে? তারা কেউই নিজেকে বোধিসত্ত্ব হিসেবে দাবি করে নি। হতে পারে সেটা তাদের নম্র ভদ্র স্বভাবের বলে। অথবা হতে পারে তারা আসলে নিজেরাই জানে না যে তারা বোধিসত্ত্ব। কারণ যাই হোক না কেন, তারা বোধিসত্ত্ব হলেও নিজেরা কিন্তু সেব্যাপারে উচ্চবাচ্য করে নি। অর্থাৎ বোধিসত্ত্বদের স্বভাবই হচ্ছে এরকম। তারা নিজেদেরকে বোধিসত্ত্ব হিসেবে জাহির করবে না। একারণেই এই উপাসকের বোধিসত্ত্ব হয়েও নিজেকে বোধিসত্ত্ব বলে স্বীকার না করাটাই স্বাভাবিক।

তাই এই উপাসক নিজেকে বোধিসত্ত্ব হিসেবে স্বীকার করুক বা না করুক, সব ভিক্ষুরা মিলে তাকে পূজা করতে পারে, বন্দনা করতে পারে। কোনো সমস্যা নেই। তাই না? কথা হচ্ছে, গুরুবাদী ভিক্ষুরা তাকে বন্দনা করবেন তো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *