আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

দেবতাদের কয়টা হাত থাকে?

আজকে সেয়াদ দেবতা ও ব্রহ্মাদের ব্যাপারে পড়িয়েছেন। এর আগে পড়িয়েছেন চারি অপায় সম্পর্কে। চারি অপায়ের মধ্যে নরক আছে, প্রেত আছে, অসুর আছে। আমার আবার সেগুলো নিয়ে খুব কৌতূহল। তাই অনেক প্রশ্ন করেছি। সেগুলো লিখতে গেলে মহাভারত হয়ে যাবে। বরং আজকের একটা প্রশ্নের ব্যাপারে বলি।

আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম দেবতাদের কি ডানা থাকে? এই যে আমরা দেখি খ্রিস্টান ধর্মের যেসব দেবতা আছে, যেমন গাব্রিয়েল, তার পিঠে বিশাল ডানা। আমাদের ধর্মেও কি দেবতাদের ডানা আছে?

সেয়াদ বললেন ডানা আছে বলে ত্রিপিটকের কোথাও দেখেননি তিনি।

এর আগে আমি আরেক সেয়াদকে সেটা জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন দেবতারা ইচ্ছে করলে যেকোনো রূপ ধারণ করতে পারে। তাই ডানা মেলে দেখাতে তাদের তো সমস্যা হবার কথা না।

সেই সেয়াদের কথাটা আজকে বুদ্ধবংশ অর্থকথা অনুবাদ করতে গিয়ে দেখলাম। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন বুদ্ধত্ব লাভ করতে বাধা দিতে এসেছিল মার। বুদ্ধ বলেছেন, মারের শক্তির মত দুর্দান্ত শক্তি আর কিছু নেই। সেই মার কীভাবে বুদ্ধকে আক্রমণ করতে এসেছিল?

বুদ্ধবংশ অর্থকথামতে, মার তখন হাজারো হাত নির্মাণ করে, শত্রুদেরকে দমনকারী দেড়শ যোজন বিশিষ্ট হিমালয় পর্বতচুড়ার মতো গিরিমেখলা নামের শ্রেষ্ঠ হাতির পিঠে চড়ে, ধনুক তলোয়ার কুড়াল বল্লমধারী বিপুল মারসেনা সহকারে নয় যোজন জুড়ে বিস্তৃত হয়ে চারদিক থেকে পর্বতের মতো মহাশত্রুর মতো সিদ্ধার্থের দিকে ধেয়ে এসেছিল। সিদ্ধার্থ সূর্য থাকতে থাকতেই দুর্ধর্ষ সেই মারসেনাদলকে বিধ্বস্ত করে দিলেন। ফুটন্ত জবা ফুলের মতো চীবরের উপরে রক্তপ্রবাল অঙ্কুরের মত সুন্দর বোধিবৃক্ষের অঙ্কুর ঝরে পড়তে থাকল, যেন বোধিবৃক্ষ খুশিতে পূজা করছে। এভাবে প্রথম প্রহরে পূর্বজন্ম স্মরণের জ্ঞান লাভ করে মধ্য প্রহরে দিব্যচোখের জ্ঞানকে বিশুদ্ধ করে শেষ প্রহরে কারণসাপেক্ষ উৎপত্তিতে জ্ঞান নিবদ্ধ করে সংসারচক্র ও সংসারমুক্তিকে গভীরভাবে পর্যালোচনা করে সূর্যোদয়কালে বুদ্ধ হয়ে –

অনেক জন্ম ধরে সংসারে ঘুরে ফিরেছি
খুঁজেছি গৃহনির্মাতাকে, বার বার জন্মানো দুঃখকর।

হে গৃহনির্মাতা, তোমাকে দেখেছি। আর গৃহ নির্মাণ করতে পারবে না।
তোমার সবগুলো পার্শ্ববীম ভগ্ন, গৃহচূড়া বিধ্বস্ত।
সৃষ্টিবিমুখ মন তৃষ্ণাগুলোর ক্ষয় করেছে। (ধ॰ প॰ ১৫৩-১৫৪)।

এই উচ্ছ্বাসগাথা স্বগতোক্তি করলেন।

ধান ভানতে শিবের গীত হয়ে গেল। সে যাই হোক, দেখলেন তো, মার কীভাবে হাজারটা হাত বানিয়েছিল? এই হচ্ছে দেবতাদের হাজারো হাতের রেফারেন্স। কাজেই হাত থাকতে পারে যখন, তখন ডানাও অনেক থাকতে পারে। মাথাও অনেকগুলো থাকতে পারে। অন্তত এখন একটা রেফারেন্স দেয়া যাবে।

রেফারেন্স: খুদ্দকনিকায => বুদ্ধৰংস-অট্ঠকথা=>১. রতনচঙ্কমনকণ্ডৰণ্ণনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *