আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

বৌদ্ধ টিপস – ধনী হতে চাইলে করণীয়

আমাদের অনেকেরই এখন ধ্যানজ্ঞান হচ্ছে কীভাবে টাকা কামাব। ধনী থেকে কীভাবে আরো ধনী হব। অবস্থা এমন যে, নির্বাণ নেবেন নাকি এক কোটি টাকা নেবেন বললে সবাই মনে হয় এক কোটি টাকার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। কী আর করা! যারা এত ধনী হতে চান তাদের জন্য তাই এখানে দেয়া হলো কিছু বৌদ্ধ টিপস!

প্রথমেই জেনে রাখুন, ধনী হওয়ার প্রথম এবং প্রধান কারণ হচ্ছে পূর্বজন্মের পুণ্য। যারা ধনীর ঘরে জন্মেছেন, রাজ পরিবারে জন্মেছেন, বুঝতেই হবে তাদের অতীত জন্মের পুণ্য যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। অতীত জন্মে পুণ্য করেছেন বলেই তারা এই জন্মে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাতে পেরেছেন। এই কারণটা বুদ্ধ ব্যাখ্যা করেছেন মধ্যম নিকায়ের ক্ষুদ্র কর্মবিশ্লেষণ সুত্রে (ম.নি.৩.২৮৯)।

কিন্তু সবাই তো আর ধনীর ঘরে জন্মায় না। অনেকেই গরীব হয়ে জন্মেও পরে কঠোর পরিশ্রম করে জীবনে ধনী হয়ে যান। তারা কীভাবে ধনী হলেন তাহলে? তার উত্তরে আমরা ইষ্টধর্ম সুত্রটি (ইট্ঠধম্মসুত্তং => অ.নি.১০.৭৩) দেখতে পারি। বুদ্ধ সেখানে বলেছেন যে, ধন লাভের সহায়ক কারণ হচ্ছে প্রচেষ্টা এবং অধ্যবসায়। অর্থাৎ নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আপনার যদি নিরলস প্রচেষ্টা থাকে, তাহলে আপনি ধনী হতে পারবেন। বুদ্ধ আপনাকে এরকমই আশার বাণী শুনিয়েছেন।

তবুও প্রশ্ন থেকে যায়। কঠোর প্রচেষ্টা করলেই কি ধনী হওয়া যায়? কত লোকজন সারাজীবন ধরে কঠোর প্রচেষ্টা করে গেছে, কিন্তু ধনী আর হতে পারল কোথায়? তার কারণ কী? তার উত্তর পেতে হলে আমাদের আলবক সুত্র (সং.নি.১.২৪৬) দেখতে হবে। সেখানে বুদ্ধ বলেছেন যে, কঠোর পরিশ্রম করলেই হয় না। আপনার কাজের ব্যাপারে জ্ঞান থাকতে হবে (পতিরূপকারী), হাজারো প্রতিকুলতা আসলেও কাজে হাল ছেড়ে না দেয়ার দৃঢ় মানসিকতা থাকতে হবে (ধুরৰা), এবং দুনিয়া উল্টে গেলেও কাজ করে যেতে হবে ননস্টপ (উট্ঠাতা)। তার মানে কী?

এক্ষেত্রে আলবক সুত্রের অর্থকথা ও টীকা বলছে যে, আপনি যদি সফল হতে চান, তাহলে আপনার কাজের স্থান বা জায়গা, কাজের সময় এবং কার সাথে কাজ করবেন এগুলো সব খুব সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু আপনার কীভাবে সেগুলো বিবেচনা করা উচিত?

অর্থকথামতে, কোনো কাজে হাত দিতে গেলে আপনার বিবেচনার তালিকায় রাখতে হবে এই জিনিসগুলো –

– আপনার বর্তমান বসবাসের স্থান

– বর্তমান সময়

– বর্তমান বন্ধুবান্ধবের তালিকা

– বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকা যারা আপনার বন্ধু নয়

– বর্তমান আয়ব্যয়

– আপনার জাতীয়তা বা নাগরিকত্ব

– আপনার পরিবার

– আপনার অঞ্চল

– আপনার বর্তমান জনবল

– আপনার বর্তমান ধনসম্পত্তি

– কোন কাজটা এখন করা উচিত

– কোন কাজটা ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখা উচিত।

এসব বিষয়গুলো আপনার কাজের সফলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই এসব বিষয় খুব সতর্কতার সাথে বিবেচনা করে তবেই আপনার কাজে নামা উচিত। এভাবেই একজন ব্যক্তি কাজের ব্যাপারে জ্ঞানী (পতিরূপকারী) হয়।

তাছাড়াও আবহাওয়া খুব ঠাণ্ডা, খুব গরম, সময়টা খুব ভোর, অথবা বেশি রাত যাই হোক না কেন, দুনিয়া উল্টে গেলেও আপনার ক্রমাগতভাবে কাজ করে যেতে হবে (উট্ঠাতা)।

সংক্ষেপে বলা যায়, অতীতের পুণ্য, বর্তমানের প্রচেষ্টা, কাজের ব্যাপারে জ্ঞান, হাল ছেড়ে না দেয়ার মানসিকতা এবং ক্রমাগত কাজ করে যাওয়া হচ্ছে ধনী হওয়ার চাবিকাঠি।

এত ডিটেইলস বলে দেয়ার পরও যদি আপনারা কাজে না নামেন তাহলে ঘরে থেকে লাভ কী? আমার মতো ভান্তে হয়ে যান!

(এটা মূলত লিখেছিলাম অনেক আগে ইংরেজিতে। সেটা দেখতে পারেন এখানে: https://www.quora.com/How-true-is…/answer/Sansayan-Chakma )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *