আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

ভিক্ষুরা কাদেরকে বন্দনা করতে পারে না

চূলবর্গে ১০ প্রকার অবন্দনীয় ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যাদেরকে ভিক্ষু বন্দনা করতে পারে না। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে –

১) ভিক্ষু তার চেয়ে জুনিয়র ভিক্ষুকে বন্দনা করতে পারে না।

২) ভিক্ষু কোনো শ্রামণ বা গৃহীকে বন্দনা করতে পারে না। তার মানে হচ্ছে সে নিজের গৃহী পিতামাতাকেও বন্দনা করতে পারবে না। কোনো দেবতাকেও বন্দনা করতে পারবে না। এমনকি সে যদি রাম বোধিসত্ত্বও হয় তবুও ভিক্ষু তাকে বন্দনা করতে পারবে না। যদি দেবী সরস্বতীও হয় ভিক্ষু তাকে বন্দনা করতে পারবে না। গৃহী যদি তার শিক্ষকও হয়, তবুও ভিক্ষু তাকে বন্দনা করতে পারবে না। যদি পরিবারের গুরুজনও হয়, বয়োজ্যেষ্ঠ হয়, তবুও তাকে বন্দনা করতে পারবে না।

৩) ভিক্ষু অন্য কোনো ভিন্ন নিকায়ের অধর্মবাদী ভিক্ষুকে সিনিয়র হলেও বন্দনা করতে পারে না। যেসমস্ত বিপথগামী ভিক্ষু তন্ত্রমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সেই তন্ত্রমন্ত্রের সপক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে বুদ্ধকেও মহাগান্ধারী বিদ্যাধর বলেন, ত্রিবিদ্যার মধ্যে কী কী সব বিদ্যা মিশিয়ে দেন, তারা অধর্মকে ধর্ম বলে থাকেন। তারাই হচ্ছেন অধর্মবাদী। সেরকম অধর্মবাদী সিনিয়র ভিক্ষুদেরকে ধর্মবাদী ভিক্ষুরা বন্দনা করতে পারে না।

৪) ভিক্ষু কোনো মেয়েকে বন্দনা করতে পারে না। তার মানে হচ্ছে নিজের মাকেও সে বন্দনা করতে পারবে না।

৫) ভিক্ষু কোনো নপুংসক হিজড়াকে বন্দনা করতে পারে না (চূল.৩১২)

আবার পরিবার গ্রন্থে অনেকগুলো অবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যেসময়ে ভিক্ষুরা অন্যভিক্ষুকে বন্দনা করতে পারে না। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে

— গ্রামে প্রবেশ করলে, রাস্তার মধ্যে, অন্ধকারে, কর্মব্যস্তকে, ঘুমন্তকে বন্দনা করতে পারে না।

– জাউপানের স্থানে, ভোজনশালায়, প্রতিপক্ষে অবস্থানকারীকে, অন্যমনস্ককে, নগ্নকে বন্দনা করতে পারে না।

– পিঠা ইত্যাদি হালকা নাস্তা খাওয়ার সময়ে, ভাত, সিয়ং ইত্যাদি ভোজনের সময়ে, পায়খানার সময়ে, প্রস্রাবের সময়ে, নির্বাসিতকে বন্দনা করতে পারে না। (পরি.৪৬৭)

ভিক্ষু কাদেরকে বন্দনা করতে পারে

————————

ভিক্ষু কেবল বন্দনা করতে পারে ধর্মবাদী যেকোনো সিনিয়র ভিক্ষুকে, আচার্য এবং উপাধ্যায়কে এবং বুদ্ধকে। (চূল.৩১২; পরি.৪৬৮)

পারাজিকাপ্রাপ্ত ভিক্ষুকে কি বন্দনা করা যায়

——————-

প্রশ্নটা অনেকবার শুনেছি আমি। সারত্থদীপনী টীকা বলছে, পারাজিকাপ্রাপ্ত ভিক্ষু যতদিন পর্যন্ত নিজেকে ভিক্ষু হিসেবে পরিচয় দেয়, ততদিন পর্যন্ত তাকে বন্দনা করতে হবে। কিন্তু যখন থেকে সে আর ভিক্ষু নয় বলে স্বীকার করে, তখন থেকে আর তাকে বন্দনা করা যাবে না। ভিক্ষু নয় বলে স্বীকার করলে বা প্রকাশ করলে সে তখন আর ভিক্ষুর কাতারে থাকে না। (সা.দী.টী.২.৩৮৫-৩৮৬)

কিন্তু কেন পারাজিকাগ্রস্ত ভিক্ষুকে বন্দনা করতে হবে?

তার উত্তরে কঙ্খাবিতরণী পুরাণ টীকা বলছে, চূলবর্গে (চূল.৩১২) যে দশজন ব্যক্তিকে বন্দনা করা যায় না হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে পারাজিকাগ্রস্ত ভিক্ষুর কথা বলা হয় নি। অন্যদিকে বলা হয়েছে যে, সিনিয়র ভিক্ষুকে বন্দনা করতে হবে। তাই পারাজিকাপ্রাপ্ত হলেও তিনি যদি সিনিয়র হন তাহলে তাকে বন্দনা করতেই হবে। (কঙ্খাৰিতরণীপুরাণ-টীকা => সঙ্ঘাদিসেসকণ্ডং => ৮. দুট্ঠদোসসিক্খাপদৰণ্ণনা)

অতএব, যেখানে ভিক্ষুদের পর্যন্ত পারাজিকাগ্রস্ত ভিক্ষুকে জ্যেষ্ঠতা অনুসারে বন্দনা করতে হয়, সেখানে গৃহীদের কথা-ই বা কী!

কাজেই যারা বলে পারাজিকাপ্রাপ্ত ভিক্ষুকে বন্দনা করতে পারবে না, করলে নরকে যাবে, সেগুলো তারা ধর্মবিনয়ে অজ্ঞতার কারণে বলে থাকে।

তারা দেবদত্তের মত নিজেদেরও অধপতন ডেকে আনে, তাদের অনুসারী উপাসক উপাসিকাদেরকেও পাপের ভাগী করায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *