আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

মরা ভিক্ষুর জেগে ওঠা

ভিডিওটা আপনারা দেখেছেন নিশ্চয়ই। বার্মার বাঘো বিভাগের ওতফো শহর। তংঞোকলে সেয়াদ শুয়ে পড়লেন। এর কিছুক্ষণ পরে মরার মত হয়ে গেলেন। তাকে কফিনে ঢুকিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো একটা ঘরের মধ্যে। সেখানে অন্যান্য ভিক্ষুরা তার দেহ মালিশ করে দিল। তিনি জেগে উঠলেন। কী বুঝলেন আপনি?

আপনি সাদামাটা দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে দেখুন। একজন লোক মরার মত পড়ে থেকে আবার জেগে উঠেছে। সেটা তো আপনিও পারেন, একটা বাচ্চাও পারে। একটা বিড়ালও মরার মত পড়ে থেকে আবার জেগে উঠতে পারে। শুধুমাত্র পার্থক্য হচ্ছে, ভিক্ষু সেরকম করলে অন্ধভক্তরা তাতে অলৌকিকতার তকমা লাগিয়ে দেবে।

ফেসবুকে তো একজন আরো এক কাঠি উপরে উঠে গেছে। ঘটনাটাকে বিকৃত করে ভিক্ষুটার শুধু শুয়ে পড়ার ছবি দেখিয়ে বিশাল এক কাহিনী ফেঁদে বসেছে। সে ঘটনার সবগুলো ভিডিও দেয় নি। শুধু একটা ভিডিও দেখিয়ে তারপর লিখে দিয়েছে সেই ভিক্ষু নাকি মৃত্যুর পূর্বক্ষণে তার অনুসারীদেরকে বলে দিচ্ছেন যে তিনি এখন দেহত্যাগ করবেন, তারা যেন শেষকৃত্যের জন্য সবকিছু আয়োজন করে। পোস্টটা পড়ে, ভিডিওটা দেখে সবারই মনে হবে, সত্যিই তিনি দেহত্যাগ করেছেন। কারণ এরপরে তার অনুসারীরা তাকে মালিশটালিশ করে জাগিয়েছে, আরো কত নাটক করেছে, সেই ভিডিওগুলো তো সে আর দেখায় নি। দেখুন তো, এভাবে পুরো ঘটনাকে না দেখিয়ে হাজারো সরলমনা বৌদ্ধ লোকজনকে ধর্মের নামে অধর্ম দেখানো হলো, বিশ্বাস করানো হলো। সেটা অবশ্য তার দোষ বলে মনে করি না আমি। সেটা আমাদের মতো ভিক্ষুদেরই দোষ। কারণ আমরা বুদ্ধের শিক্ষাকে যথাযথভাবে ধারণ করতে শিখি নি। শিখলে এধরনের কাজ করতাম না। ত্রিপিটকের কোথাও কি লেখা আছে যে এত বিশাল আয়োজন করে মরা সাজতে হবে? পুড়ে যায় না বলে দেখাতে হবে?

কিন্তু এখন সব ডিজিটাল যুগ। ভিক্ষুরাও আর আগের মত নেই। লোকজনও আর অত বিবেচনা করে না।তারা যা দেখে তাতেই জোয়ারে ভেসে যায়। আমারও কয়েকজন সতীর্থ আছেন, তারা বাংলাদেশ থেকে ব্যাপারটা জানতে চেয়েছেন। তাই আমার বিবেচনা আপাতত তুলে রেখে সেই ভিডিওগুলো নিয়ে চন্দবর সেয়াদের কাছে গেলাম। তিনি বললেন, এগুলো ভেলকিবাজি মাত্র। ডেভিড কপারফিল্ডও এর থেকে বড় ভেলকিবাজি দেখাতে পারে। আগে সামরিক সরকারের আমলে এধরনের ভেলকিবাজদেরকে কড়া শাস্তি দেয়া হত। কিন্তু সরকার বদলে যাওয়াতে পরবর্তীতে তাদের উপর নজরদারি কমে যায়। আর এখন তো বার্মার পরিস্থিতি আরো এলোমেলো। তাই তারা এখন ধর্মের নামে অনেকটা স্বাধীনভাবে যা খুশি করতে পারছে।

কাজেই সতীর্থ বন্ধুগণ, ঘটনা তো জানলেন, কিন্তু তাই বলে তাদের প্রতি কটুক্তি করবেন না যেন। আপনার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মেলে না বলেই যে তারা খারাপ তা তো নয়। তারা তাদের মত করে ধর্ম পালন করছে। তাই সেই ভিক্ষু ও তার অনুসারীদের প্রতি মৈত্রী দিন। যেসব অন্ধভক্ত ফেসবুকে এভাবে ঘটনাটাকে ছড়িয়েছে তাদেরকেও মৈত্রী দিন। আসুন আমরা মৈত্রী ও সহনশীলতার চর্চা করি। সেটাই হচ্ছে বৌদ্ধধর্ম।

পুরো ভিডিওগুলো আছে এই লিঙ্কে –

https://m.facebook.com/story.php…অথবা এই লিংকে – https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1052494695283793&id=430026637530605

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *