আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

ইহজন্মেই ফল দেয় এমন কর্ম

কারেন্ট চলে গেছে। ল্যাপটপের চার্জ ফুরিয়ে গেছে। আমার অনুবাদ বন্ধ। ভাবছি এই ফাঁকে ফেসবুকে কিছু কথা লেখা যায়। মোবাইল গুঁতিয়ে গুঁতিয়ে।

আমি আগে কোন এক পোস্টে লিখেছিলাম একটি কর্ম করলে তার একভাগ ইহজন্মেই, একভাগ পরবর্তী জন্মে, বাকি পাঁচ ভাগ তার পরবর্তী জন্মগুলোতে ফল দিয়ে থাকে। আমি এখানে ইহজন্মেই ফল দেয় এমন কর্মগুলো নিয়ে লিখব।

ইহজন্মে সবচেয়ে দ্রুত ফল পাওয়া যায় কোনো একটা লোকোত্তর কর্ম করতে পারলে। অর্থাৎ কোনো একটা মার্গ লাভ করলে। মার্গ লাভের পরপরই ফল লাভ হয়। সেটা হয় চোখের পলকে, মাত্র এক মুহুর্ত পরে। সেটা হচ্ছে ইহজন্মেই সবচেয়ে দ্রুত ফলদায়ী কর্ম।

এরপরে বলা যায় সেই কর্মগুলোর কথা, যেগুলো সাতদিনের মধ্যে ফল দিয়ে থাকে। তার জন্যে আপনার বুদ্ধকে অথবা তার কোনো অর্হৎ শিষ্য নিরোধ ধ্যান থেকে উঠার পর সিয়ং দান করতে হবে। পূর্ণ নামক দাস সারিপুত্র ভান্তেকে দান দিয়ে সাতদিনের মধ্যে ফল লাভ পেয়েছিল। তার জমির মাটি সব সোনায় পরিণত হয়েছিল। কালবলি সাতদিনের মধ্যে বিশাল ধনী হয়ে গিয়েছিল। মল্লিকা রাণী হয়েছিল। সুমন মালাকার ও ধনী হয়ে গিয়েছিল। এগুলো সবই হচ্ছে বুদ্ধ ও তার অর্হৎ শিষ্যদেরকে শ্রদ্ধাভরে যথাসময়ে দানের ফল। আফসোস, এই যুগে ভান্তেরা এমন নিরোধ ধ্যান লাভী বলে আমার জানা নেই। তাই দান দিয়ে সাত দিনের মধ্যে ধনী হওয়ার আশা করা একটু কঠিন।

সে তো গেল দানধর্ম করে সপ্তাহের মধ্যে ফল পেয়েছে তাদের কথা। কিন্তু পাপ করে তৎক্ষণাৎ বা সেদিনই ফল দিয়েছে সেরকম ও আছে। নন্দযুবক উৎপলবর্ণাকে ধর্ষণ করে চলে যাওয়ার সময়ে মাটি ভেদ করে নরকে পড়ে গিয়েছিল। সে তৎক্ষণাৎ ফল পেয়েছিল। নন্দকসাই নামের আরেকজন ভাত খাওয়ার সময় মাংস না পেয়ে জ্যান্ত গরু থেকে জিহ্বা কেটে এনে আগুনে পুড়ে খেতে শুরু করলো। ঠিক সেই মুহূর্তে তার নিজের জিভটা ও ভাতের থালায় খসে পড়ল। সে গোঙাতে গোঙাতে মারা গেল। সেও তৎক্ষণাৎ ফল পেয়েছিল। দেবপুত্র দূষী মার ঢিল মেরে ককুসন্ধ বুদ্ধের প্রধান শিষ্য বিধুর ভিক্ষুর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল। বুদ্ধ পিছনে ফিরে তাকিয়ে বলেছিলেন – এই দূষী মার মাত্রা জানল না। সাথে সাথে মার সেখানে থাকতে না পেরে নরকে উৎপন্ন হয়েছিল। এভাবে মার ও সেদিনই তার পাপ কর্মের ফল পেয়েছিল।

আরো কর্ম আছে যেগুলো আপনি ছোটবেলায় করেছেন, সেগুলো আপনার ছোটবেলায় অথবা তরুণকালে অথবা বুড়োকালে ফল দেয়। অথবা তরুণকালে করা কর্মগুলো বুড়োকালে ফল দেয়। এভাবে এগুলো ফল দেয় একটু দেরিতে।

কর্ম এভাবে কখন ফল দেয় তার ঠিকঠিকানা নেই। তাই আমাদের সবারই বুঝেশুনে কায়িক, বাচনিক, মানসিক কর্ম করা উচিত। কে কোথায় কার সাথে কী করেছে সেগুলো নিয়ে হাহুতাশ না করে, পঞ্চস্কন্ধ বা দেহমনের পাঁচটি পুঞ্জের ব্যাপারে জ্ঞানলাভ করার চেষ্টা করা উচিত। সেই জ্ঞানই আমাদের মুক্তির পথে নিয়ে যাবে একটু একটু করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *