আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

এপ্রিল ফুল বনে গেলাম এই বর্মাদেশে

ওয়াইফাই প্যাকেজের মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে কয়েকদিনের মধ্যে। একজনকে দোকানে পাঠালাম বিল জমা দিতে। কিন্তু দোকান পাওয়া গেল না। ইয়াঙ্গুন এখন রণক্ষেত্র। দোকানপাট, হাটবাজার সব বন্ধ। শহরের লোকজন ঘরবন্দী হয়ে আছে। টাকা আছে, কিন্তু খাবার নেই এমন অবস্থা। শেষে একজন বলল, অমুক নম্বরে টাকা পাঠিয়ে দিলেই হবে। সে বিল জমা দিয়ে দেবে।

টাকা পাঠানো হলো। কিন্তু এরপরে লোকটাকে ফোন করে আর পাওয়া গেল না। বার বার ফোন করা হলেও ফোন সংযোগ দেয়া যাচ্ছে না। আমি তো গরম হয়ে গেলাম। হতভাগাটা সত্যিই টাকাগুলো মেরে দিল নাকি। ওকে পুলিশে দিতে হবে। কিন্তু চন্দবর সেয়াদ বললেন, পুলিশ কী করবে? ওরা এখন মানুষ মারতে ব্যস্ত।

পরে এক উপাসিকার নম্বর থেকে ফোন করা হলো। তার সাথে সুন্দর করে কথা বলল বাটপাড়টা। মিষ্টি করে বলল, জমা দিতে পারছে না। এখনি ফেরত পাঠাচ্ছে টাকাগুলো। কিন্তু এই এখনি, এই পাঁচ মিনিট, এই একটু পরে করে করে আর ফেরত পাওয়া গেল না টাকাগুলো। আমি বেশি চেঁচামেচি করছি দেখে সেয়াদ তখন নিজেই টাকা বের করে দিলেন। নাও, এগুলো নিয়ে বিল দিয়ে দাও।

কিন্তু বিল জমা দেয়া যায় কোথায়? সব দোকান যে বন্ধ। ভাগ্য ভালো, উপাসিকার একটা ওয়েভমানি একাউন্ট আছে। সেখান থেকে অবশেষে বিল জমা দেয়া গেল। কিন্তু ঐ হতভাগাটা টাকাগুলো আর ফেরত দিল না। পরে খেয়াল করে দেখলাম আজ হচ্ছে ১লা এপ্রিল। এপ্রিল ফুল’স ডে। এদিন সবাইকে ঠকানো হয়, বোকা বানানো হয়। তাহলে আমাকেও বোকা বানালো বার্মিজরা! কী লজ্জা! কী অপমান! এই দুঃখ কোথায় রাখি?

তবে আমি ভেবে দেখেছি দুঃখ করার চেয়ে আমার বরং খুশি হওয়ার কথা। কারণ যখনই এরকম ঝামেলায় পড়েছি, যখনই মনে হয়েছে আর কোনো আশা নেই, তখন নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে গেছে, নতুন লোকজনের সাথে যোগাযোগ হয়েছে, যারা পরবর্তীতে আমাকে সহযোগিতা যুগিয়েছে। শুরু হয়েছে নতুন করে পথ চলা। শুরু হয়েছে নতুন করে নতুন উদ্যমে জীবন গড়া।

তাই এই মুহুর্তে সেই কথাটা মনে পড়ছে- মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *