আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

ধ্যানের পথিক

ধ্যান বললেই সবাই কেন যেন দূরে দূরে সরে যায়। সেই পথের পথিক হয় খুব কম। যাদের একটু মন আছে, তারাও এক পা এগোয়, দশ পা পেছায়। দায়করা তো বটেই, ভিক্ষুশ্রামণরাও সেরকম। কয়েকদিন একটু বসে, তারপরেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। আসুন তাদের জন্য একটা গল্প শোনাই। সেটা আমি অনেক আগে গৃহী থাকাকালে পড়েছিলাম।

গল্পটা খুব সম্ভবত আধ্যাত্মিক সুফী সাধক জালালুদ্দিন রুমীর। তিনি একবার নাকি এক বাগানে চোখ বুজে বসেছিলেন। বাগানে রংবেরঙের ফুল ফুটেছে, মনের সুখে উড়ে বেড়াচ্ছে বর্ণিল প্রজাপতির দল, গাছে গাছে পাখির সুমধুর কলতান। সেই বাগানে হাতে হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল একজোড়া তরুণ তরুণী। নবীন প্রেমের মুগ্ধতা তাদের চোখে। সেই মুগ্ধতায় দুনিয়াটাও যেন তাদের কাছে আরো রঙিন, আরো বর্ণিল, আরো মনোহর হয়ে উঠেছিল। কিছুদূর গিয়ে তাদের চোখ পড়ল এক বৃদ্ধ সাধকের প্রতি। সাধক চোখ বুজে বসে আছেন। প্রেমিকা আফসোস করে বলল, ইস! এত সুন্দর বাগান, এত সুন্দর দৃশ্য, আর এই বৃদ্ধটি চোখ বুজে বসে আছে। সে জানে না সে কী মিস করছে। রুমী তাদের কথা শুনতে পেলেন। তিনি তাদেরকে হাতছানি দিয়ে ডেকে বললেন, চোখ বুজে আমি যা দেখি তা যদি তোমরা দেখতে, তাহলে তোমরা আমার চেয়েও বেশি চোখ বুজে থাকতে!

যারা আধ্যাত্মিক জগতের সাধক, তারা সেরকমই হন। বাইরের পৃথিবী তাদেরকে আকর্ষণ করে না। তাদের আধ্যাত্মিক জগত অনেক বেশি বর্ণিল, অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়, অনেক বেশি সুখের, অনেক বেশি শান্তির। সেই আধ্যাত্মিক জগতের প্রবেশদ্বার হচ্ছে ধ্যান। আপনি যদি সেই জগতে প্রবেশ করতে চান, তাহলে আপনার ধৈর্য ধরে ধ্যান চর্চা করে যেতে হবে। সেই ধ্যানের জগত প্রথমে অন্ধকার থাকে। কিন্তু পরে আপনার মনের আলোয় তা উজ্জ্বল, ঝলমলে হয়ে উঠবে। ততদিন পর্যন্ত ধ্যান করাটা খুব একঘেয়ে নিরস লাগবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আলো আসবেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *