আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

আমিলে থেকেই প্রমাণ হয় চাকমারা শাক্যবংশ!

আমিলে হচ্ছে এক ধরনের টক পাতা, যা চাকমাদের প্রিয় তরকারি। বার্মিজরাও আমিলে খায়, কিন্তু তাদের আমিলে তরকারি আমার রোচে না। এই সেদিন চন্দবর সেয়াদ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমিলে শব্দটি কোত্থেকে এসেছে বল তো। আমি বলতে পারলাম না। তিনি বললেন, এটি পালি শব্দ “অম্বিল” থেকে এসেছে। অম্বিল মানে হচ্ছে টক।

আমি অবাক হয়ে গেলাম। সত্যিই তো। টক বলেই চাকমারা এই পাতাকে আমিলে বলে থাকে। অম্বিল এর বাংলা হচ্ছে অম্ল। কিন্তু তাই বলে কি এই পাতাকে অম্লপাতা বলা হয়? মোটেও না। উইকিপিডিয়া বলছে, বাংলায় এর নাম চুকাই। আরো বিভিন্ন দেশেও এর বিভিন্ন নাম আছে। কিন্তু কোথাও পালি শব্দের নামে এটার নাম হয়েছে বলে দেখি নি।

একারণেই আমি বলি, চাকমাদের ইতিহাস শুধু লোককাহিনীর মধ্যে খুঁজলেই হবে না, ভাষাগত তুলনা করেও দেখতে হবে। আর্কিওলজিক্যাল এভিডেন্স যেহেতু অপ্রতুল, তাই চাকমাদের ইতিহাস পুনরুদ্ধারের অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে এই চাকমা ভাষা ও পালি ভাষার শব্দগত মিল। সেটা নিয়ে আমাদের গবেষণা করতে হবে, থিসিস করতে হবে, পিএইচডি করতে হবে। সেটাকে একটা গবেষণালদ্ধ সত্য হিসেবে প্রকাশ করতে হবে।

আমি আরো কিছু উদাহরণ দিচ্ছি। দেখুন চাকমা ভাষায় শব্দ আছে “দারবো”। দারবো মানে হচ্ছে লাকড়ি, জ্বালানি কাঠ। বাংলায় কোথাও দারবো শব্দ আপনি খুঁজে পাবেন না। কিন্তু পালিতে শব্দ আছে দারবো, যার অর্থ হচ্ছে কাঠগুলো। আরো আছে “জুন” শব্দটি। এর অর্থ হচ্ছে চাঁদ। এই শব্দটি কোত্থেকে এসেছে? পালিতে একটি শব্দ আছে জুণ্হা, যার অর্থ হচ্ছে চাঁদের আলো। অন্যদিকে বাংলায় তা হচ্ছে জ্যোৎস্না। ধ্বনিগত বিচারে চাকমা “জুন” এর সাথে কোনটার বেশি মিল বলুন তো। পালি “জুণ্হা” শব্দটির? নাকি বাংলা “জ্যোৎস্না” শব্দটির?

আমার তো মনে হয় আপনারা সবাই একবাক্যে স্বীকার করবেন যে, পালি “জুণ্হা” শব্দটির সাথেই চাকমা “জুন” শব্দটির ধ্বনিগত মিল আছে।

তাই ভাষাবিদরা যাই বলুন না কেন, আমি মনে করি, চাকমা ভাষাটা পালি ভাষারই উত্তরসূরি। আর চাকমারা যে শাক্যবংশ, সেটারও অন্তত কিছুটা সমর্থন এই ভাষাগত মিল থেকে খুঁজে পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *