আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

দান করুন বার বার

সিঙ্গাপুর থেকে এক উপাসকের সাথে গতকাল একটু কথা হলো। আমরা ইয়াঙ্গুনে একটা চাকমা ভিক্ষু আবাস ও গেস্টহাউস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। সে সেই তহবিলে ১০০ ডলার দান করেছিল। এরপরের সপ্তাহে নাকি সে লটারিতে পেয়েছে ২৫০ ডলার! আমি সকালে সেয়াদকে জানালাম সে কথা। সেয়াদ হেসে বললেন, ও তাই নাকি! তাহলে তো তার লাভই হয়েছে, এ্যাঁ? দান করেছে ১০০ ডলার, পেয়েছে ২৫০ ডলার। ক্ষতি কি? এরপরে সেয়াদ মন্তব্য করলেন, গভীর শ্রদ্ধা নিয়ে দান করেছে তো, তাই ফলও পেয়েছে সেরকম। হয়তো আরো পাবে!

কিন্তু একটু পরে আবার জিজ্ঞেস করলেন, সে কি লটারি পাবার জন্য দান করেছে নাকি? সেরকম হলে তো সমস্যা! লটারি না পেলে তো তখন আমাদেরকে ধরবে! আমি বুঝিয়ে বললাম, ভান্তে, ব্যাপারটা সেরকম নয়। আমি যতদূর বুঝেছি, সেখানে নাকি সুপারমার্কেটে বাজার করলে কী একটা নম্বর দেয়া হয়। সেই নম্বরটা মিললে লটারি পাওয়া যায়। তার জন্য এক্সট্রা লটারি কিনতে হয় না।

কাজেই আপনারা ঐ অশিক্ষিত অন্ধ নাস্তিকদের কথায় কান দেবেন না। বরং দানের ফল আছে এমন গভীর বিশ্বাস নিয়ে দান করুন। লটারি না হোক, অন্য কোনোভাবে সেই দানের ফল আপনি পাবেনই। ইহজন্মেও, পরজন্মেও।

ধর্মপদের একটা গাথা আমার খুব প্রিয়। সেটা হচ্ছে এরকম-

পুঞ্ঞঞ্চে পুরিসো কযিরা, কযিরাথ নং পুনপ্পুনং, তম্হি ছন্দং কযিরাথ, সুখো পুঞ্ঞস্স উচ্চযো।

অর্থাৎ কেউ যদি পুণ্য একবার করে, তাহলে তা যেন সে বার বার করে। “একবার করেছি তো, সেটাই যথেষ্ট” সেভাবে না বলে সে যেন তা বার বার করে। যেন পুণ্য করতে উৎসাহ জাগিয়ে তোলে নিজের মধ্যে। কেন? কারণ পুণ্য সঞ্চয় হচ্ছে বর্তমানেও সুখদায়ক, পরকালেও সুখদায়ক।

কিন্তু সেরকম দান কয়বার করতে পারে একজন? সেরকম সময় আর সুযোগ কোথায়? আমি বলি, আপনার যদি মন থাকে, তাহলে আপনি সেরকম অজস্র সুযোগ খুঁজে পাবেন।

যেমন আমি যখন বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করতাম, তখন সেখানকার বাথরুমে সাবান ছিল না, টিস্যু ছিল না। সাবান আর টিস্যুতে কয় টাকা খরচ হয়? আমি তাই বাথরুমে সাবান রেখে দিলাম, টিস্যু রেখে দিলাম। কিন্তু অন্যরা সেটা ব্যবহারই করল না। তারা মনে করল সেগুলো কে না কে ফেলে রেখে গেছে। আমি তখন দেয়ালে একটা কাগজ লাগিয়ে দিয়ে লিখে দিলাম, এই সাবান ও টিস্যু সবার জন্য। তখন থেকে সবাই সেগুলো ব্যবহার করতে লাগল। সেটা দুয়েকদিনের মধ্যে উপরমহলের কানে গেল। দ্রুত বাথরুমের দেয়ালে কয়েকটা হ্যাণ্ডওয়াশের বাক্স টাঙিয়ে দেয়া হলো অফিস থেকে। কিন্তু আমার সাবান ও টিস্যুর সরবরাহ অব্যাহত রইল। চাকরি ছাড়ার আগ পর্যন্ত আমি সেটা ধরে রেখেছিলাম। কে এমন সুন্দর দানমূলক কাজে সাধুবাদ দেবে না বলুন তো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *