আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

প্রতিরূপ দেশে বাস উত্তম মঙ্গল

আজ সারিপুত্র ভান্তে বললেন তার এক বার্মিজ উপাসিকার কথা। সেই উপাসিকা তীর্থ ভ্রমণে গিয়েছিল ভারতে। ঘুরে টুরে ভান্তেকে বলল, ভান্তে, ইণ্ডিয়াটা আমার পছন্দ হলো না। ভান্তেরা পিণ্ডচারণে বের হয় না। তাই সহজে দান দেয়ার সুযোগ হয় না।

চন্দবর সেয়াদ তা শুনে বললেন, বার্মিজরা এরকমই। দান দিতে না পারলে তারা মনে শান্তি পায় না। তিনিও তার একজন বার্মিজ উপাসিকার কথা বললেন। সেই উপাসিকার মেয়েটি অস্ট্রেলিয়ায় থিতু হয়েছে বেশ কিছুদিন হলো। তাই এবার তার মাকেও সেখানে নিয়ে যাবে। উপাসিকা তার পরিচিত সেয়াদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। কিন্তু দুমাস পরে আবার তাকে দেখে সেয়াদ অবাক হয়ে গেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, কী হে উপাসিকা? তুমি না অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে গিয়েছিলে? আবার ফিরে এলে কবে?

উপাসিকাটি বললেন, ভান্তে, ওখানে দানের সুযোগ হয় না। এখানে তো সকাল হলে ভিক্ষুশ্রামণরা পিণ্ডচারণে বের হয়। দানের সুযোগ মেলে সহজে। সেখানে ভিক্ষুশ্রামণও নেই। পিণ্ডচারণ তো দূরের কথা। লোকজন সবাই কাজে বের হয়ে যায় সকালে। আমার সারাদিন একলা ঘরে বসে থাকতে হয়। তার চেয়ে এই এখানেই ভালো। বুড়ো হয়ে গেছি। কবে মরে যাই ঠিক নেই। এখন যদি দান করতে না পারি, পুণ্য করতে না পারি, তাহলে বড় আফসোসের বিষয় হবে। তাই ফিরে এসেছি।

এজন্যই বৌদ্ধ প্রতিরূপ দেশে বসবাস করা উত্তম মঙ্গল। আমি তাই এত বিদেশ বিদেশ করি না। এখান থেকে মাত্র ৫০ ডলার বা ৪০০০ টাকায় থাইল্যাণ্ড যাওয়া যায়। সেখানে যেতে পর্যন্ত আমার ইচ্ছে হয় না। একজন ভিক্ষু হিসেবে বিনয় পিটক শিখতে হবে, সুত্রপিটক শিখতে হবে, অভিধর্ম শিখতে হবে। ভাবনা করতে হবে কমপক্ষে ১০,০০০ ঘন্টা। এভাবে পরিয়ত্তি ও প্রতিপত্তি চর্চা করাটাই একজন ভিক্ষুর প্রথম কাজ। অথচ আমার এখনো সেগুলোর কিছুই করা হয়ে উঠল না। তাহলে কাজ ফেলে বিদেশ ঘুরে কী হবে?

তবে আমাদের ডিপ্লোমা পরীক্ষা শেষে একটু ভিয়েতনাম যাবার প্ল্যান করেছিলাম। আমাদের ক্লাসের একজন ভিয়েতনামী ভিক্ষু ছিল। সে আমাকে তার বিহারটা দেখিয়েছিল। পাহাড়ের উপরে। বেশ নিরিবিলি। আমার ইচ্ছা ছিল সেখানে গিয়ে মাস দুয়েক থাকব, ভাবনা করব। পিণ্ডচারণ করব। কিন্তু হতচ্ছাড়া করোনা সেটা হতে দিল না। আফসোস!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *