আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

অভিধর্মের কিছু নোটস

আমরা যে হাত পা নাড়াই, সেটা নাকি অনেকটা নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়া গোবরের মতো। গোবরের নিজস্ব কোনো নড়াচড়ার শক্তি নেই, সেটা স্রোত যেদিকে ঠেলে নিয়ে যায় সেদিকে ভেসে যায়। তেমনি আমাদের দেহটাও হচ্ছে আক্ষরিক অর্থেই জড়পদার্থ দিয়ে তৈরি। পুরোটা না হলেও আমার মনে হয় ৯৯.৯৯% হচ্ছে ঐ ইট, কাঠ, পাথর, গাছপালা ইত্যাদির মতো জড়পদার্থ দিয়ে তৈরি। কীভাবে তা বুঝা যায়?

অভিধর্মমতে মানুষ যখন মারা যায় তখন তার মৃতদেহে জৈব পদার্থ বিলীন হয়ে যায় (অর্থাৎ কর্মজ রূপ ও চিত্তজ রূপের উৎপত্তি থেমে যায়)। কেবল জড়পদার্থ (ঋতুজ রূপ) থাকে। কিন্তু জৈব পদার্থ বিলীন হয়ে গেলেও মরণের পরে মৃতদেহের চেহারায় বা দেহে সেরকম পরিবর্তন দেখা যায় না। তার চেহারা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সবই আগের মতো থাকে। অথচ সেগুলো সবই হচ্ছে জড়পদার্থ। তাই আমি বলি, মানুষের দেহের প্রায় পুরোটাই হচ্ছে জড়পদার্থ। অন্তত আমরা যে মানুষদেরকে হাঁটাচলা করতে দেখি আমাদের সামনে, তারা সবই হচ্ছে জড়পদার্থ। এক একটা জিন্দালাশ!

জড়পদার্থের মতোই এই দেহের নিজে নিজে নড়াচড়ার কোনো শক্তি থাকে না। সেটাকে ঠেলে ঠেলে নাড়াতে হয়।

উদাহরণস্বরূপ আপনি একটা আঙুলকে নাড়াতে চান। সেই মন উৎপন্ন হওয়ার সাথে সাথে দেখবেন মনজাত পদার্থ গুচ্ছ গুচ্ছ আকারে হৃদপিণ্ড থেকে উৎপন্ন হয়ে নিমেষেই পৌঁছে যাচ্ছে আঙুলের ডগায়। সেই মনজাত পদার্থের গুচ্ছে বায়ুকণাগুলো প্রবল হয়। সেই বায়ুকণাগুলো প্রবল চাপ দিয়ে ঠেলে দেয় জড় পদার্থে ভরা আঙুলকে। ফলে আঙুলটা নড়ে যায়। ব্যাপারটা মাথায় না ধরলে কল্পনা করুন যেন পুতুলের আঙুলকে নাচানো হচ্ছে দড়ি বা কাঠির মাধ্যমে। এভাবেই আমরা আমাদের দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে জড়পদার্থের মতো করে ঠেলে ঠেলে নিয়ে যাই। আমি যখন পা ফেলে ফেলে হাঁটি, তখন আমি ভাবি, কী অদ্ভূতভাবে জড়পদার্থে ভরা এই পা-কে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী মনজাত পদার্থ।

আপনি চারিধাতুর ভাবনায় বসে একটা পাথরকে বিশ্লেষণ করে দেখুন। দেখবেন পাথরের মধ্যে তাপজাত পদার্থের কণাগুলো গুচ্ছ গুচ্ছ আকারে উৎপন্ন ও বিলীন হয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। সেই প্রত্যেকটি কণাগুচ্ছে আপনি আটটি কণা খুঁজে পাবেন- পৃথিবীকণা, জলকণা, তেজকণা, বায়ুকণা, বর্ণকণা, গন্ধকণা, স্বাদকণা, পুষ্টিকণা। আপনি এবার একটা গাছকে বিশ্লেষণ করে দেখুন। সেগুলো যদিও দেখতে সজীব সতেজ বলে মনে হয় কিন্তু সেগুলোতেও কেবল এই আটটি কণাকে গুচ্ছ গুচ্ছ হয়ে উৎপন্ন ও বিলীন হয়ে যেতে দেখতে পাবেন। প্রাণিদেহে যেখানে প্রাণকণার গুচ্ছ (জীৰিতনৰক কলাপ) থাকে, সেখানে আপনি গাছপালার মধ্যে কোনো প্রাণকণা খুঁজে পাবেন না। সেকারণেই অভিধর্ম গাছপালাকে সজীব বলতে নারাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *