আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

মেয়েদের পোশাকের নিচে দিয়ে যাওয়া যাবে না

চাকমাদের সমাজে একটা রেওয়াজ আছে, বাইরে যদি মেয়েরা কোনো দড়ি অথবা বাঁশের উপরে পোশাক শুকাতে দেয়, তাহলে পুরুষেরা সেই দড়ি বা বাঁশের নিচ দিয়ে যায় না। তাতে নাকি তেজ কমে। সেটা শুধু চাকমাদের মধ্যে নয়, বার্মিজ সমাজেও বিষয়টা খুব প্রচলিত।

সেব্যাপারে সেয়াদ একটা কাহিনীর কথা শোনালেন। তারা গ্রামের কোনো এক বাড়িতে গিয়েছিলেন কী এক কাজে। তাদের মধ্যে এক ভিক্ষু টয়লেটে যাবে বলে বের হলো। এক যুবক তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেল। পথে বাঁশের ওপর মেয়েদের কাপড়চোপড় টাঙানো ছিল। যুবকটা সেগুলো হাত দিয়ে নয়, বরং দূর থেকে একটা কাঠি দিয়ে সরিয়ে দিল। ভিক্ষুটা ফিরে এসে সেয়াদকে চুপিচুপি বলল, সেয়াদ, কী অদ্ভূত নিয়ম! ছেলেরা মেয়েদের কাপড়চোপড় ধরতে পারে না, কিন্তু মেয়েদেরকে ধরতে পারে!

কাহিনীটা শুনে আমি বেশ অবাক হলাম। তাহলে বার্মিজ সমাজেও এরকম ধারণা খুব প্রচলিত। অথচ বার্মিজ ভিক্ষুরা সেরকম নিয়মকে নিয়ে নিজেদের মধ্যে বেশ রসিকতা করছে। কিন্তু বার্মিজ ভিক্ষুরাও তো বার্মিজ সমাজ থেকেই উঠে এসেছে। নিজেদের সমাজের এই নিয়মকে নিয়ে তারা রসিকতা করবে কেন? ভিক্ষুদের তো সেটা অন্যায় হচ্ছে, নয় কি?

কিন্তু সেয়াদ অন্য একটা উত্তর দিলেন। তিনি বললেন, ভিক্ষুরা বার্মিজ সমাজ থেকে উঠে এলেও তারা যখন অভিধর্ম শিক্ষা করে, তখন তাদের মধ্যে এমন ভুল ধারণা ভেঙে যায়। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায়। তারা বুঝতে পারে, এটা হচ্ছে প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতি মাত্র। অভিধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে সেই নিয়মগুলো অসার, অর্থহীন। মেয়েদের পোশাক অশুচি, অপবিত্র, ছুঁলে জাত যাবে, পৌরুষত্ব যাবে – এমন ধারণা বৌদ্ধধর্মের মতাদর্শের সাথে খাপ খায় না। তাই ভিক্ষুরা ধর্মের সাথে সম্পর্কবিহীন এসব সামাজিক নিয়মকে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না।

ড. নন্দমালাভিবংশ সেয়াদকে এরকমই প্রশ্ন করা হয়েছিল একবার। মায়ানমার হচ্ছে জাদীর দেশ। শোয়েডাগন জাদী, চাইথিয়ো জাদী ইত্যাদি অনেক বিখ্যাত জাদী রয়েছে। সেগুলো দেখার জন্য বহু বিদেশী আসে। কিন্তু তারা দেখে, জাদীকে মেয়েরা ছুঁতে পারবে না, কাছে যেতে পারবে না। দূর থেকে বন্দনা করতে হবে। মেয়েদেরকে কেন এভাবে যেতে দেয়া হয় না? নারীরা কেন এমন বৈষম্যের শিকার? বৌদ্ধধর্ম কি কোথাও বলা হয়েছে নারীরা জাদীতে যেতে পারবে না?

ড. নন্দমালাভিবংশ সেয়াদ এক কথায় বলে দিলেন, সেটা বৌদ্ধধর্মের নিয়ম নয়, সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি মাত্র। শত শত বছর ধরে চালু হয়ে থাকা সমাজের এই ধারণাগুলো এমনভাবে শেকড় গেড়ে বসে থাকে যে এগুলো শোধরানো খুব কঠিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *