আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

বুদ্ধের গৃহত্যাগ নিয়ে বিতর্ক

আমরা সবাই জানি, বুদ্ধ গৃহত্যাগ করেন রাতের অন্ধকারে, চুপিসারে, কাউকে না জানিয়ে, শুধুমাত্র ছন্নকে সাথে নিয়ে, একটা ঘোড়ার পিঠে চড়ে। কিন্তু মধ্যম নিকায়ের পাসরাসি সুত্রে বুদ্ধ তার গৃহত্যাগের বিষয়টা বর্ণনা করেন এভাবে-

“হে ভিক্ষুগণ, পরবর্তী সময়ে যখন আমার তরুণ বয়স, কাজল কালো চুল, ভরাযৌবন, জীবনের সেই প্রথমভাগেই অনিচ্ছুক মাতাপিতার অশ্রুসজল কান্না সত্ত্বেও আমি চুলদাড়ি ছেঁটে, কাষায় বস্ত্র পরিধান করে গৃহত্যাগ করে গৃহহীন প্রব্রজিত হয়েছিলাম।”

কথাটাকে আরো কয়েকভাবে অনুবাদ করা যায়। কিন্তু অর্থটা ঘুরেফিরে ঐ একই হয়। মনে হয় যেন বুদ্ধ তার পিতামাতার সামনেই চুলদাড়ি কেটে রংকাপড় নিয়ে গৃহত্যাগ করে প্রব্রজ্যা নিয়েছিলেন।

এই কথাটা শুধু পাসরাসি সুত্রেই নয়, মহাসচ্চক সুত্রে (ম.নি.১.৩৭১), বোধিরাজকুমার সুত্রে (ম.নি.২.৩২৭) বুদ্ধ এভাবে বহুজনকে তার গৃহত্যাগের কথা জানিয়েছেন। দীর্ঘনিকায়ের সোণদণ্ড সুত্র (দী.নি.১.৩০৪) এবং কূটদন্ত সুত্রে (দী.নি.১.৩৩২) বুদ্ধের গুণের বর্ণনা করতে গিয়েও তার প্রব্রজ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানেও বলা হয়েছে যে, শ্রমণ গৌতম তার অশ্রুসজল নয়নে কাঁদতে থাকা মাতাপিতাকে ফেলে প্রব্রজ্যা নিয়েছেন, যেটা তার একটা গুণ।

বুদ্ধ যেহেতু নিজেই বলেছেন যে তিনি তার মাতাপিতাকে কাঁদিয়ে প্রব্রজ্যা নিয়েছেন, তাহলে আমরা যে এতদিন ধরে জেনে এসেছি বুদ্ধ রাতের অন্ধকারে চুপিসারে গৃহত্যাগ করেছেন, সেই কাহিনী তাহলে কি সব বানোয়াট গল্প?

সেটা বানোয়াট গল্প নয়। তার প্রমাণ আমরা দেখি বিমানবত্থু গ্রন্থের কণ্ডক দেবপুত্রের গাথায়। সেখানে কণ্ডক দেবপুত্র তার অতীত কর্মের ফল স্মরণ করতে গিয়ে মোগ্গল্লায়ন ভান্তেকে বলেছিলেন,

আমি কপিলাবাস্তুতে, শাক্যদের শ্রেষ্ঠ নগরীতে,
শুদ্ধোধনের পুত্রের সহজাত ছিলাম।
যখন তিনি মাঝরাতে বোধি লাভের জন্য বের হয়েছিলেন,
তিনি আমাকে কোমল জালি হাতে, তাম্রবর্ণের নখে,
উরু দিয়ে গুঁতিয়ে বলেছিলেন, "বন্ধু, আজ আমাকে পার করাও।
আমি শ্রেষ্ঠ সম্বোধি লাভ করে জগতকে পার করাব।"
সেই কথা শুনে আমি মহাখুশি হয়েছিলাম।
উৎফুল্ল মনে তখন আমি সেটাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম।
মহাযশস্বী শাক্যপুত্র আমার উপরে উঠেছেন জেনে
উৎফুল্ল হয়ে খুশিমনে বয়ে নিয়েছিলাম সেই উত্তম পুরুষকে।
অন্যরাজ্যে পৌঁছার পরে সূর্য উঠলে
আমাকে ও ছন্নকে ফেলে তিনি চলে গিয়েছিলেন।
তার পায়ের তামাটে নখগুলো জিহ্বা দিয়ে লেহন করেছিলাম।
কাঁদতে কাঁদতে চেয়ে থেকেছিলাম সেই মহাবীরের চলে যাওয়া।
শ্রীমান সেই শাক্যপুত্রকে আর দেখতে না পেয়ে
গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম, যাতে শীঘ্রই আমার মরণ হয়েছিল।
(ৰিমানৰত্থু.১১৮৫-১১৯২)

কণ্ডক ছাড়াও সিদ্ধার্থের গৃহত্যাগের সঙ্গী হয়েছিল ছন্ন, যে পরবর্তীতে ভিক্ষু হয়েছিল। বিনয়পিটকের পারাজিকা গ্রন্থের সংঘাদিশেষ অধ্যায়ের দুব্বচ শিক্ষাপদে উল্লেখ আছে যে, ভিক্ষু হয়েও নাকি সে কারো কথা শুনত না। সে বলত, “বন্ধু, তোমরা কি মনে কর তোমরা আমাকে এটা ওটা বলতে পারবে? আরে, আমারই তোমাদেরকে সেরকম বলা উচিত। বুদ্ধ আমাদের, ধর্ম আমাদের। আর তোমরা বিভিন্ন জাত থেকে এসে এখানে একসাথে প্রব্রজ্যা নিয়েছ। তোমরা কীভাবে মনে কর যে তোমরা আমাকে এটা ওটা বলতে পারবে? বরং আমারই তোমাদেরকে সেরকম বলা উচিত।”

তার এমন নাক উঁচু স্বভাবের কারণ কী? কারণ তার একটা গর্ব ছিল, সে ছিল বুদ্ধের গৃহত্যাগের একমাত্র সফরসঙ্গী। ছন্নের এমন অবাধ্যতার কারণে বুদ্ধ একাধিক বিনয়বিধি প্রজ্ঞাপ্ত করেছিলেন। তাতেও তার সংশোধন না হওয়ায় পরিনির্বাণের আগে ছন্নকে ব্রহ্মদণ্ড দানের আদেশ দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য ব্রহ্মদণ্ড পেয়ে ছন্নের হুঁশ ফিরেছিল। সে বিনীত হয়েছিল এবং অর্হৎ হয়েছিল।

এভাবে আমরা যদি টুকরো টুকরো ঘটনাগুলোকে মিলিয়ে দেখি, তাহলে দেখব যে ত্রিপিটক থেকেই বুদ্ধের মাঝরাতে গৃহত্যাগের একটা আভাস পাওয়া যায়। আর অর্থকথাগুলো তো অবশ্যই তার চুপিসারে গৃহত্যাগের কাহিনীকে কথা বর্ণনা করেছে সবিস্তারে।

কিন্তু ত্রিপিটকে এটার সরাসরি উল্লেখ নেই কেন? তার উত্তরে বলতে হয়, সুত্র ও বিনয়ে অনেক ক্ষেত্রে ঘটনাবলী উল্লেখ করতে গিয়ে সংক্ষেপে উল্লেখিত হয়েছে। তার উদাহরণ প্রথমেই দেখা যায় বিনয়ের মহাবর্গে। সেখানে অজপালকথা নামক পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে, ভগবান এক সপ্তাহ পরে সমাধি থেকে উঠে বোধিবৃক্ষ থেকে অজপাল বটবৃক্ষের নিকটে গিয়েছিলেন। এ থেকে হয়তো মনে হতে পারে, বুদ্ধত্ব লাভের পরে বুদ্ধ এক সপ্তাহ ধ্যানমগ্ন হয়ে থেকে এরপর অজপাল বটবৃক্ষের গোড়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু অর্থকথা বলছে, ব্যাপারটা সেরকম নয়। বুদ্ধ একসপ্তাহ বোধিবৃক্ষের গোড়ায় বসেছিলেন ধ্যানমগ্ন হয়ে। এরপর একসপ্তাহ অনিমেষ নয়নে চেয়ে থেকেছিলেন। এরপর এক সপ্তাহ পায়চারি করে কাটিয়েছিলেন। এরপর এক সপ্তাহ বসে পট্ঠান নিয়ে চিন্তা করতে করতে কাটিয়েছিলেন। এভাবে চার সপ্তাহ কাটিয়ে পঞ্চম সপ্তাহ কাটিয়েছিলেন অজপাল বটবৃক্ষের গোড়ায়। কথাটা অনেকটা খেয়েদেয়ে ঘুমানোর মতো। কেউ যদি বলে যে সে খেয়ে ঘুমাতে গেছে তার মানে এই নয় যে সে হাত না ধুয়ে, মুখ কুলকুচি না করে, বিছানায় না গিয়ে, অন্যকিছু না বলে সরাসরি ঘুমাতে গেছে। অর্থাৎ কথার ফাঁকেও না বলা অনেকগুলো ঘটনা থাকে, যেগুলো পরিবেশ পরিস্থিতি অনুসারে বুঝে নিতে হয়। না হলে ভুল বুঝা স্বাভাবিক।

এরকম আরো বহু ঘটনার বিবরণ আছে যেগুলোতে ধরে নেয়াই হয়েছে, ভিক্ষুদের কাছে ঘটনাগুলো খুব সুপরিচিত। তাই পিটকে আর সেটার বিস্তারিত বর্ণনা করা হয় নি। কেবল সংক্ষেপে উল্লেখ করে এরপর মূল ঘটনাগুলো বর্ণনা করা হয়েছে।

যেমন ধরা যাক মহাপরিনির্বাণ সুত্রের কথা। সেখানে ১৬৩ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বুদ্ধ বৈশালির নিকটে বেলুব গ্রামে তার ৪৫তম বর্ষা যাপন করেন। আপনি হিসেব করলে দেখবেন তখন তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর ৫ মাস। অর্থাৎ তার পরিনির্বাণের আরো ৭ মাস বাকি। এর পরেই ১৬৬-১৬৯নং অনুচ্ছেদে বৈশালির চাপাল চৈত্যে বুদ্ধ মারকে বলেন, এখন থেকে ৩ মাস পরে তথাগত পরিনির্বাপিত হবেন। এতে মনে হতে পারে, বৈশালির বেলুব গ্রামে বর্ষাবাসের পরে চাপাল চৈত্যে গিয়ে বুদ্ধ তার আয়ুসংস্কার বিসর্জন দেন। সুত্র থেকে কিন্তু বুঝার উপায় নেই যে মাঝখানে ৪টি মাস কেটে গেছে। এমনকি সেই ৪ মাস কোথায় কাটিয়েছেন বুদ্ধ তার কোনো হদিসই আপনি সুত্রে পাবেন না। এভাবেই শুধু সুত্রের কথার উপর নির্ভর করে সবকিছু প্রমাণের চেষ্টা করলে কানাগলিতে ঘুরবেন মাত্র। পথের হদিস পাবেন না।

অর্থকথা বলছে, বৈশালিতে বর্ষাবাসের পরপরই বুদ্ধ আবার যে পথে এসেছিলেন সেই পথে ফিরে গিয়েছিলেন শ্রাবস্তিতে। এরপর আবার ফিরে এসেছিলেন রাজগৃহে, সেখান থেকে বৈশালীতে। এভাবেই বৈশালীতে বর্ষাবাস করে শ্রাবস্তী গিয়ে আবার বৈশালীতে ফিরে এসে চাপাল চৈত্যে আয়ুসংস্কার বিসর্জন দিয়েছিলেন বুদ্ধ। সেই দীর্ঘ পথে আসা যাওয়ার মাঝে কেটে গিয়েছিল ৪ মাস। অর্থকথার এই ব্যাখ্যা যে একদম সঠিক সেটা আমরা চুল্লবর্গের ভেষজ্জ স্কন্ধের ঘটনাগুলো থেকে মিলিয়ে দেখলে সহজেই বুঝতে পারি।

তাই শুধুমাত্র ত্রিপিটকের কথায় নয়, অর্থকথা ও টীকাগুলোতে প্রাচীন থেরোগণ কী বলে গেছেন সেটাই হচ্ছে বিবেচ্য বিষয়। আমাদের সেটাই গ্রহণ করা উচিত। সেটাই হচ্ছে থেরবাদ। সেটা বাদ দিয়ে আমরা যদি ধর্মানন্দ কৌশাম্বীর মতবাদ গ্রহণ করে বলি যে বুদ্ধের প্রচলিত গৃহত্যাগের কাহিনী একটা মিথ মাত্র, তাহলে সেটা থেরবাদ হবে না। সেটা হবে কৌশাম্বিবাদ। আর যদি পশ্চিমা পণ্ডিতেরা, যারা প্রাচীন থেরোদের কথা বিশ্বাস না করে নিজেরা আরেকটা মনগড়া ব্যাখ্যা দেন, তাহলে সেটা হবে পশ্চিমাবাদ। আমি অনুরোধ করব, আপনারা এসব নব্য পণ্ডিতদের কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। প্রাচীন থেরোগণের উপর আস্থা রাখুন, বিশ্বাস রাখুন। সত্য নিহিত আছে সেখানেই।

8 thoughts on “বুদ্ধের গৃহত্যাগ নিয়ে বিতর্ক

  1. বন্দনা ভান্ত। আপনার কাছে কয়েকটা প্রশ্ন জানার খুব ইচ্ছ। উত্তর জানা থাকলে আশা করি আপনি আমার কৌতুহল সংবরণ করবেন। প্রশ্নগুলো হলো ঃঃ
    ১। ভান্তেদের যদি ছোয়াইং ডিম দেয়া হয় সেটা দ্বায়কের পাপ হবে।
    ২। পূর্ণিমা কিংবা আমাবস্যায় ডিম স্বিদ্ধ করা কিংবা ভেজে খাওয়া পাপ কিনা? আর পাপ হলে কেন?
    ৩। আমরা যখন জ্ঞাতিদের উদ্দেশ্য পূণ্যদান করি তখন বন্দনার সাথে সাথে পানি ঢালা হয় কেন? এটা বুদ্ধ নির্দেশিত? ত্রিপিটকে কি এর কোন ব্যাখা আছে? আবার অনেকে দেখি পানি ঢালার পাত্রে পয়সাও রাখে। পয়সা রাখতেই হবে এমন কোন নির্দেশ বা আদেশ আছে কিনা?

    1. ১। আমি যতদূর জানি, ফার্মের ডিমগুলোতে বাচ্চা হয় না। সেগুলো দিলে সমস্যা নেই।

      ২। সামান্য ছারপোকার ডিমও ভাঙলে প্রাণিহত্যা হয়। সেটা আপনি পূর্ণিমা বা অমাবস্যায় যখনই করুন না কেন।

      ৩। পানি ঢালার পাত্রে পয়সা রাখার কোনো নির্দেশ অন্তত ত্রিপিটকে দেখা যায় না। তবে পানি ঢালার ব্যাপারে আমি একটা পোস্ট লিখব। সাধুবাদ রইল ব্যাপারটা তুলে ধরার জন্য।

      1. বন্দনা ভান্তে। আপনার লেখাগুলো পড়তে আমার অনেক ভালো লাগে। অনেকটা হুমায়ুন আহমেদেের বই পড়ার মতো। আশা করি সামনে আরো বেশী বেশী বুদ্ধ কতৃর্ক দেশিত প্রবন্ধ বা জাতক আমাদের মাঝে উপস্থাপন করবেন তার আশায় রইলাম।

  2. ভান্তে, বন্দনা।

    “বুদ্ধের অন্তিম আহার “শুকরমদ্দব” নিয়ে নানা মুনির নানা মত
    প্রিয়বংশ ভিক্ষু

    মহাপরিনির্বাণ সূত্র এবং উদানে চুন্দ সূত্রে বলা হয়েছে বুদ্ধ পরিনির্বাণের আগে চুন্দ বুদ্ধকে ‘শূকরমদ্দব’ দান করেছিলেন। চুন্দের প্রদত্ত অন্ন ভোজনের পর তাঁর বিষম রোগ উৎপন্ন হয়েছিল। রক্ত আমাশয় কারণে তীব্র বেদনা উৎপন্ন হল। বুদ্ধ স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞানযোগে তা অনায়াসে সহ্য করেছিলেন। কখনও কাতরোক্তি করলেন না। এ অবস্থায় বুদ্ধ আনন্দকে বললেন ,হে আনন্দ, চল আমরা কুশীনারায় গমন করি’। এরই মধ্যে লোকজন বলাবলি করতেছে স্বর্ণকার পুত্র চুন্দের আহার গ্রহণ করেই ভগবানের মরণগামি বিষম রোগাক্রান্ত বা রক্তামাশয় হলেন। কিন্তু শূকরমদ্দব পরিভোগ করায় শাস্তার ব্যাধি মারাত্মকরূপ ধারন করেন নি।সেই কারণে বুদ্ধ কুশীনগরে যেতে সমর্থ হয়েছিলেন। এটা বুদ্ধের দ্বাদশ কর্মবিপাকের মধ্যে অন্যতম ভোগনিয় কর্ম ছিল। যা হোক আমার আলোচ্য বিষয় হল শুকরমদ্দব নিয়ে নানা জনের নানা মত। এই ‘শূকরমদ্দব’ শব্দটি আসলে বিতর্কিত ও অস্পষ্ট। Bhikkhu Bodhi states that, what is quite clear that the old commentators did not know for certain what it did mean’. তাই অর্থকথা আচার্য গণ ও বিভিন্ন পণ্ডিতগণ বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। আমি বিতর্কিত শব্দটি অনুবাদ করতে এই অস্পষ্ট অভিব্যক্তিটি বেছে নিয়েছি। সূকর +মদ্দব = সূকরমদ্দব, পালিতে সূকর শব্দের অর্থ হল শূকর,বরাহ (pig), মদ্দব শব্দের অর্থ হল মৃদু,কোমল,নরম,মধুর ইত্যাদি। Ven.Bhikkhu Bodhi কতৃর্ক অনূদিত দীর্ঘ নিকায় গ্রন্থে ৪১৭ নং পাদটীকায় উল্লেখ করেন যে, ” It could therefore mean either ‘the tender parts of a pig’ or ‘what pigs enjoy’.
    দীর্ঘ নিকায়ের অর্থকথায় আচার্য বুদ্ধঘোষ বলেন,’ নাতিতরুণস্স নাতিজিণ্ণস্স একজেট্ঠকসূকরস্স পৰত্তমংসং। তং কির মুদু চেৰ সিনিদ্ধঞ্চ হোতি, তং পটিযাদাপেত্ৰা সাধুকং পচাপেত্ৰাতি ¶ অত্থো। নাতি তরুণ, নাতি জীর্ণ এক জেষ্ঠ্য শূকরের কাটামাংস।কথিত আছে যে যেই শূকরের মাংস কোমল ও স্নিগ্ধ হয়,সেই শূকরের মাংস উত্তমরূপে প্রস্তুত করে রান্না করালেন। আচার্য ধর্মপাল উদান অর্থকথায় চুন্দ সুত্রে উল্লেখ করেন,সূকরস্স মুদুসিনিদ্ধং পৰত্তমংস”ন্তি মহাঅট্ঠকথাযং ৰুত্তং অর্থাৎ মহাঅর্থকথায় উক্ত হয়েছে শূকরমদ্দব হল শূকর বা বরাহের মৃদু ও কোমল কাটামাংস। Franke এর দীর্ঘ নিকায়ের অনুবাদে ইহার অনুবাদ করেছেন, কোমল চর্বিযুক্ত শূকরের মাংস ‘। এই দুইজন অর্থকথাচার্য ‘পৰত্তমংস’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। সেই শব্দটি৷ নিয়ে অনেক বিভ্রান্ত তথ্য পরিলক্ষিত হয়েছে। বিভিন্ন লেখক বিভিন্নভাবে অনুবাদ করেছেন। এই পৰত্তমংস শব্দটি দেখতে পায় বিনয় পিটকে মহাবর্গের ভৈষজ স্কন্ধে। রাজগৃহের এক শ্রদ্ধাবতি উপাসিকা সুপ্রিয়া বিহারে গমনপূর্বক জনৈক বিরেচক ভিক্ষুকে জিজ্ঞেস করলেন আপনার কোন দ্রব্যের প্রয়োজন আছে কি? ভিক্ষুটি বলল, ভগ্নি,আমি বিরেচক (জোলাপ) সেবন করতেছি,আমার প্রতিচ্ছাদনীয়ের (মাংসের যূসের) প্রয়োজন। উপাসিকা সুপ্রিয়া কর্মচারীকে আদেশ দিলেন,গচ্ছ, ভণে, পৰত্তমংসং জানাহী” অর্থাৎ ভণে,নিহত পশুর মাংস পাওয়া যাবে কি না দেখ। এখানে শ্রদ্ধেয় প্রজ্ঞানন্দ স্থবির পবত্তমাংস শব্দের অর্থ নিহত পশুর মাংস বলে উল্লেখ করেছেন। শ্রদ্ধেয় ধর্মরত্ন মহাস্থবিরও মহাপরিনির্বাণ সুত্র গ্রন্তে ‘পবত্তমাংস ‘শব্দের অর্থ কাটামাংস বলে উল্লেখ করেন। তবে ভিন্ন অর্থ দেখি শান্তরক্ষিত মহাস্থবির রচিত পালি বাংলা অভিধানে ১০৫৬ পৃ, পবত্তমাংস শব্দের অর্থ নির্ণয় করেছেন ‘টাটকা বা কাঁচামাংস। বিনয় পিটক অর্থকথায় (vin-a 1094) পবত্তমাংস শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা করা হয়েছে মতস্স যেব মাংসং অর্থাৎ ইতোমধ্যে মৃতের মাংস ( Meat that is already dead),বিনয় পিটক অর্থকথানুসারে Miss Horner renders same as ” meat that is to hand ”,adding the note ”i.e.already killed, and not to be Killed on purpose for the monk,For monks might eat no fish or meat which they saw,heard or suspected had been specially killed them'(B Disc iv 296 n,1). This also seems supported by Sv-pt ii 218,which states that sukaramaddava is the meat of the wild boar (vanavarahamamsa) and that pavattamamsa is said (DA-Digha nikaya atthakatha 568) since Cunda an ariyasavaka and sotapanna and the rest, in preparing the food the Lord and the order of monks, did so blamelessly. নানামলির রচিত The life of the Buddha (kandy 1984) গ্রন্থে 323 পৃষ্ঠায় similarly renders pavattamamsam (পবত্তমাংস) as “meat already on sale in a market ” অর্থাৎ বাজারে বিক্রিত মাংস। দীর্ঘ নিকায় এর ব্রহ্মজাল সূত্রে ও মধ্যম নিকায়ে (Di5 & Mi180) আমকমাংস শব্দ পরিলক্ষিত হয়। পালি বাংলা অভিধান অনুসারে পবত্তমাংস ও আমকমাংস দুটি শব্দের অর্থ এক ও অভিন্ন বলা যায়। শ্রদ্ধেয় শান্তরক্ষিত মহাস্থবির লিখিত পালি বাংলা অভিধানের ১ম খন্ডে আমকমাংস শব্দের অর্থ কাঁচা বা তাজা মাংস আর পবত্তমাংস শব্দের অর্থ টাটকা বা কাঁচামাংস বলে উল্লেখ করেছেন, আমকমাংস শব্দের অর্থ ঠিক থাকলেও পবত্তমাংস শব্দের অর্থ ভুল অনুবাদ করা হয়েছে। উদান অর্থকথা ইংরেজি অনুবাদক Peter Masefield ২য় খন্ডে ১০৮৩ পৃষ্ঠায়, ১৭৩ পাদটীকায় said that ‘Pavattamamsa (পবত্তমাংস) is presumably, to be distinguished from amakamamsa (আমকমাংস),raw or uncooked, meat and which is not allowed.বুদ্ধ অপক্ব মাংস গ্রহণে বিরতি থাকার জন্য বলেছেন। যেখানে তিনি কাঁচা বা অপক্ব মাংস গ্রহণে নিষেধ করেছেন সেখানে তিনি কি করে কাঁচামাংস গ্রহণ করবেন? এক মার্গলাভী চুন্দের পক্ষে টাটকা বা কাঁচামাংস দান করা সম্ভব নয়। জীবনান্তেও প্রাণীহত্যা করবে না। This is why the commentaries explain patiyadapetva (পটিযাদপেত্বা)-[causative verb] had prepared as pacapetva(পচাপেত্বা) had cooked.
    উদান অর্থকথায় চুন্দ সূত্রে কেউ কেউ বলেন, সূকরমদ্দৰন্তি ন সূকরমংসং, সূকরেহি মদ্দিতৰংসকল়ীরো” অর্থাৎ শূকরমদ্দব আসলে শূকরের মাংস নয়,শূকর দ্বারা মর্দিত বা চূর্ণিত বাঁশের অঙ্কুর বা মঞ্জুরী। কারও মতে, সূকরেহি মদ্দিতপ্পদেসে জাতং অহিছত্তক” অর্থাৎ শূকর দ্বারা মর্দিত বা চূর্ণিত স্থানে উৎপন্ন এক প্রকার মাশরুম। এর মত সমর্থন করে Dr Bela Bhattacharya said that ” “Opinion differs on the nature of the food surakamaddva. It may not have been pig’s flesh. It may have been some sort of a mushroom. It may be assumed that the small mushroom also become graceful associated with Buddha’s Last Meal. Thus Buddha’s Last Meal is associated with Cryptogamous plant.”( source : buddhayana, p – 217)। পালি বাংলা অভিধানে পরম শ্রদ্ধেয় শান্তরক্ষিত মহাস্থবির শূকরমদ্দব এর অনুবাদ করেছেন -শূকরমর্দব ও বেঙের ছাতা। Mr.Rhys David এর অনুবাদ করেছেন “মাটির নীচে জন্মায় এরুপ ছত্রাক বা ছাতার পরিমাণ বা মাত্র। আবার কেউ কেউ প্রচার করেন,”সূকরমদ্দৰং নাম একং রসাযন অর্থাৎ শূকরমদ্দব হল এক প্রকার রসায়ন বিশেষ। রসায়ন শাস্ত্রে এটার উল্লেখ পাওয়া যায় (Sukaramaddava is the name for a type of elixirs which is,moreover, contained within the science of elixirs and that it was this elixir that Cunda served to the Lord, in the hope that he (Buddha) might not attain parinibbana). দীর্ঘ নিকায়ের মহাপরিনির্বাণ সুত্রের অর্থকথায় উল্লেখ রয়েছে, ” সূকরমদ্দৰন্তি পন মুদুওদনস্স পঞ্চগোরসযূসপাচনৰিধানস্স নামেতং, যথা গৰপানং নাম পাকনাম”ন্তি অর্থাৎ কারও মতে, শূকরমদ্দব হল মৃদু বা কোমল ওদনের (সিদ্ধ করা চাউল অর্থাৎ ওদন,অন্ন, পায়েস,পায়সান্ন,ভাত,যাগু,মিষ্টান্ন) পঞ্চ গোরস যুক্ত ( ক্ষীর,দধি,তক্র বা ঘোল,মাখন ও ঘৃত) যুষ পাচন বিধানের এই নাম। যেমন ‘গবপানং বা ক্ষীরান্ন’নামে পাক নাম দৃষ্ট হয়।
    সর্বশেষে আধুনিক অনুবাদকগণ মনে করে, Modern interpreters from RD onwards have favoured truffles as a plausible explanation, and some evidence for this has been adduced. Trevor Ling, in n.31 to his revision of the RD translation of this Sutta (The Buddha’s Philosophy of Man (Everyman’s Library, London 1981, p. 218), re- marks: ‘This explanation seems intended to avoid off- ence to vegetarian readers or hearers। Dr,Sunil Jayasinghe his article on “The Last meal of Buddha’ states that ‘Sukara Maddawa” could be interpreted as tender pork. But it could also have a different
    meaning as food that pig loves, known as “truffle,” a kind of mushroom that grows
    underground that pigs are drawn to by its fragrance and would dig up with its snout
    to eat. It is basically an underground fungus, usually grows at the base of an oak tree. It
    is also known as “Black diamond: due to its extremely high price, being sold as a delicacy
    or aphrodisiac at $100.00 a pound, and as high as $3,600 per pound for the highest
    quality truffle.(http://www.dhammikaweb.com/).
    আমরা জানি চুন্দ বুদ্ধকে দর্শন করা মাত্রই স্রোতাপন্ন লাভ করেছিলেন। তিনি বুদ্ধের প্রতি অত্যন্ত স্নেহবশত ভগবানের রক্তামাশয় না হয় বা হলেও অধিক যন্ত্রণাদায়ক না হয়,সেইজন্যই শূকরমদ্দব প্রস্তুত করেছিলেন বা পাক করেছিলেন। এদিকে দেবগণ জানেন যে আজ বুদ্ধ শেষ আহার গ্রহণ করবেন তাই দ্বিসহস্র দ্বীপ পরিবৃত চতুর্মহাদ্বিপের দেবতাগণ শূকরমর্দবে দিব্য ওজঃ (জীবনীশক্তি) প্রক্ষেপ করেন তারাও পুন্যলাভের অংশীদার হয়েছিল ।দিব্য ওজ প্রক্ষেপ করাতে তা অতি গুরুভোজনে পরিণত হয় যা বুদ্ধ ব্যতীত আরও কেউ হজম করতে অসম্ভব। প্রস্তুতকৃত শূকরমর্দব আমাকেই ভোজন করাবে,কেন ভগবান এরুপ ভাষণ করেছিলেন? উদান অর্থকথায় বলা হয়েছে, পরের প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন করার জন্য।
    লেখক পরিচিত :এম. ফিল গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,আবাসিক অতীশ দীপংকর মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স, মুন্সিগঞ্জ।”

    ভান্তে, প্রকৃত ব্যাখ্যাটি কী?

  3. যা হোক,এখন নিশ্চিত হওয়া গেল। আসসা ভান্তে আপনার আগের আইডি ব্যবহার করছেন না কেন?

  4. বন্দনা ভান্তে। ফেসবুকে আপনার নামে একটি আইডি দেখা যাচ্ছে। আইডিটি সত্যি আপনার কিনা?একটু বলবেন?

      1. যা হোক,এখন নিশ্চিত হওয়া গেল। আসসা ভান্তে আপনার আগের আইডি ব্যবহার করছেন না কেন?

Leave a Reply to সুমিত বড়ুয়া Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *