আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

কল্প নিয়ে গবেষণা

জীবনে অনেক ভালো কাজ করেছেন বলেই ভাববেন না যে নরকে যেতে হবে না। সামান্য মিথ্যা কথার জন্যও মল্লিকাদেবীকে নরকে যেতে হয়েছে। মৃত্যুকালে কোন কাজ ফল দেবে সেটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ইংরেজিতে একটা কথা আছে- Hope for the best, prepare for the worst. অর্থাৎ আশা করবেন সবচেয়ে ভালোটা, কিন্তু সবচেয়ে খারাপ অবস্থার জন্যও প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন। কাজেই নরকের হোমওয়ার্কও আগেভাগে করে রাখা ভালো। সবচেয়ে ভয়ংকর নরক নাকি অবীচি মহানরক। সেখানে লোকজন এক কল্প ধরে নরকযন্ত্রণা ভোগ করে। কাজেই অবীচি নরকে যাতে পড়তে না হয় তার জন্য স্পেশাল কেয়ার নেয়া উচিত এখন থেকেই।

আচ্ছা, এই কল্পের ব্যাপারটা আমার মাথায় ধরে না। এক কল্প সমান ঠিক কত বছর? কোথাও সদুত্তর মেলে না। বুদ্ধের কাছে গিয়ে এক ভিক্ষু সেরকমই জিজ্ঞেস করেছিল। বুদ্ধ বলেছিলেন, হে ভিক্ষু, কল্প খুব দীর্ঘ। সেটা নির্দিষ্ট করে এত বছর বা এত লক্ষ বছর বলাটা কঠিন।

তখন বুদ্ধ একটি উপমা দিলেন। ধরা যাক একটি লোহার নগরী আছে ১যোজন দীর্ঘ, ১যোজন প্রস্থ, ১যোজন উঁচু। তার ভেতরে পুরোটাই গোল গোল সরিষার বীজে ভরে দেয়া হলো। কেউ যদি প্রতি ১০০বছর পরপর সেখান থেকে ১টা করে সরিষার বীজ তুলে নেয়, তাহলেও সেই সরিষা ফুরিয়ে যাবে কিন্তু কল্প ফুরাবে না। এমনই দীর্ঘ এই কল্প। (সং.নি. ২.১২৯)

এখান থেকে আমরা কল্পের একটা আনুমানিক হিসাব বের করতে পারি। প্রথমে বের করতে হবে সেই লৌহনগরীতে কয়টা সরিষা ধরে। কাজটা তেমন কঠিন নয়। লৌহনগরীর আয়তন ও সরিষাবীজের আয়তন বের করলেই তা জানা যাবে।

লৌহনগরী হচ্ছে একটি ঘনক, যার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা হচ্ছে ১ যোজন বা ১২কিমি। মিলিমিটার হিসেবে হয় ১২ মিলিয়ন মিলিমিটার। তাহলে ঘনকের আয়তনের সুত্রমতে নগরীর আয়তন হয় ১৭২৮ বিলিয়ন বিলিয়ন ঘনমিমি।

অন্যদিকে সরিষার বীজগুলো হচ্ছে গোল গোল। উইকিপিডিয়ামতে, এদের ব্যাস হচ্ছে ১ থেকে ২ মিমি। আমরা ২মিমি ধরে নিলাম। তাহলে গোলকের আয়তনের সুত্রমতে একটি সরিষাবীজের আয়তন হবে ৪.২০ ঘনমিমি। অতএব, লৌহনগরীতে সরিষার বীজ আঁটবে ১৭২৮ / ৪.২ = ৪১১.৫ বিলিয়ন বিলিয়ন।

এবার সহজ ঐকিক নিয়মের হিসেবে-
১টি সরিষাবীজ তুলে নিতে সময় লাগে ১০০ বছর।
তাহলে ৪১১.৫ বিলিয়ন বিলিয়ন সরিষাবীজ তুলে নিতে সময় লাগবে ৪১,১৫০ বিলিয়ন বিলিয়ন বছরেরও বেশি।

অর্থাৎ সোজা হিসেবে, ১ কল্প = ৪১,১৫০ বিলিয়ন বিলিয়ন বছর।

আফসোস, এটাও এত বড় সংখ্যা যে আমার মাথায় ধরে না। তবে এটুকু বুঝা গেছে, অবীচি নরকে পড়লে আর কোথাও যেতে হবে না। লাইফটা ঐ ওখানেই শেষ। সেরকম যাতে না হয় তার জন্য যমরাজাকে খুশি করার টেকনিক জেনে নেয়া উচিত আপনাদের। যমরাজাকে খুশি করতে পারলে আর কিছু লাগবে না। ঝটপট সেই হতচ্ছাড়া নরক থেকে উদ্ধার পেয়ে যেতে পারবেন। আমি অবশ্য যমরাজাকে ম্যানেজ করার সেই গুপ্ত টেকনিকটা বের করে ফেলেছি। তবে সেটা কাউকে বলা যাবে না। সবকিছু বলতে নেই।

1 thought on “কল্প নিয়ে গবেষণা

  1. ভান্তে, বন্দনা।

    “কতঞ্ঞূতা কতবেদী

    কল্প গণনা কি রকমে হয়? ভদ্দন্ত পঞ্ঞাদীপ ভিক্খু। রাত ৮.০৬মিঃ,১৩/৬/২০২০ইং।
    —–
    পালিতে কপ্প বলে। কল্প মানেই অতি অতি দীর্ঘকাল সময়কে কল্প বলা হয়। কল্প ৬টি রয়েছে।
    ১। সারকল্প কল্প ২। মণ্ডকল্প ৩। বরকল্প ৪। সারমণ্ডকল্প ৫। ভদ্রকল্প ৬। শূন্যকল্প।

    অতিমাত্রা লোভ দ্বেষ মোহের কারণে গড়ায়ু কমে। গড়ায়ু অসংখ্য থেকে ১০ পর্যন্ত কমানো গড়ায়ুকে পালিতে হাযনকপ্প (ফুরানো কল্প)। পুনঃ ব্রহ্মবিহার মৈত্রী চিত্তের কারণে মানুষের গড়ায়ু ১০ বছর থেকে ১০০ বছর, ১০০০ বছর, ১০,০০০, ১০০০০০, ১ এর পেছনে ১০০ শূন্যের অধিক গড়ায়ু বাড়ে। অর্থাৎ অগণিত বাড়ে।

    সেরুপ গড়ায়ু ১০ বছর থেকে অসংখ্য পর্যন্ত দীর্ঘতর সময়কে পালিতে- বঢ্ডনকপ্প (বর্ধন কল্প বা গড়ায়ু উঠার কল্প) বলে। গড়ায়ু উঠা-নামা একযুগলকে এক অন্তরকল্প বলে। ৬৪ অন্তরকল্পকে ১ অসংখ্য কল্প বলে। ৪ অসংখ্যকল্পকে ১ মহাকল্প বলে। সেই মহাকল্পকে ১ কল্প বলে গণনা করা হয়। ভূগর্ভস্থ স্তরকে কল্প বলা হয় না।

    মহাকল্প ২-রকমঃ
    ———-
    (১) শূন্যকল্প- বুদ্ধ অনুৎপন্নকাল কল্প। তবে পচ্চেকবুদ্ধ ও চক্রবর্তী রাজা উৎপন্ন হন। (থের অপাদান উপালি সুত্র) (২) অশূন্যকল্প- বুদ্ধ উৎপন্ন কল্প। পুনশ্চ বুদ্ধ উৎপন্ন কল্প ৫-রকম।
    (১) সারকল্প-১জন
    (২) মণ্ডকল্প-২জন
    (৩) বরকল্প-৩জন
    (৪) সারমণ্ডকল্প-৪জন
    (৫) ভদ্রকল্প-৫জন উৎপন্ন হয়ে থাকে।

    সবার জ্ঞান ভাণ্ডার পূর্ণ হোক।

    চার অসংখ্য এক লক্ষ কল্পকাল – ব্যাখ্যা :
    ১। দীপঙ্কর বুদ্ধের পরে ১ অসংখ্য শূন্যকল্প।
    ২। কোণ্ডণ্য বুদ্ধের পরে ১ অসংখ্য শূন্যকল্প।
    ৩। মঙ্গল,সুমন,রেবত, সোভিত বুদ্ধের পরে ১ অসংখ্য শূন্যকল্প।
    ৪। পদুম,নারদ,অনোমদর্শী বুদ্ধের পরে আরেক শূন্যকল্প।
    মোট চার অসংখ্য শূন্যকল্প।

    তারপর
    ★ পদুমুত্তর বুদ্ধ থেকে গৌতম বুদ্ধ পর্যন্ত ১ লক্ষ কল্প। অসংখ্যকল্প কল্প বলতে ১ এর পেছনে ১০০ শূন্য যুক্ত।

    বিঃ ৪বার বুদ্ধ অনুৎপন্ন শূন্যকল্পকে চার অসংখ্য বলে।”

    ভান্তে, সহজ ব্যাখ্যাটি কী?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *