আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

সিযা কুসলং ধম্মং – এর ব্যাখ্যা

আমার কয়েকবার দাহক্রিয়ায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। সেখানে ভিক্ষুরা ‘সিযা কুসলং ধম্মং …সিযা অকুসলং ধম্মং… সিযা অব্যাকতং ধম্মং… ‘ এই তিনটা অংশ পট্ঠান থেকে পাঠ করে থাকে। আমি জানি না কেন সেটা পাঠ করা হয়। মানুষ মারা যাওয়ার সাথে পট্ঠানের এই অংশটির সম্পর্ক কী তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। সে যাই হোক, আজ একজন বললো তার অর্থটা বুঝিয়ে দিতে। আমি ভাবলাম, বরং সেটা পোস্ট করলেই ভালো হবে। সবাই জানুক, বুঝুক।

এর প্রথম অংশটি হচ্ছে এরকম:
সিযা কুসলং ধম্মং পটিচ্চ কুসলো ধম্মো উপ্পজ্জেয্য হেতুপচ্চযা (পট্ঠান-১.২৫)। কুসলং ধম্মং পটিচ্চ কুসলো ধম্মো উপ্পজ্জতি হেতুপচ্চযা – কুসলং একং খন্ধং পটিচ্চ তযো খন্ধা, তযো খন্ধে পটিচ্চ একো খন্ধো, দ্বে খন্ধে পটিচ্চ দ্বে খন্ধা (পট্ঠান-১.৫৩)।

এর অনুবাদ হচ্ছে এরকম:
হেতুপ্রত্যয় দ্বারা কুশলধর্মের কারণে কুশলধর্ম উৎপন্ন হতে পারে? হ্যাঁ। হেতুপ্রত্যয় দ্বারা কুশলধর্মের কারণে কুশলধর্ম উৎপন্ন হয়। কুশল এক স্কন্ধের কারণে তিন স্কন্ধ উৎপন্ন হয়। তিন স্কন্ধের কারণে এক স্কন্ধ উৎপন্ন হয়। দুই স্কন্ধের কারণে দুই স্কন্ধ উৎপন্ন হয়।

এখানে প্রথম কথাটি হচ্ছে হেতুপ্রত্যয় সংশ্লিষ্ট একটি প্রশ্ন। পট্ঠানের হেতুপ্রত্যয় নিয়ে যে ৪৯টি প্রশ্ন রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে এটি হচ্ছে প্রথম প্রশ্ন। এখানে ‘ধর্ম’ মানে বুঝাচ্ছে অরূপ স্কন্ধগুলোকে। ‘কুশলধর্ম’ মানে বুঝাচ্ছে কামাবচর, রূপাবচর, অরূপাবচর ও লোকোত্তর এই চারি ভূমির কুশল চিত্তগুলোতে উৎপন্ন বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিজ্ঞান স্কন্ধগুলোর যেকোনো স্কন্ধকে।

‘কুশল এক স্কন্ধের কারণে তিন স্কন্ধ উৎপন্ন হয়’ মানে হচ্ছে এসমস্ত কুশল চিত্তগুলোতে বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিজ্ঞান স্কন্ধগুলোর যেকোনো একটির কারণে বাদবাকি তিনটি স্কন্ধ উৎপন্ন হয়। সেই তিনটি স্কন্ধের কারণেই অবশিষ্ট একটি স্কন্ধ উৎপন্ন হয়। আবার সেগুলোর মধ্যে যেকোনো দুটির কারণে অবশিষ্ট দুটি স্কন্ধ উৎপন্ন হয়। এভাবেই হেতু প্রত্যয় দ্বারা কুশলধর্মের কারণে কুশলধর্ম উৎপন্ন হয়।

অকুশলধর্মগুলোর ক্ষেত্রেও এভাবেই বুঝতে হবে। অব্যক্তধর্ম বলতে বিপাক ও ক্রিয়া চিত্তের ক্ষেত্রে উৎপন্ন চারিস্কন্ধকে বুঝতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *