আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

মানুষের অধঃপতন হয় কীসে?

একজনের অনুরোধে আজ পরাভব সুত্র অর্থকথাসহ লিখতে বসলাম। পরাভব মানে হচ্ছে পরিহানি, অধঃপতন বা ধ্বংস। মানুষের জীবনে কী কী কারণে অধঃপতন বা ধ্বংস নেমে আসে সেব্যাপারে এক দেবপুত্র এক রাতে এসে ভগবান বুদ্ধকে জিজ্ঞেস করেছিল।
বুদ্ধ তখন শ্রাবস্তীর জেতবনে অবস্থান করছিলেন। এর আগের রাতে তিনি দেবতাদেরকে মঙ্গলসুত্র দেশনা করেছিলেন। সেই মঙ্গলের কথাগুলো শুনে দেবতাদের নাকি মনে হয়েছিল, ‘বুদ্ধ তো মঙ্গলসুত্রে প্রাণিদের কীভাবে মঙ্গল ও স্বস্তি হয় তা বলেছেন, কিন্তু কীভাবে তাদের পরিহানি হয়, অধঃপতন হয় তা বলেন নি। সেব্যাপারেও জিজ্ঞেস করা দরকার।’ এই ভেবে মঙ্গলসুত্র বলার পরের রাতে দশহাজার মহাবিশ্বের দেবতারা আমাদের এই মহাবিশ্বে এসে সম্মিলিত হয়েছিল। সেই কোটি কোটি দেবতা ও ব্রহ্মাগণ চুলের ডগার মতো অত্যন্ত ক্ষুদ্র স্থানেও দশজন, বিশজন, ত্রিশজন, চল্লিশজন, আশিজন করে সুক্ষ্মদেহ নির্মাণ করে বুদ্ধের চারদিকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিল। আমাদের এই সারা মহাবিশ্ব তখন যেন দেবতাতে গিজগিজ করছিল। সেটা যেন হয়েছিল দেবতাদের এক মহাসম্মেলন। তখন দেবরাজ সক্কের আদেশে এক দেবপুত্র দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই বুদ্ধকে জিজ্ঞেস করেছিল,
৯১-৯২. অধঃপতন হতে থাকা ব্যক্তির ব্যাপারে আমরা মাননীয় গৌতমকে জিজ্ঞেস করতে এসেছি। ব্যক্তির অধঃপতনের কারণ কী? এর জবাবে বুদ্ধ বললেন, শ্রীবৃদ্ধি হওয়া ব্যক্তিকে সহজেই জানা যায়। অধঃপতন হতে থাকা ব্যক্তিকেও সহজেই জানা যায়। ধর্মপ্রিয় ব্যক্তির শ্রীবৃদ্ধি হয়, ধর্মবিদ্বেষী ব্যক্তির অধঃপতন হয়। (এখানে ধর্মপ্রিয় ব্যক্তি কে? দশকুশল কর্মপথের ব্যাপারে যেব্যক্তি প্রার্থনা করে, শুনতে চায়, পছন্দ করে, এবং সেগুলোর চর্চা করে সে হচ্ছে ধর্মপ্রিয় ব্যক্তি। আর যে তা পছন্দ করে না সে হচ্ছে ধর্মবিদ্বেষী ব্যক্তি
এই দশ কুশল কর্মপথ কী? কায়িক তিন প্রকার পাপ, যেমন- প্রাণিহত্যা, চুরি ও ব্যভিচার থেকে বিরত থাকা। বাচনিক চার প্রকার পাপ, যেমন- মিথ্যাবাক্য, বিভেদমূলক বাক্য, কর্কশবাক্য ও অনর্থক আলাপ থেকে বিরত থাকা। মানসিক তিন প্রকার পাপ, যেমন- পরের সম্পত্তিতে লোভ না করা, হিংসা না করা, সম্যকদৃষ্টি বা সঠিক ধারণা পোষণ করা। এই হচ্ছে দশ কুশল কর্মপথ। যারা এই দশ কুশলকর্মপথকে পছন্দ করে, জীবনে চর্চা করে তারা হচ্ছে ধর্মপ্রিয়। আর যারা সেগুলো পছন্দ করে না তারা হচ্ছে ধর্মবিদ্বেষী ব্যক্তি। এভাবেই ধর্মপ্রিয় ব্যক্তিদের শ্রীবৃদ্ধি হয়, কিন্তু ধর্মবিদ্বেষী ব্যক্তির পরিহানি হয়।)
৯৩-৯৪. অধঃপতনের প্রথম কারণটি জানলাম। অধঃপতনের দ্বিতীয় কারণ বলুন। এর জবাবে বুদ্ধ বললেন, অশান্তকে পছন্দ করে, শান্তকে পছন্দ করে না। অসৎ ধর্মকে পছন্দ করে। সেটাও হচ্ছে অধঃপতনের কারণ। (এখানে অধঃপতনের তিনটা কারণ বলা হয়েছে। প্রথমটা হচ্ছে অশান্তকে পছন্দ করা। এখানে অশান্ত বলতে বুঝিয়েছে বুদ্ধের আমলে ছয়জন অন্যধর্মাবলম্বী আচার্যকে। সুনক্খত্ত ও অন্যান্য অনেকের প্রিয় ছিল সেই অশান্ত ছয়জন আচার্য। আবার অশান্ত কায়-বাক্যমনোকর্ম সম্পাদনকারী অন্য যেকোনো ব্যক্তিকেও অশান্ত বলা যায়। তাদের মতো অশান্ত ব্যক্তিদেরকে পছন্দ করাটা হচ্ছে অধঃপতনের প্রথম কারণ।
দ্বিতীয় কারণটা হচ্ছে শান্তকে পছন্দ না করা। এখানে শান্ত বলতে বুঝিয়েছে বুদ্ধ, পচ্চেক বুদ্ধ ও বুদ্ধের শিষ্যদেরকে। অথবা যারা শান্ত কায়বাক্যমনোকর্ম সম্পাদনকারী তাদেরকেও শান্ত বলা যায়। তাদের মতো শান্ত ব্যক্তিদেরকে অপছন্দ করাটা হচ্ছে অধঃপতনের দ্বিতীয় কারণ।
তৃতীয় কারণটা হচ্ছে অসৎ ধর্মকে পছন্দ করা। এখানে অসৎ ধর্ম মানে হচ্ছে বাষট্টি প্রকার মিথ্যাদৃষ্টি, অথবা দশটি অকুশল কর্মপথ। দশ অকুশল কর্মপথ হচ্ছে কায়িক তিনটি পাপকর্ম- প্রাণিহত্যা, চুরি, ব্যভিচার; বাচনিক চারটি পাপকর্ম- মিথ্যাবলা, বিভেদমূলক কথা বলা, কর্কশ বাক্য বলা, অনর্থক আলাপ; মানসিক তিনটি পাপকর্ম- অন্যের সম্পত্তিতে লোভ করা, হিংসা করা, মিথ্যাদৃষ্টি। এগুলোকে পছন্দ করলে তা তার ইহ ও পরকালের জন্য অধঃপতনের কারণ হয়।)
৯৫-৯৬. অধঃপতনের দ্বিতীয় কারণ জানলাম। অধঃপতনের তৃতীয় কারণ বলুন। এর জবাবে বুদ্ধ বললেন, ঘুমকাতুরে, আড্ডাপ্রিয়, অকর্মঠ, অলস, ক্রোধপরায়ণ ব্যক্তি হলে সেটাও হয় অধঃপতনের কারণ। (এখানে অধঃপতনের পাঁচটি কারণের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ঘুমকাতুরে মানে হচ্ছে যে যেতে যেতেও ঘুমায়, বসে বসেও ঘুমায়, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েও ঘুমায়, শুয়ে শুয়েও ঘুমায়। এমন ঘুমকাতুরে হলে উন্নতির কোনো আশা করা বৃথা। আড্ডাপ্রিয় মানে হচ্ছে সঙ্গীপ্রিয়, অনর্থক আলাপ প্রিয়। অকর্মঠ মানে হচ্ছে অনুদ্যমী। শুধুমাত্র অন্যেরা বললে তবেই ঘরের বা সংসারের কাজকর্ম করে এমন। অলস মানে হচ্ছে জন্মগতভাবে অলস। নিত্য তাদের মধ্যে এমন অলসতার আবেশ জড়িয়ে থাকে যে দাঁড়ালে কেবল দাঁড়িয়েই থাকে। বসলে কেবল বসেই থাকে। দেহের সামান্য নড়াচড়াতেও তাদের রাজ্যের অলসতা চলে আসে। অতীতে অরণ্যে আগুন লাগলেও নাকি এমন অলসতার কারণে পালিয়ে যায় নি। এমন অলসতা নিজেরই পতন ডেকে আনে। ক্রোধপরায়ণ মানে হচ্ছে অল্পতেই রেগে আগুন হয়ে যায় এমন। এগুলো থাকলে গৃহীর সংসারে উন্নতি হয় না, প্রব্রজিতের প্রব্রজ্যা জীবনে উন্নতি হয় না। বরং অধঃপতনই হয়।)
৯৭-৯৮. অধঃপতনের তৃতীয় কারণ জানলাম। অধঃপতনের চতুর্থ কারণ বলুন। এর জবাবে বুদ্ধ বললেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বুড়ো বাবা-মাকে ভরণপোষণ না করলে সেটাও হয় অধঃপতনের কারণ। (মাতাপিতার ভরণপোষণ করার সুফল হিসেবে ইতিবুত্তক ও অঙ্গুত্তর নিকায়ে বলা হয়েছে, “পণ্ডিত ব্যক্তিগণ মাতাপিতাকে প্রতিপালন করে ইহজন্মেও প্রশংসিত হন, পরজন্মেও স্বর্গে আমোদিত হন।” (ইতিবু.১০৬; অ.নি.৪.৬৩)। কিন্তু সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মাতাপিতাকে ভরণপোষণ না করলে উক্ত সুফলগুলো থেকে বঞ্চিত হতে হয়। লোকজনও নিন্দা করে, ‘এ তো বাপ-মাকেও ভরণপোষণ করে না। অন্যকে কী ভরণপোষণ করবে?’ এভাবে সে ইহজন্মেও নিন্দা পায়, পরজন্মেও দুর্গতিগামী হয়।)
৯৯-১০০. অধঃপতনের চতুর্থ কারণ জানলাম। অধঃপতনের পঞ্চম কারণটি বলুন। এর জবাবে বুদ্ধ বললেন, যে শ্রমণ বা ব্রাহ্মণকে মিথ্যাকথার দ্বারা বঞ্চনা করে, সেটা তার অধঃপতনের কারণ হয়। ( যারা শ্রমণ, ব্রাহ্মণ অথবা যেকোনো দীনদরিদ্র কাঙ্গালকে বলে, ‘কোনো কিছু লাগলে বলবেন।’ কিন্তু চাইতে গেলে দেয় না। অথবা কোনোকিছু চাইলে বলে দেব, দেব, কিন্তু পরে আর তার আশা পূরণ করে না। এভাবে মিথ্যা আশা দিয়ে বঞ্চনা করার ফলে ইহকালেও সে নিন্দিত হয়, পরকালেও দুর্গতিতে জন্মায়। সুগতিতে জন্মালেও আশা পূরণ হয় না। এভাবে সেটা তার অধঃপতনের কারণ হয়।)
১০১-১০২. অধঃপতনের পঞ্চম কারণ জানলাম। অধঃপতনের ষষ্ঠ কারণটি বলুন। এর জবাবে বুদ্ধ বললেন, বিরাট ধনী ব্যক্তি, প্রচুর টাকাপয়সা ও অঢেল খাবারদাবার থাকলেও সে একাই সেগুলো পরিভোগ করে। সেটাও তার অধঃপতনের কারণ হয়। (সুস্বাদু খাবারগুলো নিজের সন্তানদের পর্যন্ত না দিয়ে কোনো গোপন স্থানে গিয়ে একা একা খায়। এখানে মূলত খাবার দাবার নিয়ে কৃপণতাকেই অধঃপতনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে।)
১০৩-১০৪. অধঃপতনের ষষ্ঠ কারণ জানলাম। অধঃপতনের সপ্তম কারণটি বলুন। এর জবাবে বুদ্ধ বললেন, জাত, ধন ও গোত্র বা বংশের অহংকারে নিজের জ্ঞাতিকে পর্যন্ত যে ঘৃণা করে, সেটা তার অধঃপতনের কারণ হয়। (আমি অমুক জাতির, আমি এত ধনী, আমি অমুক বংশের এভাবে অহংকারে ফুলে ফেঁপে উঠে নিজেকে এমনভাবে উপরে তুলে দেয়, আর কারো কাছে নত হয় না। শাক্যরা যেভাবে নিজের জ্ঞাতি বিড়ুঢ়ভকে ঘৃণা করেছিল সেভাবে হীন চোখে দেখে। অথবা ধনের অহংকারে সজ্ঞাতি হলেও দরিদ্র বলে তার প্রতি সামান্য সৌজন্যতামূলক কথা পর্যন্ত বলে না। এভাবে যেকোনো কারণে অহংকার করে নিজেরই অধঃপতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।)
১০৫-১০৬. অধঃপতনের সপ্তম কারণ জানলাম। অধঃপতনের অষ্টম কারণটি বলুন। এর জবাবে বুদ্ধ বললেন, নারীলোভী, মদলোভী ও জুয়াসক্ত ব্যক্তি যা পায় তা-ই ধ্বংস করে। সেটা তার অধঃপতনের কারণ হয়। (এখানে নারীলোভী ব্যক্তি তার যাকিছু আছে সব দিয়ে হলেও একটার পর একটা নারী পটাতে থাকে। মদলোভী ব্যক্তি তার সর্বস্ব দিয়েও মদ খাওয়ার কাজে নিযুক্ত হয়। জুয়াসক্ত ব্যক্তি নিজের পরনের কাপড় দিয়ে পর্যন্ত জুয়া খেলে। যা টাকাপয়সা ধনসম্পদ লাভ হয় তা এই তিনটি ক্ষেত্রে পড়লে এভাবে বিনষ্ট হয়ে যায়। তাই এই তিনটা কারণেও অধঃপতন হয়।)
১০৭-১০৮. অধঃপতনের অষ্টম কারণ জানলাম। অধঃপতনের নবম কারণটি বলুন। এর জবাবে বুদ্ধ বললেন, নিজের স্ত্রীতে সন্তুষ্ট না হয়ে বেশ্যার কাছে গেলে, অথবা পরস্ত্রীর কাছে গেলে সেটা তার অধঃপতনের কারণ হয়। (বেশ্যার কাছে গেলে ধন দিতে হয়। পরস্ত্রীর কাছে গেলে রাজদণ্ড ইত্যাদি হয়। এভাবে তা ইহকালে ও পরকালে অধঃপতন ডেকে আনে।)
১০৯-১১০. অধঃপতনের নবম কারণ জানলাম। অধঃপতনের দশম কারণটি বলুন। এর জবাবে বুদ্ধ বললেন, বিগতযৌবন পুরুষ যদি অল্পবয়স্কা স্ত্রী গ্রহণ করে, তাহলে ঈর্ষায় তার ঘুম হয় না। সেটা তার অধঃপতনের কারণ হয়। (আশি বা নব্বই বছর হয়েও কোনো বৃদ্ধ যদি গাবফলের মতো স্তনযুক্ত উদ্ভিন্নযৌবনা কোনো তরুণীকে বিয়ে করে, তখন তার নাকি এমন মনে হয়, ‘তরুণীরা বুড়োদের সাথে সহবাস পছন্দ করে না। এমতাবস্থায় সে যেন কোনো তরুণ যুবককে না খোঁজে।’ এমন ঈর্ষাপ্রবণ মন নিয়ে তার তরুণী স্ত্রীকে পাহারা দিতে দিতেই বেচারা বুড়োর আর ঘুম হয় না। সে নিজের কামরাগ ও ঈর্ষায় দগ্ধ হয়ে নিজের কাজেকর্মেও মন দিতে পারে না। এভাবে সেটা তার অধঃপতনের কারণ হয়।)
১১১-১১২. অধঃপতনের দশম কারণ জানলাম। অধঃপতনের একাদশ কারণটি বলুন। এর জবাবে বুদ্ধ বললেন, নারী বা পুরুষ যদি কোনো কিছুতে আসক্ত হয়ে ধনসম্পদ উড়াতে থাকে, এমন নারী বা পুরুষকে কোনোকিছুর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দিলে সেটাও অধঃপতনের কারণ হয়। (কোনো কোনো নারী বা পুরুষের কিছু কিছু বিষয়ের প্রতি লোলুপতা থাকে। উদাহরণস্বরূপ, মাছ-মাংস ইত্যাদি খাবার দাবার অথবা অন্যকিছুর প্রতি অদম্য আকর্ষণ থাকে। সেই আকর্ষণে তখন সেটার জন্য ধুলাবালির মতো ধনসম্পদ উড়াতে থাকে। এমন নারী বা পুরুষকে যদি কোনো কর্ম বা ব্যবসার প্রধান করে টাকাপয়সার দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে তার দোষেই ধনক্ষয় হয়ে যায়। এভাবে এমন ব্যক্তিকে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়াটা হচ্ছে অধঃপতনের কারণ।)
১১৩-১১৪. অধঃপতনের একাদশ কারণ জানলাম। অধঃপতনের দ্বাদশ কারণটি বলুন। এর জবাবে বুদ্ধ বললেন, ক্ষত্রিয় কুলে জন্ম নিয়ে অল্পভোগসম্পত্তি অথচ মহাতৃষ্ণার্ত ব্যক্তি যদি রাজ্য কামনা করে, তাহলে সেটা তার অধঃপতনের কারণ হয়। (এখানে অল্প ভোগসম্পত্তি মানে হচ্ছে সঞ্চিত কোনো ধনসম্পদ নেই, অথচ আয়েরও কোনো উৎস নেই। মহাতৃষ্ণার্ত মানে হচ্ছে যা পেয়েছে তাতে সে অসন্তুষ্ট থাকে। সে তখন রাজ্যের লোভে অবৈধ পন্থায় নিজের উত্তরাধিকারসুত্রে প্রাপ্য রাজ্যকে কামনা করে অথবা অন্য রাজ্যকে কামনা করে। এমন করতে গিয়ে তার যে নিজস্ব অল্প ভোগসম্পদ, সেগুলোও তার অনুসারীদের দিতে হয়। অন্যদিকে রাজ্য লাভ না করায় নিজেরও অধঃপতন হয়। এভাবে রাজ্য কামনা করাও হচ্ছে অধঃপতনের একটা কারণ।)
এরপরে দেবতাটি ভাবল, ‘এভাবে ভগবানকে হাজারবার জিজ্ঞেস করলে তিনিও হাজারটি কারণ বলে দেবেন। আরো জিজ্ঞেস করে কী লাভ? নতুন করে প্রশ্ন বাড়ানোর কোনো মানে হয় না।’ এই ভেবে সে সেখানেই চুপ হয়ে গেল।
১১৫. তখন বুদ্ধ সেই দেবতার মনের কথা জেনে দেশনার সমাপ্তি সূচক কথা হিসেবে বললেন, পণ্ডিত আর্য দর্শনসম্পন্ন ব্যক্তি জগতে এই অধঃপতনের কারণগুলো দেখে শিবলোককে ভজনা করেন। (এখানে আর্য বলতে কোনো মার্গফল লাভীকে বুঝাচ্ছে না। এই অধঃপতনের কারণগুলো যিনি আচরণ করেন না এক্ষেত্রে তিনিই হচ্ছেন আর্য। প্রজ্ঞাচোখে এই অধঃপতনের কারণগুলো দেখে সেগুলো বর্জন করেন বলে তিনি হচ্ছেন দর্শনসম্পন্ন। ‘শিবলোককে ভজনা করেন’ কথাটিতে শিব মানে হচ্ছে নিরাপদ। লোক বলতে বুঝাচ্ছে দেবলোককে। এমন পণ্ডিত ব্যক্তি এভাবে আচরণ করে নিরাপদ নিরুপদ্রব দেবলোকে উৎপন্ন হন।)
দেশনা শেষে অধঃপতনের কারণগুলো শুনে যথানিয়মে প্রচেষ্টা চালিয়ে গণনাতীত অসংখ্য দেবতা স্রোতাপত্তি, সকদাগামী, অনাগামী ফল লাভী হয়েছিল।
[[মহাসময় সুত্র, মঙ্গলসুত্র, সমচিত্ত সুত্র (সারিপুত্র স্থবির কর্তৃক ভাষিত), ধর্মচক্র প্রবর্তন সুত্র এবং পরাভব সুত্র দেশনার সময়ে অসংখ্য দেবতা একত্রিত হয়েছিল। তাদের মধ্যে গণনাতীত অসংখ্য দেবতা ধর্মজ্ঞান লাভ করেছিল।]]
———-রেফারেন্স———–
১. পরাভব সুত্র ও তার অর্থকথা (সুত্তনিপাত.৯১-১১৫)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *