আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

শ্রদ্ধা ও প্রজ্ঞার সমতা

বৌদ্ধধর্মে প্রজ্ঞা ও শ্রদ্ধা দুটোই সমানভাবে লাগে। বিশুদ্ধিমার্গের ৬২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, শ্রদ্ধা বেশি কিন্তু প্রজ্ঞা কম হলে সে তখন অযোগ্য লোকদের উপর শ্রদ্ধা স্থাপন করে থাকে, ভুল বিষয় বিশ্বাস করে। এর উদাহরণস্বরূপ বিশুদ্ধিমার্গ মহাটীকায় তির্থিয় সন্ন্যাসীদের কথা বলা হয়েছে যারা অযোগ্য বিষয়গুলোকে শ্রদ্ধা করে থাকে। আমি বলব, বর্তমানে বৌদ্ধদের মধ্যেও এরকম দেখা যায়, যারা বুদ্ধশাসনের বাইরের বিষয়গুলোকে চিনতে না পেরে অপাত্রে শ্রদ্ধা স্থাপন করে থাকে।

ন্যদিকে প্রজ্ঞা বেশি হয়ে শ্রদ্ধা কম হলে সে তখন মহাতার্কিক হয়ে যায়। সে তখন ভণ্ডের দলকে সমর্থন করে থাকে। তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়। উদাহরণস্বরূপ শ্রদ্ধাহীন প্রজ্ঞা দ্বারা বেশি বুঝতে গিয়ে সে বলে, “বুদ্ধ বলেছেন, চেতনাই হচ্ছে কর্ম। দানের চেতনা উৎপন্ন হলেও পুণ্যকর্ম হয়। তাহলে শুধু শুধু দানীয়সামগ্রী দান করব কেন? সেগুলো দান না করেও তো দানের চেতনা উৎপন্ন করা যায়, পুণ্যকর্ম করা যায়।” এমন বুঝদার ব্যক্তি তখন সুক্ষ্ম তর্কের মারপ্যাঁচে আনন্দ পায় বেশি। তারা পণ্ডিতদের কথায় কান দেয় না। তর্কে ক্ষান্ত হয় না। তাদেরকে বুঝানো তখন মহামুশকিল হয়ে যায়।

উভয়ের ভারসাম্য হলে তখন যোগ্য বিষয়ে শ্রদ্ধা স্থাপিত হয়। তাই আমি কামনা করি- আমাদের মধ্যে প্রজ্ঞা আসুক, শ্রদ্ধাও আসুক। দুটোরই ভারসাম্য থাকুক। এভাবে প্রজ্ঞা ও শ্রদ্ধার সমতার মাধ্যমে যোগ্য বিষয়ে শ্রদ্ধা উৎপন্ন হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *