আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

সুসিম সুত্র: অর্হৎ হলেই যে সবকিছু পারবে এমন নয়

মায়ানমারে বিদর্শন ভাবনা খুব জনপ্রিয়। সেই বিদর্শনেরও আবার নানা পদ্ধতি বের হয়েছে। মহাসি পদ্ধতি, মোগোক পদ্ধতি, সুনলুন পদ্ধতি, গোয়েঙ্কা পদ্ধতি, ইত্যাদি আরো কত কী আছে। এসব পদ্ধতিতে কেবল বিদর্শন ভাবনার উপরে জোর দেয়া হয়। আমার কেন জানি এসব বিদর্শন ভাবনাকেন্দ্রে যাওয়ার উৎসাহ জাগে না। কিন্তু একদিন আমাদের ডিপ্লোমা ক্লাসে এক সেয়ামা বা মহিলা শিক্ষক আমাদেরকে […]

অর্হতের দেহও পচে যায় – পুনরালোচনা

কিছুদিন আগে সর্বশেষ পচ্চেক বুদ্ধের ব্যাপারে লিখেছিলাম। সর্বশেষ পচ্চেকবুদ্ধ ছিলেন মাতঙ্গ পচ্চেকবুদ্ধ। সিদ্ধার্থের জন্মের পরে এই পচ্চেকবুদ্ধ যখন পরিনির্বাণের জন্য হিমালয়ের এক পর্বতে চলে গেলেন তিনি সেখানে দেখলেন আগে পরিনির্বাপিত হওয়া এক পচ্চেক বুদ্ধের হাড়গোড় পড়ে আছে। তিনি সেগুলো খাদে ফেলে দিলেন। এরপর পাথরের উপর বসে নিজেও পরিনির্বাপিত হলেন। (সুত্তনি.অ.৭৪) এখানে বিষয়টা একটু ভেবে দেখুন। […]

অর্হতেরা কি রাগ করেন?

অর্হতের কথাগুলোও যে শুনতে গালাগালির মতো লাগতে পারে, কর্কশ লাগতে পারে, সেটা আমি কিছুদিন আগে লিখেছিলাম (তার লিংকটা পোস্টের শেষে দেয়া আছে)। সেটা ছিল অর্হতের ভাষা নিয়ে। তাদের অন্যান্য কর্মকাণ্ড দেখেও কিন্তু অনেকেই তাদের রাগ বা ক্রোধ আছে বলে মনে করে, সেব্যাপারে আজ লিখব। বেশি দূরে খুঁজতে হবে না। আমরা দীর্ঘ নিকায়ের অম্বট্ঠ সুত্রটা দেখতে […]

অর্হৎরা কি সবকিছু জানতে পারে?

আমাদের অনেকেরই ধারণা যে, অর্হৎগণ সবকিছু জানেন। সুত্রপিটকের সংযুক্ত নিকায়ে এব্যাপারে বলা হয়েছে, “ভিক্ষুগণ, সবকিছু বিশেষভাবে জেনে, পরিপূর্ণভাবে জেনে তবেই দুঃখক্ষয় সম্ভব (স.নি.৪.২৬)”। এই কথার ভিত্তিতে অনেকেই মনে করতে পারে, অর্হৎগণ সবকিছু পরিপূর্ণভাবে জেনে তবেই অর্হৎ হন। কিন্তু সবকিছু পরিপূর্ণভাবে জানাটা কী জিনিস? সেটা বুঝাতে গিয়ে সেই সুত্রে বুদ্ধ বলেছেন, “হে ভিক্ষুগণ, চোখ, রূপ, চোখবিজ্ঞান, […]

ভিক্ষুরা কি নিজেদের অর্হত্ব প্রকাশ করতে পারে?

আগের একটা পোস্টে লিখেছিলাম, দায়কেরা কোনো ভিক্ষুকে অর্হৎ বললে তাতে ভিক্ষুর কোনো অপরাধ হয় কিনা । সে তো গেল দায়করা বললে। কিন্তু কোনো ভিক্ষু যদি নিজেই নিজেকে অর্হৎ বলে দাবি করে তার কী হবে? বিনয়পিটকের ৩ নং পারাজিকামতে, অর্হত্ব বা মার্গফল, বা ধ্যান বা ঋদ্ধির মিথ্যা দাবি করলে সেই ভিক্ষুর পারাজিকা হয়। আবার ৮নং পাচিত্তিয়মতে, […]

অর্হতেরা কি আগেভাগে নিজেদের পরিনির্বাণের ব্যাপারে বলতে পারেন?

এবার একজনের আরেকটা প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করব। সেটা হচ্ছে এরকম: ২।যদি কোন অর্হৎ নির্বাপিত হতে চান তবে তাকে আগেভাগে জানাতে হয় যে,আমি অমুক দিনে নির্বাপিত হবো। তাহলে সুনলুন ছ্যায়াদ পরিনির্বাণ নেওয়ার আগে অনুসারিদের বলেছিলেন কিনা? আমি বলব তার প্রশ্নটা পুরোপুরি ভুল। আমি “অমুক দিনে নির্বাপিত হবো” এভাবে আগেভাগে অবশ্যই জানাতে হয় এমন কোনো নিয়ম ত্রিপিটকে […]

অর্হতেরা কি অজ্ঞানে মৃত্যুবরণ করে?

আমি আগের পোস্টে সুনলুন সেয়াদের মৃতদেহে ফরমালিন দেয়ার ব্যাপারে লিখেছিলাম। তখন একজনের প্রশ্ন ছিল এরকম: ১।ত্রিপিটকে উল্লেখ আছে,যদি কোন ব্যক্তি,ভিক্ষু অথবা শ্রমণ অর্হৎ হন,তিনি নাকি সৎ জ্ঞানে নির্বাপিত হন। যদি তাই হয়,আপনার উচিৎ ছিলো জানার যে, উনি কি সৎজ্ঞানে নির্বাপিত হয়েছেন? এই প্রশ্নটা কিন্তু বনভান্তের ক্ষেত্রেও অনেকের কাছ থেকে শুনেছি। বনভান্তেও নাকি স্কয়ার হাসপাতালে অজ্ঞানে […]

অর্হতের দেহ ফরমালিন দিয়ে রাখলে সমস্যা কোথায়?

বৌদ্ধদের প্রায় সবারই ধারণা, অর্হৎ হলে তার মৃতদেহ পঁচে না। মায়ানমারে এসেও সেটা অনেক ভান্তের কাছ থেকে শুনেছি। তখন প্রশ্ন ওঠে, আমাদের দেশে পূজ্য বনভান্তেকে অর্হৎ বলা হয়। তাহলে তার দেহকে কেন ওষুধ দিয়ে রাখা হলো? কেন ছয় মাস পরপর ওষুধ মেখে দিতে হয়? অতি উৎসাহী কেউ কেউ তো বনভান্তেকে বহু আগে থেকেই ফরমালিন অর্হৎ, […]

দায়কেরা অর্হৎ বললে কি ভিক্ষুদের অপরাধ হয়?

পারাজিকা গ্রন্থের ২২৬ নং অনুচ্ছেদে এক ঘটনার কথা বলা হয়েছে এভাবে: বুদ্ধের সময়ে এক ব্রাহ্মণ ভিক্ষুদেরকে খুব শ্রদ্ধা করত। একবার সে ভিক্ষুদেরকে ফাং করে বলল, “অর্হৎগণ, আসুন, আসুন”। শুধু তাই নয়, সে আরো বলতে লাগল, “অর্হৎদের আসনগুলো রেডি করে দাও। পা ধোয়ার পানি দাও। অর্হৎগণ পা ধোবেন।” তা শুনে ভিক্ষুদের সন্দেহ উৎপন্ন হলো, “আমরা তো […]

হাজার বছর ধরে বেঁচে থাকা কোনো অর্হৎকে দেখি না কেন আমরা?

মহাপরিনির্বাণ সুত্রে বুদ্ধ আনন্দকে বলেছিলেন, হে আনন্দ, অলৌকিক শক্তির চারটি ভিত্তি যার সুগঠিত হয়েছে, বহুলভাবে চর্চিত হয়েছে, সুন্দরভাবে আয়ত্ব হয়েছে, তিনি ইচ্ছে করলে কল্পকাল বেঁচে থাকতে পারেন, অথবা কল্পের অবশিষ্টকাল বেঁচে থাকতে পারেন। এই কথার ভিত্তিতে অনেকেই বলে থাকে, ঋদ্ধিমান অর্হতেরা হাজার বছর ধরে বেঁচে আছেন এখনো। সত্যিই কি তাই? আসুন গবেষণায় নামি। মহাপরিনির্বাণ সুত্রের […]