আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

গাছের কি প্রাণ আছে?

জগদীশচন্দ্র বসু তো সেই ১৯০১ সালে প্রমাণ করে দিয়েছেন গাছের প্রাণ আছে। তাই শুধু বিজ্ঞানীরা নয়, আধুনিককালের লোকজনও এক কথায় বলে দেয়, গাছের প্রাণ আছে। বুদ্ধের আমলেও লোকজন এমন বিশ্বাস করত। কিন্তু বৌদ্ধধর্ম এব্যাপারে কী বলে? বুদ্ধের আমলে অনেক ভিক্ষু গাছ কেটে কুটির বানাচ্ছিল। এতে লোকজন নিন্দা করতে লাগল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বুদ্ধ তখন ভিক্ষুদেরকে […]

গান নিয়ে কিছু কথা

ফেসবুকে লেখালেখির সুযোগ হচ্ছে না। চাকমা ডিকশনারির ওয়েবসাইটের কাজ নিয়েই কেটে যাচ্ছে দিন। কিন্তু মাইকে ইদানিং গান শুনতে পাচ্ছি। আশেপাশে প্রচুর বিহার। সেগুলোতে মনে হয় কঠিন চীবর দান হচ্ছে। তাই গান চলছে। টুংটাং টুংটাং করে বাজায় আর গান গায়। আমি সেগুলো বুঝি না। শুধু অবাক হয়ে ভাবি এসবের মানে কী? তবে আধুনিক বার্মিজ গানগুলো খুবই […]

পরিবেশ পরিষ্কার রাখাটা হচ্ছে ভিক্ষুদের অবশ্য করণীয়

বিনয়পিটকের পরিবার গ্রন্থে ঝাড়ু দেয়ার পাঁচটি উপকারিতার কথা বলা হয়েছে – পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে নিজের মন প্রসন্ন হয়, অপরজনের মনও প্রসন্ন হয়, দেবতারা খুশি হয়, সুন্দর চেহারা হওয়ার মতো পুণ্যকর্ম সঞ্চিত হয়, এবং মরণের পরে সুগতি লাভ হয়, অর্থাৎ মানুষ বা দেবতা হিসেবে জন্ম লাভ করে। এর গুরুত্ব সম্পর্কে বুঝাতে গিয়ে অর্থকথায় সারিপুত্র ভান্তের একটা […]

১৬ প্রকার উপদ্রব

এবারে ১৬ প্রকার উপদ্রবের ব্যাপারে আলোচনা করা যাক। ত্রিপিটকে খোঁজ নিয়ে দেখলাম দুধরনের উপদ্রবের কথা বলা হয়েছে। প্রথম প্রকার উপদ্রবের কথা এসেছে বিনয়পিটকের পারাজিকা গ্রন্থে। সেখানে কুটির বা বিহার প্রতিষ্ঠা করার আগে জায়গাটা উপদ্রবহীন কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। সঙ্ঘ গিয়ে সেটাকে পর্যবেক্ষণ করে উপদ্রবহীন বলে রায় দিলে তবেই সেখানে কুটির বা বিহার প্রতিষ্ঠা […]

একজন ভিক্ষুর ন্যুনতম কী কী শিক্ষা করা উচিত?

ভিক্ষুর সাধারণত যেকোনো একজন গুরুর আশ্রয়ে পাঁচ বছর ধরে থাকতে হয়। পাঁচ বছর পরে যদি দক্ষ হয়, তাহলে সে গুরুর আশ্রয় ছাড়া স্বাধীনভাবে যেখানে খুশি থাকতে পারে। কিন্তু পাঁচ বছরেও দক্ষ না হলে যতকাল যাবত দক্ষ না হয় ততকাল গুরুর আশ্রয়ে থাকতে হয়। সারাজীবন দক্ষ না হলে সারাজীবন গুরুর আশ্রয়ে থাকতে হয়। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে- […]

চতুভাণৰার (মূল পরিত্রাণ সুত্র সংগ্রহ)

পরিত্রাণ সুত্র শ্রবণ অনুষ্ঠান বৌদ্ধদের মধ্যে প্রচলিত একটি বিষয়। অতি প্রাচীনকাল থেকে বৌদ্ধভিক্ষুরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিত্রাণ সুত্র আবৃত্তি করে আসছে। উদাহরণস্বরূপ বুদ্ধ বৈশালীতে রতনসুত্র দেশনা করে সমস্ত অন্তরায় উপদ্রব দূর করে দিয়েছিলেন। আয়ুবর্ধন কুমারের মৃত্যুদশা দূর করার জন্য সাতদিন ধরে পরিত্রাণ সুত্র শ্রবণের উপদেশ দিয়েছিলেন। এভাবে বুদ্ধের জীবদ্দশাতেই আমরা অনেকবার পরিত্রাণ সুত্রের প্রচলন দেখতে পাই। […]

উপসম্পদার বিবিধ বিষয়

প্রব্রজ্যা ও শ্রামণদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে উপসম্পদার কিছু বিষয়ও সেই সাথে জানলাম। উপসম্পদা নিতে গেলে পরিপূর্ণ বিশ বছর হতে হয়। সেটার হিসাব করতে গিয়ে অধিমাসের বিষয়টা চলে আসে। অধিমাস যে বর্ষা ঋতুর সাথেই যোগ করতে হয় সেটাও এখান থেকেই জানলাম। অর্থাৎ অধিমাস হলে অতিরিক্ত দুটি উপোসথ বর্ষা ঋতুতেই যোগ করতে হয়, গ্রীষ্ম […]

শ্রামণদের দশশিক্ষাপদ, দণ্ডকর্ম এবং দশ নাশের কারণ

আগের কয়েকটা পোস্টে প্রব্রজ্যা কাদের দেয়া যায় না, কাদের দেয়া উচিত নয় কিন্তু দিলেও সমস্যা নেই, এবং কীভাবে প্রব্রজ্যা দিতে হয় সেব্যাপারে লিখেছিলাম। এবার এখানে প্রব্রজ্যা দেয়ার পরে শ্রামণদের দশশীল, তাদেরকে কখন কীভাবে দণ্ডকর্ম দিতে হয়, কখন তাদেরকে চীবর ফেলে দিতে হয় সেব্যাপারে লিখব। শ্রামণের দশশীল শ্রামণদের উচ্চতর শীল, উচ্চতর সমাধি ও উচ্চতর প্রজ্ঞা শিক্ষার […]

শ্রামণের প্রব্রজ্যাবিধি

আগের দুটো পোস্টে লিখেছিলাম কাদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া অনুচিত কিন্তু দিলেও সমস্যা নেই এবং কাদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া একদম নিষিদ্ধ। এবার এখানে শ্রামণের প্রব্রজ্যা কীভাবে দিতে হয় সেব্যাপারে মহাবর্গ, তার অর্থকথা ও টীকা মিলিয়ে এই লেখা লিখলাম। এটা প্রব্রজ্যার ক্ষেত্রে রেফারেন্স হিসেবে রেখে দিতে পারেন। মহাবর্গ অর্থকথায় (মহা.অ.৩৪) বলা হয়েছে, প্রব্রজ্যার জন্য নির্দোষ এমন ব্যক্তিকে মাতাপিতার অনুমতি […]

প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদার জন্য নিষিদ্ধ ব্যক্তিরা

আগের পোস্টে লিখেছিলাম কাদেরকে প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা দেয়া উচিত নয়। তবে প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা দিলে তারা অবশ্য ভিক্ষু বলে গণ্য হয়। কিন্তু নিম্নোক্ত ১১ ধরনের ব্যক্তি আছে যাদের জন্য প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা একদম নিষিদ্ধ। তাদেরকে উপসম্পদা দিলেও তারা ভিক্ষু বলে গণ্য হয় না। এদেরকে জানলে সাথে সাথে তাদের চীবর ফেলে দিতে হয়। —১. বিকৃত যৌনরুচির […]