আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

একটি পুতুলের মৃত্যু

একবার অনাথপিণ্ডিকের নাতনীকে একটা পুতুল দিয়ে বলা হলো, এ হচ্ছে তোমার মেয়ে। একে নিয়ে খেলা কর গিয়ে। সে তখন সেই পুতুলটাকে সত্যিই তার মেয়ে বলে ধরে নিল। একদিন খেলার সময়ে পড়ে গিয়ে সেই পুতুল ভেঙে গেল। তখন মেয়েটি “আমার মেয়ে মারা গেছে” বলে কাঁদতে লাগল। ঘরের কেউই তাকে বুঝ দিতে পারল না।

তাকে নিয়ে যাওয়া হলো অনাথপিণ্ডিকের কাছে। অনাথপিণ্ডিক সেই সময় তার বাড়িতেই বুদ্ধের সামনে বসে ছিলেন। তাকে ব্যাপারটা জানানো হলো। তিনি তখন নাতনীকে কোলে বসিয়ে বললেন, তোমার মেয়ের উদ্দেশ্যেও দান করব, কেমন? এই বলে তিনি বুদ্ধকে বললেন, ভান্তে, আমার নাতনীর পুতুলকন্যার উদ্দেশ্যে দান দিতে চাচ্ছি। আগামীকাল পাঁচশ ভিক্ষু সহ আমার বাড়িতে নিমন্ত্রণ গ্রহণ করুন।

বুদ্ধ দ্বিতীয়দিনে পাঁচশ ভিক্ষু সহকারে অনাথপিণ্ডিকের বাড়িতে গিয়ে ভিক্ষান্ন গ্রহণ করলেন। খাওয়া শেষে অনুমোদন হিসেবে বললেন,

যেকোনোকিছু উপলক্ষ করে যদি দান দেয়া হয়,
মৃতজ্ঞাতি অথবা গৃহদেবতার উদ্দেশ্যে।
তখন চারি যশস্বী জগত শাসনকারী মহারাজ,
যারা হলেন কুবের, ধৃতরাষ্ট্র, বিরূপাক্ষ ও বিরুঢ়ক,
তারাও পূজিত হন, দায়কেরাও নিষ্ফল হন না।

কান্না, শোক বা বিলাপ করলে
তা মৃতজ্ঞাতিদের উপকারে আসে না।
অথচ তবুও জ্ঞাতিজন সেরকম করে থাকে।
এই উপলক্ষে যে দান দেয়া হলো সঙ্ঘকে,
তা শ্রেষ্ঠ পুণ্যক্ষেত্রে সুন্দরভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো।
তা মৃতজ্ঞাতিদের দীর্ঘকাল সুখের হেতু হয়।
যাদের উদ্দেশ্যে দান দেয়া হয়,
অনুমোদনের সাথে সাথেই তারা তার ফল লাভ করে।

এভাবে ধর্মদেশনার মাধ্যমে বুদ্ধ তখন লোকজনকে মৃতজ্ঞাতিদের উদ্দেশ্যে দানে উৎসাহিত করে চলে গেলেন। তা শুনে অনাথপিণ্ডিক শ্রেষ্ঠির আত্মীয়রাও একমাস ধরে ভিক্ষুসঙ্ঘকে দান দিল। তা শুনে রাজাও দান দিলেন, জনগণও দান দিল একমাস ধরে। এভাবে দুমাস ধরে মহাদান চলেছিল কেবল সেই পুতুলের মৃত্যুর মাধ্যমে।

তাই আপনারাও যেকোনো উপলক্ষ পেলেই দান করুন। আজ কারোর অসুখ হয়েছে, সেই উপলক্ষে দান করতে পারেন। আজ অফিস বন্ধ, সেই উপলক্ষে দান করতে পারেন। আজ কারোর জন্মদিন, সেই উপলক্ষে দান করুন।

নিন্দুকেরা অবশ্যই বলবে, এটা হচ্ছে ভান্তেদেরকে আরো বিলাসী করে তোলার ফন্দি। আচ্ছা, তারা যদি ভান্তেদেরকে দিতে না চায়, তাহলে করোনা ভাইরাসে দুর্গতদেরকে দান করতে পারে। পথের ভিখারিদেরকে দুয়েক পয়সা দান করতে পারে। সোজা কথা, দান করুন যাকে পছন্দ হয় তাকে। দানময় জীবন গড়ে তুলুন। অপরের কল্যাণ হবে, নিজেরও মঙ্গল হবে।
রেফারেন্স:

পেতৰত্থু-অট্ঠকথা=>১. উরগৰগ্গো => ৪. পিট্ঠধীতলিকপেতৰত্থুৰণ্ণনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *