আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

দেবতারা সত্যিই পূজা গ্রহণ করে!

অনেকেই দেবতা আছে বলে বিশ্বাস করে না। তারা মনে করে গাছের গোড়ায় যে পূজা দেয়া হয় সেগুলো অর্থহীন। বুদ্ধ কিন্তু দেবতাকে পূজা করতে নিষেধ করেন নি। দীর্ঘ নিকায়ের মহাপরিনির্বাণ সুত্রে গৃহীদের জন্য যে সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মের কথা বলা হয়েছে সেখানেও কিন্তু বুদ্ধ প্রচলিত পূজার স্থানগুলো বন্ধ না করতে উপদেশ দিয়েছেন।

কিন্তু দেবতাদেরকে পূজা দিয়ে কী লাভ? তারা কি আমাদের দেয়া ভাত খায়? তরকারিগুলো খায়? পিঠাগুলো খায়? মাছমাংস খায়? হ্যাঁ খায়। তারা পূজা ও বলির নৈবদ্য সত্যিই পরিভোগ করে থাকে। এরকম একটা ঘটনার কথা আছে কুণ্ডকপুৰ জাতকে (জাতক নং. ১০৯)। সেটা হচ্ছে এরকম-

অতীতে এক গ্রামের মানুষেরা খুব দেবতাদের পূজা করত। এক উৎসবের দিনে তারা নিজ নিজ বৃক্ষদেবতাদেরকে পূজা করল। তাদের দেখে এক দরিদ্র ব্যক্তি একটি এরণ্ড গাছ বা রেড়ির গাছকে পূজা করল।(রেড়ির গাছ না চিনলে ছবিতে দেখুন)।

সে দরিদ্র হওয়ায় অন্যদের মতো এত জাঁকজমক সহকারে পূজা করতে পারল না। তাই সে যোগাড় করল কেবল ভাঙা খুদকুঁড়ো থেকে বানানো পিঠা এবং আধভাঙা নারিকেলের খোলে সামান্য পানি।

সেই পিঠা ও পানি হাতে নিয়ে এরণ্ড গাছের অদূরে দাঁড়িয়ে সে একদম যুক্তিবাদীদের মতো করে ভাবল, দেবতারা তো দিব্য খাদ্য খায়। আমার দেবতা এই খুদকুঁড়োর পিঠা খাবে না। তাহলে তাকে এই পিঠা দিয়ে আর কী হবে? নষ্ট করার চেয়ে বরং আমিই এই পিঠা খেয়ে নেব।

এই ভেবে সে আর পূজা দিল না। সেখান থেকেই ফিরে যেতে শুরু করল। দেবতা তখন এরণ্ড গাছের উপরে দেখা দিয়ে বলল, ওহে সৎপুরুষ, যখন তুমি বড়লোক হবে তখন নাহয় মধুর খাদ্য দিও। এখন তো তুমি দরিদ্র। এই অবস্থায় তোমার পিঠা না খেয়ে অন্য কী খাব? আমাকে আমার ভাগ দিয়ে যাও, বাপু।

দেবতাকে দেখে সে ফিরে এসে পূজা দিল। দেবতা সেখান থেকে ওজ বা পুষ্টি খেয়ে নিয়ে বলল, ওহে সৎপুরুষ, তুমি কী কারণে আমাকে পূজা করলে? – প্রভু, আমি দরিদ্র। আপনার মাধ্যমে যেন আমি এই দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হতে পারি তাই আপনাকে পূজা করেছি।

দেবতা তাকে আশ্বস্ত করল, তাহলে আর চিন্তা করো না। তুমি এমন একজন দেবতাকে পূজা করেছ যে আন্তরিকভাবেই উপকারীর উপকার স্বীকার করে। এই এরণ্ড গাছের চারদিকে গুপ্তধনের কলসি পোঁতা আছে গায়ে গা ঠেকিয়ে। তুমি রাজাকে বলে গরুর গাড়ি এনে সেই ধন তুলে নিয়ে রাজার আঙ্গিনায় জড়ো কর। রাজা তা দেখে তোমাকে তখন শ্রেষ্ঠী হিসেবে অধিষ্ঠিত করবে। এভাবে দেবতাকে পূজা করে সেই দরিদ্র ব্যক্তি বিশাল ধনী হয়ে উঠেছিল।

কাজেই দেবতারাও যে পূজার খাদ্য খায়, সেটা অবিশ্বাস করার উপায় নেই। পূজা পেলে দেবতারাও খুশি হয়। সেটা শুধু এই জাতকে নয়, অন্যান্য অনেক ঘটনায়ও তার উল্লেখ পাওয়া যায়।

রেফারেন্স:
জাতক-অট্ঠকথা-১=>১. এককনিপাতো => [১০৯] ৯. কুণ্ডকপূৰজাতকৰণ্ণনা

1 thought on “দেবতারা সত্যিই পূজা গ্রহণ করে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *