আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

মহাগন্ধায়োন সেয়াদের গাথা

অনেক দিন পরে শ্রদ্ধেয় জ্ঞানরত্ন ভান্তের সাথে কথা হলো। তিনি নিউইয়র্কে থাকেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আইসিউতে ভর্তি হতে হয়েছিলেন। আইসিইউতে ভর্তি হলে ৯০ ভাগের বেশি করোনা রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে বলে আমি শুনেছি। ভাগ্য ভালো, তিনি মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছেন। তিনি সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা আমাকে শোনালেন। তার সংবেগ জাগানিয়া উপলদ্ধির কথা জানালেন। মরলে কী হয় তার কোনো ঠিক নেই। তাই ধ্যানসাধনার দিকে আরো বেশি করে ঝুঁকে পড়ার কথা জানালেন। আমি সাধুবাদ জানালাম।

আমারও এমন হয়েছিল। মরতে হবে, অথচ পুণ্যের ঝুলি শূন্য। হঠাৎ মরতে হলে কোথায় যাব? ভবিষ্যতের এমন উপলদ্ধি থেকেই আমি সব ছেড়ে ভিক্ষু হয়েছিলাম। এরপরে মায়ানমারে পাড়ি জমালাম। এখানকার পাঅক ভাবনাকেন্দ্রে থাকলাম বছরখানেক। এরপর ধর্মবিনয় আরো ভালোমতো শেখার জন্য গেলাম মান্দালয়ে। মহাগন্ধায়োন বিহারে। এটি মায়ানমারের বিখ্যাত একটি পরিয়ত্তি শিক্ষাকেন্দ্র। সেখানে প্রতিদিন সকালে বন্দনা চলত। তখন আমাদের একটা কবিতা আবৃত্তি করতে হতো। সেটা রচনা করেছিলেন মহাগন্ধায়োন সেয়াদ অশিন জনকাভিবংশ। সেটা হচ্ছে এরকম:

আমাদের এই জায়গা, এই পৃথিবী, তৃষ্ণা দ্বারা শাসিত।
তৃষ্ণায় ডুবে গিয়ে তাতে আমরা কত কী খুঁজে বেড়াই।
অথচ সেসব ধনজন ফেলে, চলে যেতে হবে একদিন।
ভয়ানক সেই বিপদ থেকে উদ্ধারের তো কেউ নেই।
সমবয়সী ও ছোট-বড়, মরণের শিকার হয়েছে কতজন ।
একদণ্ড না থেমে, জরা-মরণ ঘনিয়ে আসছে প্রতিক্ষণ।
জরার আগুনে পুড়ছে দেহ, মরণ তো পোড়াবেই একদিন।
মরণের আগে তাই যাত্রাপথ, আগেভাগে পরিষ্কার করে নিন।
তাই আমরা দান, শীল, ভাবনার পথে চলব।
মার্গযানে চড়ে আমরা দ্রুত পথ পাড়ি দেব।

এটা হচ্ছে মরণানুস্মৃতি ভাবনা। এই ভাবনা আমাদেরকে স্মৃতিমান করে রাখে। পাপকাজে লিপ্ত হতে দেয় না। পুণ্যকাজ করতে উৎসাহিত করে। হুঁশ এনে দেয়। তা নাহলে আমরা দিন দিন বেহুঁশ হয়ে যাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *