আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

মিষ্টিকুমড়ার গল্প

আজ সকালে খাওয়ার মেনুতে ছিল মিষ্টিকুমড়া। খাওয়া শেষে মিষ্টিকুমড়া নিয়ে কথা উঠল। সারিপুত্র ভান্তে একটা গল্প বললেন। দুয়েক বছর আগের কথা। তিনি ও বিজয়ধম্মা ভান্তে নাকি একবার সিয়ং খাচ্ছিলেন। বিজয়ধম্মা ভান্তে মিষ্টিকুমড়া পছন্দ করেন খুব। তা দেখে সারিপুত্র ভান্তে বললেন, বন্ধু, তুমি এত মিষ্টিকুমড়া খাও কেন? মিষ্টিকুমড়া তো বোকারা খায়। বিজয়ধম্মা ভান্তে তাতে বিন্দুমাত্র অপ্রতিভ না হয়ে জবাব দিলেন, বন্ধু, তুমি আমাকে বোকা মনে কর না নাকি??

এরপরে সেয়াদও একটা গল্প শোনালেন। বার্মার রাজা নাকি একবার ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, যার পায়খানা সবচেয়ে সুন্দর হবে তাকে পরিষ্কার দেয়া হবে। তা শুনে উৎসাহী লোকজন বেশি বেশি গরুর মাংস, শুয়োরের মাংস, ছাগলের মাংস খেতে শুরু করল। তাদের পায়খানার রং হয়ে গেল কালো কালো। কিন্তু একজন খেল কেবল মিষ্টিকুমড়া। তার পায়খানার রং হলো সুন্দর সোনালি রঙের। তাই প্রথম পুরস্কারটা তাকেই দেয়া হলো।

রাজা এবার ঘোষণা করে দিলেন, নিজ নিজ পায়খানার স্বাদ কেমন তা বলতে হবে। পুরস্কারের লোভে কয়েকদিনের মধ্যেই বহুজন চেখে দেখল তাদের পায়খানা। রাজা তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, কেমন হয়েছে পায়খানার স্বাদ? উত্তরে কেউ বলল, তেতো। কেউ বলল, মিষ্টি। কেউ বলল, টক। রাজা জিজ্ঞেস করলেন, কীভাবে বলছ যে পায়খানার স্বাদ তেতো? তারা বলল, মহারাজ, আমরা মিথ্যা বলছি না। আমরা নিজের হাতে খেয়ে দেখেছি! রাজার শুনে বমি করার মতো অবস্থা হলো।

সবশেষে একজন বলে উঠল, পায়খানার স্বাদ সবসময় একরকম থাকে না। সেটা প্রথমে মিষ্টি হয়, কিছু সময় পরে টক হয়, কিছু সময় পরে তেতো হয়ে যায়। রাজা শুনে একটু অবাক হলেন। কীভাবে বলছ যে পায়খানার স্বাদ সেরকম হয়? তুমিও খেয়ে দেখেছ নাকি?

লোকটা তখন বলল, না মহারাজ। আমি খেয়ে দেখি নি। তবে আমি পায়খানা করে দেখেছি সেখানে প্রথমে আসে মিষ্টি স্বাদ গ্রহণকারী পিঁপড়ার দল। এর কিছু সময় পরে সেখানে আসে টক খায় এমন পোকারা। এর পরে আসে পচা খায় এমন নীল মাছির দল। তা দেখেই আমি সেরকম বলেছি।

লোকটার কথা শুনে রাজা চমৎকৃত হলেন। বিশ্রী একটা সমস্যাকে সে বুদ্ধি খাটিয়ে কত সুন্দরভাবে সমাধান করে ফেলেছে। এর চেয়ে ভালো উত্তর আর কী হতে পারে? তাই তাকে সেরা পুরস্কারটা দেয়া হলো।

সেয়াদের গল্পটা আমার খুব পছন্দ হলো। আমি ভেবে দেখলাম, যেকোনো সমস্যার সমাধান আছে। বোকারা সাধারণত সেটাই করে যেটা করাটা সবচেয়ে সহজ, যেমনটা করেছিল প্রথম দলের লোকজন। আর বুদ্ধিমানেরা করে আরেক ভাবে, যেটাতে একটু বুদ্ধি খরচ করতে হয়, ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে হয়, সঠিক সময়ের অপেক্ষা করতে হয়, যেমনটা করেছিল শেষে আসা লোকটি। সেই কাজটা তখন হয় বিজ্ঞজনের প্রশংসিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *