আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

পিণ্ডচারণের গল্প

আজ দুপুরে খেতে বসে দেখলাম অনেক পদের তরকারি। সেয়াদকে বললাম, ভান্তে, আজ পিণ্ডচারণে তরকারি অনেক পাওয়া গেছে। লোকজন দৌড়ে দৌড়ে এসে দান করেছে।

সেয়াদ একটু রসিকতা করলেন, ও, তাই নাকি? তাহলে দায়কদায়িকারা তোমাকে বেশি পছন্দ করেছে মনে হয়।

আমি একটু অপ্রস্তুত হলাম। সেয়াদ হচ্ছেন আমুদে স্বভাবের। সুযোগ পেলে রসিকতা করতে ছাড়েন না। আমি বললাম, সেটা হলে তো অন্যদিনও বেশি বেশি দিত!

সেয়াদ এবার হেসে একটা গল্প বললেন। সেটা নাকি বার্মার সেয়াদগণ তাদের ধর্মদেশনায় প্রায়ই বলে থাকেন। গল্পটা হচ্ছে এরকম।

এক ভিক্ষু প্রতিদিন পিণ্ডচারণে যেত। এক লোক তাকে প্রতিদিন সিয়ং দান করত। কিন্তু তার স্ত্রী অত ধার্মিক নয়। সে মোটেও দান করতে চাইত না। বরং সুযোগ পেলে দুয়েকটা ঝাঁঝালো কথা শুনিয়ে দিত ভিক্ষুটাকে। বুঝিয়ে দিত যে, সংসারে এখন সমস্যা চলছে। এমন ঘোর সমস্যার মাঝখানে দান-টান করা কুলাবে না।

একদিন লোকটা কোনো একটা কারণে ঘরের বাইরে গিয়েছিল। সেই সময়ে ভিক্ষুটা এসে হাজির হলো তাদের ঘরের সামনে। লোকটার স্ত্রী তখন সুযোগ পেয়ে ভিক্ষুটাকে বলল, ভান্তে, আমার স্বামীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কাউকে চিনতে পারে না। দেখলেই দাঁত মুখ খিঁচিয়ে তেড়ে মারতে যায়। আপনাকে দেখলে আপনাকেও ধরবে। ধরে পেটাবে। ভিক্ষা-টিক্ষা নয়। আপনি সময় থাকতে সরে পড়ুন।

ভিক্ষুটি শুনে চলে যেতে লাগল। এসময় লোকটি ঘরে ফিরে এল। সে ভিক্ষুটাকে দূরে চলে যেতে দেখল। তা দেখে স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করল, ভান্তেকে সিয়ং দিয়েছ?

তার স্ত্রী তখন আরেকটা কাহিনী জুড়ে দিল। বলল, তোমার ভান্তে তো সিয়ং চায় না। চায় মরিচ বাটার শিল। তা আমি দেব কেন? ভান্তে মানুষ শিলনোড়া নিয়ে কী করবে?

লোকটা বলল, চাইছে যখন, দিলেই তো হয়। নিশ্চয়ই কোনো দরকার পড়েছে। দাঁড়াও, সেটা আমিই দিয়ে আসি।

এই বলে সে মরিচ বাটার শিলনোড়া হাতে নিয়ে দৌড়ে গেল ভান্তের পিছে পিছে। ভান্তে, ভান্তে! এদিকে ভিক্ষুটা ডাক শুনে পিছু ফিরে দেখল লোকটা দৌড়ে আসছে তার দিকে। হাতে উদ্যত শিলনোড়া। লোকটার তো সত্যিই মাথা খারাপ হয়ে গেছে। শিল হাতে তেড়ে আসছে। ধরতে পারলে মেরেই ফেলবে। জানপ্রাণ নিয়ে দৌড় দিল ভিক্ষুটা। লোকটা আর ধরতে পারল না ভিক্ষুটাকে।

গল্প শুনে আমি হেসে উঠলাম। সেয়াদকে জিজ্ঞেস করলাম, এরপরে কী হলো? ভিক্ষুটা কি পরে আবার তাদের ঘরে পিণ্ডচারণে গিয়েছিল?

সেয়াদ বললেন, প্রাচীন সেয়াদগণ কেবল ঐ অতটুকুই বলেছিলেন। এরপরে কী হয়েছে সেটা আর জানা হয়ে ওঠে নি।😄😄😄

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *