আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

১০ হাজার টাকায় যেভাবে মাস চালানো উচিত

আগে লিখেছিলাম বৌদ্ধমতে কীভাবে আয় বুঝে ব্যয় করতে হয়। ব্যাপারটা বাস্তবে কীরকম হতে পারে তার জন্য আমি একটা আনুমানিক হিসেবে বসেছিলাম সেদিন।

ধরা যাক আপনার মাসিক বেতন হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। তাহলে আপনার বেতন থেকে প্রতি মাসে বিনিয়োগ করতে হবে ৫০০০ টাকা। সেগুলো আপনি আপনার পেশা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশিক্ষণের কাজে খরচ করতে পারেন। বিভিন্ন ডিগ্রি নিতে পারেন। এতে আপনার পেশাগত দক্ষতা আরো বাড়বে। পদোন্নতি হবে দ্রুত। বেতনও বাড়বে দ্রুত। কয়েক বছরের মধ্যেই আপনি তখন আপনার ফিল্ডে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে উঠবেন। এভাবে অর্ধেক বিনিয়োগ করতে হবে পেশাগত কাজের পেছনে।

এবার বাকি একভাগ অর্থাৎ ২৫০০ টাকা জমা করতে হবে ভবিষ্যতের আপদবিপদের জন্য। ভাববেন না আপনার সারাজীবন নির্ঝঞ্জাট কাটবে। বিপদআপদের কোনো বাপ-মা নেই। জীবনের চলার পথে কখন যে কোনো বিপদ সামনে এসে দাঁড়ায় তার কোনো ঠিকঠিকানা নেই। তাই সম্ভাব্য সবকিছুর জন্য আগেভাগে প্রস্তুতি করে রাখতে বলেছেন বুদ্ধ। তার জন্য সেই ২৫০০ টাকা কোনো ব্যাংকে সেভিংস একাউন্ট করে জমা রাখতে পারেন। ডিপিএস করে রাখতে পারেন। ইন্সুরেন্স করে রাখলেও মন্দ হয় না। আপনি রোগের ইন্সুরেন্স করতে পারেন। দুর্ঘটনার ইন্সুরেন্স করতে পারেন। আগুনে পুড়ে যাওয়ার ইন্সুরেন্স করতে পারেন। চুরিডাকাতির ইন্সুরেন্স করতে পারেন। সোজা কথা, কী কী বিপদ হতে পারে তার একটা তালিকা করে ইন্সুরেন্স করে নিতে পারেন। এভাবেই আপনার ভবিষ্যতের বিপদআপদের জন্য যতটুকু সম্ভব প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।

আপনার বেতন থেকে আর বাকি থাকল মাত্র ২৫০০ টাকা। এই ২৫০০ টাকা থেকে আপনার থাকা-খাওয়া, যাতায়াত, সামাজিক অনুষ্ঠান ইত্যাদির জন্য খরচ করুন কিছু (তার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। আমি ধরে নিলাম ১৫০০ টাকা)। আর বাড়িতে টাকা পাঠানো, আত্মীয়স্বজনকে সাহায্য, দানদক্ষিণা বাবদ খরচ করুন কিছু (ধরা যাক ১০০০ টাকা)। এভাবেই আপনার বুঝে শুনে চলতে হবে।

হিসাবটা হয়তো অবাস্তব মনে হতে পারে কারো কারো কাছে। কিন্তু অবাস্তব নয়, আমি বলি, একদম বাস্তব হিসাব। আয় বুঝে ব্যয় করে জীবনযাপন যদি করতে চান তো এভাবেই নিজের জীবনযাপনের খরচকে একদম কমিয়ে আনতে হবে। আপনি যে বিনিয়োগ করে চলেছেন তাতে দুয়েক বছরের মধ্যেই আপনার আয় বাড়বে। তখন এত কষ্ট করে চলতে হবে না। ২৫০০ টাকা তো অনেক টাকা, আমি চট্টগ্রামে থাকার সময়ে ৫০০ টাকায় মাস কাটিয়ে ২০০০ টাকা বাড়িতে পাঠায় এমনও দেখেছি। দেখে আমি খুব অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু সেটা যে সম্ভব, সেটা অস্বীকার করি কী করে?

এবার একটু লাভের হিসাব করা যাক। আপনি যদি এভাবে আয় বুঝে ব্যয় করে চলতে পারেন তাহলে লাভ কীরকম হবে? বুদ্ধের উপদেশ অনুসারে আপনি তখন আপনার আয়ের অর্ধেক টাকাই আপনার পেশাগত যোগ্যতা বাড়ানোর কাজে ব্যয় করছেন। বিভিন্ন কোর্স নিচ্ছেন, সার্টিফিকেট পাচ্ছেন। আপনার কাজে দিন দিন আরো দক্ষ হচ্ছেন। দেখবেন দুয়েক বছরের মধ্যেই আপনার পদোন্নতি হচ্ছে, বেতন বাড়ছে। আরেকটু স্বচ্ছলতা আসছে। নিজের জন্য আরেকটু বেশি ব্যয় করতে পারছেন।

কিন্তু তাতেও যদি ব্যয় সংকুলান না হয়? সোজা হিসাব। ব্যয় সংকুলান না হলে আয় বাড়াতে হবে। হয়তো দ্বিতীয় কোনো আয়ের পথ খুঁজতে হবে। অথবা দ্বিতীয় কোনো চাকরি খুঁজতে হবে। লোকজন একসাথে দুটো তিনটে চাকরি করে। তবুও কোনোভাবেই আপনার জমা বা বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দ টাকাগুলো এই ভাগে ব্যয় করা উচিত নয়। তাই চাহিদা কমান, ভোগ কমান, ব্যয় কমান। ব্যয় কমিয়ে আপনার আয়ের চার ভাগের একভাগে নিয়ে আসুন। এটাই বুদ্ধ আপনাকে করতে বলেছেন। সেটা না শুনলে উন্নতির আশা করা বৃথা।

3 thoughts on “১০ হাজার টাকায় যেভাবে মাস চালানো উচিত

  1. বন্দনা ভান্ত। আজ বুদ্ধ পূর্ণিমায় ত্রিপিটকের জাতক (প্রথম খন্ডে) ন্যাগ্রোধমৃগ জাতকে বুদ্ধ ন্যাগ্রোধ মৃগরাজ হিসাবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেসময় দেবদত্ত ছিলেন শাখামৃগ হিসাবে। ভান্তের জাতকটি মনে আছে নিশ্চয় তাই বিস্তারিত উল্লেখ করছিনা। যে প্রশ্নটার জন্য এই জাতকের অবতারণা তা হলো একমৃগরাজ তীর্যক প্রাণী হয়ে সে কিভাবে রাজার সাথে কথা বলছে। এটা কি আদৌ সম্ভ। বিস্তারিত জানলে খুব খুশি হবো।

  2. বন্দনা ভান্তে। আপনাকে বুদ্ধ পূর্ণিমার মৈত্রীময় শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। বুদ্ধের বাণী চিরজীবী হউক।

  3. বন্দনা ভান্তে, বাংলাদেশের মতো দেশে জীবনযাপন খুব কঠিন। তার অনেক গুলো কারন আছে, যেমন বছর শেষে দেখা গেলো বেতন বাড়লো ১৩০০টাকা, এর বিপরীতে ঘড়বাড়া বেড়ে গেলো ৫০০টাকা, দ্রব্যমূল্যর কথা নাই বললাম। তবে সরকারি চাকুরী ওয়ালার বেশ ভালো আছে এটা বলা যায়, তারা খেয়ে দেয়ে বেশ জমা রাখতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *