আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

বৌদ্ধমতে আয় বুঝে ব্যয় করবেন যেভাবে

কিছুদিন আগে আমি লিখেছিলাম কীভাবে বৌদ্ধমতে সুখী জীবন যাপন করা যায়। কী কী করতে হবে মনে আছে তো? প্রথমত, আপনার নিজ পেশায় বা কাজে দক্ষ হতে হবে, ধনসম্পত্তির যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে, উন্নতিশীল সৎ জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাথে ভালো বন্ধুত্ব রাখতে হবে, এবং আয় বুঝে ব্যয় করে চলতে হবে।

প্রথম তিনটা বিষয়ে সেখানে আমি বেশ বিস্তারিত করে লিখেছি। কিন্তু আয় বুঝে ব্যয় করার ব্যাপারে আরেকটু ব্যাখ্যা করা দরকার বলে মনে করছি। সেব্যাপারে দিকনির্দেশনা আছে দীর্ঘনিকায়ের সিঙ্গাল সুত্রে (দী.নি.৩.২৬৫)। সেখানে বুদ্ধ বলেছেন,

ভোগসম্পদ চারভাগে ভাগ করে
পণ্ডিতব্যক্তি ঘরে বাস করবেন।
একভাগ ভোগে ব্যয় করবেন
দুই ভাগ কাজে নিয়োজিত করবেন।
চতুর্থ ভাগ জমা করবেন
ভবিষ্যতের আপদবিপদের জন্য।

আয়ের অর্ধেক বিনিয়োগ করুন

অর্থাৎ, আপনার আয়কে চার ভাগে ভাগ করা উচিত। সেই চার ভাগ থেকে দুই ভাগ আপনার পেশাগত কাজে নিয়োজিত করা উচিত। তা না হলে কৃষি, বাণিজ্য ইত্যাদি কাজে বিনিয়োগ করা উচিত। সোজা কথা, আয়ের অর্ধেকই কোনো একটা কাজে বিনিয়োগ করতে পরামর্শ দিয়েছেন বুদ্ধ।

একভাগ বিপদের জন্য সঞ্চয় করুন

চার ভাগের এক ভাগ জমা করা উচিত ভবিষ্যতের বিপদ আপদের মোকাবেলার জন্য। কারণ পরিবারের অবস্থা সবসময় একরকম যায় না। কখনো সরকার উৎপীড়ন করে (আর্মিরা এসে কতবার পাহাড়িদের গ্রামে হানা দিয়েছে মনে করে দেখুন), আগুনে পুড়ে যায় ঘরবাড়ি (পাহাড়িদের গ্রামগুলো কতবার বাঙালিরা এসে পুড়িয়ে দিয়েছে মনে করে দেখুন), চোরডাকাত এসে হানা দেয় (চোরডাকাতের দল এসে কতজনকে গুলি করে মেরেছে, ধরে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেছে হিসাব করে দেখুন), আবার কখনো দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসে আঘাত হানে (ইদুরবন্যা, করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউন, ইত্যাদির কথা মনে করুন)। ভবিষ্যতের এসকল আপদবিপদ মোকাবেলার জন্য আয়ের একভাগ তুলে রাখা উচিত কোনো নিরাপদ স্থানে।

একভাগ দিয়ে জীবন যাপন করুন

আর চতুর্থ ভাগটা রাখা উচিত নিজের ও পরিবারের ভরণপোষণের জন্য। দান-দক্ষিণা, দুর্গতদেরকে সাহায্য করা, আত্মীয়স্বজনকে সাহায্য করা, দূরের পথের যাত্রীদেরকে সাহায্য করা সবই এই চতুর্থ ভাগ থেকে দেয়া উচিত। কাপড়চোপড়, থাকা-খাওয়া, ইত্যাদি জীবনযাপনের যাবতীয় খরচ এই অংশ থেকেই মেটানো উচিত। এমনকি কোনো স্থানে অধিষ্ঠিত দেবতার উদ্দেশ্যে প্রেতপূজা করা ইত্যাদি বিষয়গুলোও সব এই ভাগ থেকেই মেটানো উচিত।

অর্ধেক বিনিয়োগ, একভাগ জমা, একভাগ দিয়ে জীবন চালাবেন

সংক্ষেপে বলা যায়, আয়ের চারভাগের এক ভাগ জমা করবেন, দুই ভাগ বিনিয়োগ করবেন, এক ভাগ দিয়ে জীবন চালাবেন। কিন্তু বৌদ্ধরা কি এরকম করে থাকে? আমি যতদূর জানি কেবল মুসলিমরাই সেরকম জীবন যাপন করে থাকে। তাই কোনো সন্দেহ নেই তারা অর্থনৈতিকভাবে অনেক স্বাবলম্বী হয়ে থাকে। যারা এই নিয়মে চলবে, তাদের আর্থিক উন্নতি হবেই, সে মুসলিম হোক বা বৌদ্ধ হোক।

2 thoughts on “বৌদ্ধমতে আয় বুঝে ব্যয় করবেন যেভাবে

  1. বন্দনা ভান্তে, বুদ্ধের সাবেক(পাত্র) কি আসলে আফগানিনে মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে? এটি কতটুকু বিশ্বাস যোগ্য। এবিষয়ে আপনার মতামত কি?

  2. সাধু সাধুসাধু
    কৃতজ্ঞত, স্যাডো….🙏🙏🙏

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *