আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

অকারণ লেখালেখি

১. আজ সকালের খাবারে দিয়েছিল ভাত, বাদাম ভাজা এবং কয়েক পিস পাউরুটি। খেয়েদেয়ে সেখান থেকে পাউরুটির প্যাকেট হাতে নিয়ে ফিরলাম। কুকুরগুলোকে দেয়া যাবে। এখানে প্রচুর কুকুর ও কবুতর থাকে। এক বার্মিজ ভান্তেকে দেখলাম খাবার দিচ্ছে কুকুরদের। আমি পারতপক্ষে কুকুর বিড়ালের ধারেকাছে ঘেঁষি না। তাই পাউরুটির প্যাকেটটা দিলাম সেই ভান্তেকে। কুকুরগুলোকে দেয়ার চাইতে ভান্তেকে দিলে অনেক পুণ্য হবে।

কুকুর নিয়ে একটা ঘটনার কথা মনে পড়ছে। সেটা বোধহয় ২০০৬ সালের কথা। তখন একবার শ্রামণ হয়েছিলাম নানিয়ারচরের রত্নাঙ্কুর বনবিহারে। সেখানে পাহাড়ের ঢালে ছোট একটা কুটির ছিল। কুটিরের সামনে লম্বা একটা টিনের ছাউনি দেয়া হলঘর। হলঘরে বড় একটা মশারি টাঙানো হতো সন্ধ্যায়। সেখানে মশারির মধ্যে বসে আমরা প্রতি সন্ধ্যায় ভাবনা করতাম। পাহাড়ের আড়ালে হওয়ায় এমনিতে বিকাল হলেই অন্ধকার নেমে আসে কুটিরে। নিস্তব্ধ হয় পরিবেশ। একা থাকলে গা ছমছম করে। তার উপর আবার এখানে ভুতের ভয় আছে। তাই আমি একবার মৈত্রী ভাবনা করতে বসলাম। এমন সময় কানে এল একটা খসখস শব্দ। কোনো একটা প্রাণি এসে ঘুরছে আমাদের মশারির বাইরে। সাথে কুঁইকুঁই শব্দ। না দেখলেও বুঝতে পারলাম ওটা একটা কুকুরছানা। শীত থেকে বাঁচতে একটু গরম জায়গা খুঁজছে। আমি মৈত্রী ভাবনা চালিয়ে গেলাম। কুকুরের বাচ্চাটা মশারির চারপাশে ঘুরে আমার গা ঘেঁষে চুপ করে শুয়ে পড়ল। আমি একটু ইতস্তত করলাম। এতজন থাকতে আমার এখানে কেন? আমি আবার কুকুর বেড়াল এগুলোর সাথে বেশি গা ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকাটা পছন্দ করি না। ঠেলে তুলে দিতে হবে এটাকে এখান থেকে। চোখ খুলে দেখলাম ঘুটঘুটে অন্ধকার। হাত বাড়িয়ে বাচ্চাটাকে সরিয়ে দিতে চাইলাম। কিন্তু সে দেখলাম অন্য কোথাও যেতে নারাজ। আমি হাল ছেড়ে দিলাম। থাকো বাপু আপাতত। ভাবনা শেষ হলে তখন দেখা যাবে তোমায় নিয়ে কী করা যায়। এরপরে কী করেছিলাম তা এখন আর মনে নেই।

মেয়েরা পায়ে আলতা দেয় কেন?

আমি খেয়াল করেছি কবুতরদের পা হয় লালচে, অথবা হলদে গোলাপী। স্বর্গের অপ্সরাদের পাগুলোও নাকি এমন রক্তাভ গোলাপী আভাযুক্ত। যেন আলতা রাঙানো পা। বোধহয় একারণেই মেয়েরা এখনো তাদের পায়ে আলতা দেয়।

২. কিন্তু আলতা দিলেও কি স্বর্গের অপ্সরাদের মতো সুন্দরী হওয়া যাবে? সেই দেবকন্যারা কেমন সুন্দর আমি তো কল্পনাও করতে পারি না। তবে অনেকগুলো কাহিনী শুনে ধারণা জন্মেছে, মাথা খারাপ করে দেয়ার মতো সুন্দর হবে নিশ্চয়ই। কারণ সেই অনিন্দ্যসুন্দরী অপ্সরাদেরকে পাওয়ার জন্যই বুদ্ধের সৎভাই নন্দ তার প্রেমিকাকে ত্যাগ করেছিল। বুদ্ধ অপ্সরাদেরকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “কী মনে হয়, নন্দ? কে বেশি সুন্দরী বল তো? তোমার সেই প্রিয়তমা জনপদকল্যাণী নাকি এই পাঁচশ অপ্সরার দল?” নন্দ বলেছিল, “ভান্তে, এই অপ্সরাদের তুলনায় জনপদকল্যাণী তো একটা নাক কান কাটা বানরীরও সমান নয়।” যে নন্দ তার প্রিয়তমা জনপদকল্যাণীর রূপে মুগ্ধ হয়ে চীবর ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিল, সেই অপ্সরাদের দেখে তার সেই মোহ এভাবে কেটে গেল। বুদ্ধ তখন নন্দকে গ্যারান্টি দিয়ে বলেছিলেন, “নন্দ, তুমি ভিক্ষু হয়ে থাক। পাঁচশ অপ্সরা তুমি পাবে। আমি কথা দিচ্ছি।”

চিন্তা করুন একটু। যেখানে ইসলামে মাত্র ৭২টা অপ্সরার কথা বলা হয়েছে সেখানে বুদ্ধ ভিক্ষুদেরকে কমপক্ষে ৫০০ অপ্সরার গ্যারান্টি দিচ্ছেন। সেটা ভিক্ষুদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক নয় কি? নন্দ তো সেকারণেই ভিক্ষুত্ব ত্যাগ করে নি। আর পরবর্তীতে অর্হৎও হয়েছে। কাজেই ভিক্ষুদের এই মর্ত্যলোকের সুন্দরীদের নিয়ে বেশি মাথা ঘামানো উচিত নয়। বরং তাদের আরো বেশি করে জগতের প্রতি নির্লিপ্ত হওয়া উচিত। আরো বেশি করে ধ্যানে মন দেয়া উচিত। তখন মরলে নির্ঘাত স্বর্গে। সাথে থাকবে ৫০০ অথবা ১০০০ অপ্সরার দল। আর কী লাগে?

3 thoughts on “অকারণ লেখালেখি

  1. সাধু সাধু সাধ, স্যাদো
    খুব ভালো লাগলো।
    কৃতজ্ঞত, স্যাদো।
    পাদমূলে বন্দনা জ্ঞাপন করছি।

  2. বন্দনা ভান্তে। অনেক অধর্মিদের থেকে প্রশ্ন পাই
    ১।যে স্বর্গের রাজা ইন্দ্র আর ব্রম্মলোকের রাজা মহাব্রম্মা। এই ইন্দ্র এবং মহাব্রম্মা তো সনাতন ধর্মের একেকজন অবতার তাহলে তাদের বৌদ্ধ ধর্মে কিভাবে অনুপ্রবেশ ঘটলো এটাকি ব্রাম্মণবাদ ভিক্ষুদের সৃষ্টি নয়?
    ২।বুদ্ধের একটি জন্মে বুদ্ধ যখন চিৎরহরণ তাদের দলপতি হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তখন রাজা যখন তার দলের প্রাণীদের একটা একটা ধরে ধরে বধ করছিল এবং একটা সময়ে একটা গর্ভবতী হরিণের পালা যখন এলো তখন তাকে রক্ষার জন্য দলপতি নিজের জীবন খর্গের নিচে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। রাজা তা দেখে এর কারণ যখন জানতে চেয়েছিলেন এই চিৎর হরিণ এবং রাজার সাথের কথোপকথন সম্ভব কিনা? কেননা আমরা সকলেই জানি হরিণ কখনো মানুষের মতো কথা বলতে পারে না। ভান্তে শুধুমাত্র কৌতূহল থেকে প্রশ্নটা করলাম অপরাধ হলে ক্ষমা করবেন।

  3. বন্দনা ভান্তে, একটি ঘটনা মনে পড়ে গেল, এক সময় আমি শ্রমণ হয়েছিলাম কোন এক বন বিহার শাখায়, সেখানে একজন শ্রমণের কামনা ছিল এরকম, সে স্রোতাপত্তি মার্গফল লাভ করে ,মরনের পর স্বর্গে যেতে যায়,৭বার স্বর্গের সুখ ভোগ করে তারপর নির্বানে যেতে চায়। কার কি কামনা বাসনা কি রকমা তা একদম অচিন্তনীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *