আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

যেভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ে ধ্যান করবেন

কিছুদিন পরে আমাদের ডিপ্লোমা ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হবে। পরবর্তী দুমাস ছুটি। ভেবেছি সেই সময়টা একটু নিরবে ভাবনায় কাটাব। লেখালেখি থেকে দূরে থাকব। তার আগে দুটো লেখা লিখব বলে ঠিক করেছি। এক হচ্ছে আনাপান ভাবনার পদ্ধতি। এটা হচ্ছে আমার কয়েকজন সতীর্থের জন্য, যারা থাকে অরণ্যের কুটিরে। আমার মনে হয়েছে আমি মায়ানমারে এসে যা শিখেছি তা তাদের সাথেও শেয়ার করা দরকার। কারণ তারাও আমার মতোই একই পথের পথিক।

দুই হচ্ছে দীর্ঘনিকায়ে সক্কপ্রশ্ন সুত্রের অনুবাদ। সুত্রটি খুব লম্বা চওড়া। তাই গতবছর অর্ধেক লিখেই আমার দম ফুরিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু গতকাল হঠাৎ করে সেই অসমাপ্ত অনুবাদটুকু পড়েও এত ভালো লেগেছে যে ঠিক করেছি বাকিটা দুয়েকদিনের মধ্যেই শেষ করব। আমার যে গুটিকয়েক পাঠক আছেন তারাও সেই অনাবিল ধর্মের স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন। সে যাই হোক, এবারে শুরু করা যাক ভাবনার বিষয়ে।

ভাবনা শুরু করবেন যেভাবে

প্রথমেই বলে রাখি, এই ভাবনায় আপনার ১ মাস সময় দিতে হবে। মনে করুন ১ মাসের একটা ভাবনা কোর্স করতে যাচ্ছেন। তবে ১ মাস সময় দিতে না পারলেও ২০ দিন, অথবা ১৫ দিন, তাও না পারলে কমপক্ষে ১০টা দিন সময় দিন। সেই ১০ দিনের জন্য নাওয়া খাওয়া বাদে কোনো কাজ করবেন না। শুধু ভাবনায় মনে দেবেন।

প্রথমে একটা নোটখাতা নিন। সেখানে একটা পাতায় দিন তারিখ লিখুন। এর নিচে ১, ২, ৩, ৪ ইত্যাদি নম্বর দিয়ে ভাবনার সময়গুলো লিখুন। ছবিতে দেখুন। সেখানে সময়ের পরে যে সংখ্যাটা লেখা হয়েছে সেটা আপনি কতবার মনোযোগ দিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাসকে গণনা করতে পেরেছেন তার হিসাব। সেটা কীভাবে গণনা করবেন তা বলছি।

যেভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস গণনার হিসাব রাখবেন

তবে তার আগে একটা এলার্ম ঘড়ি নিন। কখন আপনার ধ্যান ভাঙবে সেটা ঘড়িতে এলার্ম দিয়ে রাখুন।

এবারে কোনো একটা সুবিধামত জায়গায় বসুন। সুখাসনে বসতে পারেন। আমি অর্ধপদ্মাসনে বসি সাধারণত। অর্থাৎ এক উরুর উপরে আরেকটা পায়ের পাতা তুলে দেয়া। আর পদ্মাসনে পারলে পদ্মাসনেও বসতে পারেন। অথবা চেয়ারেও পিঠ খাড়া করে বসতে পারেন। সোজা কথা, আপনার যেভাবে খুশি বসুন। শুধু মেরুদণ্ডকে খাড়া করে রাখুন। আর দুহাত রাখুন দুই উরুর উপরে। হাতের তালু থাকবে উপরের দিকে। ছবিতে দেখুন।

অর্ধপদ্মাসনে বসলে ভালো হয়। হাত থাকবে দুই উরুর উপরে। হাতের তালু উপরের দিকে মুখ করে থাকবে।

চোখ বন্ধ করুন। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন, শ্বাস ফেলুন। শ্বাসপ্রশ্বাসে যদি পেট উঠে নামে, তাহলে সেটা স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস। যদি বুক ফুলে ওঠে এবং নামে, তাহলে সমস্যা। তার মানে হচ্ছে আপনি জোরে শ্বাস নিচ্ছেন, সশব্দে শ্বাস নিচ্ছেন। সেটাকে স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাসে নিয়ে আসুন। ও হ্যাঁ, আরেকটা কথা। স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাসে কোনো শব্দ হয় না। তবে নাক যদি সর্দিতে বন্ধ থাকে তখন অবশ্য শব্দ হয়ই। কী আর করা।

গণনা পদ্ধতির ধাপগুলো

  1. প্রথম ধাপ- শ্বাসপ্রশ্বাস গণনা:
    1. শ্বাস প্রশ্বাস গুণতে থাকুন এক দুই তিন চার … আট পর্যন্ত। আট পর্যন্ত গোণা শেষে ডান হাতের বুড়ো আঙুল ভাঁজ করে রাখুন।
    2. আবারো এক থেকে আট পর্যন্ত গুণুন। নির্ভুল হলে ডান হাতের তর্জনী ভাঁজ করে রাখুন।
    3. আবারো এক থেকে আট পর্যন্ত গুণুন। নির্ভুল হলে ডান হাতের মধ্যমা ভাঁজ করে রাখুন।
    4. আবারো এক থেকে আট পর্যন্ত গুণুন। নির্ভুল হলে ডান হাতের অনামিকা ভাঁজ করে রাখুন।
    5. আবারো এক থেকে আট পর্যন্ত গুণুন। নির্ভুল হলে ডান হাতের কড়ে আঙুল ভাঁজ করে রাখুন।
    6. আবারো এক থেকে আট পর্যন্ত গুণুন। নির্ভুল হলে এবার বাম হাতের বুড়ো আঙুল ভাঁজ করে রাখুন।
    7. আবারো এক থেকে আট পর্যন্ত গুণুন। নির্ভুল হলে বাম হাতের তর্জনী ভাঁজ করে রাখুন।
    8. আবারো এক থেকে আট পর্যন্ত গুণুন। নির্ভুল হলে বাম হাতের মধ্যমা ভাঁজ করে রাখুন।
    9. আবারো এক থেকে আট পর্যন্ত গুণুন। নির্ভুল হলে বাম হাতের অনামিকা ভাঁজ করে রাখুন।
    10. আবারো এক থেকে আট পর্যন্ত গুণুন। নির্ভুল হলে বাম হাতের কড়ে আঙুল ভাঁজ করে রাখুন।
  2. দ্বিতীয় ধাপ- চুড়ি রাখা:
    1. দুই হাতের দশটা আঙুল ভাঁজ হয়ে গেলে কল্পনা করুন ডান হাতের কব্জিতে একটা জ্বলন্ত লোহার চুড়ি পরেছেন। এবার হাতের আঙুলগুলো খুলে দিন। আবার গণনা শুরু করুন প্রথম ধাপ থেকে।
    2. এবারে দুই হাতের দশটা আঙুল ভাঁজ হয়ে গেলে কল্পনা করুন ডান হাতের কনুইতে আরেকটা জ্বলন্ত লোহার চুড়ি পরেছেন। এবার হাতের আঙুলগুলো খুলে দিন। আবার গণনা শুরু করুন প্রথম ধাপ থেকে।
    3. এবারে দুই হাতের দশটা আঙুল ভাঁজ হয়ে গেলে কল্পনা করুন ডান কাঁধে আরেকটা জ্বলন্ত লোহার চুড়ি পরেছেন। এবার হাতের আঙুলগুলো খুলে দিন। আবার গণনা শুরু করুন প্রথম ধাপ থেকে।
    4. এবারে দুই হাতের দশটা আঙুল ভাঁজ হয়ে গেলে কল্পনা করুন ডান কানে আরেকটা জ্বলন্ত লোহার চুড়ি পরেছেন। এবার হাতের আঙুলগুলো খুলে দিন। আবার গণনা শুরু করুন প্রথম ধাপ থেকে।
    5. এবারে দুই হাতের দশটা আঙুল ভাঁজ হয়ে গেলে কল্পনা করুন মাথার ডান কোণায় আরেকটা জ্বলন্ত লোহার চুড়ি পরেছেন। এবার হাতের আঙুলগুলো খুলে দিন। আবার গণনা শুরু করুন প্রথম ধাপ থেকে।
    6. দুই হাতের দশটা আঙুল ভাঁজ হয়ে গেলে কল্পনা করুন বাম হাতের কব্জিতে আরেকটা জ্বলন্ত লোহার চুড়ি পরেছেন। এবার হাতের আঙুলগুলো খুলে দিন। আবার গণনা শুরু করুন প্রথম ধাপ থেকে।
    7. এবারে দুই হাতের দশটা আঙুল ভাঁজ হয়ে গেলে কল্পনা করুন বাম হাতের কনুইতে আরেকটা জ্বলন্ত লোহার চুড়ি পরেছেন। এবার হাতের আঙুলগুলো খুলে দিন। আবার গণনা শুরু করুন প্রথম ধাপ থেকে।
    8. এবারে দুই হাতের দশটা আঙুল ভাঁজ হয়ে গেলে কল্পনা করুন বাম কাঁধে আরেকটা জ্বলন্ত লোহার চুড়ি পরেছেন। এবার হাতের আঙুলগুলো খুলে দিন। আবার গণনা শুরু করুন প্রথম ধাপ থেকে।
    9. এবারে দুই হাতের দশটা আঙুল ভাঁজ হয়ে গেলে কল্পনা করুন বাম কানে আরেকটা জ্বলন্ত লোহার চুড়ি পরেছেন। এবার হাতের আঙুলগুলো খুলে দিন। আবার গণনা শুরু করুন প্রথম ধাপ থেকে।
    10. এবারে দুই হাতের দশটা আঙুল ভাঁজ হয়ে গেলে কল্পনা করুন মাথার বাম কোণায় আরেকটা জ্বলন্ত লোহার চুড়ি পরেছেন। এবার হাতের আঙুলগুলো খুলে দিন। আবার গণনা শুরু করুন প্রথম ধাপ থেকে।
    1. এভাবে প্রতিবারে দশটা আঙুল ভাঁজ হলে একটা করে চুড়ি কল্পনা করুন। সেটা রেখে দিন ডান ও বাম হাতের কব্জি, কনুই, বাহু, কান ও মাথায় ক্রমান্বয়ে, একবারে একটা করে। মাথার বাম কোণায় পৌঁছলে আপনার ১০০ বার গণনা সম্পূর্ণ হবে।

এবার আসা যাক বিস্তারিত আলোচনায়।

প্রথম ধাপ: মনোযোগ রাখুন নাকের ডগায়

গণনা শুরু করুন এক থেকে: চোখ বন্ধ করুন। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন। মনোযোগ রাখুন নাকের ডগায়, শ্বাসপ্রশ্বাস নাকের ডগায় যে জায়গাটাকে স্পর্শ করে, সেই স্পর্শের জায়গাটাতে। শ্বাস টানার সময়ে খেয়াল করে দেখুন বাতাস এসে নাকের ডগার কোনখানে স্পর্শ করছে। সেখানেই মনটাকে রাখুন। শ্বাস নিতে নিতে মনে মনে বলুন – এক। (বাস্তবে সেটা হয় ‘এএএএএএএএক’।) শ্বাস থামলেও মনটাকে অন্য কোথাও যেতে দেবেন না। সেই স্পর্শের জায়গাটাতেই মনোযোগ রাখুন। এবার শ্বাস ফেলুন স্বাভাবিকভাবে। খেয়াল রাখুন শ্বাস ফেলার সময়ে বাতাস নাকের ডগার সেই জায়গাটাতে স্পর্শ করছে আবার। সেখানেই মনটাকে রাখুন। শ্বাস ফেলতে মনে মনে আবারো বলুন – এক। (আবারো আরেকটা লম্বা ‘এএএএএএএএক’।)

দ্বিতীয়বারে আবারো শ্বাস টানুন স্বাভাবিক গতিতে। মনোযোগ রাখুন নাকের ডগায়। শ্বাস নিতে নিতে মনে মনে বলুন ‘দুউউউউউউউই’। শ্বাস ফেলতে ফেলতে মনে মনে বলুন ‘দুউউউউউউউই’। এভাবে ‘আআআআআট’ পর্যন্ত গুণুন।

গণনা ভুলে গেলে আবার এক থেকে গণনা শুরু করুন

নবীনদের সাধারণত এক দুই পর্যন্ত গণনার পরেই মনটা হারিয়ে যায়। সেটা ট্রেনিং না পাওয়ার কারণে হয়। গণনা ভুলে গেলে আবার এক থেকে গণনা শুরু করুন। মনোযোগ রাখুন নাকের ডগায়। সবসময়।

যদি মনোযোগ দিয়ে আট পর্যন্ত একবার গণনা শেষ করতে পারেন, তাহলে ডান হাতের বুড়ো আঙুল ভাঁজ করে রেখে দিন। ছবিতে দেখে নিন।

প্রথমবার আট পর্যন্ত গণনা শেষ হলে ডান হাতের বুড়ো আঙুল ভাঁজ করে রেখে দিন এভাবে।

এভাবে দশবার গণনা করুন

এরপর আবার এক দুই করে গুণতে থাকুন। বুড়ো আঙুল সেভাবেই ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে। হাত থাকবে উরুর উপর যথাস্থানে, আগের মতোই হাতের তালু থাকবে উপর দিকে মুখ করে।

গুণতে গুণতে গণনা ভুল হলে আবার এক থেকে গণনা শুরু করুন। কিন্তু হাতের যে আঙুলগুলো ভাঁজ করা ছিল, সেগুলো সেভাবেই রেখে দিন। সেগুলো হচ্ছে আপনার আগের গণনার সাক্ষী।

গুণতে গুণতে দ্বিতীয়বারের মতো আট পর্যন্ত গণনা শেষ করতে পারলে এবার তর্জনী ভাঁজ করে রেখে দিন। ছবিতে দেখুন।

দ্বিতীয়বার আট পর্যন্ত গণনা শেষ হলে এবার ডান হাতের তর্জনী ভাঁজ করে রেখে দিন এভাবে।

এরপর আবার এক দুই করে গুণতে থাকুন। গুণতে গুণতে গণনা ভুল হলে আবার এক থেকে গণনা শুরু করুন। কিন্তু হাতের যে আঙুলগুলো ভাঁজ করা ছিল, সেগুলো সেভাবেই রেখে দিন। গুণতে গুণতে তৃতীয়বারের মতো আট পর্যন্ত গণনা শেষ করতে পারলে এবার মধ্যমা ভাঁজ করে রেখে দিন। ছবিতে দেখুন।

তৃতীয়বার আট পর্যন্ত গণনা শেষ হলে এবার ডান হাতের মধ্যমা ভাঁজ করে রেখে দিন এভাবে।

এরপর আবার এক দুই করে গুণতে থাকুন। গুণতে গুণতে গণনা ভুল হলে আবার এক থেকে গণনা শুরু করুন। কিন্তু হাতের যে আঙুলগুলো ভাঁজ করা ছিল, সেগুলো সেভাবেই রেখে দিন। গুণতে গুণতে চতুর্থবারের মতো আট পর্যন্ত গণনা শেষ করতে পারলে এবার অনামিকা ভাঁজ করে রেখে দিন। ছবিতে দেখুন।

চতুর্থবার আট পর্যন্ত গণনা শেষ হলে এবার ডান হাতের অনামিকা ভাঁজ করে রেখে দিন এভাবে। বাকি থাকবে কেবল কড়ে আঙুলটি।

এরপর আবার এক দুই করে গুণতে থাকুন। গুণতে গুণতে গণনা ভুল হলে আবার এক থেকে গণনা শুরু করুন। কিন্তু হাতের যে আঙুলগুলো ভাঁজ করা ছিল, সেগুলো সেভাবেই রেখে দিন। গুণতে গুণতে পঞ্চমবারের মতো আট পর্যন্ত গণনা শেষ করতে পারলে এবার কড়ে আঙুলটিও ভাঁজ করে রেখে দিন। হাত তখন বলতে গেলে মুঠোর মতো হয়ে যাবে। ছবিতে দেখুন।

পঞ্চমবার আট পর্যন্ত গণনা শেষ হলে এবার ডান হাতের কড়ে আঙুলও ভাঁজ করে রেখে দিন এভাবে। হাতটা দেখাবে মুঠোর মতো।

এরপর আবার এক দুই করে গুণতে থাকুন। গুণতে গুণতে গণনা ভুল হলে আবার এক থেকে গণনা শুরু করুন। কিন্তু ডান হাতের যে আঙুলগুলো ভাঁজ করা ছিল, সেগুলো সেভাবেই রেখে দিন। গুণতে গুণতে ষষ্ঠবারের মতো আট পর্যন্ত গণনা শেষ করতে পারলে এবার বাম হাতের পালা। বাম হাতের বুড়ো আঙুলটি ভাঁজ করে রেখে দিন ঐ ডান হাতের বুড়ো আঙুলের মতো করে।

এরপর আবার এক দুই করে গুণতে থাকুন। এভাবে সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশমবার এক থেকে আট পর্যন্ত গুণতে পারলে তখন আপনার বাম হাতেরও সব আঙুল ভাঁজ করা অবস্থায় চলে যাবে। এভাবে দুটো হাত মুঠো হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় ধাপ: প্রথমবারে চুড়ি রাখুন কব্জিতে

দশবার আট পর্যন্ত গুণতে পারলে তার মানে তখন আপনার দুহাতের দশটা আঙুলই ভাঁজ হয়ে মুঠোর মতো হয়ে গেছে। তখন আপনার একটা কাজ করতে হবে। মনে মনে ভাবুন দশটা ফুল নিয়ে মালা গেঁথে ডান হাতের কব্জিতে পরেছেন। অথবা কোনো ব্রেসলেট পরেছেন। অথবা ঝলমলে চুড়ি পরেছেন। অথবা জ্বলন্ত লোহার চুড়ি আপনার ডান হাতের কব্জিতে পরেছেন বলে কল্পনা করুন। আপনার এটা ডান হাতে পরছেন বলে কল্পনা করতে হবে। খুব মনোযোগ দিয়ে কল্পনা করুন। এরপর হাতের মুঠোগুলো খুলে দিন। আঙুলগুলো আগের মতো করে ছড়িয়ে দিন। হাতের তালুগুলো থাকবে উপর দিকে মুখ করে।

দ্বিতীয়বারে চুড়ি রাখুন কনুইয়ে

এরপর আবার গুণতে শুরু করুন এক থেকে আট পর্যন্ত। ভুল হলে আবার নতুন করে এক থেকে গুণতে থাকুন। শ্বাস টানা ও ফেলার সময়ে মনে মনে বলুন ‘এক’। শ্বাস টানা ও ফেলার সময়ে মনে মনে বলুন ‘দুই’। এভাবে আট পর্যন্ত গুণতে পারলে আবার ডান হাতের বুড়ো আঙুল ভাঁজ করে রেখে দিন।

এরপর আবার গুণতে শুরু করুন এক থেকে আট পর্যন্ত। ভুল হলে আবার নতুন করে এক থেকে গুণতে থাকুন। ভাঁজ করে রাখা আঙুল ভাঁজ করাই থাকবে। শ্বাস টানা ও ফেলার সময়ে মনে মনে বলুন ‘এক’। শ্বাস টানা ও ফেলার সময়ে মনে মনে বলুন ‘দুই’। এভাবে আট পর্যন্ত গুণতে পারলে আবার আরেকটা আঙুল ভাঁজ করে রেখে দিন। এভাবে দশবার গোণা শেষ হলে দশটা আঙুল ভাঁজ হয়ে যাবে। তখন আরেকটা গনগনে জ্বলন্ত চুড়ি কল্পনা করুন। সেটাকে পরে নিন ডান হাতের কনুইয়ে।

তৃতীয়বারে চুড়ি রাখুন বাহুতে

এরপর আবার গণনা শুরু করুন এক থেকে আট পর্যন্ত। প্রতিবারে আট পর্যন্ত গণনা শেষে একেকটা আঙুল ভাঁজ করে রেখে দিন। এভাবে দশবার গোণা শেষ হলে আরেকটা গনগনে জ্বলন্ত চুড়ি কল্পনা করুন। সেটাকে পরে নিন ডান হাতের বাহুতে, অথবা ডান কাঁধে।

চতুর্থবারে চুড়ি রাখুন কানে

এরপরে আবার গণনা শুরু করুন। এবারে দশবার গোণা শেষে আরেকটা জ্বলন্ত চুড়ি ঝুলিয়ে রেখে দিন ডান কানের দুলের মতো করে।

পঞ্চমবারে চুড়ি রাখুন মাথায়

এরপরে আবার গণনা শুরু করুন। এবারে দশবার গোণা শেষে আরেকটা জ্বলন্ত চুড়ি রেখে দিন ডান পাশের মাথার উপরে। ডান হাতের পালা শেষ হলো। এর মধ্যেই আপনার পঞ্চাশ বার গণনা হয়ে গেছে।

এবার বাম হাতের পালা

এরপরে আবার গণনা শুরু করুন। প্রতি দশবার দশটি আঙুল গোণা শেষে একটা একটা করে জ্বলন্ত চুড়ি রেখে দিন বাম হাতের কব্জিতে, বামহাতের কনুইয়ে, বাম বাহু অথবা বাম কাঁধে, বাম কানে, এবং বাম পাশে মাথার উপরে, ঐ ডানহাতের নিয়মে।

এভাবে ডান ও বাম বাহুতে গণনা শেষ হলে ততক্ষণে আপনি ১০০ বার গণনা করে ফেলেছেন। সাধারণত এর মধ্যেই এলার্ম বেজে ওঠে। অর্থাৎ এক ঘন্টা সময় চলে যায়। সাধারণত এক ঘন্টায় ৫০ অথবা ৬০ বার গণনা করা যায়। তবে ১০০ বার গণনার পরেও আপনি যদি আরো করতে চান তাহলে আবারো নতুন করে ডান হাত থেকে গণনা শুরু করতে পারেন ঐ আগের নিয়মে।

ভাবনা শেষে কী করবেন

  • এই মাত্র যে ভাবনা শেষ হলো, তাতে কয়বার গণনা করেছেন তা ঝটপট লিখে ফেলতে হবে নোটখাতায়।
    • প্রতিটা চুড়ির জন্য হচ্ছে ১০।
    • প্রতিটা ভাঁজ করা আঙুলের জন্য হচ্ছে ১।
  • ধরা যাক, এলার্ম বাজার সময়ে আপনার ভাঁজ করা আঙুল ছিল ৮টা। তার মানে সেখানে ৮। আর ধরা যাক, আপনি ডান হাতে চুড়ি পরেছেন কব্জি ও কনুইয়ে। তার মানে সেখানে ২০। এভাবে সেই সময়ে আপনার গণনা হচ্ছে ২৮। সেটা আপনার সময়ের পাশে লিখে ফেলতে হবে ঝটপট। বেশি দেরি হলে ভুলে যেতে পারেন।
  • এভাবে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫বার ভাবনায় বসা ভালো। সময়ের নড়চড় না করে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ভাবনায় বসা ভালো। অর্থাৎ উদাহরণ হিসেবে আপনি যদি সকাল ৭টায় ভাবনায় বসেন, তাহলে প্রতিদিন ঐ সকাল ৭টাতেই ভাবনায় বসা ভালো।
  • প্রতিবারে কমপক্ষে ১ ঘন্টা বা তারো বেশি ভাবনা করা ভালো। এতে তাড়াতাড়ি মনটা পোষ মানে।
  • প্রতিদিনের ভাবনা শেষে রাতে মোট হিসাব করে দেখবেন কয়বার গণনা হয়েছে। প্রথমদিন মোট কমপক্ষে ২০০ বার গণনা করা উচিত। পরে প্রতিদিন ১০ বা ২০ করে গণনা বাড়িয়ে নিতে হবে। কেউ কেউ দিনে ৭০০বার, ৮০০ বার এমনকি ১৫০০ বার পর্যন্ত গণনা করেছে এমনও দেখেছি।
  • প্রতিদিনের গণনা হিসাব করে দেখা উচিত সেটা কি গতকালের চেয়ে বেশি হয়েছে, নাকি কম হয়েছে। আজকের গণনাটা গতকালের চেয়ে অন্তত ১০ বা ২০ বার বেশি হওয়া উচিত। এতে বুঝা যায় আপনার অগ্রগতি হচ্ছে।
  • কেবল বসা অবস্থাতে নয়, হাঁটাহাঁটি করার সময়, শুয়ে থাকার সময় এমনকি দাঁড়িয়ে বা গোসল করার সময়েও আপনার নাকের ডগায় মন রাখা উচিত। সেরকম চর্চা করলে কারো কারো সপ্তাহখানেকের মধ্যেই আলো আবির্ভূত হয়।
  • যদি

সাধারণত ১৫/২০ দিন পরে আলো দেখা দেয়

আপনি যদি ১৫ বা ২০ দিন দৈনিক ৫ ঘন্টা বা তারো বেশি ভাবনা করেন এভাবে, আর আপনার গণনা যদি কয়েকদিন ধরে দিনে ৫০০ বা তারও বেশি হয়, তাহলে অচিরেই আলোর দেখা পেতে পারেন। জ্বি হ্যাঁ, চোখ বন্ধ অবস্থাতেই আপনি তখন আলো দেখতে পাবেন। এই আলো হয় দুধরনের- ১) ধ্যানের আলো, এবং ২) আলোর গোলক।

ধ্যানের আলো

এটা কোনো আলোর গোলক নয়। এটা হচ্ছে আপনার চারপাশে বিস্তৃত আলো। এটা আপনার দৃশ্যপটের একাংশ অথবা পুরোটা জুড়ে উজ্জ্বল হয়ে বিস্তৃত হয়ে থাকে। আপনার মন যথেষ্ট একাগ্র হলে তবেই এধরনের আলো আবির্ভূত হয়। এটা প্রায় সময়ই প্রথমে ধুসর আলো হিসেবে চোখের কোণার উপরের দিকে দেখা দেয়। আপনি এতকাল ধরে ভাবনা করে আসছেন যেখানে শুধু ছিল অন্ধকার। এখন হঠাৎ চোখের কোণে এমন আলো দেখে হয়তো আপনার সেদিকে তাকাতে ইচ্ছে হবে। কিন্তু দয়া করে তাকাবেন না। নাকের ডগায় মন রাখুন।

নাকের ডগায় মন রাখলে সেই ধুসর আলো ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হয়ে উঠতে শুরু করবে। সেটা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করবে সবখানে। অন্ধকার দূর হয়ে যাবে। মাঝে মাঝে সেটা এমন উজ্জ্বল হয়ে উঠবে যে দিনের আলো তার কাছে নস্যি। আপনি তখন আলোর বন্যায় ভাসবেন। কিন্তু যেই মুহুর্তে আপনার মন একটু নড়েচড়ে বসবে সেই মুহুর্তে দেখবেন সব অন্ধকার। যেন লোডশেডিংয়ে ঢাকা পৃথিবী।

সে যাই হোক, আলো চলে গেল বলে নিরাশ হবেন না। আপনার সেই আলোর সাথে কোনো পিরিত নেই। সেটা তার ইচ্ছেমত যখন খুশি আসবে যাবে। সেটাকে তার মত করে থাকতে দিন। সেই আলোটাকে উপেক্ষা করুন। সেই আলোর প্রতি মনোযোগ দেবেন না। সেটাকে আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন না। কারণ সেটাকে ফিরিয়ে আনাটা আপনার কাজ নয়। আপনি শুধু আপনার কাজ করে যান। মনোযোগ দিয়ে শ্বাস নিন, শ্বাস ফেলুন। আর মন রাখুন নাকের ডগায়। এধরনের আলো এল নাকি গেল তা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না।

এধরনের ধ্যানের আলো যদি আপনার ধ্যানে দেখা দেয় তাহলে আমি বলি আপনার কপালে দুঃখ আছে। তখন আপনার অনাকাঙ্খিত অনেক কিছুর মুখোমুখি হওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। কারণ আপনি যখন থেকে ধ্যান করা শুরু করেছেন স্বাভাবিকভাবেই তখন সেখানে চোখ বন্ধ করলে কেবল অন্ধকারই দেখা যেত। কিন্তু এখন যখন আপনার ধ্যানে একাগ্রতা বেড়েছে, মন শক্তিশালী হতে শুরু করেছে, তখন থেকে এধরনের আলো আবির্ভূত হতে শুরু করেছে। যার ফলে এখন আপনার চোখের সামনে বিভিন্ন জিনিস এসে হাজির হতে পারে। আপনি বিভিন্ন দৃশ্য দেখতে পারেন। ভালো জিনিস, খারাপ জিনিস, অসাধারণ দৃশ্য, ভয়ংকর দৃশ্য যেগুলো আপনি স্বপ্নেও কল্পনা করেন নি সেগুলোই একদম বাস্তবের মতো করে দেখা দিতে পারে আপনার ধ্যানের মধ্যে।

যাই আসুক না কেন, আপনি সেগুলোকে উপেক্ষা করুন। সেগুলো আসছে, তার মানে হচ্ছে আপনি ঠিক পথেই এগুচ্ছেন। কিন্তু তাই বলে সেই দৃশ্যগুলোকে একদম পাত্তা দেবেন না। সেগুলোতে আকৃষ্ট হবেন না। আবার ভয়ও পাবেন না। সেগুলো দৃশ্য মাত্র। আপনি দেখবেন যে সেগুলোকে উপেক্ষা করা খুব কঠিন হচ্ছে, যেতে দেয়া কঠিন হচ্ছে। কিন্তু আপনি যদি আমার উপদেশ মনে রাখেন এবং সেগুলোকে বরাবরের মতো উপেক্ষা করে চলেন, এবং মনটাকে কেবল নাকের ডগায় রেখে দেন, তাহলে সেই দৃশ্যগুলো একসময় ফিকে হয়ে যাবে। আপনার ধ্যান তখন শান্ত হয়ে উঠবে। আপনি নাকের ডগায় ক্রমাগত মনটাকে ধরে রাখার চর্চা চালিয়ে যান।

আলোর গোলক

এভাবে ক্রমাগতভাবে নাকের ডগায় মনটাকে ধরে রাখার চর্চা করে গেলে একসময় একটা আলোর বিন্দু অথবা আলোর গোলক আবির্ভূত হবে। সেটা সাধারণত নাকের ডগায় আবির্ভূত হয়, আপনি যে জায়গাতে মনোযোগ ধরে রাখেন ঠিক সেই জায়গাটাতে। এই আলোর গোলকটা হচ্ছে ধ্যানের নিমিত্ত বা ধ্যান লাভের চিহ্ন, যার জন্য আপনি এতদিন ধরে হাড়ভাঙা খাটুনি করে যাচ্ছেন।

যেকোনো আলো, সেটা যদি নাকের ডগায় না হয়, তাহলে সেটাকে উপেক্ষা করুন। সেগুলো আপনার কোনো কাজে আসবে না। তাই মনটাকে বরাবরের মতোই নাকের ডগায় রেখে দিন।

আলোটাকে স্থির করা

কিন্তু যদি সেই আলো নাকের ডগায় আসে, অথবা নাকের ডগায় আবির্ভূত হয়, তাহলে সেটা প্রথমে অস্থিতিশীল হয়ে থাকে। সেটা নাকের ডগায় দেখা দিয়ে মুহুর্তের জন্য ঝলমল করে ওঠে, যেন কোনো উজ্জ্বল তারা অথবা কোনো ঝিকমিক করতে থাকা হীরে। কিন্তু মুহুর্ত পরেই এটি আবার মিলিয়ে যায়। সব আবার অন্ধকার হয়ে যায়। আপনার বুঝতে হবে যে, শুরুতে সবারই এরকম হয়। তাই বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে ঐ নাকের ডগাতেই মন দিন। শুরুতে সেই আলো এল নাকি গেল সেব্যাপারে আপনার মাথা ঘামানোই উচিত নয়। এটা স্থায়ী হয় না, কারণ আপনার ধ্যান এখনো দুর্বল।

তবে ক্রমাগত নাকের ডগায় মন রাখার চর্চা করে যান। দেখবেন যে, ক্রমাগত চর্চার ফলে সেটা ক্রমান্বয়ে দীর্ঘকাল ধরে স্থায়ী হচ্ছে। আপনি দেখবেন যে, আগে ধ্যানে বসার পরেও হয়তো অনেকক্ষণ লাগত আলো আবির্ভূত হতে। কিন্তু এখন ধ্যানে বসলে মুহুর্তের মধ্যেই আলোটা নাকের ডগায় এসে হাজির হচ্ছে। আর স্থায়ীও হচ্ছে দীর্ঘকাল। সেটা ১ মিনিট, ২ মিনিট থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে ১৫ মিনিট, ২০ মিনিট এভাবে স্থায়ী হয়।

যখন আলোটা ৫ মিনিট, ১০ মিনিট ধরে স্থায়ী হতে শুরু করবে তখন আপনার মনটা ভরে উঠবে অজানা সুখে। যেন ঠাণ্ডা হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দেখবেন যে আপনার মনটা আপনাতেই শ্বাসপ্রশ্বাসের বদলে আলোতে নিবদ্ধ হচ্ছে। এই পর্যায়ে এসে মনটা তার লক্ষ্যবস্তুকে পছন্দ করতে শুরু করেছে। তাই সেটাকে ছেড়ে দিন। মনটা ডুবে থাকুক আনন্দময় আলোতে।

চর্চা করে যান যতক্ষণ পর্যন্ত আলোটা ১ ঘন্টা বা তারো বেশিকাল যাবত স্থায়ী না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত। ও হ্যাঁ, বলতে ভুলে গেছি, নাকের ডগার এই আলোটাকে এভাবে ১ ঘন্টা পর্যন্ত স্থির করে আনতে সাধারণত ৬ মাস ধরে এরকম প্র্যাকটিস করতে হয়।

আরেকটা কথা আছে এখানে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, ধ্যানে আলো বা নিমিত্ত পায় খুব কম লোকে। বহু ভাবনাকারী আছে, বহু ভিক্ষু আছে যারা বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সত্যি কথা হচ্ছে যারা আলো পায় তাদের সংখ্যা হাতে গোণা। আলো পেলেও সবাই যে ধ্যানের আলো পায় তাও নয়। অর্থাৎ তাদের সারা দুনিয়া আলোয় ভরে উঠবে সেরকম নয়। ধ্যানের সময়ে অন্ধকারে হঠাৎ করে তাদের নাকের ডগায় আলো এসে বসে থাকে মাত্র। সেটাই তাদের ধ্যান লাভের চিহ্ন।

কীভাবে আপনি ধ্যান লাভ করবেন

আলোটাকে একটানা এক বা দুঘন্টা ধরে দেখতে পারলে ভালো। তবে পাঅক সেয়াদ খুশি হন তিন ঘন্টা ধরে আলোটাকে ধরে রাখতে পারলে।

এরপরে আপনার পাঁচটি ধ্যানাঙ্গকে বই থেকে একটু মুখস্থ করে নিতে হবে অথবা কারো কাছ থেকে বুঝে নিতে হবে।

এরপর ধ্যানে প্রবেশ করে আপনার হৃদপিণ্ডের জায়গাটিতে দেখে নিতে হবে, যেখানে ভবাঙ্গ চিত্ত উৎপন্ন হয়। সেটি সাধারণত উজ্জ্বল, ঝলমলে হয়ে থাকে। সেটা হচ্ছে মনের দরজা। আপনি দেখবেন যে, আপনি যে আলোটাকে নাকের ডগায় দেখতে পাচ্ছেন সেই আলোটা এই ভবাঙ্গ চিত্ত বা মনের দরজাতেও দেখা যাচ্ছে।

তখন আপনি পাঁচটি ধ্যানাঙ্গকে একসাথে দেখার চেষ্টা করুন। তবে শুরুতেই ধ্যানাঙ্গগুলো চিনতে পারা কঠিন। আবার বেশিক্ষণ ধরে ভবাঙ্গ চিত্তে তাকাতে পাঅক সেয়াদ নিষেধ করেন। তাই ভবাঙ্গ চিত্তে দুয়েক মিনিট ধরে তাকিয়ে ধ্যানাঙ্গগুলো চিহ্নিত করার পরে ২০/৩০ মিনিট নাকের ডগার আলোতে মনোযোগ দেয়া দরকার।

তাতেও যদি কাজ না হয়, তাহলে প্রথমে শুধু বিতর্ক চিহ্নিত করার চেষ্টা করা দরকার। এরপর একটা একটা করে বাকিগুলোও চিহ্নিত করার চেষ্টা করা দরকার। এভাবে পাঁচটি ধ্যানাঙ্গকে চিনতে পারলে তবেই তাকে প্রথম ধ্যান লাভ করেছে হিসেবে বলা যেতে পারে।

এরপরে আপনার সেই প্রথম ধ্যানে পাঁচ প্রকারে দক্ষ হওয়ার চর্চা করা দরকার। সেটা আর বেশি বলতে চাচ্ছি না। তার জন্য আপনারা জানা ও দেখা বইটি দেখতে পারেন।

এই ধর্মদানের ফলে আমার ও আপনাদের সবারই অতিশীঘ্র নির্বাণ লাভ হোক।

বিঃদ্র: এখানে গণনা পদ্ধতিটা হচ্ছে ম্যেজিনতয়া ভাবনা পদ্ধতি অনুসারে। সেটা দিয়ে খুব দ্রুত নিমিত্ত পাওয়া যায়। নিমিত্ত পেলে সেটাকে ধ্যানের স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য দরকার হয় পাঅক পদ্ধতি।

16 thoughts on “যেভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ে ধ্যান করবেন

  1. সাধু সাধু সাধু🙏🙏🙏💐💐💐
    আপনার পাদমূলে জানাই অবনতশিরে বন্দনা।
    কৃতজ্ঞ, স্যাদো 😍😍😍

  2. বন্দনা ভান্তে। আশা করি ভালো আছেন। আমরা যারা চাকরী করি তাদের জন্য ধ্যানের কোন দিক নির্দেশনা থাকলে ভালো হয়। আমি মূলত অফিস চলাকালীন( মানে শুক্রুবার ব্যথিত) সময়ে ভোর ৫.৩০ মিঃ উঠে স্নান পর্ব সেরে মাত্র ২০ থেকে, ৩০ মিনিট ধ্যান করার চেষ্টা করি। যদিও আমার ধ্যান করার পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা নেই আপনার জানা ও অজানা বই পড়ে কিছুটা ফলো করার চেষ্টা করি। এভাবে কি ধ্যানের আলো বা ধ্যানের জ্ঞান লাভ করা সম্ভব?

    আমার আরেকটা জানার প্রশ্ন হলো জ্ঞাতীদের উদ্দেশ্য পূণ্য দানের গাঁথাটি কি বুদ্ধ কতৃক সৃষ্ট? বুদ্ধ কর্তৃক সৃষ্ট হলে কখন, কোথায় এবং কি উদ্দেশ্যে বুদ্ধ গাঁথাটি উপস্থাপন করেছিলেন? কারণ কিছুদিন আগে এক ভান্তের কাছ থেকে জানতে পারি মৃত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে নাকি দান দেওয়া বুদ্ধ নির্দেশিত নয়। আশা করি ভান্তে সঠিকটা ত্রিপিটকের আলোকে ব্যাখা করবেন।

    1. চাকরি করে ধ্যান করার চেষ্টা করাটা খুবই কঠিন মনে হয়েছে আমার কাছে। তাই আপনার চেষ্টাকে আমি মনেপ্রাণে সাধুবাদ জানাই। তবে ধ্যানের উদ্দেশ্য যদি হয় ধ্যানের আলো লাভ করা, তাহলে আপনার সব ছেড়েছুড়ে অন্তত কয়েক মাসের জন্য হলেও রাতদিন শুধু ধ্যানে মন দিতে হবে। নাওয়া খাওয়া, হাঁটাহাঁটি, বসে থাকা, শুয়ে থাকা সবকিছুতে আপনার মনটাকে শুধু নাকের ডগায় রাখার চেষ্টা করে যেতে হবে। গৃহী হওয়ায় এমন দীর্ঘ সময় দেয়াটা আপনার পক্ষে খুবই কঠিন হবে বলে আমি মনে করি। ধ্যানের আলো পায় খুব উঁচুমানের ধ্যানীরা, যারা শত বা হাজার ঘন্টা কাটিয়েছে ধ্যানের চর্চায়। আপনি সকালে ৩০ মিনিট, সন্ধ্যায় ৩০ মিনিট ভাবনা করেন, তাহলে প্রতিদিন ১ ঘন্টা হয়। ১ বছরে হয় ৩৬৫ ঘন্টা। অথচ ধ্যানীরা প্রতিদিন গড়ে ৭/৮ ঘন্টা ভাবনা করে থাকে। বছরে তারা ধ্যান করে ৩০০০ ঘন্টার উপরে। পাঅক ভাবনাকেন্দ্রে এক ভিক্ষুকে চিনতাম যে দুপুরে খাবার খেয়ে ভাবনায় বসত, উঠত রাত ১০টার দিকে। সকালেও ভাবনা করত। এগুলো হচ্ছে যাকে বলে প্রফেশনাল ধ্যানীদের কাজ। আপনার কি অত সময় আছে?

      তাই ধ্যানের আলোর জন্য নয়, নন-প্রফেশনাল হিসেবে আপনার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত যতক্ষণ পারা যায় ভাবনা চর্চা করা। সেটা কোনো ধ্যানের আলো পাওয়ার জন্য নয়, শুধুমাত্র মনটাকে নিষ্কলুষ রাখার জন্য। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি ভাবনায় ডুবে থাকবেন, মনটাকে এদিক ওদিক যেতে না দিয়ে শুধু নাকের ডগায় রাখতে চেষ্টা করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার ভাবনাজনিত পুণ্যকর্ম হতে থাকবে। সেগুলো এত শক্তিশালী যে, প্রতিদিন যদি ১০ মিনিটও চর্চা করতে পারেন তাহলেও সেটা মরণকালে মূল্যবান পাথেয় হয়ে থাকবে। কোনো গুরুতর কর্ম করে না থাকলে এই নিত্য আচরিত ভাবনার চর্চাটাই আপনাকে পরবর্তী জীবনের সুগতির দিকে নিয়ে যাবে।

      তাই ধ্যানের আলোর জন্য নয়, শুধু ভাবনাময় পুণ্য করার জন্য ধ্যান করুন। যতক্ষণ ধ্যান করবেন ততক্ষণ লাভ, ততক্ষণ পুণ্য।

      1. বন্দনা ভান্তে। ধন্যবাদ আপনার সুনিপুণ, সুন্দর এবং ত্রিপটকের রেফারেন্স দিয়ে আমার প্রশ্নের একদম আমার মনের মতো উত্তর পেয়ে খুব খুশি হলাম। বুদ্ধের কাছে আপনার নিরোগ দীর্ঘজীবন কামনা করছি।

      2. বনদনা ভান্তে । জানা ও দেখা বইটা কোথায় পাওয়া যাবে?

    2. জ্ঞাতিদের উদ্দেশ্যে পুণ্যদানের গাথাটি হচ্ছে “ইদং ৰো ঞাতীনং হোতু, সুখিতা হোন্তু ঞাতযো”।

      সেটা খুদ্দকনিকায় => খুদ্দকপাঠ => তিরোকুট্ট সুত্রে আছে।

      বিম্বিসার রাজার জ্ঞাতিরা মরে প্রেতকুলে উৎপন্ন হয়েছিল। বিম্বিসার রাজা বুদ্ধকে দান দিলেও দান উৎসর্গ করেন নি। প্রেতরা পুণ্য না পেয়ে ভয়ানক শব্দ করেছিল। তা জেনে পরদিন রাজা দান করে উৎসর্গ করে বলেছিলেন “ইদং ৰো ঞাতীনং হোতু”। এটা জ্ঞাতিগণের হোক। এরপরে বুদ্ধ দান অনুমোদন হিসেবে ধর্মদেশনা দিতে গিয়ে তিরোকুট্ট সুত্রের কথাগুলো বলেছিলেন। সেগুলো মূলত প্রেতরা কীভাবে থাকে, কীভাবে জীবন যাপন করে সেসব নিয়ে। তার জন্য আপনি খুদ্দকপাঠ গ্রন্থটি পড়তে পারেন। আর খুদ্দকনিকায়ের পেতবত্থু গ্রন্থ তো পুরোটাই হচ্ছে প্রেতদের নিয়ে। সেগুলোও পড়তে পারেন।

  3. বন্দনা ভান্তে, এক্কান বিষয়ে জানিবার চাং। মর স্বর্গীয় পিতা মাতা এবং ম বে(নানু) দায়ীরে উদ্দেশ্যে মুই ঘরট ভিক্ষুসংঘ আনিনি সংঘদান গরি দিবার চাং, আলাদা আলাদা গরি গরিদিলি গম অব, অর্থাৎ একদিন পিতার নামে তারপর মাতা নামে তারপর নানু(বে) নাঙে। না একসমারে গরিদিলি পারিবু। হেঙ্গী বেজ উত্তম অব। এক্কা বিস্তারিত মরে হলে হুব দোল অব। যাহাতে মুই গমেদালে পূন্যে দান গরিপারঙ পারা।

    1. জুদো জুদো গরি কিত্যেই গরি দ্যে পরেত্তে? একসমারে জ্ঞাতি উদিঝে দান দিলে পেভার অলে বেক্কুনে পান। বিম্বিসার রাজা তা জ্ঞাতিগুনোরে কি জুদো জুদো গরিনেই দান গচ্যে নাকি? ভিক্ষুসঙ্ঘরে হানাহাদ্য দিনেদি সে পুণ্যগান তার বেক জ্ঞাতিগুনোর উদিঝে দান গরিনেই বেক্কুনে লগত তগত পিয়োন দ। সেনেত্তেই কিয়োঙত বড় ভান্তে কন্না থায় তা ইধু যেনেই কলে অভ, ভিলে ভান্তে, মুই সঙ্ঘ দান গরিম। মরে এক সঙ্ঘ ভিক্ষু দো। তে যে ভিক্ষুগুণ পাধেই দে সিগুনরে গমে হানাহাদ্য দান দিলে অব, চীবর দান দিলেয়ো অব, স্যাণ্ডেল দান দিলেয়ো অব, দারু দান দিলেয়ো অব। আ বিশেষ গরি ভান্তেগুনোর কাত্তুন কী লাগের নাকি সিয়ানি পিঝোর গরিনেই সাধ্যমত দান গরিলেয়ো অব। তারপরে পানি ধালিনেই ‘ইদং বো ঞাতীনং হোতু সুখিতা হোন্তু ঞাতিযো’ কলে অল। পালি ন পারিলে চাঙমা কধাদি কোনেই তারারে পুণ্য ভাগ দিলেয়ো অব।

      1. সাধু সাধু সাধু ভান্তে, এবার ম মনর ভ্রান্তি দূর অলহ।হুব উপকার অলহ। এবার গমে দালে জ্ঞাতিউনর উদ্দেশ্য পূণ্যদান বা সংঘদান গরিদি পারিম।

      2. ভান্তে চাকমা বুঝি না। প্লিজ বাংলা ব্যবহার করুন।

  4. ভালক দিন পর তর ওয়েবসাইট চেলুং ভান্তে ৷ গম লাগিল ৷ জুজুজু থেল আ ভান্তের দোল জীংকানি থিদি থোক এ সেপবত্তা বুদ্ধ ইদু মাগঙর ৷

  5. সাধু সাধু সাধু ভান্তে। নতুন করে সহজ সরলভাবে সুন্দর ব্যাখ্যা করলেন। আপনার পরিশ্রম স্বার্থক হোক। আশা করি যাদের ভাবনা বিষয়ে আগ্রহ আছে তারা এই লেখনিটি পড়ে অনেক কিছু আয়ত্ত করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *