আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

কামে মিথ্যাচারের ব্যাখ্যা

বৌদ্ধ হিসেবে গৃহীদের নিত্য পালনীয় হচ্ছে পঞ্চশীল। সেই পঞ্চশীল নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যার চেষ্টা করব এই কয়েকটি লেখায়। এখানে আলোচনা করছি তৃতীয় শীল কামে মিথ্যাচার (কামেসু মিচ্ছাচারো) নিয়ে।

পঞ্চশীলের তৃতীয় শীলটি হচ্ছে কামে মিথ্যাচার বা ব্যভিচার থেকে বিরতি। সেটার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সংযুক্ত নিকায়ের পঞ্চশিক্ষাপদ সুত্রের অর্থকথায় (সং.নি.২.১০৭) বলা হয়েছে, কামে মানে হচ্ছে যৌন মিলনে বা যৌন সংসর্গে। মিথ্যাচার মানে হচ্ছে পরম নিন্দিত হীন আচার বা হীন কাজ। সোজা কথায় যেধরনের দৈহিক সম্পর্ক হচ্ছে পরম নিন্দিত এবং যা হীন আচরণের পরিচয় দেয় সেটাই হচ্ছে কামে মিথ্যাচার।

কোন ধরনের দৈহিক সম্পর্ক করলে কামে মিথ্যাচার হয়?

তাহলে প্রশ্ন ওঠে, সেটা কোন ধরনের যৌনসংসর্গ যা পরম নিন্দিত ও হীন আচরণের পরিচয় দেয়? এর উত্তর হচ্ছে- নিষিদ্ধ ব্যক্তির সাথে যৌনসংসর্গ। যেমন সংযুক্ত নিকায়ের পঞ্চশিক্ষাপদ সুত্রের অর্থকথায় (সং.অ.২.১০৯-১১১) বলা হয়েছে, কোনো পুরুষ বা নারী যদি তাদের জন্য নিষিদ্ধ কোনো নারী বা পুরুষের সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে তাহলে সেটা তার কামে মিথ্যাচার হয়। ব্যভিচার হয়। অবৈধ সম্পর্ক হয়। শীলের লঙ্ঘন হয়।

পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ নারী কারা?

অর্থকথায় দশ প্রকার অবিবাহিতা মেয়ে ও দশ প্রকার বিবাহিতা নারীর কথা বলা হয়েছে, যাদের সাথে কোনো পুরুষ দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করলে কামে মিথ্যাচারজনিত শীলের লঙ্ঘন হয়।

দশ প্রকার অবিবাহিতা মেয়ে

পারাজিকা গ্রন্থের ঘটকালি শিক্ষাপদে (পারা.৩০৩-৩০৪) এই দশ প্রকার অবিবাহিতা মেয়ের উল্লেখ আছে। সোজা কথায় এরা হচ্ছে সেই ধরনের মেয়ে, যাদের অভিভাবক আছে, যেমন – যারা মা-বাবার অধীনে থাকে, অথবা শুধুমাত্র মায়ের বা শুধুমাত্র বাবার অধীনে থাকে, অথবা ভাই বা বোনের অধীনে থাকে, অথবা কোনো আত্মীয়ের অধীনে থাকে, অথবা সগোত্র বা সজাতির লোকজনের অধীনে থাকে, অথবা সতীর্থ সব্রহ্মচারীর অধীনে থাকে, অথবা আগে থেকেই কারো বাগদত্তা হয়ে থাকে- সেটা এমনকি গর্ভাবস্থায় থাকাকালেও হয় [উদাহরণস্বরূপ দুই বন্ধু ঠিক করতে পারে যে তাদের দুজনের ছেলে মেয়ে হলে তারা পরস্পরের বিয়ে দেবে], অথবা রাজা বা মুরুব্বিগণ কর্তৃক কোনো কারণে দণ্ডিত হয়ে থাকে এই বলে, ‘যে এই মেয়ের কাছে যাবে তার এত টাকা দণ্ড দিতে হবে।’ কোনো পুরুষ যদি এই দশ প্রকার অবিবাহিতা মেয়ের কারোর সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে, তাহলে তার কামে মিথ্যাচার হয়ে যায়। অবৈধ সম্পর্ক হয়ে যায়। পঞ্চশীলের লঙ্ঘন হয়ে যায়।

দশ প্রকার বিবাহিতা নারী

পারাজিকা গ্রন্থের ঘটকালি শিক্ষাপদে (পারা.৩০৪) এই দশ প্রকার স্ত্রী বা বিবাহিতা নারীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে টাকাপয়সা, কাপড়চোপড়, গৃহস্থালি সামগ্রী ইত্যাদি যৌতুক দিয়ে পাওয়া স্ত্রীর কথা আছে, প্রেম করে বিয়ে করা স্ত্রীর কথা আছে, সবার আশীর্বাদের মাধ্যমে বিয়ে করা স্ত্রীর কথা আছে, নিজের বাড়ির চাকরাণিকে বিয়ে করে হওয়া স্ত্রীর কথা আছে, যুদ্ধবন্দী নারীকে বিয়ে করে হওয়া স্ত্রীর কথা আছে, সাময়িকভাবে বা কিছুক্ষণের জন্য হওয়া স্ত্রীর কথা আছে।

সহজ কথায় বলা যায়, অন্যের স্ত্রী হলেই হলো, তার সাথে আর কোনো পুরুষ দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে না। করলে তা কামে মিথ্যাচার হয়। অবৈধ সম্পর্ক হয়।

নারীদের জন্য নিষিদ্ধ পুরুষ কারা?

বাগদত্তা মেয়ে অথবা রাজা বা মুরুব্বিগণ কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত মেয়ে যদি অন্য কোনো পুরুষের সাথে দৈহিক সম্পর্ক করে, তাহলে তা সেই মেয়ের জন্য কামে মিথ্যাচার হয়। অবৈধ সম্পর্ক হয়।

বিবাহিতা নারী যদি অন্য কোনো পুরুষের সাথে দৈহিক সম্পর্ক করে, তাহলে তা সেই নারীর জন্য কামে মিথ্যাচার হয়। অবৈধ সম্পর্ক হয়।

সারসংক্ষেপ

বিবাহিত পুরুষ – বিবাহিতা নারীপুরুষ ও নারী উভয়ের শীল ভঙ্গ হয়
বিবাহিত পুরুষ – পরিবারের অবিবাহিতা নারীপুরুষ ও নারী উভয়ের শীল ভঙ্গ হয়
বিবাহিত পুরুষ – স্বাধীন অবিবাহিতা নারীপুরুষ ও নারী কারোরই শীল ভঙ্গ হয় না।
অবিবাহিত পুরুষ – বিবাহিতা নারীপুরুষ ও নারী উভয়ের শীল ভঙ্গ হয়
অবিবাহিত পুরুষ – পরিবারের অবিবাহিতা নারীপুরুষের শীল ভঙ্গ হয়, কিন্তু নারীর শীল ভঙ্গ হয় না।
অবিবাহিত পুরুষ – স্বাধীন অবিবাহিতা নারীপুরুষ ও নারী কারোরই শীল ভঙ্গ হয় না।

কামে মিথ্যাচারের ফল

অর্থকথা বলছে, কোনো পুরুষ বা নারী যদি তার জন্য নিষিদ্ধ কোনো নারী বা পুরুষের সাথে অবৈধ দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে, তাহলে তা কামে মিথ্যাচার হয়, শীল ভঙ্গ হয়, এবং পাপ হয়। তবে সেই নিষিদ্ধ নারী বা পুরুষটি কতটুকু শীলবান তার উপর নির্ভর করে পাপেরও তারতম্য ঘটে।

কোনো তরুণ যদি কোনো অভিভাবকের অধীনে থাকা অবিবাহিতা মেয়েকে পটিয়ে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে, তাহলে মেয়েটির সেখানে শীল ভঙ্গ হয় না, কিন্তু তরুণের কামে মিথ্যাচারজনিত শীল ভঙ্গ হয়ে যায়। সেই মেয়েটি যদি সুশীলা হয় তাহলে সেই তরুণের মহাপাপ হয়। কিন্তু মেয়েটি যদি যদি দুঃশীল নষ্টা চরিত্রের হয়, তাহলে সেই তরুণের পাপ অল্প হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে, বাবা-মা অথবা কোনো অভিভাবকের অধীনে থেকেও মেয়েটি এমন নষ্টামি করে বেড়াচ্ছে, তবুও মেয়েটির শীল ভঙ্গ হবে না কেন? এর উত্তরে সারত্থদীপনী টীকা (সা.টী.২.৩০৩) বলে, বিবাহিতা বা বাগদত্তা না হলে মেয়েরা অন্য পুরুষের সাথে মিলিত হলেও তাতে তাদের কোনো মিথ্যাচার হয় না। কারণ হচ্ছে তাদের তখন কোনো স্বামী নেই, কর্তা নেই, অধিপতি নেই, মালিক নেই। দৈহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাদের কারো প্রতি কোনো রকম দায়বদ্ধতা থাকে না বলে তাদের মিথ্যাচার হয় না।

কিন্তু তাদের স্বামী না থাকলেও অভিভাবকরা তো আছে। তাদের প্রতিও কি মেয়েদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই? টীকা বলছে, মেয়েদের স্পর্শসুখ ভোগের অধিকার থাকে একমাত্র স্বামীর। যেসব মেয়ে তাদের স্বামীর অধিকারে থাকা সেই স্পর্শসুখকে চুরি করে পরপুরুষকে সুখ দিয়ে থাকে সেটা হচ্ছে সেই মেয়েদের মিথ্যাচার। বাবা-মা অথবা অভিভাবকেরা তাদের কন্যাদের সেই স্পর্শসুখের মালিক নয়। তারা সেই স্পর্শসুখ উপভোগের জন্যও কন্যাদের লালন পালন করেন না। কেবল মেয়েরা যাতে অনাচার না করে বেড়ায় তার জন্য মেয়েদেরকে আগলে আগলে রাখেন, পরপুরুষের সাথে যেতে বাধা দেন মাত্র। কোনো বাবা-মা বা অভিভাবকই তো আর চান না যে তার মেয়ে কোনো নষ্ট ছেলের পাল্লায় পড়ুক। কিন্তু মেয়েরা তবুও যদি কারো কাছে নিজের দেহমন সঁপে দেয় তাতে কী করার আছে।

এব্যাপারে আরেকটু বিস্তারিত বলা যাক। পশ্চিমা দেশগুলোতে আঠার বছর বয়সে মেয়েরা বাড়ি থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করে। তখন তারা পছন্দমতো যেকারো সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। বৌদ্ধ বিনয়মতে তাতে তাদের কোনো ব্যভিচার হয় না, মিথ্যা কামাচার হয় না।

উত্তর কুরুতে মেয়েরা স্বাধীনভাবে যেকারো সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। সেখানে তারা কারোর উপর নির্ভরশীল নয়। তাই সেখানে তারা পছন্দমতো যেকারো সাথে দৈহিক সম্পর্ক করলেও তাদের পঞ্চশীল অক্ষুণ্ণ রয়ে যায়। একারণে উত্তরকুরু হচ্ছে সদা পঞ্চশীলের দেশ।

বিধবা বা বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়া মেয়েরা যদি স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করে, তাহলে তারাও পছন্দমতো যেকারো সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। তাতে তাদের শীল ভঙ্গ হয় না।

এ তো গেল মেয়ের শীল ভঙ্গ না হওয়ার কথা। কিন্তু ছেলেটার শীল ভঙ্গ হয় কেন? টীকা বলছে, মেয়েটির বাবা-মা ও অভিভাবকেরা মেয়েটিকে আগলে আগলে রাখেন যেন সে কোনো পরপুরুষের সাথে সম্পর্ক করতে না পারে। কিন্তু ছেলেটি করল কী? সে এভাবে অন্যের জন্য রক্ষিত সেই স্পর্শসুখকে চুরি করে নিজে উপভোগ করল। একারণেই এমন দৈহিক সম্পর্কে ছেলেটির শীল ভঙ্গ হয়ে থাকে।

কিন্তু মেয়েটি যদি স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করে, পরিবার বা কোনো ধরনের অভিভাবকের অধীনে বসবাস না করে, সেক্ষেত্রে তরুণেরও কোনো শীল ভঙ্গ হয় না, মেয়েটিরও হয় না। কারণ দুজনের কেউই পরস্পরের নিষিদ্ধ ব্যক্তির তালিকায় পড়ে না। আপনাদের হয়তো ব্যাপারটা অদ্ভূত মনে হতে পারে, কিন্তু বৌদ্ধ বিনয়ের নিয়মে এমনই হয়।

অর্থকথামতে, কোনো দৈহিক মিলন কামে মিথ্যাচার হয় কিনা তা নির্ধারণের চারটি শর্ত আছে। যার সাথে মিলন হচ্ছে সে নিষিদ্ধ ব্যক্তির পর্যায়ভুক্ত হতে হবে, নিষিদ্ধ ব্যক্তি হলেও তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্য থাকতে হবে, সেই দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রচেষ্টা থাকতে হবে, এবং প্রচেষ্টার ফলে দৈহিক মিলন হতে হবে। এভাবেই কামে মিথ্যাচার সংঘটিত হয়।

বর্তমানে তরুণীরা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একা সংসার চালাচ্ছে। একাই নিজের জীবন যাপন করছে স্বাধীনভাবে। সেক্ষেত্রে তারা যদি স্বেচ্ছায় কোনো অবিবাহিত তরুণের সাথে দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে যায় সেটা তাদের জন্য সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাই এদেশের সমাজ ব্যবস্থা যাই বলুক না কেন, পরিবার বা অভিভাবকের অধীনতা থেকে বেরিয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপনকারী মেয়েরা যেকোনো অবিবাহিত তরুণের সাথে দৈহিক সম্পর্কে জড়ালে তাতে তাদের কামে মিথ্যাচারজনিত শীল ভঙ্গ হয় না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেকের কাছেই ব্যাপারটা খুব আপত্তিকর ঠেকবে সন্দেহ নেই, কিন্তু ত্রিপিটক ও অর্থকথাগুলো আমাদেরকে এমন রায়ই দিয়ে থাকে।

প্রশ্নোত্তর পর্ব

এই আলোচনার প্রেক্ষিতে এবার কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়া যাক।

  1. ছেলে-ছেলে, মেয়ে-মেয়ে, ছেলে-হিজরা, মেয়ে-হিজরা, পিতা-কন্যা, মাতা-পুত্র, ভাই-বোন ইত্যাদি এর মধ্যে সম্পর্ক করে সংসার করা ব্যাভিচার কিনা।
    • সংসার বা বিয়ে করার ক্ষেত্রে প্রথম চারটা সম্পর্ক অর্থাৎ ছেলে-ছেলে, মেয়ে-মেয়ে, ছেলে-হিজরা, মেয়ে-হিজরা সম্পর্কে কোনো বাধা আছে বলে ত্রিপিটকের কোথাও আমি দেখি নি।
    • ভাই-বোনের বিয়েতেও কোনো বাধা নেই। বুদ্ধের ভাই ছিল নন্দ, বোন ছিল জনপদকল্যাণী। নন্দ ও জনপদকল্যাণীর মধ্যে বিয়ে হতে যাচ্ছিল। দশরথ জাতকেও বলা হয়েছে, অতীতে বোধিসত্ত্ব রাম, লক্ষণ ও সীতা ছিল আপন ভাইবোন। রাম রাজা হয়ে সীতাকে নিজের রাণী করে ষোল হাজার বছর রাজ্য শাসন করেন।
    • পিতা-কন্যা এবং মাতা-পুত্রের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক হচ্ছে অধর্ম। পালিতে যাকে বলা হয় অধম্মরাগ। দীর্ঘনিকায়ের চক্রবর্তী সুত্রে (দী.নি.৩.১০১) বুদ্ধ বলেন, মানুষের আয়ু পাঁচশ বছর থেকে কমে গিয়ে আড়াইশ বা দুইশ বছর হয়েছিল কয়েকটা অধর্মের কারণে, যার মধ্যে একটা হচ্ছে এমন অপাত্রে বা অযোগ্য ব্যক্তির সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন।
  2. একত্রে সংসার করার পূর্ববর্তী প্রেম(মানসিক এবং শারীরিক) ব্যাভিচার কিনা।
    • অবিবাহিত তরুণী যদি পরিবারের বা অভিভাবকের অধীনে থাকে তাহলে বিবাহপূর্ব দৈহিক সম্পর্ক করলে তাতে তার শীল ভঙ্গ হয় না বটে, কিন্তু তার প্রেমিকের শীল ভঙ্গ হয়ে যায়। তাই অন্তত এনগেজড হওয়ার আগ পর্যন্ত এব্যাপারে প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়।
    • কিন্তু অবিবাহিত তরুণী যদি পরিবারের অধীন না থেকে স্বাধীন জীবনযাপন করে, তাহলে তাদের বিবাহপূর্ব দৈহিক সম্পর্কে উভয়ের কোনো শীল ভঙ্গ হয় না, ব্যভিচার হয় না।
  3. ধর্মমতে কোন কোন শর্ত পূরণ হলেই দম্পতির(কারা কারা দম্পতি হতে পারবে) সম্পর্ক(মানসিক এবং শারীরিক) ব্যাভিচার হবেনা। 
    • ছেলে, মেয়ে, হিজড়া সবারই দম্পতি হতে কোনো বাধা নেই। সমকামীদের ক্ষেত্রেও দম্পতি হতে কোনো বাধা নেই। বৌদ্ধধর্ম এদিক দিয়ে একদম মুক্ত আকাশের মত উদার।
  4. পতিতার পেশা কি ব্যভিচার কিনা। পতিতার সেবা গ্রহণ করা ব্যভিচার কিনা। 
    • সেটা নির্ভর করবে পতিতার স্বামী আছে কিনা তার উপরে। পতিতা যদি বিবাহিতা হয় ও স্বামী বর্তমান থাকে, অথবা কারো বাগদত্তা হয়, তাহলে সেটা ব্যভিচারের অন্তর্গত হয়। তখন পতিতা ও খদ্দের উভয়েরই ব্যভিচারজনিত শীল লঙ্ঘন হয়। কিন্তু পতিতার যদি স্বামী না থাকে, তখন তাতে কারোরই ব্যভিচার হয় না।
  5. বহুবিবাহ অর্থাৎ একই সাথে বহু সঙ্গীর সাথে সংসার করা(ছেলে-মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রে) ব্যাভিচার কিনা।
    • বহুবিবাহ মানে হচ্ছে একই সাথে একাধিক স্বামী বা স্ত্রীর সাথে সংসার করা। সেটা ব্যভিচার হবে না। কারণ তারা তো এমনিতেই স্বামী স্ত্রী হয়ে গেছে।

2 thoughts on “কামে মিথ্যাচারের ব্যাখ্যা

  1. ভান্তে, বন্দনা।

    ১. ক. পরাধীন নারীর সংজ্ঞা কী? কোন কোন শর্ত পূরণ হলে কাওকে পরাধীন নারী বলা হবে? যেমন – স্বাধীনভাবে জীবনধারণ করে, কিন্তু, সময়ে সময়ে অভিভাবকের আর্থিক সাহায্য গ্রহণ করলে তাকে পরাধীন নারী বলা হবে?

    খ. স্বাধীন নারীর সংজ্ঞা কী? কোন কোন শর্ত পূরণ হলে কাওকে স্বাধীন নারী বলা হবে? যেমন – আর্থিকভাবে স্বাধীন, কিন্তু, অভিভাবকের সাথে থেকে তাদের অনুশাসন অনুযায়ী চলাফেরা করলে তাকে স্বাধীন নারী বলা হবে?

    ২. ক. নিষিদ্ধ দৈহিক মিলন বলতে কী বোঝানো হয়েছে? পারাজিকা ১? সাংঘাদিশেষ ১, ২, ৩, ৪? বৌদ্ধ ভিক্ষু বিধিতে বিস্তারিত যা বলা আছে, এর মধ্যে কোন শীলের কতটুকু ব্যাখ্যা গৃহীদের শীল ভঙ্গের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

    খ. অবিবাহিতা অথবা কারো বাগদত্তা নয় এমন পরাধীন নারীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক না করে প্রেম করা কি শীলের লঙ্ঘন? উত্তর যদি না হয়, তাহলে বৌদ্ধ ভিক্ষু বিধিতে সাংঘাদিশেষ ১, ২, ৩, ৪ সম্পর্কে বিস্তারিত যা বলা আছে, এর মধ্যে কোন শীলের কতটুকু ব্যাখ্যা গৃহীদের শীল ভঙ্গের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

    গ. বৌদ্ধ ভিক্ষু বিধিতে অনিয়ত ১, ২ সম্পর্কে বিস্তারিত যা বলা আছে, এর মধ্যে কোন শীলের কতটুকু ব্যাখ্যা গৃহীদের শীল ভঙ্গের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? এক্ষেত্রে গৃহীর করণীয় কী?

    ঘ. এখনকার ইন্টারনেট ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি যুগে সাংঘাদিশেষ ৩, ৪ এবং অনিয়ত ১, ২ এর কিরূপ ব্যাখ্যা গৃহীদের শীল ভঙ্গের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? এক্ষেত্রে গৃহীর করণীয় কী?

    ৩. ক. বিয়ের সংজ্ঞা কী? কোন কোন শর্ত পূরণ হলে সেটিকে বিয়ে বলা যাবে? দশ প্রকার বিবাহিতা নারীর ক্ষেত্রে বিয়ের যে দশ ধরণের কথা বলা আছে সেই দশ প্রকারের যেকোনো এক ধরণের বিয়ের পূর্বে কী সেই নারীর সম্মতি নিতে হবে? বহুবিবাহের ক্ষেত্রে কি পূর্বের স্বামীদের অথবা স্ত্রীদের সম্মতি নিতে হবে?

    খ. বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার সংজ্ঞা কী? কোন কোন শর্ত পূরণ হলে সেটিকে আর বৈবাহিক সম্পর্ক বলা যাবেনা? বিয়ে ভেঙ্গে দেয়ার ক্ষেত্রে কি অপরজনের সম্মতি নিতে হবে?

    1. ভান্তে, বন্দনা।
      “শীল বিশুদ্ধিই নির্বাণের ভিত্তি (পঞ্চশীলের ৩য় শীল কামেসু মিচ্ছাচার থেকে বিরত থাকা)||
      লিখেছেন – উ গুণবদ্ধনপঞ্ঞা থের, রাজবিহার, বান্দরবান

      # কামেসু মিচ্ছাচার থেকে বিরত থাকা

      পুরুষ স্বীয় স্ত্রী ও নারীগণ স্বীয় স্বামী ব্যতীত অপর যে কোন মানব, তির্য্যক ও প্রেত জাতীয়, স্ত্রী পুরুষের সাথে কামপরিভোগ না করা। এমন কি অপরকেও তজ্জন্য উৎসাহিত না করা। মৈথুন কামগুণ আচরণ করা থেকে বিরত থাকব বলে শীল গ্রহণ কারী নিজের শীল ভঙ্গ না হওয়ার জন্য নিম্নে বর্ণিত অগমনীয় বত্থু অগমনীয় বিশ প্রকার মহিলাদের কাছে গমন থেকে বিরত থাকতেহবে।

      ১) মাতুরক্খিত = মাতা দ্বারা রক্ষাকারী স্ত্রী/ মহিলা।
      ২) পিতুরক্খিত = বাবা দ্বারা রক্ষাকারী মহিলা/ নারী।
      ৩) মাতা পিতুরক্খিত = মা বাবা উভয়ের দ্বারা রক্ষাকারী নারী।
      ৪) ভাতুরক্খিত = ভাই দ্বারা রক্ষাকারী মহিলা/ নারী।
      ৫) ভগিনীরক্খিত = বোন দ্বারা মহিলা/ নারী।
      ৬) জ্ঞাতিরক্খিত = জ্ঞাতি মিত্র দ্বারা রক্ষিত মহিলা/ নারী।
      ৭) গোত্তরক্খিত = গোত্র দ্বারা রক্ষিত মহিলা/ নারী।
      ৮) ধম্মরক্খিত = ধর্ম আচরণকারী রক্ষিত মহিলা/ নারী।
      ৯) সারক্খ = জন্মের পর থেকে যার কাছে রক্ষণাধীনে থাকে।
      ১০) সপরিদন্ড = এ মহিলার কাছে গেলে দন্ড প্রাপ্ত হবে বলে আদেশ প্রধানকারী মহিলা।
      ১১) ধনক্কীত = ধন দ্বারা ক্রয় করে বন্ধক দেওয়া মহিলা।
      ১২) ছন্দবাসিনী = নিজের ইচ্ছায় মিলিত হয়ে সহবাস করা মহিলা।
      ১৩) ভোগবাসিনী = ধন সম্পদের মাধ্যমেসহবাস করা মহিলা।
      ১৪) পটবাসিনী = কাপড় অলংকারের মাধ্যমেসহবাস করা মহিলা।
      ১৫) ওদপত্তকিনী =কলসি দ্বারা জল আহরণকারিনীজলদাসী। যে ভার্য্যা কলসী করে গৃহে জল আহরণ করে রাখে এমন স্ত্রী লোক।
      ১৬) ওভটচুম্বটা = যে স্ত্রীলোক মাথায়করে কাপড়ের ক্ষুদ্র গোলাকার গাঁটরি বহন করে।
      ১৭) দাসী ভরিয়া = দাসী ও স্ত্রী।
      ১৮) কম্মকারী = কাজের মহিলা।
      ১৯) ধজাহটা = স্ত্রী হিসেবে সহবাসকারী মহিলা।
      ২০) মুহুত্তিকা = পতিতা।

      বি:দ্র: (১-৮) নম্বর পযর্ন্ত এই আট প্রকারমহিলা যার কাছে রক্ষিত থাকে তারাও তাকে কামভোগ করতে পারে না। তাই এক বাক্যে যদি বলতে হয় নিজের স্ত্রী-স্বামী ব্যতীত অন্য কারও সাথে কামাচারকরা যাবে না।পুরুষদের মধ্যে রক্ষক সম্পন্ন ২০ প্রকার মহিলাদের মধ্যে যে কোনএকজনের সাথে মৈথুন আচরণ করলে কামেসু মিচ্ছাচার হয়।

      এই শিক্ষাপদেও শীলহীন ব্যক্তির সাথে মিথ্যাকামাচারকরলে পাপ কম হয় এবং শীলবান ব্যক্তির সাথে কামাচার করলে পাপ বেশী হয়। শীলহীন ব্যক্তির উপর জোর পূর্বক মেথুন করলে পাপ বেশী হবে। দুই জনের ইচ্ছায় মেথুন আচরণ করলে পাপ কম হয়। ভুল করার চেতনাও নেই ইচ্ছাও নেই এমন কেউ জোর পূর্বক মেথুন আচরণে অত্যাচারিত ব্যক্তির কামেসু মিচ্ছাচার কর্ম হয়না। অত্যাচারকারীরই পাপহয়।

      #কামেসুমিচ্ছাচার হওয়ার অঙ্গ চারটি ঃ

      মিথ্যা কামাচারের চারটি অঙ্গ পরিপূর্ণ হলেইএই শিক্ষাপদ ভঙ্গ হয় । এই অঙ্গগুলো পুরুষদের জন্য।

      (১) অগমনীয় মহিলা বিশ জন হতে হবে।
      (২) অগমনীয় বস্তুতে গমনের চিত্ত থাকতে হবে।
      (৩) প্রচেষ্টা থাকতে হবে।
      (৪) কামসুখ উপভোগ করা।

      #ব্যভিচার বা মিথ্যাকামাচারীর দোষগুলো ঃ

      ব্যভিচার বা মিথ্যা কামাচার করলে মৃত্যুরপর অবীচি ও লৌহকুম্ভী নরকে ত্রিশ কল্প পক্ক হতে হয়। তদনন্তর সেখান থেকে চ্যুত হয়ে পাঁচশত জন্ম স্ত্রী,পাঁচশত জন্ম নপুংসক এবং ঘৃণিত কুষ্ঠ ইত্যাদি ব্যাধিক্লিষ্ঠ হয়ে থাকে। এ ছাড়াও নিন্মে বণির্ত বিপাকগুলো ভোগ করে।

      (১) মানুষের ঘৃণার পাত্র হয়।
      (২) শত্রু বেশী হয়।
      (৩) লাভ-সৎকার কম হয়।
      (৪) সুখ-শান্তি থেকে বঞ্চিত হয়।
      (৫) মহিলা হয়।
      (৬) নপুংসক হয়।
      (৭) নীচু বংশে জন্মগ্রহণ করে।
      (৮) লজ্জা প্রাপ্ত হয়।
      (৯) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অপরিপূর্ণ হয়।
      (১০) শোক-পরিদেবে বেশী কষ্ট পায়।
      (১১) প্রিয়জনের সাথে বিচ্ছেদ হয়।

      মিথ্যা কামাচার থেকে বিরত ব্যক্তিগণ নিন্মেবর্ণিত সুফল ভোগ করে।

      (১) নর-নারীগণ শত্রুহীন হন।
      (২) দেব-মনুষ্যের প্রিয় হন।
      (৩) উৎকৃষ্ট খাদ্য-ভোজ্য অন্ন,পানীয় লাভ করে।
      (৪) মনোজ্ঞ পোষাক-পরিচ্ছেদ ও শয্যাদি প্রচুর পরিমানেলাভ করে।
      (৫) সুখে নিদ্রা যান ও সুখে জাগ্রত হন।
      (৬) চতুর্অপায়ে জন্মগ্রহণ করেন না।
      (৭) পুরুষরা স্ত্রীত্ব বা নপুংসকত্ব, আর নারীরা নপুংসকত্ব ও বন্ধ্যত্ব হতে মুক্ত হন।
      (৮) সতী-সাধ্বী রমনীরা ক্রমান্বয়ে পুরুষত্ব প্রাপ্তহন।
      (৯) তাঁদের ক্রোধ ও শত্রুহীন বল হয়।
      (১০) তাঁরা প্রত্যক্ষদর্শী হন, সভা-সমিতিতে নির্ভীক ও নিঃসংকোচ চিত্তে গমন ও উপবেশন করেন।
      (১১) মিথ্যাকামাচার বিরত স্ত্রী-পুরুষের মধ্যেপরস্পরের প্রিয়ভাব বর্দ্বিত হয়।
      (১২) ইন্দ্রিয় ও লক্ষণসমূহ পরিপূর্ণ হয়।
      (১৩) শঙ্কা ও কৌতুহল শূণ্য হয়।
      (১৪) ভয় ও প্রিয়বিচ্ছেদ দুঃখ বিহীন হয়ে সুখেজীবনযাপন করে।
      (১৫) মৃত্যুর পর স্বর্গ পরায়ন হন।

      #রাজা প্রসেনজিতের দু-স-ন-সো শব্দ শ্রবণ :

      একদা কোশলরাজ প্রসেনজিৎ নীরবে ঘুম যাওয়ারসময় রাত্রিতে “দু” বলে চিৎকার “স” বলে চিৎকার “ন” বলে ও “সো” বলে চিৎকারের শব্দে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে উঠে যান। রাজা এই দু-স-ন-সো শব্দ নিজের অন্তরায়ের কারণ কিনা কিংবা রাজ্যের অন্তরায় কিনাচিন্তা করে উদ্বিগ্ন ও মৃত্যু ভয়ে ভীত হয়ে সেই রাত বসে কাঠিয়ে দেন। সকালে ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের ডেকে সেই কথা বললেন এবং বিপাক ফল জিজ্ঞাসা করলেন।ব্রাহ্মণরা চারটি হাতী, চারটি ঘোড়া,চারটি গরু, চারজন মানুষ ইত্যাদিচতুষ্ক যজ্ঞ-পূজা দিলে সুখ-শান্তি প্রাপ্ত হবেন বললেন। কিন্তু রাজার স্ত্রী মল্লিকাদেবী বুদ্ধের কাছে সেই শব্দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করারপরামর্শ দেন। সেই সময়ে রাজা জেতবন বিহারে অবস্থানরত বুদ্ধেরকাছে গমন করে ’দু-স-ন-সো’ বিকট চারটি শব্দ শুনার কথা ও ব্রাহ্মণদেরচতুরঙ্গ যজ্ঞ পূজা দেওয়ার কথা বললেন এবং সেই শব্দ সমূহ নিজের জন্য কিরূপ হবে বুদ্ধকেজিজ্ঞাসা করলেন। তখন বুদ্ধ সেই শব্দের কারণে রাজার কোন অন্তরায়হবেনা বললেন। এই শব্দ অতীত রাজারাও শুনেছেন। এর কারণ অতীত জন্মে পরদ্বার লঙ্গনকারী মিথ্যা কামাচার কর্মের বিপাক হেতু চার শ্রেষ্ঠীপুত্রের চিৎকারের কারণ। তারা সেই কর্মের কারণে অবীচি নরকে পতিত হয়ে লৌহকুম্ভী নরকে ষাঠহাজার বছর দুঃখ ভোগ করে এবং দুঃখ ভোগ করতে করতে লোহকুম্ভী নরকের দ্বারপ্রান্তকে দশর্নকরে চিৎকার করে বলে অতীত ঘটনা বর্ণনা করেন।

      #ইসিদাসী থেরী

      ব্যভিচারী পারমীবান হওয়া সত্ত্বেও পুরুষওমহিলা হতে পারে, স্বামী বর্জন করতে পারে। তারপর নিরয়ে বহু জন্ম দুঃখ ভোগ করে ও প্রত্যেক জন্মে অপরিসীম দুঃখের অধিকারী হয়।গৌতম বুদ্ধের সময়ে “অবন্তি রাজ্যে” উজ্জেনী নগরেএক শ্রেষ্ঠীর ইসিদাসী নামে এক কন্যা ছিল । বয়ঃ প্রাপ্ত হলে সাকেতশ্রেষ্ঠী পুত্রের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে স্বামী ও অন্যান্যদের যথাযথ সেবা যতœ করে দ্বায়িত্ব পালন করে। তবুও একমাস পরে স্বামী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপরে বিত্তবান এক পুরুষের সাথে বিবাহ হয় , সেও একমাস পর মা-বাবার কাছে পাঠিয়ে দেয়। এরপর এক ভিক্ষারীরসাথে বিবাহ হয়, সেও অর্ধমাস পরে তাকে ত্যাগ করে ।তারপর সে শাসনে প্রব্যজিত হয়ে ভাবনা করে অরহত্ব মার্গ ফলে অধিষ্টিত হয়েছিলেন। তাঁর অকুশল কর্ম হচ্ছে অতীত এক পুরুষ জন্মে “এরকচ্ছ শহরে” ধন সম্পদে পরিপূর্ণ স্বর্ণকার জন্মে অসৎ সঙ্গের সাথে মিশেপরদ্বার গমন অর্থাৎ অন্যের স্ত্রীর সাথে কামাচার করার কারণে অবীচি নরকে অনেক বছরদুঃখ ভোগ করেন , নরক থেকে মুক্ত হয়ে বানর জন্মে পুরুষাঙ্গকেটে নেওয়া হয়। বানর জন্ম থেকে মুক্ত হয়ে ‘সিন্ধব’ রাজ্যে পর্বত এলাকায় অন্ধ-কুঞ্জ ছাগীর গভেৃ প্রতিসন্ধিগ্রহণকরে বয়স প্রাপ্ত হলে পুরুষাঙ্গের জন্য কষ্ট ভোগ করতে হয়, ছাগল জন্ম থেকে গরু জন্মে প্রতিসন্ধি নিয়ে একই দুঃখ ভোগ করে ।‘সন্ধিপার’ রাজ্যে দাসীর গর্ভে নপুংসক হয়ে জন্ম গ্রহণকরে , বয়স প্রাপ্ত হয়ে ব্যবসায়ীর পুত্র গিরিদাসের সাথে বিবাহ হয়।(ঋণের দায়ে কন্যাকে নিয়ে যায়)। গিরিদাসের শীলবতী বড় বউ ছিল । সেই বড় বউয়ের সাথে স্বামীর বিচ্ছেদ করার জন্য তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ মনোমালিন্য সৃষ্টি করেছিল সেই কর্মেরবিপাকের কারণে তদ্রুপ দুঃখ ভোগ করতে হয়েছে।

      লেখক- শ্রদ্ধেয়- উ গুণবদ্ধণ পঞঞা ভিক্ষু , উপাধ্যক্ষ খিয়ং ওয়া কিয়ং ,রাজবিহার ,বান্দরবান ।”

      এই পুরো লেখাটি কি ধর্মত যথাযথ হয়েছে? ২০) মুহুত্তিকা = পতিতা, এটি কি ঠিক আছে ভান্তে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *