আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

পাঠকদের প্রশ্নের তালিকা

[[[ আমি খুবই খুশি যে আপনারা আমার কাছে এসব প্রশ্ন করছেন। এগুলো আমাকে চিন্তার খোরাক যোগায়, গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়, নতুন নতুন তথ্য উন্মোচিত হয়, যেগুলো আসলে আমার নিজেরও এতকাল জানা হয় নি। কাজেই আপনারা কমেন্ট করে প্রশ্ন করতে থাকুন। আমি এখানে সেগুলো লিখে রাখব। তারপর একটা একটা করে সময় নিয়ে লিখব। আমি কোনো মহাজ্ঞানী নই। তাই আমার উত্তরগুলোর মধ্যে হয়তো অনেক ভুল রয়ে যেতে পারে। সেগুলো নিয়ে কথা হবে, আলোচনা হবে। অজানা বিষয় জানা যাবে। জানা বিষয়গুলো আরো পরিষ্কার হবে। অনেক ভুলের সংশোধন হবে। দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে। জীবন বদলাবে। কাজেই প্রশ্ন করতে থাকুন…। ]]]

ভান্তেকে বন্দ।
১। ভান্তে অরহৎ হলে কি তিনি মৃত্যুর সময়কাল জ্ঞান থাকা অবস্থায় বা স্মৃতি থাকা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করতে হয়?
২। অরহৎ ভান্তেদের মৃত দেহে কি পচন ধরে না। মৃত্যুর পর ফ্রিজে রাখতে হয়না, ঔষধ দিয়ে বছরের পর বছর রাখার প্রয়োজন হয়না নাকি এমনিতেই পেটিকাবদ্ধ করে রাখা যায়।
৩। কোন ভিক্ষুকে যদি অরহৎ না হয়েও ষড়াভিগ্গা অরহ, অনুবুদ্ধ কিংবা আর্য্যশ্রাবক বিশেষনে বিশেষিত বা সম্মানিত করা হয় তিনি যেনেও যদি মানা না করে তবে তিনি পারিজাত দোষে দুষি হবেন। আর এমন ভান্তেদের দান দিলে দাতার কি অবিদ্যাজনিত পাপ হবে না দাতার দানীয় চেতনার হেতু বশত পূণ্যপ্রাপ্তি হবে।

Sumit Barua says:

শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে করজোড়ে বন্দনা নিবেদন করছি। আপনার ধর্ম জ্ঞানের ভান্ডার দেখে অভিভূত। আমি মনে মনে এমন একজনকে খুঁজছিলাম যিনি আমার কিছু অজানা প্রশ্নের উত্তর দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। আমি কোন নাস্তিক কিংবা অধার্মিক নই শুধু মাত্র নিজের মনের মধ্যে উকি দেয়া প্রশ্ন নিজে জেনে নিজে বুঝে অন্যদের যাতে শুদ্ধ এবং সঠিকভাবে বুদ্ধ ধর্ম প্রচার করতে পারি, সবধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি সেজন্যে । আমি গত দুই কিংবা তিন বর্ষাবাষ থেকে বেসরকারী চাকরির পাশাপাশি অষ্টশীল পালন করছি। আমার মধ্যে হঠাৎ করে বুদ্ধ ধর্ম জানার আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে আমি রাজা মিলিন্দ এবং ভান্তে নাগসেনের প্রশ্ন এবং উত্তর বইটি পড়ছি। ভাষা কঠিনতার কারণে কিছু বুঝছি কিছু বুঝতে পারছিনা। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর পেলে খুশি হতাম।
১। আমি অনেক ভান্তে কিংবা দেশককে বলতে শুনি মানুষ মৃত্যুর সাথে সাথে তার অতীত জন্মের কর্মের হেতু অনুসারে সে সাথে সাথেই (সেকেন্ডের মধ্যে সম্ভবত) অন্য যোনিতে জন্মলাভ করে সেটা মানুষ কিংবা তির্যক প্রাণী যাই হোক। কিন্তু আমার প্রশ্ন যদি এই কথা সত্য হয় তবে মানুষ মৃত্যুর পরে (তার কর্মের হেতুতে) কখন নরক যন্ত্রনা ভোগ করে কিংবা কখন স্বর্গে সুখ ভোগ করে। আমরা যতটুকু জানি নরক কুলের ১ দিন মানে মানবজাতির ১ লক্ষ বছরের সমান।
২। অস্টশীলের ৮ নাম্বার শীল উচ্চা শয়না মোহা শয়ানা মানে খাট, সোফা, চেয়ার চৌকি (১’-০” উচ্চতায়), পিড়া কিংবা যেকোন উচু স্থানে আরাম আয়েশের মধ্যে অবস্থান না করার জন্য বলা হয়েছে কিনা? আমার জানা মতে উচ্চশয়ানাউচ্চ শয়ানা মহাশয়ানা মানে অতি আরাম আয়েশের সহিত (নরম গদি কিংবা নরম আরামদায়ক মেট্রেস বা বেডে) না বসা বা না শোয়ার কথা বলা হয়েছে যার কারণে ব্রম্মচর্চা বা শীল প্রতিপালনে অন্তরায় সৃষ্টি না হয়।
৩। বুদ্ধকে উৎসর্গিত বুদ্ধপূজা (সোয়াইং তরিতরকারী, ফলমূল ইত্যাদি) তীর্যক প্রাণীদেরকে দেয়া যায় কিনা? অনেক আগে শুনেছিলাম পূজ্য বনভান্তে নাকি বলেছিলেন তীর্যকপ্রাণীদেরকে বুদ্ধপূজার দানীয় বস্তু খেতে দিলে নাকি ওরা আর তীর্যকপ্রাণী থেকে আর কখনো মুক্ত হতে পারবে না।

anonymous August 27, 2019 at 5:27 pm তারিখে নিচের প্রশ্নগুলো জানতে চেয়েছেন:

ভান্তে, বন্দনা। পঞ্চশীল নিয়ে আপনার বিস্তারিত কোন লেখা নেই। বিনয়ে ভিক্ষুদের শীলের অঙ্গ এবং কিসে আপত্তি এবং কিসে অনাপত্তি এই বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকলেও পঞ্চশীল নিয়ে এরূপ বিস্তারিত কিছু নেই। সমাজ এবং বিজ্ঞানের গতিশীলতার কারণে পঞ্চশীলের অঙ্গ এবং কিসে শীল ভঙ্গ হয় ও কিসে হয় না এই বিষয়ে বিস্তারিত লেখা গৃহীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিস্তারিত না থাকার কারণে প্রতিটি শীল নিয়ে বর্তমানে বেশ কিছু প্রশ্নের উৎপত্তি হয়েছে যার পরিপূর্ণ উত্তর অনেকের জানা নেই। এরকম কিছু উদাহরণ –

  1. ক। কোন ধাপের গর্ভাবস্থায় গর্ভপাত প্রাণী হত্যা? নিষিক্ত ডিম্বাণু? নাকি কিছুদিন অথবা কিছু সপ্তাহ কিংবা কিছু মাসের পরের গর্ভস্থ সন্তানের গর্ভপাত প্রাণী হত্যা? খ। Clinically Dead এবং Life Support চালু রাখা অথবা বন্ধ রাখার বিষয়টি। এবং নিরাময় অযোগ্য রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যাথাহীন স্বেচ্ছা মৃত্যুর বিষ্যটি। কিংবা একজনের দেহের সাথে অন্যের মাথার মাথার প্রতিস্থাপন এবং চিত্তের বিষয়টি অর্থাৎ চিত্তই মস্তিষ্ক কিনা অথবা মস্তিষ্কের মধ্যেই চিত্তের অবস্থান কিনা অর্থাৎ চিত্ত কোন অঙ্গের আশ্রয়ে থাকে।
  2. সুদ, ট্যাক্স, ভ্যাট, উন্নয়ন ইত্যদি এর নাম দিয়ে দিতে অনিচ্ছুক মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে টাকা সংগ্রহ কি চুরি ডাকাতি?
  3. ছেলে-ছেলে, মেয়ে-মেয়ে, ছেলে-হিজরা, মেয়ে-হিজরা, পিতা-কন্যা, মাতা-পুত্র, ভাই-বোন ইত্যাদি এর মধ্যে সম্পর্ক করে সংসার করা ব্যাভিচার কিনা। একত্রে সংসার করার পূর্ববর্তী প্রেম(মানসিক এবং শারীরিক) ব্যাভিচার কিনা। ধর্মমতে কোন কোন শর্ত পূরণ হলেই দম্পতির(কারা কারা দম্পতি হতে পারবে) সম্পর্ক(মানসিক এবং শারীরিক) ব্যাভিচার হবেনা। পতিতার পেশা কি ব্যভিচার কিনা। পতিতার সেবা গ্রহণ করা ব্যভিচার কিনা। একই সাথে বহু সঙ্গীর সাথে সংসার করা(ছেলে-মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রে) ব্যাভিচার কিনা।
  4. গোপন তথ্য ফাঁসের ফলে ঝামেলা তৈরি না হওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃত মিথ্যা বলে তথ্য প্রকাশ না করা পাপ কিনা। গোয়েন্দাগিরি পাপ কিনা।
  5. শীতপ্রধান দেশে শরীর উষ্ণ রাখার জন্য পানীয় গ্রহণ করা এবং জীবন রক্ষার জন্য ওষুধ হিসেবে নেশা তৈরিকারী কিছু গ্রহণ করা কিংবা মাত্রার মধ্যে পানীয় গ্রহণ করা পাপ কিনা। ইত্যাদি ইত্যাদি প্রশ্ন ………।
  6. আপাতত একটি প্রশ্নের উত্তর যদি দিতেন-সমাজে প্রচলিত দুই প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যকার প্রেম(মানসিক-শারীরিক) ব্যভিচার কিনা।

Anonymous September 7, 2019 at 1:41 pm তারিখে আরও কিছু প্রশ্ন।

  1.  ক। রাজা অথবা দেশের প্রধান যদি বিশুদ্ধ পঞ্চশীল পালন করেন এবং রাজ্য অথবা দেশের রীতি-নীতি এবং আইন-কানুন যদি সেই অনুসারে প্রণয়ন করে শীলে অধিষ্ঠিত থাকতে চান, তাহলে রাজ্যের শীল ভঙ্গের অপরাধীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেয়া, এবং যুদ্ধবাজ ডাকাত অথবা রাজার হাত থেকে নিজেকে এবং রাজ্যকে যদি সুরক্ষিত রাখতে চান, তাহলে শীল পরিপূর্ণভাবে পালন করে এইসব বিষয়ে ধর্মত বাস্তব নীতি কেমন হবে। খ। সন্তানের বিয়ে অথবা অন্যান্য অনুষ্ঠানে মানুষ খাওয়ানোর জন্য প্রাণী হত্যা করতে না চাইলে সেক্ষেত্রে বাজারে পাওয়া মৃত ও ফ্রীজে সংরক্ষিত মাংস ক্রয় করে অতিথি আপ্যায়ন ধর্মত হবে কিনা। অথবা সে নিজে প্রাণী হত্যা না করে বাজার এবং রান্নার সমস্ত দায়িত্ব যদি টাকা দিয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দেয় এবং তারা যদি প্রাণী হত্যা করে এবং সে যদি জানে যে কর্তৃপক্ষ হত্যা করেই বাজার করবে কেননা এটিই দামের দিক দিয়ে সবচেয়ে সস্তা, তাহলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিতভাবেই প্রাণী হত্যা করে বাজার করবে জেনে তারপরও বাজারের ভার যদি কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দেয় এবং ফলাফল হিসেবে তারা যদি প্রাণী হত্যা করে তাহলে সে প্রাণী হত্যার ভাগীদার হবে কিনা। কিংবা সে যদি কর্তৃপক্ষকে প্রাণী হত্যা না করেই যদি বাজার করতে বলে এবং বলার পরেও সে যখন জানে দামে সস্তা হওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিতভাবেই হত্যা করেই বাজার করে এনে হত্যা করা হয়নি বলে চালিয়ে দিবে, সেক্ষেত্রেও সে প্রাণী হত্যার ভাগীদার হবে কিনা। অর্থাৎ বিয়ে এবং অনুষ্ঠানে শত শত হাজার হাজার মানুষকে ধর্মত মাংস খাওয়ানোর বাস্তব উপায়সমূহ কেমন হবে। গ। প্রাণী কিংবা পাখীর যেই ডিম বাজারে পাওয়া যায় অর্থাৎ মানুষ বাজার থেকে কিনে এনে যেই মুরগীর ডিম, হাঁসের ডিম, কোয়েলের ডিম, ইত্যাদি যেই ডিম কিনে এনে ভাজি অথবা সিদ্ধ করে খায় এটি প্রাণী হত্যা হবে কিনা। অর্থাৎ ধর্মত ডিম খাওয়ার নিয়ম কেমন হবে। ঘ। বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে বিজ্ঞানীরা প্রাণীকে হত্যা করে অথবা প্রাণীর দেহকে বিভিন্ন ভাবে পরিবর্তন করে প্রাণীকে কষ্ট দিয়ে যেই গবেষণা করে থাকে সেটি শীলের লঙ্ঘন কিনা।
  2.  প্রাণী হত্যা না করে ডেইরি ফার্ম অর্থাৎ দুধ বিক্রির ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ শীলের লঙ্ঘন কিনা কিংবা অধর্মত কিনা। কিংবা বাছুরকে দুধ খেতে না দিয়ে অথবা অল্প করে খেতে দিয়ে সমস্ত দুধ সংগ্রহ করে ফেলা শীলের লঙ্ঘন কিনা অথবা অধর্মত কিনা। যুদ্ধ করে কিংবা বল প্রয়োগ করে অন্য রাজ্যের কিংবা ব্যক্তির প্রাকৃতিক ও বস্তুগত সম্পত্তি নিজেদের দখলে আনা শীলের লঙ্ঘন কিনা অর্থাৎ অধর্মত কিনা।
  3. বিয়ার, ওয়াইন ইত্যাদি শীলের লঙ্ঘন কিনা। অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডে কোন মাত্রার এবং কি পরিমাণের ও কি ধরনের জিনিস মুখ দিয়ে পান করা, সেবন করা এব নাক দিয়ে গ্রহণ করা শীলের লঙ্ঘন।

অংছেন মারমা, খাগড়াছড়ি, বাংলাদেশ  September 5, 2019 at 5:02 pm

  1. বন্দনা ভান্তে, বার্মায় শেয়ানা (বালায়-মেশিলা) কখন, কিভাবে চালু হয়েছিল ? লিখিত আকারে দেশনা করার জন্য করজোরে বন্দনা করছি ।

 

8 thoughts on “পাঠকদের প্রশ্নের তালিকা

  1. অনেকের অনেক প্রশ্ন দেখলাম, খুব ভালো লাগলো অনেকের ধর্মের প্রতি জানার আগ্রহ দেখে। কিন্তু কিছু শিক্ষিত মূর্খ আছে যদিও তারা নিজেকে অনেক পণ্ডিত মনে করে আরকি। তাদের সাথে যখন কথা হয় ভগবান বুদ্ধের গাথাগুলো মনে পড়ে। পূজ্য বনভান্তে বলতেন, কাঁটা বনে থাকা কি দু:খ, মূর্খ ব্যক্তিদের সাথে থাকা তার চেয়েও বেশি দু:খ। ভান্তের লেখাটি পড়লাম আসলে সঠিক কথা বলেছেন, কারণ যে মানুষগুলো ত্রিপিটক, ভিক্ষুসংঘ নিয়ে সন্দেহপোষণ করেন তাদেরকে কি বুঝানো সম্ভব নাকি। সে রকম মানুষের সাথে আমারও সাক্ষাৎ হয়েছে, শুধু বলি তোমার জানাতা সঠিক নাও হতে পারে, সুতরাং ত্রিপিটক, বিজ্ঞ ভান্তেদের কাছ থেকে এ বিষয়ে জানলে ভালো হয়, সরাসরি জাননা, বুঝনা বললেতো আবার গরম হয়।
    ব্যক্তিগত বিভিন্ন ঝামেলার কারণে অনেককিছু পড়া হয়না, লেখা হয়না। ভান্তের নিরোগ, দীর্ঘায়ু সবসময় কামনা করি। ধর্মের শ্রীবৃদ্ধির জন্য ভান্তের জ্ঞান প্রসারিত হোক এ প্রার্থনা করছি।

  2. একচ্চে চ ৰিনিপাতিকাতি চতুঅপাযৰিনিমুত্তা উত্তরমাতা যক্খিনী, পিযঙ্করমাতা, ফুস্সমিত্তা, ধম্মগুত্তাতি এৰমাদিকা অঞ্ঞে চ ৰেমানিকা পেতা। এতেসঞ্হি পীতওদাতকাল়মঙ্গুরচ্ছৰিসামৰণ্ণাদিৰসেন চেৰ কিস থূলরস্সদীঘৰসেন চ কাযো নানা হোতি, মনুস্সানং ৰিয দ্বিহেতুকতিহেতুকঅহেতুকৰসেন সঞ্ঞাপি। তে পন দেৰা ৰিয ন মহেসক্খা, কপণমনুস্সা ৰিয অপ্পেসক্খা দুল্লভঘাসচ্ছাদনা দুক্খপীল়িতা ৰিহরন্তি। একচ্চে কাল়পক্খে দুক্খিতা জুণ্হপক্খে সুখিতা হোন্তি। তস্মা সুখসমুস্সযতো ৰিনিপতিতত্তা ৰিনিপাতিকাতি ৰুত্তা। যে পনেত্থ তিহেতুকা, তেসং ধম্মাভিসমযোপি হোতি পিযঙ্করমাতাদীনং ৰিয।[অ.নি.অর্থ.৭.৪৪-৪৫]ভান্তে ইয়ান বুজি ন পারংঅর; অভিধর্মার্থ সংগ্রহর লগে ন মিলের; চিয়ৎ দ লেগা আগেদে ঊনিশ প্রকার প্রতিসন্ধি চিত্তের মধ্যে দুই উপেক্ষাসহগত সন্তীরণ চিত্ত চারি অপায়/অহেতুক প্রতিসন্ধি ।

  3. নিম্নের পোস্টটি “Sreemat Prajna Bongsha Bhiksu” কর্তৃক প্রকাশিত। যিনি একসময় বহু বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের লেখক এবং প্রকাশক ছিলেন।ত্রিপিটকের কিছু অংশ বঙ্গানুবাদও করেছেন। বর্তমানে উনি প্রাশ্চাত্যে অবস্থান করছেন। বর্তমানে উনার দেশনানুসারে ত্রিপিটক হলো ব্রাহ্মাণবাদী ভিক্ষুদের দ্বারা রচিত অতিরঞ্জিত একটা পিঠক। বুদ্ধ কখনো জন্মান্তরবাদের কথা বলেননি? নিম্নে তার একটা উদাহরণ দেয়া হলো। এবার ভান্তে আপনিই বলেন কার কথা বিশ্বাস করব?

    চারি আর্য সত্য ও নির্বাণ কেন কাল্পনিক নয়!
    ***************************************

    মানুষ কাল্পনিকতার আশ্রয় নেয় এক সুখের দিনে; আর এক দুঃখের দিনে।
    গভীর সুখ-দুখে উতকৃষ্ট গল্প- কবিতা, আর ধর্ম-দর্শনের জন্ম হয়।
    অপরদিকে বাস্তব ধর্ম-দর্শন, ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের জন্ম হয় নিরপেক্ষ বিচার – গবেষণায়। তার নাম মধ্য-পন্থা।

    নির্বাণ নামক পরমানন্দময় বোধ শক্তির চরম বিকাশটি রাজ- সন্যাসী সিদ্ধার্থের জীবনে ঘটে ছিল এই মধ্য- পন্থায় গবেষণার মাধ্যমে।
    তাই নির্বাণ হলো, আসক্তি- বিরক্তি মুক্ত, একান্ত নিরপেক্ষ, সজাগ সচেতন উপেক্ষা যুক্ত, সক্রিয় পরম শান্তিময় এক মানসিক অবস্থা।

    এ কারণেই বুদ্ধের দর্শন আর শিক্ষা-উপদেশ সমূহের সাথে বৈজ্ঞানিক গবেষণার কোন বিরোধ নেই।

    বুদ্ধের গবেষণার বিষয় চারি আর্যসত্য হচ্ছে, এই মুহুর্তে মনের সুখানুভূতি বা দুখানুভূতি কে নিয়েই গবেষণাময় জ্ঞান অর্জনের বিষয়। তাই প্রকৃত বুদ্ধ ধর্মে কাল্পনিকতার আশ্রয় একান্ত অবান্তর বিষয়।

    বুদ্ধের জীবনবাদী শিক্খা- উপদেশ হচ্ছে, মানুষের বর্তমান চরিত্র ও মন- মানসিকতার এক পরমানন্দময় পরিবর্তন সাধনের জন্যেই। মরণের পরে কি হবে, না হবে এ নিয়ে মাথা ঝোল করার জন্যে নহে।

    বুদ্ধ প্রদর্শিত আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গের ” সম্মাদিট্ঠি” সম্পন্ন ব্যক্তির বোধ উপলব্ধি এমনই হতে হবে। অন্যথায় বুদ্ধ বিরোধী আলোচনা গবেষণা আর ধারণা বিশ্বাসের চর্চাই চলবে বুদ্ধের নামে।

    1. এখানেও প্রশ্নটা করেছেন দেখছি। ভালো কথা। আমার কথা হচ্ছে, কেউ যখন ত্রিপিটক আসল নাকি নকল তা নিয়ে সন্দেহ করে, তখন তার প্রতি আমার সন্দেহ হয়, সে কি আসলে সত্যিকারের বৌদ্ধ? নাকি নকল বৌদ্ধ? হাজার বছর ধরে কত কষ্ট করে প্রাচীন ভান্তেরা ত্রিপিটককে সযত্নে রক্ষা করে আসছেন। ষষ্ঠ সঙ্গীতিতে ত্রিপিটকধর মিনগুন সেয়াদ, মহাসি সেয়াদসহ থেরবাদী দেশগুলো থেকে কয়েক হাজার ভিক্ষু মিলে ত্রিপিটক, অর্থকথা ও টীকা একসাথে আবৃত্তি করেছেন। সেই ভান্তেরাই হচ্ছেন ভিক্ষুসঙ্ঘ। তারাই হচ্ছেন ত্রিরত্নের অন্য একটি রত্ন। ষষ্ঠ সঙ্গায়নের যে ত্রিপিটক আমরা পেয়েছি সেটা তাদেরই অবদানে। সেই ত্রিপিটককে অবিশ্বাস করা মানে হচ্ছে ভিক্ষুসঙ্ঘকে অবিশ্বাস করা, সন্দেহ করা। তারা যেটাকে ত্রিপিটক বলে জাহির করে বেড়াচ্ছে সেটা যে বুদ্ধবাণী সেটা কতটুকু সত্য? নাকি আমাদের ধোঁকা দিচ্ছে? এরকম হাজারো সন্দেহ তখন মনে এসে বাসা বাঁধে। তার কারণ কী? তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার অভাব, আস্থার অভাব। আমরা তাদেরকে আর বিশ্বাস করতে পারছি না। তাদের কাজের প্রতি আর আস্থা রাখতে পারছি না। সঙ্ঘের প্রতি যদি আমাদের বিশ্বাস না আসে, তাহলে তারা যে বুদ্ধের কথা বলে, ধর্মের কথা বলে, সেই বুদ্ধ আর ধর্মের প্রতি বিশ্বাস আসবে কীভাবে? আমাদের শ্রদ্ধা খুব দুর্বল হয়ে গেছে। শ্রদ্ধাহীন প্রজ্ঞা মানুষকে ছিদ্রান্বেষী করে তোলে। তাদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা খুব কঠিন হয়। তাই আমি আশা করব বুদ্ধের প্রতি, ত্রিপিটকের প্রতি, ভিক্ষুসঙ্ঘের প্রতি আপনাদের আস্থা বাড়বে, শ্রদ্ধা বাড়বে।

      1. ভান্তে বন্দনা। ধন্যবাদ, আপনি আমার মনের কথাই বলেছেন। আমরা যখন কোন কিছুতে সন্দেহ প্রকাশ করি তখন ত্রিপিটকের রেফারেন্স নিয়ে বা জেনে সে সন্দেহ দূরীভূত করি। কিন্তু যেসব দ্বায়ক জন্মান্তরবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলে তারা কিন্তু কোন রেফারেন্স দেখাতে পারে না। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় তখনি যখন বিজ্ঞ ভান্তেরাই জন্মান্তরবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এবং তার চেয়ে বেশি কষ্ট লাগে যখন আপনাদের মতো জ্ঞানীগুনী ত্রিপিটক অনুবাদক ভান্তেরা যখন একটা সময় প্রাশ্চাত্যের চাক্যচিক্য জীবনে অভস্ত্য হয়ে কিছু জ্ঞান বিজ্ঞানের বিদেশি রাইটারের বই পড়ে ত্রিপিটককে ব্রাম্মণবাদ ভান্তেদের দূষণীয় বই বলে প্রচার করে এবং জন্মান্তরবাদকে অস্বীকার করে বলে ইহা বুদ্ধের ভাষিত ধর্ম নয় তখন আমাদের মতো অর্থব দ্বায়কদের সন্দেহ প্রকাশ করাটাই স্বাভাবিক নয় কি???

      2. অনেকের অনেক প্রশ্ন দেখলাম, খুব ভালো লাগলো অনেকের ধর্মের প্রতি জানার আগ্রহ দেখে। কিন্তু কিছু শিক্ষিত মূর্খ আছে যদিও তারা নিজেকে অনেক পণ্ডিত মনে করে আরকি। তাদের সাথে যখন কথা হয় ভগবান বুদ্ধের গাথাগুলো মনে পড়ে। পূজ্য বনভান্তে বলতেন, কাঁটা বনে থাকা কি দু:খ, মূর্খ ব্যক্তিদের সাথে থাকা তার চেয়েও বেশি দু:খ। ভান্তের লেখাটি পড়লাম আসলে সঠিক কথা বলেছেন, কারণ যে মানুষগুলো ত্রিপিটক, ভিক্ষুসংঘ নিয়ে সন্দেহপোষণ করেন তাদেরকে কি বুঝানো সম্ভব নাকি। সে রকম মানুষের সাথে আমারও সাক্ষাৎ হয়েছে, শুধু বলি তোমার জানাতা সঠিক নাও হতে পারে, সুতরাং ত্রিপিটক, বিজ্ঞ ভান্তেদের কাছ থেকে এ বিষয়ে জানলে ভালো হয়, সরাসরি জাননা, বুঝনা বললেতো আবার গরম হয়।
        ব্যক্তিগত বিভিন্ন ঝামেলার কারণে অনেককিছু পড়া হয়না, লেখা হয়না। ভান্তের নিরোগ, দীর্ঘায়ু সবসময় কামনা করি। ধর্মের শ্রীবৃদ্ধির জন্য ভান্তের জ্ঞান প্রসারিত হোক এ প্রার্থনা করছি।

  4. বন্দনা ভান্তে। আশা করি ভালো আছেন। আমার প্রশ্ন হলো জ্ঞাতীদের উদ্দেশ্য পূণ্য দানের গাঁথাটি কি বুদ্ধ কতৃক সৃষ্ট? বুদ্ধ কর্তৃক সৃষ্ট হলে কখন, কোথায় এবং কি উদ্দেশ্যে বুদ্ধ গাঁথাটি উপস্থাপন করেছিলেন? কারণ কিছুদিন আগে এক ভান্তের কাছ থেকে জানতে পারি মৃত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে নাকি দান দেওয়া বুদ্ধ নির্দেশিত নয়। আশা করি ভান্তে সঠিকটা ত্রিপিটকের আলোকে ব্যাখা করবেন।

  5. ভান্তে, বন্দনা।
    ১. বুদ্ধের ৮২হাজার এবং বুদ্ধের শিষ্যদের যেই ২হাজার ধর্মস্কন্ধগুলো বর্তমানে
    আমরা ত্রিপিটকে দেখি তা যে প্রকৃতপক্ষেই বুদ্ধ এবং বুদ্ধের শিষ্যদের, এর সুনিশ্চিত প্রমাণ কী?

    কারো কথায় সম্পূর্ণ ভরসা না করে অথবা প্রত্যাখ্যান না করে ধর্ম এবং বিনয়ের সাথে মিলে গেলেই তারপর সেটাকে ধর্ম এবং বিনয় হিসেবে গ্রহণ করার যেই উপদেশ বুদ্ধ ভগবান দিয়েছেন বলে আমরা ত্রিপিটকে জানতে পারি, বর্তমানে পুস্তক হিসেবে পাওয়া সেই পালি ত্রিপিটক যে ১ম সংগীতিতে সংকলিত ত্রিপিটকের মত সম্পূর্ণ পরিপূর্ণ পরিশুদ্ধ অবিকৃত অবস্থায় আছে, এটি কীভাবে-কোন কারণে-কোন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব?

    ২. স্কন্ধ কীভাবে গণনা করা হয়? বুদ্ধের শিষ্যদের যেই ২হাজার ধর্মস্কন্ধ সংকলন করা হয়েছে, এর মধ্যে কোন শিষ্যের কয়টি এবং সেগুলো কী কী?

    ৩. ৬ষ্ঠ সংগীতিতে সংগায়ন করা মূল ত্রিপিটক এবং অর্থকথাসহ সম্পূর্ণ পালি পিটকের প্রতিটি শব্দের সঠিক বাংলা অর্থসহ ব্যাখ্যা কোথায় জানা যাবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *