আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

বার্মার ইতিহাসে তান্ত্রিক ভিক্ষুদের কথা

আমাদের ইতিহাসের ক্লাস করাচ্ছেন ড. খিন মাওন নিওত। বয়স ৯০ বছর হয়ে গেল। তাই তাকে ধরে ধরে ক্লাসে এনে বসিয়ে দিতে হয়। তিনি তার বয়স জানিয়ে দেন তিনটা আঙুল উঁচিয়ে, অর্থাৎ ৯০ বছর ৩ সপ্তাহ! সম্প্রতি তিনি বাগান নামক শহরের ইতিহাসের ব্যাপারে পড়ানো শুরু করেছেন।

মায়ানমারে থেরবাদী বৌদ্ধধর্মের বিকাশ ঘটে এই বাগান শহরে। ১০৪৪ খ্রিস্টাব্দে রাজা আনরথ বাগানের সিংহাসনে আরোহণ করেন। তখন থেকে তিনি এই বাগান শহরটাকে শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত করে তোলেন। সেই সময়েও বাগানে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বসবাস ছিল। সেখানে দুধরনের ভিক্ষু ছিল- শহুরে ভিক্ষু এবং অরণ্যচারী ভিক্ষু। অরণ্যচারী ভিক্ষুরা নাকি সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিল। তারা বনে জঙ্গলে থাকলে কী হবে, বিনয়ের নিয়ম নীতি খুব কমই মানত। বেশিরভাগ অরণ্যচারী ভিক্ষু তখন একধরনের জঘন্য বৌদ্ধধর্ম চর্চা করত, যেটা ছিল মহাযানী বৌদ্ধধর্ম, প্রকৃতিপূজা এবং স্থানীয় কুসংস্কারমূলক আচার অনুষ্ঠানের মিশ্রণ। তারা ব্যবসাবাণিজ্য করত, টাকাপয়সা চড়া সুদে ধার দিত, বিয়ে ও মঙ্গল অনুষ্ঠানে আশীর্বাদের বিনিময়ে ফি নিত। ব্রহ্মচর্য লঙ্ঘন করে অনেকেই বিয়ে করে পরিবার পালন করত।

তাদের লক্ষ্য থাকত অলৌকিক শক্তি, দীর্ঘায়ু ও দীর্ঘ যৌবন, দেহকে যেকোনো ধরনের অস্ত্র থেকে সুরক্ষা, সকল বিপদ আপদ থেকে সুরক্ষা ইত্যাদি। তাই তারা গুপ্তবিদ্যা, কালোবিদ্যা বা ব্ল্যাক ম্যাজিক, হিন্দু দেবদেবীদের পূজা করত প্রচুর পরিমাণে। এই বৌদ্ধভিক্ষুরা যদিও অরণ্যচারী ছিল, তবুও তারা নীতিভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছিল। অরণ্যচারী থেকে তাদের নাম হয়ে যায় আরি ভিক্ষু। প্রকৃত ধর্মচর্চা না করে এই আরি ভিক্ষুরা এভাবে কুসংস্কারমূলক আচার অনুষ্ঠান ও গুপ্তবিদ্যা নিয়ে মেতে থাকত।

কিন্তু ১০৫৩ খ্রিস্টাব্দে সুবর্ণভূমি (বর্তমানে মায়ানমারের মুন প্রদেশ) থেকে শিন অর্হন নামের এক ভিক্ষু এসে বাগানে থেরবাদী বৌদ্ধধর্মের সূচনা করেন। রাজা আনরথ ও তার পরিষদবর্গ সবাই বিশুদ্ধ থেরবাদী বৌদ্ধধর্মকে গ্রহণ করে নেন। শিন অর্হন দেখলেন বাগানে কোনো ত্রিপিটক নেই। তিনি রাজাকে বলেন ত্রিপিটকের গুরুত্বের কথা। তা শুনে রাজা আনরথ এক সেট ত্রিপিটকের জন্য উপঢৌকনসহ দূত পাঠান সুবর্ণভূমির রাজদরবারে। সুবর্ণভূমিতে তখন ৩০ সেট ত্রিপিটক ছিল। কিন্তু একটা সেটও দেয়া হলো না। রাজদূত ফিরে এল খালিহাতে। রাজা আনরথ তখন রেগেমেগে তার বিশাল শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে সুবর্ণভূমি আক্রমণ করলেন। সুবর্ণভূমি জয় করে তিনি সেখানকার রাজা ও রাজপরিবারের সবাইকে ধরে নিয়ে আসেন বাগানে। সাথে ৩৩টি সাদা হাতির পিঠে করে নিয়ে আসেন ত্রিপিটকের সবগুলো সেট, অন্যান্য বৌদ্ধ গ্রন্থাবলী ও পবিত্র ধাতুগুলো। আরো ধরে নিয়ে আসেন সেখানকার সকল কারিগর, কারুশিল্পী ও ধর্ম প্রচারক বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে।

কারিগর ও কারুশিল্পীরা বাগানের স্থাপনাগুলো গড়ে তুলল। এদিকে শিন অর্হন নতুন আসা থেরবাদী ধর্মপ্রচারক বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে নিয়ে থেরবাদের প্রচারে নামলেন। রাজ্যের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ল থেরবাদের কথা। প্রচলিত কুসংস্কার ও জঘন্য বৌদ্ধধর্মকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিতে রাজা আনরথ শক্ত হাতে উঠেপড়ে লাগলেন। আরি ভিক্ষুদেরকে হয় রাজ্য থেকে পালাতে হলো, নয়তো চীবর খুলে নিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হলো। পশুবলি ও দেবদেবীর পূজা একদম নিষিদ্ধ হলো। ঘরে ঘরে দেবদেবীর পরিবর্তে বুদ্ধমূর্তি স্থান করে নিতে লাগল। জনগণকে পঞ্চশীল পালন করতে বলা হলো। ত্রিপিটকের সেটগুলোকে একটা বিহারে রাখা হলো। সেখান থেকে কপি করে করে অন্যান্য স্থানের বিহারগুলোতে পাঠানো হলো। তখন বাগানে সর্বপ্রথম পরিয়ত্তি স্কুল বা বৌদ্ধধর্ম শিক্ষার স্কুল স্থাপিত হয়, যেটার ধ্বংসাবশেষ নাকি এখনো আছে। এভাবে থেরবাদী বৌদ্ধধর্মের আগমনে এই আরি ভিক্ষুদের দাপট কমে গেলেও অনেকেই ভোল পাল্টে আবার থেরবাদী ভিক্ষু হিসেবে সেগুলোর চর্চা চালিয়ে যেতে থাকে। একারণেই আমরা বহু বিখ্যাত ভিক্ষুর কথা জানি যারা এসব অপবিদ্যার সাথে সম্পৃক্ত।

তবে বর্তমানে মায়ানমারের সঙ্ঘ মহানায়ক সেয়াদগণ এসব ব্যাপারে একদম কট্টর হয়ে গেছেন। তাই ভিক্ষুরা সেগুলো আগের মতো প্রকাশ্যে চর্চা করতে পারে না। এর উদাহরণ দিতে গিয়ে ড. নিওত বললেন, কয়েক বছর আগে নাকি জাপানের কয়েকজন মহাযানী ভিক্ষু প্রস্তাব দিয়েছিল, তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধকালীন সময়ে আগ্রহী ছাত্রছাত্রীদেরকে কুংফু কারাতে জাতীয় কী যেন শেখাতে চায়। ব্যাপারটা রেক্টর সেয়াদের কানে গেল। রেক্টর সেয়াদ হলেন মায়ানমারের খুব বিখ্যাত সেয়াদ। নাম তার ড. নন্দমালাভিবংশ। তিনি শুনলেন কোন মহাযানী ভিক্ষু নাকি কুংফু কারাতে শেখাতে চায় তার বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি সোজা ড. নিওতকে ডেকে পাঠালেন। তাকে ডেকে জানিয়ে দিলেন, এটা থেরবাদী বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে শুধু থেরবাদ শেখানো হবে। এর বাইরে অন্য কিছু নয়। এভাবে এখনকার সেয়াদগণ এসব তন্ত্রমন্ত্রের ব্যাপারে খুব কট্টর হয়ে গেছেন মনে হচ্ছে।

তবে ড. নিওত জানালেন, এগুলো এখানকার ভিক্ষুদের মধ্যে কমে গেছে বটে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে নাকি অনেকেই এগুলো এখনো চর্চা করে থাকে। আর তার হাবভাবে মনে হলো, ভিক্ষুরা একটু আধটু সেগুলো করলে তিনি কোনো মাইণ্ড করেন না। কারণ সেগুলোও মাঝে মধ্যে কাজে লাগে! তিনি একটা উদাহরণ দিলেন এভাবে। সেই ১০০০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি কোনো এক সময়ে বাগানে একবার চাইনিজ আর্মি এসে হানা দিয়েছিল। তারা সাথে করে নিয়ে এসেছিল কুংফু কারাতের ওস্তাদ বীরদেরকে। তারা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল বার্মিজদের উদ্দেশ্যে। তোমাদের মধ্যে কোনো বীর থাকলে এদের সাথে যুদ্ধ কর। এদেরকে হারাতে পারলে তো বেঁচে যাবে। কিন্তু হেরে গেলে আমাদের বশ্যতা স্বীকার করতে হবে। বার্মার রাজা ভাবলেন, এ আর এমন কঠিন কী। আমাদের কত কত বীর পালোয়ান যোদ্ধা আছে। তিনি একে একে বহু পালোয়ানকে ডেকে পাঠালেন। কিন্তু কেউই চাইনিজ কুংফু গুরুদের সাথে পেরে উঠল না। রাজা এবারে ভয় পেয়ে গেলেন। শেষমেষ কি চাইনিজদের হাতে রাজত্ব গছিয়ে দিতে হবে নাকি?

রাজার এমন সংকটে পড়ার কথা শুনল এক বুড়ো আরি ভিক্ষু। সে ভাবল, আমার মতো বিদ্যাধর ভিক্ষু থাকতে যদি আমাদের রাজ্য ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে তো মুশকিল। তাই সে রাজার অনুমতি নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে নেমে চীবর খুলে ফেলল। তার সারা গায়ে মন্ত্রপুত উল্কি আঁকা। চাইনিজ কুংফু গুরু তো তাকে দেখে হেসে বাঁচে না। এত এত তাগড়া জোয়ান ধরাশায়ী হয়ে গেল আমাদের কুংফুর সামনে। এই ৬০ বছরের বুড়ো কী করবে? কিন্তু বুড়ো ভিক্ষুটা দুই হাতে দুই বাহু চাপড়ে আহ্বান জানালো, আসো দেখি, কেমন লড়তে পার। কুংফু গুরু জোরে একটা লাথি মারতে গেল। কিন্তু বুড়ো ভিক্ষুটা হাত দিয়ে কেবল ঝাঁকি দিল মাত্র। অমনি কুংফু গুরু ছিটকে পড়ে গেল। আর উঠে দাঁড়াতে পারল না। বার্মার রাজ্য আপাতত রক্ষা পেল। আর একারণেই মনে হয় ড. নিওত এখনো বিদ্যাধর ভিক্ষুদের প্রতি সহানুভূতিশীল।

এখানে সেয়াদ ও গৃহী লোকজনের দৃষ্টিভঙ্গীর মধ্যে একটু ব্যবধান দেখলাম। সেয়াদগণ বিশুদ্ধ থেরবাদকে রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। এদিকে গৃহী লোকজন সে ডক্টর হোক বা যেই হোক, তাদের কাছে থেরবাদ বড় বিষয় নয়। তারা ভেল্কিবাজি দেখতে পেলেই খুশি।

5 thoughts on “বার্মার ইতিহাসে তান্ত্রিক ভিক্ষুদের কথা

  1. উপকৃত হলাম ভান্তে। প্রণাম রইলো।🙏🏾🙏🏾🙏🏾

  2. বন্দনা ভান্তে, দান এবং দানের ফল নিয়ে একটি বিস্তারিত লেখনি লেখার জন্য অনুরোধ করছি। যাহাতে সবার উপকার হয়।

    1. আচ্ছা, দান নিয়ে লেখার ব্যাপারটা আমি লিস্টে রেখে দিলাম। সময় পেলে লিখব এব্যাপারে।

      1. সাধু ৩ ভান্তে। আশা করি দান এবং দানের ফল নিয়ে নতুন কিছু জানতে পারবো। কারন দান নিয়ে অনেকে অনেক কিছু লেখেন। তাও তাদের এই বিষয়ে স্টাডি খুব কম। অর্থাৎ মান সম্মত লেখা লিখতে পারেন না, এবং প্রঞ্জালন ভাষায় লিখতে জানেন না তারা। সেজন্য সবাই পুরোপুরি বুঝতে পারেন না। চাকমা চিক্কোর দান নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখেছেন, কেন জানি আমার মনপুতো হয়নি। আমি তার লেখনি কপি করে এখানে কমেন্ট করবো একটু পড়ে দেখবো। যেমন তিনি অনেক বিষয় এড়িয়ে গেছেন।

        1. Changma Chikko
          বৌদ্ধ দর্শনে দান কী এবং কেন?
          =========================
          বৌদ্ধ দর্শন মতে ফল পাওয়ার আশায় দান দিলে সেটা দান হয় না। দান উৎসর্গ করার সময় পালি ভাষায় বলা হয়- “ইদং মে দানং আসবক্ষয় বহং হোতু” অর্থাৎ এই দানের ফলে আমার সকল প্রকার আসক্তি ক্ষয় হোক। সুতরাং দান দেওয়ার উদ্দেশ্য দুঃখের কারণ আসক্তি ক্ষয় করা, কোন কিছু পাওয়ার আশা করা নয়। দানকে লোভ নামক অসুখের ঔষুধ বলা হয়। সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত দান করা মানে মনের লোভচিত্তকে ত্যাগের দ্বারা ধীরে ধীরে ক্ষয় করা। সাধারণত দেখা যায় প্রিয় ব্যক্তি বা প্রিয় জিনিস হারানো বা কাক্ষ্কিত জিনিস না পাওয়ার বেদনায় তারাই বেশি কষ্ট পায় যাদের ত্যাগ চর্চা কম বা নেই। কষ্টের এ কারণকে আসব বা আসক্তি বলা হয়। আসক্তির অংশ লোভ নামক অসুখকে দান নামক ঔষুধ দিয়ে ধীরে ধীরে ক্ষয় করার জন্য দান চর্চা করতে হয়। এছাড়াও দশ প্রকার পারমীর প্রথম পারমী হচ্ছে দান। দান পারমী চর্চা থেকেই পারমী পূরণের যাত্রা শুর হয়। কাজেই কোথায় দান দিলে বেশি পূণ্য হবে বা ফল হবে সে চিন্তা এক প্রকার অপ্রাসঙ্গিক। বরং কোন বিহারে দান দিলে বা কোন ভান্তেকে দান দিলে বেশি ফল পাব আর কোথায় দান দিলে ফল কম পাব এরকম চিন্তা দান পারমী পূরণের পথে অন্তরায়। লোক দেখানো দান দেওয়া কিংবা দান দিয়ে ফলের প্রত্যাশা করলে বরং নতুন ভব আসক্তি উৎপন্ন হয়। দানের মাধ্যমে পূণ্যের আশা বা স্বর্গ সুখের আশা করাও আসক্তি যা সকাম কর্মের অন্তর্ভুক্ত। সকাম কুশলকর্মের ফলও ভোগ করতে হয়। তাই সে অর্থে কুশলকর্মও কাম্য হতে পারে না। একমাত্র নিষ্কাম কুশল কর্মই কাম্য যার কোন ফল নেই। অর্হৎগণ নিষ্কাম কুশল কর্ম সম্পাদন করেন। কিন্তু নিষ্কাম কর্ম অর্হৎ ব্যতিত সাধারণ পুদ্গলের দ্বারা সম্পাদন সম্ভব নয়। তাই আপাতত কুশল কর্মই কাম্য। দান এ কুশলকর্মের অংশ যা আবার ধীরে ধীরে নিষ্কাম কর্মের দিকেও ধাবিত করে। সুতরাং পূণ্যলাভের আশায়ও দানকর্ম সম্পাদন অনুচিত। তবে হ্যাঁ দানের ক্ষেত্রে পাত্র বিবেচ্য। সেটা কি রকম? যেমন- আপনার দান গ্রহীতার কোন কাজে আসছে কিনা। ধরুন, আপনার সামর্থ্য কম বিধায় আপনি ১০ টাকা দান করার সামর্থ্য রাখেন। সেক্ষেত্রে সেই দশ টাকা আপনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ধনি বিলগেটসকে দিতে পারেন আবার কোন ভিক্ষুককেও দিতে পারেন। ভিক্ষুকের তুলনায় বিলগেটসের সম্পদের অভাব নেই। তাই তার কাছে আপনার দশ টাকা দান তেমন কাজে আসবে না। কিন্তু আপনি যদি কোন ভিক্ষুককে দেন তখন সেই দশ টাকা দিয়ে ভিক্ষুক খাদ্য ক্রয় করে খেতে পারবে। এতে আপনার দান কাজে আসল। এটাই সদ্ পাত্র। সদ্ পাত্র অর্থ উপযুক্ত পাত্র বা কালিক পাত্র। অর্থাৎ যেখানে আপনার সামর্থ্যের মধ্যে দেয়া দানটি কাজে আসবে। এজন্য এ দানকে কালের দানও বলা হয়। এ দানে ভিক্ষুকের দুর্গতি যেমন খন্ডন হল তেমনি আপনার আসক্তিও কিছুটা কমল যা দান পারমী পূরণের পথে আরো কিছু ধাপ পার হলেন নিব্বানের পথে। দানের মাহাত্ম্য এখানেই এবং এভাবে। অতি সংক্ষেপে এটাই দানের কথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *