আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

পঞ্চ অন্তরায়কারী বিষয় কোনগুলো?

আজ থেকে চারদিন ধরে ক্লাস ছুটি। নবীনবরণ হবে, সমাবর্তন হবে। তাই একটু রিলাক্স মুডে আছি। দুয়েকটা লেখালেখি করা যেতে পারে এই সময়ে। আমাদের সুত্রপিটকের এক শিক্ষক অলগদ্দূপম সুত্র থেকে পড়ানো শুরু করেছেন। সেটা নিয়ে অর্থকথায় একটু খোঁজ নিয়েছি। সেখানে প্রথমেই পাঁচটি অন্তরায়কর বিষয় সম্পর্কে বলা হয়েছে। তবে সেখানে খুব সংক্ষেপে বলা হয়েছে। তাই আমি বিনয় ও সুত্র পিটক এবং অর্থকথা ও টীকা থেকে ঘেঁটেঘুঁটে তথ্য সংগ্রহ করে এখানে বিস্তারিত লিখলাম। আমার পুরনো পোস্টগুলো থেকেও কিছুুটা সাহায্য নিয়েছি। আশা করি অনুসন্ধিৎসু পাঠকদের উপকারে আসবে লেখাটি।

এখানে অন্তরায়কারী বিষয় (অন্তরাযিকা ধম্মা) মানে হচ্ছে ইহজন্মে নির্বাণ বা মার্গফলের অন্তরায় বা বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং মরণের পরে স্বর্গে জন্মানোর পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় এমন বিষয়। সেই বিষয়গুলো কী কী? সেগুলো হচ্ছে- কর্ম অন্তরায়, ক্লেশ অন্তরায়, বিপাক অন্তরায়, অপবাদ অন্তরায়, আদেশ লঙ্ঘন অন্তরায়।

১) কর্ম অন্তরায়

এগুলোর মধ্যে কর্ম অন্তরায় হচ্ছে পাঁচ প্রকার আনন্তরিক কর্ম, অর্থাৎ পিতৃহত্যা, মাতৃহত্যা, অর্হৎ হত্যা, সঙ্ঘভেদ এবং বুদ্ধের দেহ থেকে রক্তপাত করা। এগুলো করলে ইহজন্মে মার্গফলের আশা করা বৃথা। মরণের পরে সে চলে যাবে সোজা নরকে। উদাহরণস্বরূপ অজাতশত্রু যদি তার পিতা বিম্বিসারকে হত্যা না করতেন তাহলে এক দেশনা শুনেই মার্গফল লাভ করতে পারতেন। তার সেরকম পারমী পরিপূর্ণ ছিল। কিন্তু পিতৃহত্যা করার ফলে সেই কর্ম তার মার্গফলের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একারণে মরণের পরেও তার স্থান হয়েছে নরকে। সারত্থদীপনী টীকা বলছে, কোনো ছাগলকে মেরে ফেলতে গিয়ে যদি ছাগলের স্থানে দাঁড়ানো মানুষকে হত্যা করে, সেই মানুষটি যদি তার পিতা বা মাতা হয়, অথবা অর্হৎ হয়, তাহলেও আনন্তরিক কর্ম হয়। (সার.দী.টী.৩.১১২)

সঙ্ঘভেদ করাটা দুধরনের হয়- ধর্মত এবং অধর্মত সঙ্ঘভেদ। ধর্মত সঙ্ঘভেদ করলে সেটা আনন্তরিক কর্ম হয় না। উদাহরণস্বরূপ কৌশাম্বীতে সঙ্ঘভেদকারী উভয় দলই মনে করেছিল তারা ধর্মের সপক্ষে আছে। সেটা ছিল ধর্মত সঙ্ঘভেদ। কিন্তু দেবদত্ত জেনেশুনে বুদ্ধের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করে দিয়েছিল। নতুন ভিক্ষুদেরকে আলুকচু বুঝিয়ে নিজের সপক্ষে নিয়ে এসেছিল। তাদের নিয়ে সে আলাদা করে বিনয়কর্ম করেছিল। সেটা হয়েছিল অধর্মত সঙ্ঘভেদ। সেটা হয়েছিল আনন্তরিক কর্ম। (কৌশাম্বীর সঙ্ঘভেদের বিস্তারিত জানতে দেখুন বিনয়পিটকের মহাবর্গের ১০ম অধ্যায়ে। দেবদত্তের সঙ্ঘভেদের বিস্তারিত জানতে দেখুন বিনয়পিটকের চুল্লবর্গের ৭ম অধ্যায়ে।)

বুদ্ধের দেহ থেকে রক্তপাত করাটা আনন্তরিক কর্ম হয়ে দাঁড়ায় যদি সে হিংসামনে সেরকম কাজ করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ দেবদত্ত রাজগীরের গিজ্ঝকূট পর্বত থেকে বুদ্ধের উপর পাথর ফেলে দিয়েছিল। পাথরটা বুদ্ধের উপর পড়ে নি ঠিকই, কিন্তু ছোট্ট একটা পাথরের টুকরো এসে বুদ্ধের পায়ে আঘাত করেছিল। রক্ত বের হয়েছিল বুদ্ধের পা থেকে। সারত্থদীপনী টীকামতে, এখানে রক্ত বের হয়েছিল কথাটার অন্য মানে আছে। বুদ্ধের শরীরকে কোনো অস্ত্র দিয়ে ভেদ করা যায় না। তাই পাথরের আঘাতে বুদ্ধের পায়ে কোনো ক্ষত হয় নি বটে, তবে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল, যন্ত্রণাময় ফোসকা পড়ে গিয়েছিল। সেটাই দেবদত্তের আনন্তরিক কর্ম হয়েছিল। অন্যদিকে বৈদ্য জীবক এসে বুদ্ধের পায়ে অস্ত্রোপচার করে সেই দূষিত রক্তকে বের করে দিয়েছিল। সেটা জীবকের জন্য আনন্তরিক কর্ম নয়, বরং মহাপুণ্যকর্ম হয়েছিল। (সার.দী.টী.৩.১১৫)

এছাড়াও জোর করে কোনো ভিক্ষুণীর শ্লীলতাহানি করলে সেটাও কর্ম অন্তরায় হয়ে যায়। কিন্তু তা ইহজন্মে মার্গফলের বাধা হয়ে দাঁড়ায় মাত্র, মরণের পরে স্বর্গে উৎপন্নের পথে বাধা হয় না। তবে সারত্থদীপনী টীকা বলছে, মার্গফল লাভী ভিক্ষুণীর শ্লীলতাহানি করলে নরক ছাড়া তার গতি নেই। উদাহরণস্বরূপ বুদ্ধের অগ্রশিষ্যা উৎপলবর্ণার শ্লীলতাহানি করেছিল নন্দ নামের এক তরুণ। তার গতি হয়েছে সোজা নরকে।

২) ক্লেশ অন্তরায়

কর্ম অন্তরায়ের কথা তো গেল। এবারে আসা যাক ক্লেশ অন্তরায়ের আলোচনায়। ক্লেশ অন্তরায় বলতে বুঝায় নিয়ত মিথ্যাদৃষ্টিকে, অর্থাৎ নাস্তিক্যবাদ, অহেতুকবাদ ও অক্রিয়বাদকে।

নাস্তিক বা নাস্তিক্যবাদী কারা? যারা মনে করে দানের ফল নেই, পিতামাতাকে সেবাপূজা করার ফল নেই, স্বর্গনরক নেই, দেবতা নেই। ফলে তারা নিজেরাও দান দেয় না, অন্যদেরকেও দান করতে বারণ করে। এভাবে তারা ফলকে অস্বীকার করে এবং চরম বস্তুবাদী ও ভোগবাদী হয়ে ওঠে। এরাই হচ্ছে নাস্তিক বা চরম বস্তুবাদী।

অহেতুকবাদী কারা? যারা মনে করে ধনী বা গরীব ঘরে জন্মানো, সুন্দর বা বিশ্রী হয়ে জন্মানো ইত্যাদি সবই হচ্ছে নিয়তির লিখন, বা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা। এদেরকে বলা হয় অহেতুকবাদী বা অকারণবাদী। ধনী বা গরীব পরিবারে জন্মানো, সুন্দর বা বিশ্রী হওয়া ইত্যাদির পেছনে যে অতীতের কর্মগুলো কারণ হিসেবে কাজ করে, সেটা তারা বিশ্বাস করে না।

অক্রিয়াবাদী কারা? যারা মনে করে পাপ পুণ্য বলতে কিছু নেই। প্রাণিহত্যা করলে পাপ হয় না। দান করলে পুণ্য হয় না। এভাবে এরা কর্মে বিশ্বাস করে না। এদেরকে বলা হয় অক্রিয়াবাদী।

এভাবে এই তিনটি ভুল ধারণা হালকাভাবে বিশ্বাস করলে হয় অনিয়ত মিথ্যাদৃষ্টি। কিন্তু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করলে সেটা হয় নিয়ত মিথ্যাদৃষ্টি বা গভীর মিথ্যাদৃষ্টি।  এমন গভীর মিথ্যাদৃষ্টি নিয়ে থাকলে তা ইহজন্মে স্বর্গ ও নির্বাণের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। মরণের পরে নরকেই হয় তার গন্তব্য।

৩) বিপাক অন্তরায়

পণ্ডক (হিজড়া, সমকামী ও বিকৃত যৌনরুচির ব্যক্তিরা), উভয়লিঙ্গ ব্যক্তি এবং  ইতর প্রাণি হিসেবে জন্ম হলে সেটা হয় বিপাক অন্তরায়। তারা জন্মগতভাবে অহেতুক প্রতিসন্ধি চিত্ত নিয়ে জন্মে থাকে। যেকারণে তা ইহজন্মে মার্গফল ও নির্বাণ লাভের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আজীবন চেষ্টা করলেও তারা মার্গফল লাভ করতে পারে না। বুদ্ধের সময়ে এক নাগ এসে ভিক্ষু হতে চেয়েছিল। কিন্তু বুদ্ধ তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। পারিলেয়্য হাতিকেও বুদ্ধ বলেছিলেন এই জন্মে তার কিছু করার নেই। তবে পুণ্যকর্ম করলে তাদের জন্য স্বর্গের দ্বার খোলা থাকে অবশ্যই।

৪) অপবাদ অন্তরায়

আর্যগণকে নিন্দা করলে বা অপবাদ দিলে সেটা হয় অপবাদ অন্তরায়। কেউ যদি বুদ্ধ, পচ্চেকবুদ্ধ, বুদ্ধের মার্গফল লাভী কোনো শিষ্য, এমনকি গৃহী স্রোতাপন্নকেও যদি হিংসামনে নিন্দা করে থাকে অথবা তাদের গুণ ধ্বংসের জন্য মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাকে সেটা তখন অপবাদ অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

টীকামতে, মাবাবা যেভাবে সন্তানদের মঙ্গলের উদ্দেশ্যেই বকাবকি করে, অথবা গুরুজন বা শিক্ষক যেমন ছাত্রদের মঙ্গলের উদ্দেশ্যেই তর্জন গর্জন করে সেরকম মঙ্গলাকাঙ্খী না হয়ে হিংসামনে নিন্দা করে বলে, ‘এদের ভিক্ষুত্ব বলতে কিছু নেই। এরা ভিক্ষু নয়’, অর্থাৎ এদের শীল বলতে কিছু নেই, সংযম বলতে কিছু নেই। এরা ভিক্ষু নয়। এভাবে যদি কেউ তাদের শীল ও সংযমকে অস্বীকার করে থাকে। অথবা যদি বলে, ‘এরা কোনো ধ্যান লাভ করে নি, মার্গফল লাভ করে নি, অর্হৎ নয়’ তাহলে তাদের গুণকে অস্বীকার করে থাকে। এভাবে জেনে হোক বা না জেনে হোক, আর্যব্যক্তিকে এরকম নিন্দা করলে সেটা অপবাদ অন্তরায় হয়ে যায়। সেটা খুব গুরুকর্ম হয়ে যায়। সেটা ইহজন্মে মার্গফল লাভের বাধা হয়, মরণের পরেও তার স্থান হয় নরকে। কিন্তু ক্ষমা প্রার্থনা করলে তখন সেটা কাটিয়ে ওঠা যায়। উদাহরণস্বরূপ পারাজিকা অর্থকথায় দুই ভিক্ষুর কাহিনী আছে।

সেই দুই ভিক্ষু নাকি পিণ্ডচারণে বেরিয়ে প্রথমেই পেয়েছিল বড় এক চামচ যাগু। বুড়ো ভিক্ষুটির পেটে গণ্ডগোল হয়েছিল। গরম যাগু খেলে পেটের জন্য উপকার হবে। এই ভেবে সে সেখানে বসেই সেই যাগু পান করল। তরুণ ভিক্ষুটি মনে মনে বলল, ‘এই বুড়োটার দেখছি খুব খিদে লেগেছে। আমাদেরকে লজ্জা দেয়ার মতো কাজ করেছে।’ কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলল না। বুড়ো ভিক্ষুটি কিন্তু ঠিকই জানতে পারল তরুণ ভিক্ষুটির মনের কথা। বিহারে ফিরে সে তরুণ ভিক্ষুটাকে জিজ্ঞেস করল, ‘বুদ্ধশাসনে পা রাখতে পেরেছ তো?’ তরুণ ভিক্ষুটি জানালো, হ্যাঁ ভান্তে। আমি স্রোতাপন্ন। তখন বুড়ো ভিক্ষুটি বলল, তাহলে তোমার আর উচ্চতর মার্গফলের চেষ্টা করেও লাভ হবে না। কারণ তুমি একজন অর্হৎকে নিন্দা করেছ। তরুণ ভিক্ষুটি তা শুনে তাড়াতাড়ি ক্ষমা প্রার্থনা করল। এতে তার অপবাদ অন্তরায় কেটে গেল। (পারা.অ. ১৩)

তাই আমাদের কখনোই কাউকে নিন্দা করা উচিত নয়। আপনি যাকে নিন্দা করছেন সে হয়তো আর্য ব্যক্তি হতে পারে। তখন তো সেটা আর্যনিন্দা হয়ে যেতে পারে। ক্ষমা প্রার্থনা না করলে তার স্থান তো সোজা নরকে।

৫) আদেশ লঙ্ঘন অন্তরায়

ভিক্ষুদের উদ্দেশ্যে বুদ্ধ সাত প্রকার আইন বেঁধে দিয়েছেন, যেগুলোকে বলা হয় সপ্ত আপত্তি স্কন্ধ বা সাত প্রকার অপরাধ। সেগুলো বেশিরভাগই হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা জাতীয়, অর্থাৎ এটা করতে পারবে না, সেটা করতে পারবে না ইত্যাদি। সেগুলো হচ্ছে ভিক্ষুদের জন্য বুদ্ধ কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ। কোনো ভিক্ষু যদি সেগুলো লঙ্ঘন করে তাহলে তার সেটা বুদ্ধের আদেশ লঙ্ঘন করার মতো হয়। সেটা তখন তার জন্য ইহজীবনে মার্গফল লাভের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি মরণের পরে তা স্বর্গেরও বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

একারণেই সঙ্ঘের টাকায় নির্মিত কুটির বা বিহারে বা ভাবনাকেন্দ্রে পা দিলেই ভিক্ষুর পদে পদে দুক্কট অপরাধ হয়। আর্যমার্গলাভী ভিক্ষু যদি সেখানে মারা যায় তাহলে সে নরক থেকে রেহাই পায় বটে, কিন্তু পৃথকজন বা সাধারণ ভিক্ষু সেখানে মারা গেলে স্বর্গে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। হয় সে তির্যক কুলে জন্ম নেবে, এরকপত্ত নাগরাজার মতো, অথবা সোজা নরকে চলে যাবে।

উদাহরণস্বরূপ পাচিত্তিয় অর্থকথায় বলা হয়েছে, সঞ্চিচ্চ আপন্না আপত্তিযো আণাৰীতিক্কমন্তরাযিকা নাম, তাপি যাৰ ভিক্খুভাৰং ৰা পটিজানাতি, ন ৰুট্ঠাতি ৰা ন দেসেতি ৰা তাৰদেৰ, ন ততো পরং। (পাচি.৪১৭)  – অর্থাৎ জেনেশুনে অপরাধ করলে সেটা আদেশ লঙ্ঘন অন্তরায় হয়। সেটাও ভিক্ষু হিসেবে থাকলে, অথবা অপরাধের প্রতিকার না করলে, অথবা আপত্তি দেশনা বা অপরাধ স্বীকার না করলে। ভিক্ষু হিসেবে না থাকলে, অথবা অপরাধের প্রতিকার করলে, অথবা আপত্তি দেশনা করলে সেটা আর বাধা হয় না।

এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সারত্থদীপনী টীকা বলছে-সঞ্চিচ্চ ৰীতিক্কন্তঞ্হি অন্তমসো দুক্কটদুব্ভাসিতম্পি সগ্গমগ্গফলানং অন্তরাযং করোতি। যাৰ ভিক্খুভাৰং পটিজানাতি পারাজিকং আপন্নো, ন ৰুট্ঠাতি সেসগরুকাপত্তিং আপন্নো, ন দেসেতি লহুকাপত্তিং আপন্নো। (সা.দী.টী.৩-৪১৭)- অর্থাৎ এমনকি জেনেশুনে দুক্কট বা দুর্ভাষিত জাতীয় অপরাধ করলেও সেটা ইহজন্মে মার্গফলের বাধা হয়, মরণের পরে স্বর্গে জন্মানোর পথেও বাধা হয়। ভিক্ষু হিসেবে থাকলে মানে হচ্ছে পারাজিকাপ্রাপ্ত ভিক্ষু যতক্ষণ পর্যন্ত চীবর ত্যাগ না করে, ভিক্ষু হিসেবে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত। চীবর ত্যাগ করলে সেটা আর তার স্বর্গ অথবা মার্গফলের বাধা হয় না। অপরাধের প্রতিকার না করলে মানে হচ্ছে সঙ্ঘাদিশেষ আপত্তির জন্য পরিবাস বা মানত্ব না নিয়ে থাকলে। আপত্তি দেশনা না করলে মানে হচ্ছে পাচিত্তিয়, দুক্কট ইত্যাদি ছোটখাট আপত্তিগুলোর জন্য দেশনা না করলে।

কিন্তু পারাজিকাগ্রস্ত ভিক্ষু যদি প্রব্রজ্যা ত্যাগ করে, তাহলে সেটা তার জন্য আর কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। অথবা সে যদি সঙ্ঘাদিশেষ অপরাধের প্রতিকার করে, অথবা অন্যান্য অপরাধের জন্য আপত্তি দেশনা করে, তাহলে সেটা তার জন্য আর বাধা হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *