আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

ITBMU-তে আমাদের প্রথম ডিপ্লোমা ক্লাস

থেরবাদা ইউনিভার্সিটিতে (ITBMU, অর্থাৎ International Theravada Buddhist Missionary University-তে) আমাদের ডিপ্লোমা ক্লাস শুরু হয়েছে কিছুদিন হলো। প্রথমদিনের কথা আমার মনে আছে। সেদিন আমাদের প্রথম ক্লাস ছিল সুত্তন্ত বা সুত্রপিটক। আমাদের ক্লাসে বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা ছিলাম প্রায় ৮২ জনের মতো। ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় সমান সমান বলে মনে হলো।  ছাত্রদের মধ্যে বেশিরভাগ হচ্ছে থেরবাদী ভিক্ষু। এদের মধ্যে বার্মিজ ভিক্ষু আছে ১৬ জন। বাংলাদেশ থেকে আমরা আছি ৫ জন ভিক্ষু। আরো আছে ইণ্ডিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস এবং ভিয়েতনাম থেকে আসা কয়েকজন ভিক্ষু। ও হ্যাঁ, জার্মান এক ভিক্ষুও আছে। আরো একটা বড় অংশ হচ্ছে ভিয়েতনাম থেকে আসা মহাযানী ভিক্ষুদের দল।  তাদেরকে দেখলেই আমার মনে হয় ওরা কুংফু কারাতে সব জানে। কিন্তু কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করতেই ওরা বলল, কোমরের ব্যথায় বাঁচি না। কোথায় আর কুংফু কারাতে? এছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বুড়ো এবং নওজোয়ান শিক্ষার্থীও আছে ১০/১২ জনের মতো।

ছাত্রীদের মধ্যে বেশিরভাগ হচ্ছে সেয়ালে। এক আমেরিকান সেয়ালে আছে, খুব প্রশ্ন করে জ্বালায় আমাদের টিচারদেরকে। বাকিদের মধ্যে কিছু মহাযানী ভিক্ষুণী আছে, আরো আছে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রৌঢ়া এবং নওযুবতী শিক্ষার্থীরা।

বিদেশীদের জন্য এখানে ভর্তি হওয়া সহজ। এসএসসি পাস করলেই এখানে ভর্তি পরীক্ষা দেয়া যায়। বাংলাদেশীদের জন্য ঢাকায় মায়ানমারের দূতাবাস আছে। বাংলাদেশীরা সেখানেই ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারে। এবারে নাকি সেখানে ৩০ জনের মতো পরীক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু টিকেছে মাত্র ৬ জন। আমার সাথে দুজন ভান্তে দুবছর ধরে ভর্তিপরীক্ষা দিয়েও টিকতে পারে নি। তাদেরকে প্রচুর পড়াশোনা করতে দেখেছি। তবুও পাস করতে পারে নি। কাজেই ভর্তি হতে পারাটা অত সহজ নয় বলে মনে হচ্ছে।

তবে  বার্মিজদের জন্য এখানে ভর্তি হওয়াটা আরো কঠিন। তাদের এখানে পড়তে হলে ধম্মাচারিয় পাস করতে হয়, নতুবা বিএ পাস করতে হয়। তবেই এখানে ভর্তি পরীক্ষা দেয়া যায়। তাতেও কমপিটিশন হয় প্রচুর। তবুও বার্মিজরা এটাতে ভর্তি হতে চায়, যেন তাদের ইংরেজি ভালো হয়, একটা ডিগ্রি পাওয়া যায়। যদি কপালে থাকে তো এরপরে তারা উচ্চতর ডিগ্রির জন্য বিদেশেও যেতে পারে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *