আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকমাদের কথা

আমাদের বিহারে প্রায়ই চাকমা লোকজন আসে সেয়াদের সাথে দেখা করতে। দুয়েকদিন আগে দুজন লোক এসেছিল একদম ভুসিদং থেকে। তারা নাকি চাকমা পার্টির নেতা নেত্রী। আমি শুনে বললাম, ওরে বাবা! চাকমারা তাহলে পার্টিও বানিয়ে ফেলেছে এখানে? সেয়াদ বলে দিলেন, ২/৩ বছর আগে ঐ দল করা হয়েছে। দলের নাম দেয়া হয়েছে দাইনেক চাকমা পার্টি। নেতা লোকটি আমাকে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি আনক্যে, নাকি তঞ্চঙ্গ্যা? আমি বুঝতে পারলাম না। আনক্যে আবার কি জিনিস? নেতাটি বলল, বাংলাদেশে নাকি তঞ্চঙ্গ্যা ও আনক্যে এই দুধরনের চাকমা আছে। আপনি কোন জাতের চাকমা? আমার জীবনে এই প্রথম এধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হলাম। কী উত্তর দেব বুঝতে পারলাম না। আমি তো চাকমা। চাকমার আবার কোনো আলাদা জাত আছে নাকি?

সেয়াদ ব্যাখ্যা করলেন, আনক্যে ও তঞ্চঙ্গ্যা হচ্ছে মূলত রাখাইন শব্দ। রাখাইনরা পশ্চিমকে বলে “আনক (အနောက်)”। সেখান থেকেই পশ্চিমের চাকমা লোকজনকে বলা হয় “আনক্যে”। রাখাইন ভাষায় “তঞ্চং (တောင်ချောင်)” মানে হচ্ছে পাহাড়ের কোণা। সেখান থেকেই যারা পাহাড়ে পাহাড়ে থাকে বার্মার চাকমারা তাদেরকে “তঞ্চঙ্গ্যা” বলে। চাকমারা বহু আগে থেকেই রাখাইন অঞ্চলে রাখাইন বা মার্মাদের দ্বারা শাসিত হয়ে এসেছে। চাকমা রাজাদের সাথে তাদের অনেক যুদ্ধ হয়েছে। মূলত চাকমাদের একতাকে ভেঙে দিতেই তারা এভাবে আনক্যে ও তঞ্চঙ্গ্যা নামে ভাগ ভাগ করে ডাকা শুরু করে দিয়েছিল। বহু বছর ধরে সেই নামগুলো প্রচলিত হতে হতে এখন তাই অনেকেই মনে করে, আনক্যে ও তঞ্চঙ্গ্যা বুঝি আলাদা জাতি। আসলে তারা সবাই চাকমা।

আমি তো বুঝলাম। কিন্তু কেউ কেউ মনে হয় সেটা এখনো বোঝে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *