আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

বার্মিজ ভাষা বিভ্রাট নিয়ে গণ্ডগোল

বার্মিজ ভাষা বলতে গিয়ে অনেক গণ্ডগোল বেঁধেছে। একটা ঘটনার কথা বলি। সেটা প্রায় দশ কি এগার বছর আগের কথা। বাংলাদেশ থেকে এক চাকমা ভিক্ষু এসেছিল ইয়াঙ্গুনের এই চাকমা বিহারে। সে ভাঙ্গা ভাঙ্গা বার্মিজ বলতে পারত। একদিন সে বিহারের সামনে হাঁটাহাঁটি করছিল। এসময় একটা ট্যাক্সি এসে দাঁড়াল বিহারের সামনে। ট্যাক্সির যাত্রী তাকে জিজ্ঞেস করল, সেইন য়াদানা ঝাওঁটাই বেনাহ্ মালেহ্? অর্থাৎ চাকমা বিহারটা কোথায়? চাকমা ভিক্ষুটা তখন চারপাশ দেখিয়ে তাকে বলল, দিনাহ্ মালেহ্। সে বুঝাতে চেয়েছিল, এটা এখানেই। কিন্তু কথার স্টাইল ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজের কারণে ট্যাক্সির যাত্রী তার কথাটার অর্থ ধরে নিল, এটা আশেপাশেই আছে। ট্যাক্সিওয়ালাও তাই চাকমা বিহার থেকে বেরিয়ে রওনা দিল আশেপাশের চাকমা বিহারের খোঁজে। শেষে অবশ্য তারা অনেক ঘুরেফিরে আবার চলে এসেছিল এই চাকমা বিহারে।

মান্দালয়ের মহাগন্ধয়োন বিহারে থাকাকালীন ঘটনা। আমি ও কয়েকজন বার্মিজ ভিক্ষু একত্রে গোল হয়ে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলাম। এসময় একটা মাঝারি সাইজের ইঁদুর বাইরে থেকে দৌড়ে এসে বইয়ের তাকগুলোর আড়ালে লুকিয়ে গেল। আমি বললাম, চোয়েহ চোয়েহ। আমার কথা শুনে তারা থমকে গিয়ে খাওয়া ভুলে গিয়ে এদিক ওদিক দেখতে লাগল। ইঁদুরটা আবার দেখা দিল। আমি আবার সেটাকে দেখিয়ে বললাম, চোয়েহ চোয়েহ। এবার ব্যাপারটা বুঝতে পেরে তারা হেসে গড়াগড়ি খেল। মন খুলে হেসে নিয়ে তারা বলল, ওটা চোয়েহ নয়, চোয়ে। চোয়েহ মানে হচ্ছে মোষ। আর চোয়ে হচ্ছে ইঁদুর। হঠাৎ করে কেউ যদি মোষ, মোষ বলে চিৎকার করে ওঠে তাহলে কি আঁতকে না উঠে পারা যায়? ব্যাপারটা বুঝতে পেরে এবার আমিও ওদের সাথে হাসতে লাগলাম।

আরেকবার ইয়াঙ্গুনে এক বিহারে নিমন্ত্রণে গিয়েছিলাম। খাওয়া শেষে চলে আসার সময় বিদায় নিতে গেলাম সেয়াদের কাছে। সেয়াদকে বন্দনা করে বললাম, ঝোয়া দ মুবা পেয়া। সেয়াদ চুপ করে রইলেন। কিছু বললেন না। আমিও আর কথা বাড়ালাম না। সেয়াদকে বন্দনা করে বাইরে বেরিয়ে এলাম। গাড়ির কাছে যেতে যেতে চিন্তা করলাম কী বলেছি। আমি বলতে চেয়েছিলাম, ঝোয়া দ উ মে, পেয়া। ভান্তে, আমরা এখন চলে যাব। অথচ আমি বলেছি, ঝোয়া দ মুবা পেয়া। অর্থাৎ ভান্তে, আপনি চলে যান। কী বলতে কী বলে ফেলেছি! সেয়াদকে তার বিহার থেকে চলে যেতে বলেছি। একারণেই সেয়াদ চুপ করে ছিলেন। কী লজ্জার ব্যাপার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *